জাতীয়

৫ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩ জনের মৃত্যু

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৫, ২০২৬

দেশের পাঁচ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

 

এর মধ্যে টাঙ্গাইলেই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৫ জন প্রাণ হারান। এ ছাড়া বগুড়ায় চারজন, সিরাজগঞ্জে দুইজন, মানিকগঞ্জে একজন ও গোপালগঞ্জে একজন মারা গেছেন। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

টাঙ্গাইল

 

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতিতে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোর চারটার দিকে মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই ট্রাকে চেপে ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলেন।

 

কালিহাতি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ আতাউর রহমান ঘটনাস্থল থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিবহন ভাড়ার খরচ বাঁচাতে যাত্রীবাহী পরিবহনে না উঠে নিহতরা রডবোঝাই একটি ট্রাকের ওপর উঠে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে পড়ে। এতে ট্রাকের ওপর থাকা যাত্রীরা রডের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন। আহত হন আরও অন্তত ছয়জন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। খবর পেয়ে এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

 

এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়।

 

গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান বলেন, মালবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের জন্য ১৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

 

বগুড়া

 

বগুড়ার নওগাঁ-বগুড়া মহাসড়কে বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অটোরিকশাচালকসহ আরও একজন গুরুতর আহত হন। সোমবার বিকেল চারটা দশ মিনিটের দিকে কাহালু উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন কাজীপাড়া এলাকার বাবুল তালুকদারের স্ত্রী জেসমিন খাতুন (৪৫) ও তাঁর মেয়ে তণু আক্তার (২০)। আহত হয়েছেন অটোরিকশাচালক শাওন মিয়া (১৮)। তিনি একই এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।

 

কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

কাহালু ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর মো. সবুজ মিয়া বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার ও আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠান। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

এ ছাড়া, সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অজ্ঞাত একটি যানবাহনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক বাবা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন নিহতের স্ত্রী। তাঁকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

নিহতরা হলেন আনিছুর রহমান ও তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে পুষ্প। আহত আয়েশা বেগম নিহত আনিছুর রহমানের স্ত্রী। আনিছুর রহমান রংপুরে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকে কর্মরত ছিলেন।

 

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে রংপুর থেকে গ্রামের বাড়ি পাবনায় যাচ্ছিলেন আনিছুর রহমান। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বনানী এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত একটি যানবাহন সেটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই আনিছুর রহমান ও শিশু পুষ্প নিহত হন। গুরুতর আহত হন আয়েশা বেগম। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সকাল সাতটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন।

 

বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত নারীকে উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অজ্ঞাত যানবাহনটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

 

সিরাজগঞ্জ

 

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। সোমবার বেলা ১১টায় বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের দিলরুবা বাসস্ট্যান্ড ও মশিপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন পাবনার সাথিয়া উপজেলার হলুদঘর গ্রামের সবুজ প্রামাণিকের মেয়ে সারা খাতুন (৮) ও শাহজাদপুরের গাড়াদহ ইউনিয়নের আলমগীরের ছেলে আহম্মদ (৭)।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার শাহজাদপুর উপজেলার বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের দিলরুবা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি যাত্রীবাহী সিএনজির সঙ্গে লবণবোঝাই ভটভটির সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজি যাত্রী সারা খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে শাহজাদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।

 

এ ছাড়া, একই মহাসড়কের গাড়াদহ ইউনিয়নের মশিপুর গুচ্ছ গ্রামের আলমগীরের ছেলে আহম্মদ রাস্তা পার হওয়ার সময় সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুইজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাক এবং ভটভটি আটক করা হয়েছে।

 

মানিকগঞ্জ

 

মানিকগঞ্জ-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের কিটিংচর এলাকায় মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরেক আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হেমায়েতপুর থেকে সিংগাইরগামী একটি নম্বরবিহীন অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা হেমায়েতপুরগামী নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলচালক মো. কাউসার আহম্মেদ (১৮) ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি সিংগাইর উপজেলার আঠালিয়া এলাকার মো. শহিদুল ইসলাম মোমেনের ছেলে। এ ঘটনায় অপর আরোহী মো. আরাফাতকে (১৮) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, নিহত কাউসারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

গোপালগঞ্জ

 

গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

 

সোমবার দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সোনাশুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাইক্রোবাস চালকের পরিচয় জানা যায়নি।

 

গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক শিপলু আহম্মেদ বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কোটালীপাড়া স্টার এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস ঘটনাস্থলে অপর একটি বাসকে ওভারটেক করতে গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পেছন থেকে একটি প্রাইভেটকারও সজোরে মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায় এবং মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের চালক নিহত হন। এ ছাড়া বাস ও প্রাইভেটকারের অন্তত ১৫ যাত্রী আহত হন।

