সর্বশেষ

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনীতি

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৯, ২০২৫

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত এক সপ্তাহের সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে আগামীকাল সোমবার। অথচ সময়সীমার শেষ প্রান্তে এসেও রাজনৈতিক অঙ্গনে কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি বা ঐক্যমতের ইঙ্গিত মেলেনি। ফলে সারাদেশে রাজনৈতিক উত্তাপের সঙ্গে বেড়েছে জনমনে উদ্বেগ, আলোচনার ঝড় ও নানা গুঞ্জন।

 

জামায়াতে ইসলামী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে—জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি না হলে এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবি মানা না হলে আগামী ১১ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় ভিন্ন চিত্র দেখা যাবে। দলটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, দাবি উপেক্ষিত হলে ওইদিনের জনসভা থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এদিকে ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা সংক্রান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই তারিখকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজধানী লকডাউনসহ সহিংস কর্মসূচির গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে আছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও অপপ্রচারের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাজধানী ও সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যার তদন্ত চলছে।

কাকরাইল এলাকায় চার্চের সামনে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে, যার একটি বিস্ফোরিত হয় এবং অন্যটি বোমা নিস্ক্রিয়কারী দল নিষ্ক্রিয় করে। একই রাতে ফার্মগেট ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে আন্দোলনরত আট দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীতে। বৈঠকে নেতারা বলেন, আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যমত গড়ে তুলতে বিএনপিসহ অন্যান্য দলকে আহ্বান জানানো হয়েছে, তবে বিএনপি এখনো সাড়া দেয়নি। তারা আবারও পরিষ্কার করে বলেন—গণভোট অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত হতে হবে, নইলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।

আন্দোলনরত দলগুলোর পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন ও গণভোট আয়োজন, নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি চালু, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, বিগত সরকারের জুলুম-নির্যাতনের বিচার দৃশ্যমান করা এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত দিতে বলা হয়েছিল। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে সরকার নিজস্ব সিদ্ধান্তে অগ্রসর হবে। এ বিষয়ে সরকার এখনো দলগুলোর অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কিছুটা সময় নিতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সতর্ক করে বলেছেন, দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে পরাজিত অপশক্তি পুনরায় মাথাচাড়া দিতে পারে। তিনি মনে করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মুখে পতিত গোষ্ঠী এখন নতুন কৌশলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যা গণতান্ত্রিক উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

 

সব মিলিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অনড় অবস্থান, নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা, এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গুঞ্জন—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আগামী সপ্তাহে নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দাউদকান্দি সেতুতে কাভার্ড ভ্যান বিকল, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট

কুমিল্লার দাউদকান্দি সেতু এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান বিকল হয়ে পড়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট দাউদকান্দি থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।   শুক্রবার (১৫ মে) ভোর থেকে শুরু হওয়া এ যানজট বেলা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এতে দূরপাল্লার যাত্রী, অফিসগামী মানুষ এবং পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক বেশি ছিল। এর মধ্যেই দাউদকান্দি সেতুর ওপর একটি কাভার্ড ভ্যান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে গেলে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।   দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকায় অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা যায়।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকল যানটি সরানোর কাজ শুরু করে। পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।   এ বিষয়ে মোহাম্মদ আমিন শেখ বলেন, দাউদকান্দি সেতু এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান বিকল হয়ে যাওয়ায় সাময়িক যানজট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে এবং দ্রুত বিকল যানটি সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   তিনি আরও জানান, ধীরগতিতে হলেও যানবাহন চলাচল অব্যাহত রয়েছে এবং মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

আক্তারুজ্জামান মে ১৫, ২০২৬
কৃষি উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর উম্মে কুলসুম পপি। ছবি : সংগৃহীত

বিয়ে ও পরকীয়া নিয়ে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের আবেগঘন পোস্ট

ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪০ প্রার্থী

ছবি : সংগৃহীত

কার গাফিলতিতে মাঝ দরিয়ায় আটকে আছে বাংলার জয়যাত্রা?

