সর্বশেষ

কালশী বস্তির আগুন অবশেষে নিয়ন্ত্রণে, শতাধিক ঘর পোড়ার আশঙ্কা

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৫, ২০২৬

রাজধানীর কালশী বস্তিতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট কাজ করে।

 

আজ সোমবার রাত নয়টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম বলেন, কালশী বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট কাজ করেছে। ঘটনাস্থলে পানির তীব্র সংকট থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। এ ছাড়া বাতাসের কারণেও আগুনের তীব্রতা বেড়ে যায়।

 

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এছাড়া আগুনে কেউ হতাহত হয়েছেন এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কাছে আসেনি।

 

এদিকে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভয়াবহ এ আগুনে প্রায় ১০০টির বেশি ঘর পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
পাহাড় থেকে ৩০০ ফুট নিচে পড়ে গুরুতর আহত মা হাতি, ভেঙেছে পা

টানা বর্ষণে কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড় থেকে ৩০০ ফুট নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে ২০-২৫ বছর বয়সী একটি মা হাতি। ওপর থেকে নিচে গড়িয়ে পড়ার সময় হাতিটি বিভিন্ন গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে পেছনের পা দুটি ভেঙে যায়। কেটে যায় পেটের কিছু অংশও।    শনিবার (১১ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যাংপাড়ার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই পাহাড়ে এশিয়ান জাতের অন্তত ২৩টি হাতির বিচরণ রয়েছে। খবর পেয়ে বন বিভাগের চিকিৎসকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতিটিকে চিকিৎসা দিচ্ছেন।   বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পাহাড়ের চূড়ায় গাছ ও লতাপাতা খাওয়ার সময় সম্ভবত বৃষ্টির কারণে নরম মাটি ধসে হাতিটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে গড়িয়ে পড়ে। এতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পেট কেটে গেছে ও পা ভেঙে গেছে। এ কারণে হাঁটতে পারছে না। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফুট, উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট। বয়স ২০-২৫ বছর হবে।   কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, ‌‘আহত হাতিটিকে প্রাণে বাঁচাতে চিকিৎসা দিচ্ছেন টেকনাফ উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। হাতিটিকে প্রায় সময় নেটং পাহাড় ও পাশের দমদমিয়া পাহাড়ি এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। আজ দুপুরে হাতিটি নেটং পাহাড়ে আসে। সম্ভবত সেখানে চলাফেরার সময় পা পিছলে পাহাড়চূড়া থেকে নিচে পড়ে যায়।’   টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘পাহাড় থেকে পড়ে হাতিটি গুরুতর আহত হয়েছে, এখন মাটিতে শুয়ে আছে, সামান্য নড়াচড়া করতে পারলেও উঠে দাঁড়াতে পারছে না। পেছনের দুটি পা আঘাতপ্রাপ্ত, পেটেও কাটা দাগ আছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় আহত হাতিকে অন্যত্র সরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। উন্নত চিকিৎসার জন্য চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের একটি দল টেকনাফে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসা চলছে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আরেক পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, কারণ কী?

ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনবিষয়ক তুরস্কের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের ৪ শীর্ষ আলেম

জুলাই কোনো বজ্রপাত নয়, এটি দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পরিণতি: জাহেদ উর রহমান

ইআইইউ’র বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার পরে কেবল ত্রিপোলি ও দামেস্ক