 

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয় লোকদের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। গুরুতর আহত ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটির দাবি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে মেডিকেল পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী সপ্তাহে দুদিন ছুটি দাবি জানিয়েছেন। এর উত্তরে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিশ্রুতি না দিলেও সংশ্লিষ্টদের বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন তিনি।   শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।   অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রী বলেন, সপ্তাহে সাত দিনের মধ্যে ছয় দিনই তাদের ক্লাস ও পরীক্ষা থাকে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ক্লাস-পরীক্ষার পর সপ্তাহে মাত্র এক দিনের ছুটি মেলে, আর সেই সময়ের বেশির ভাগই পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যয় হয়ে যায়।   তিনি আরও বলেন, এমন ব্যস্ততার কারণে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা, উৎপাদনশীলতা এবং শেখার আগ্রহ কমে যায়। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা অনেক ক্ষেত্রে হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।   এ সময় অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মতো মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্যও সপ্তাহে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি চালুর অনুরোধ জানান ওই শিক্ষার্থী।   জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি আপনাদের বিষয়, একটি টেকনিক্যাল বিষয়। আমি জানি না এটা ওভাবে বলা সম্ভব কিনা। এটা নিশ্চয়ই আপনাদের যারা সিনিয়র আছেন, ডাক্তার যারা আছেন, আমার মনে হয়, এটা বোধহয় উনাদের। উনারা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিলেই ভালো হয়। অবশ্য বলা যায়, আমিও সপ্তাহে সাত দিন কাজ করি।’   আলোচনার শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী হালকা রসিকতার সুরে বলেন, ‘তবে একটা কথা বলতে পারি, আমিও সপ্তাহে সাত দিন কাজ করি।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শেখ মুজিব পাকিস্তান ভাঙার পক্ষে ছিলেন না, তাই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা পদকে সেরা নীলফামারীর দুই শিক্ষক

ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত ইসরাইলি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার পথে আয়ারল্যান্ড

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মেডিকেলের কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেল পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেল পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সময় কাটান এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।   সকালে ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’-এর উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী ও ডা. জুবাইদা রহমান হোস্টেলটি ঘুরে দেখেন। উল্লেখ্য, ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নকালে ডা. জুবাইদা রহমান এই হোস্টেলেই অবস্থান করতেন।   শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখতে পারেন। তাঁর আগমন উপলক্ষে হোস্টেলের সামনে শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীকে কাছে পেয়ে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।   পরিদর্শনের সময় অতীতের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাজীবনে ডা. জুবাইদা রহমানকে প্রায়ই নিজে মেডিকেলে পৌঁছে দিতেন। সেই স্মৃতির ধারাবাহিকতায় এবারও তাঁকে পাশে নিয়েই ক্যাম্পাসে আসার কথা উল্লেখ করেন তিনি।   নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতি তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের এই ক্যাম্পাস তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অংশ। বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি পরিশ্রম, ইতিবাচক মনোভাব এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান।   তিনি আরও বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।   পরিদর্শনের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী ও ডা. জুবাইদা রহমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্মারক ছবি ও সেলফি তোলেন।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গোয়াইনঘাট সীমান্তে গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু, তদন্তে বিজিবি-পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

সড়ক ধসে চার দিন ধরে বিচ্ছিন্ন বাঘাইছড়ি, দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে

ছবি: সংগৃহীত

অসহায় বৃদ্ধার ঘর সংস্কারে ২০টি ঢেউটিন দিলেন বিএনপি নেতা

ছবি: সংগৃহীত
ছয় মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, নিরাপদ সড়কে ৫ দফা দাবি

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং ১০৯ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির মতে, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে পর্যাপ্ত সচেতনতা তৈরি না হওয়ায় এ ধরনের প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।   শনিবার মিরসরাই ট্রাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০১১ সালের মিরসরাই দুর্ঘটনার পরও শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত ও কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে এবং অনেকে স্থায়ীভাবে আহত বা পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছে।   সংগঠনটির প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ হিসাব তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সড়কে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঁচ দফা সুপারিশও উপস্থাপন করা হয়েছে।   প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন, স্কুল ও কলেজসংলগ্ন সড়কে জেব্রা ক্রসিং ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, মহাসড়কসংলগ্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘রোড সেফটি গার্ড’ নিয়োগের ব্যবস্থা এবং প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে যাবে না তুরস্ক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান

ছবি: সংগৃহীত

হাদি হত্যা মামলার বিচার না হলে সরকারের পদত্যাগের আহ্বান জামায়াত আমিরের

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

জাতিসংঘের প্রস্তুতি ও আসিয়ান বৈঠকে যোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদেশ সফর

0 Comments