ছবি: সংগৃহীত
এআই দিয়ে ট্রাফিক মনিটরিং, এক সপ্তাহে ৩০০’র বেশি মামলা

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর মাত্র এক সপ্তাহেই ৩০০-এর বেশি ডিজিটাল মামলা করা হয়েছে।   সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার উত্তরায় বিমানবন্দর সড়কে নতুন ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।   ডিএমপি ভারপ্রাপ্ত কমিশনার উল্লেখ করেন যে, এই আধুনিক প্রযুক্তিটি পুরোপুরি কার্যকর হলে প্রতিদিন মামলার সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। মূলত ঢাকা শহরকে একটি আধুনিক মহানগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই পুলিশ এই স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করেছে।   তিনি জানান, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহনগুলোকে শনাক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে জেব্রাক্রসিং অতিক্রম করা বা উল্টোপথে গাড়ি চালানোর মতো অপরাধ সংঘটিত হওয়া মাত্রই ডিজিটাল পদ্ধতিতে মামলা রেকর্ড করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থার একটি বিশেষ সুবিধা হলো, যার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে, তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও ফুটেজে নিজের অপরাধ দেখতে পারবেন। এর ফলে মামলার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।   সরকার ও পুলিশ বিভাগের এই উদ্যোগটি কেবল ট্রাফিক আইন ভঙ্গের শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, বরং সড়কে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর আটটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অত্যাধুনিক এই ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট বসানো হয়েছে। তবে খুব শিগগিরই পর্যায়ক্রমে ঢাকার প্রায় ৩০টি পয়েন্টে এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে বলে জানান মো. সরওয়ার। এর মাধ্যমে ঢাকার যানজট পরিস্থিতি নিরসন এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে পুলিশ মনে করছে।   ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, সনাতন ট্রাফিক ব্যবস্থার পরিবর্তে সম্পূর্ণ আধুনিক এই ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এই প্রক্রিয়ায় মানুষের হস্তক্ষেপ কমে আসায় ট্রাফিক সার্জেন্টদের ওপর চাপ কমবে এবং সড়কে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।   নগরবাসীকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তি আমাদের সহায়তা করতে পারে, তবে প্রকৃত সুফল পেতে হলে নাগরিকদের সহযোগিতাও অপরিহার্য।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নদী–সাগরে জেলেরা কত ধরনের মাছ ধরেন?

ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুকে খোলা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন শিশির মনির

ছবি: সংগৃহীত

দলবল নিয়ে ইউনূসের আজারবাইজান সফরে ব্যয় কত?