সার্বিক এশিয়ায় জীবনযাত্রার মানের ব্যাপক উন্নতি হলেও বসবাসের যোগ্য শহরের তালিকায় আরও পিছিয়েছে ঢাকা। মঙ্গলবার প্রকাশিত ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী, বসবাসের অযোগ্যতায় বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। ঢাকার পরে রয়েছে কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ার ত্রিপোলি ও সিরিয়ার দামেস্ক।   ১০০-এর মধ্যে মাত্র ৪২ স্কোর পেয়ে গত বছরের মতো এবারও একই অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশের রাজধানী। এর আগে ২০২৫ সালেও ঢাকা তিন ধাপ পিছিয়ে ১৭১তম হয়েছিল, যা ২০২৪ সালে ছিল ১৬৮তম এবং তার আগের বছর ছিল ১৬৬তম। ধারাবাহিকভাবে ঢাকার এই অবনতি রাজধানীর গভীর নগর-অকার্যকারিতাকেই স্পষ্ট করছে। দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের করাচি ৪৩ স্কোর নিয়ে ঢাকার ঠিক এক ধাপ ওপরে (১৭০তম) রয়েছে।   অন্যদিকে, তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের খেতাব পেয়েছে কোপেনহেগেন। এর পরেই রয়েছে ভিয়েনা ও মেলবোর্ন।   ইআইইউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের শহরগুলোতে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং জাপানের অগ্রগতির কারণে এশিয়া অঞ্চলে গড় বাসযোগ্যতার স্কোর বেড়ে ৭৪ হয়েছে। তবে এই সুফল সমানভাবে বণ্টন হয়নি। ঢাকার মতো অনুন্নত দেশের শহরগুলোর কারণে এশিয়ার গড় মান ধরে রাখা যাচ্ছে না। এশিয়ার গড় স্কোরের চেয়ে ঢাকা ৩২ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের শহরগুলো যুদ্ধবিগ্রহের কারণে পিছিয়ে পড়লেও ঢাকার এই তলানিতে থাকার মূল কারণ দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত দুর্বলতা।   পাঁচটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা সবচেয়ে কম স্কোর পেয়েছে অবকাঠামোতে মাত্র ২৭। এ ছাড়া স্থিতিশীলতায় ৪৫, স্বাস্থ্যসেবায় ৪২ এবং সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৪১ স্কোর পেয়েছে ঢাকা। তবে শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছুটা ভালো স্কোর (৬৭) পেলেও অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্বল নগর পরিবেশের কারণে ঢাকা এখনও বিশ্বের অন্যতম বসবাসের অযোগ্য শহর হিসেবেই রয়ে গেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৭, ২০২৬
ঢাকা দায়রা জজ আদালত, ঢাকা। ছবি : সংগৃহীত

বিদেশযাত্রার অনুমতি মিলল বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের স্ত্রী-ছেলের

ছবি: সংগৃহীত

শাহজালালে মানবপাচার-চোরাচালানে ‘ভেতরের লোক’, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা

এআইয়ের ধাক্কায় মাইক্রোসফটে বড় ছাঁটাই, চাকরি হারাচ্ছেন ৪৮০০ কর্মী

সার্ক বাংলাদেশের ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

  পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, সার্ক আমাদের কাছে একটি বিশেষ ঐতিহাসিক অর্থ বহন করে। এটি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কূটনৈতিক উত্তরাধিকার, যার দৃষ্টিভঙ্গি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতাকে আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় রাখতে সহায়তা করেছিল। কিন্তু সেই উত্তরাধিকার শুধু অতীতের ব্যাপার নয়। এটি সরাসরি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কথাও বলে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ একটি স্লোগানের চেয়েও বেশি কিছু। এর মধ্যে রয়েছে এমন একটি প্রতিবেশী গড়ে তোলা, যা বাংলাদেশের নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা, খাদ্য নিরাপত্তা, যোগাযোগ এবং বৈশ্বিক অবস্থানকে সমর্থন করে। সেই অর্থে, সার্ক বাংলাদেশের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে শুরু হয়েছিল এবং আজ এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে।   সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘বিশ্বাস পুনঃস্থাপন ও আঞ্চলিক সংহতি নবায়ন: সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার পথ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে বিআইআইএসএস।   শামা ওবায়েদ বলেন, সার্ক রাজনৈতিকভাবে সীমাবদ্ধ তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রাসঙ্গিক। এর সনদ এখনও বহাল রয়েছে। এর সচিবালয় এখনও কাজ করছে। এর বিশেষায়িত সংস্থা এবং আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলো কাজ করে চলেছে। এর আইনি উপকরণ, প্রযুক্তিগত নেটওয়ার্ক এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি আমাদের কাছে উপলব্ধ। সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার যেকোনও গুরুতর প্রচেষ্টা অবশ্যই একটি সৎ সমাধানের সঙ্গে শুরু করতে হবে। সার্ক রাজনৈতিক অবিশ্বাস, অমীমাংসিত দ্বিপক্ষীয় বিরোধ, ক্রসবর্ডার উত্তেজনা, ক্ষমতার অসামঞ্জস্যতা এবং প্রতিযোগিতামূলক নিরাপত্তা ধারণা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা ঐকমত্যকে কঠিন করে তুলেছে এবং প্রায়শই আঞ্চলিক উদ্যোগকে ধীর করে দিয়েছে। তবে সার্কের চ্যালেঞ্জগুলো কেবল রাজনৈতিক নয়, প্রাতিষ্ঠানিকও। এটি পুনরুজ্জীবনের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রাতিষ্ঠানিক মেরামত উভয়ই প্রয়োজন।   তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ভৌগোলিকভাবে ঘনিষ্ঠ, ঐতিহাসিকভাবে সংযুক্ত এবং সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ, তবে রাজনৈতিকভাবে খণ্ডিত এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। আমাদের কাজ হলো সম্ভাবনা এবং পারফরম্যান্সের মধ্যে ব্যবধান কীভাবে হ্রাস করা যায় তা বিবেচনা করা। সার্কের প্রতিষ্ঠাতা দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট ছিল যে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ অভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা ভাগ করে নেয় এবং তাই তাদের একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনীয়তা আজও বৈধ। প্রকৃতপক্ষে, এটি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অস্বীকার করার উপায় নেই, সার্ক গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। শীর্ষ সম্মেলন প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। রাজনৈতিক আস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। আঞ্চলিক সংহতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা এবং অমীমাংসিত বিরোধ বারবার সংস্থাটির গতিকে প্রভাবিত করেছে। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সার্কের জন্মস্থান হিসেবে বাংলাদেশ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আদর্শ সমুন্নত রাখতে যথেষ্ট কাজ করেছে কিনা তা নিয়ে প্রতিফলিত হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি সব সদস্য রাষ্ট্রের সম্মিলিত আত্মসমীক্ষার মুহূর্ত। কেবল কল্পনা করুন, আমরা যদি সত্যিই সার্ককে আমাদের ভাগ করে নেওয়া প্রতিষ্ঠান হিসাবে গ্রহণ করতাম এবং গত চার দশক ধরে, বিশেষত গত ১৭ বছর ধরে টেকসই প্রতিশ্রুতি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার সঙ্গে তার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মিলে গেলে দক্ষিণ এশিয়া কতদূর এগিয়ে যেতে পারতো।   শামা ওবায়েদ বলেন, সার্ক এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে ছোট রাষ্ট্রগুলো সম্মিলিতভাবে কথা বলতে পারে, যেখানে ভারত গঠনমূলক আঞ্চলিক নেতৃত্ব প্রদর্শন করতে পারে, যেখানে পাকিস্তান একটি বিস্তৃত দক্ষিণ এশীয় কাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত থাকে এবং যেখানে বাংলাদেশের জন্য রাজনৈতিক বিরোধগুলো অমীমাংসিত থাকলেও অভিন্ন সমস্যাগুলো সমাধান করা যেতে পারে। এখানেই ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ মিলিত হয়।   সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজের উপদেষ্টা এবং ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়া স্টাডিজের বিশিষ্ট ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো রাষ্ট্রদূত তারিক এ করিম। এছাড়া সেমিনারে একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (সার্ক ও বিমসটেক) সাবেক অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ও কোডার্স ট্রাস্ট বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুল হক।   মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা ও প্যানেল আলোচনার পর একটি উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা সার্কের কার্যকারিতা সীমিত করে রাখার পেছনে কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা, আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতার প্রভাব এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৬, ২০২৬

শিশু জন্মের পরই পাবে আইডি, মিলবে মৃত্যু পর্যন্ত সুবিধা

ছবি: সংগৃহীত

৪৫ হাজার বিনিয়োগকারীর ৫৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় সোহেল তাজের স্ট্যাটাস

0 Comments