ছবি: সংগৃহীত
নেতৃত্বে সফলতার জন্য নবীজির কালজয়ী ১০ নীতি

একবিংশ শতাব্দীতে রাষ্ট্র, সংগঠন বা করপোরেট জগতে ‘লিডারশিপ’ ও ‘টিম ম্যানেজমেন্ট’ নিয়ে যত তত্ত্বই আসুক, নেতৃত্বের প্রকৃত সংজ্ঞায় মহানবী (সা.)-এর চেয়ে সফল আর কেউ নেই।   তিনি শুধু একদল মানুষকে পরিচালিত করেননি, বরং তাঁদের প্রত্যেকের প্রতিভাকে বিকশিত করে একটি সোনালি সমাজ উপহার দিয়েছিলেন। একজন সফল নেতা বা সংগঠক হওয়ার জন্য তাঁর জীবন থেকে ১০টি অনন্য সূত্র তুলে ধরা হলো:   ১. নেতৃত্বের মূলনীতি হলো সেবা নেতৃত্ব মানে ক্ষমতার দাপট নয়, বরং দায়িত্ব পালন। নবীজি (সা.) নিজেকে নেতার চেয়ে জনসেবক হিসেবে উপস্থাপন করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, “কোনো জাতির নেতাই হলেন তাদের প্রকৃত সেবক।” (শুয়াবুল ইমান, বাইহাকি, হাদিস: ৫৯৯৫)   ২. যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্ব বণ্টন সাফল্যের জন্য সঠিক মানুষকে সঠিক জায়গায় নিয়োগ দেওয়া জরুরি। নবীজি (সা.) বংশমর্যাদার চেয়ে কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিতেন। তিনি বলেছেন, “যখন দায়িত্ব অযোগ্য লোকের হাতে অর্পণ করা হয়, তখন তুমি কেয়ামতের (ধ্বংসের) অপেক্ষা করো।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯)   ৩. দলগত কাজে নিজের অংশগ্রহণ একজন প্রকৃত নেতা কেবল নির্দেশ দেন না, বরং নিজেও কাজ করে উদাহরণ তৈরি করেন। খন্দকের যুদ্ধ বা মসজিদে নববী নির্মাণের সময় তিনি সাধারণ কর্মীদের মতো মাটি ও পাথর কেটেছেন। হজরত বারা ইবনে আজিব (রা.) বলেন, “খন্দকের যুদ্ধের দিন আমি রাসুল (সা.)-কে মাটি বহন করতে দেখেছি, এমনকি ধূলিতে তাঁর পেটের শুভ্রতা ঢাকা পড়ে গিয়েছিল।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৮২৪)   ৪. অধস্তনদের প্রতি সহানুভূতি টিমওয়ার্কের প্রাণ হলো কর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক। নবীজি (সা.) তাঁর অধীনস্থদের নিজের মতো করে দেখার এবং তাদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “তারা (অধীনস্থরা) তোমাদেরই ভাই। তাদের ওপর এমন কাজের বোঝা চাপিয়ে দিও না যা তাদের সাধ্যের বাইরে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩০)   ৫. পরামর্শভিত্তিক সিদ্ধান্ত একগুঁয়েমি নেতৃত্বকে ধ্বংস করে। নবীজি (সা.) কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন, যা দলের সদস্যদের মধ্যে গুরুত্ব পাওয়ার অনুভূতি জাগাত। আবু হোরাইরা (রা.) বলেন, “আমি রাসুল (সা.)-এর চেয়ে বেশি সঙ্গীদের সঙ্গে পরামর্শকারী আর কাউকে দেখিনি।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৭১৪)   ৬. সমস্যার তড়িৎ সমাধান ও ইতিবাচকতা সংকট মুহূর্তে নেতাকে ধীরস্থির ও আশাবাদী হতে হয়। হুদাইবিয়ার সন্ধির মতো উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেও তিনি শান্ত থেকে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। হাদিসে এসেছে, “রাসুল (সা.) সব সময় সহজ বিষয়কে পছন্দ করতেন এবং মানুষকে সুসংবাদ দিতেন, বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করতেন না।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১২৫)   ৭. দূরদর্শিতা ও রণকৌশল সাফল্যের জন্য কেবল পরিশ্রম নয়, মেধার ব্যবহারও জরুরি। শত্রুর গতিবিধি ও পরিবেশ বুঝে পরিকল্পনা করাই ছিল তাঁর সমর ও প্রশাসনিক কৌশল। রাসুল (সা.) বলেছেন, “যুদ্ধ হলো একটি কৌশল বা রণকৌশল।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩০২৯)   ৮. ভুল সংশোধনের মার্জিত পদ্ধতি কারো ভুল হলে নবীজি (সা.) জনসম্মুখে তাকে লজ্জিত করতেন না; বরং ব্যক্তিগতভাবে বা নাম উল্লেখ না করে সাধারণ নসিহতের মাধ্যমে সংশোধন করে দিতেন। কারো আচরণে কষ্ট পেলে বা ভুল দেখলে বলতেন, “লোকদের কী হয়েছে যে তারা এমন কাজ করছে!” (অর্থাৎ সরাসরি নাম ধরে লজ্জিত করতেন না)। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৭৮৮)   ৯. সুশৃঙ্খল কাতারবন্দী হওয়া যেকোনো দলগত কাজে শৃঙ্খলা বা ডিসিপ্লিন অপরিহার্য। নামাজের কাতার সোজা করার মাধ্যমে তিনি মূলত মুসলিম উম্মাহকে শৃঙ্খলার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলতেন, “তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো, কেননা কাতার সোজা করা হলো নামাজের পূর্ণতার অংশ।” (যা শৃঙ্খলার প্রতীক)।  (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭২৩)   ১০. সাফল্যের কৃতিত্ব ভাগ করে নেওয়া একজন সফল নেতা নিজের স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থকে বড় করে দেখেন এবং অন্যদের অবদানের স্বীকৃতি দেন। বিজয় অর্জনের পর তিনি সাহাবিদের ত্যাগ ও বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করতেন। তিনি বলেছেন, “যে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯৫৫) রাসুল (সা.)-এর নেতৃত্বের মডেল ছিল দয়া, ইনসাফ ও যোগ্যতার এক অপূর্ব সমন্বয়। আধুনিক ব্যবস্থাপনায় আমরা যদি এই ১০ নীতি অনুসরণ করতে পারি, তবে যেকোনো দল বা প্রতিষ্ঠানকে সফলতার চূড়ান্ত শিখরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কাঁটাতার ভয় পায় না বাংলাদেশ’: হুমায়ুন কবির

ছবি: সংগৃহীত

ভূমিকম্পে মিয়ানমারের সঙ্গে কেঁপে উঠল চট্টগ্রাম

ছবি: সংগৃহীত

আইনজীবী হত্যা মামলায় হাই কোর্টে জামিন খারিজ, জেলমুক্তি হলো না চিন্ময়কৃষ্ণের

0 Comments