জাতীয়

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে কূটনীতিকেরা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়ার আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আজ পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাঁরা জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কূটনীতিকদের জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ ঘুরিয়ে দেখান এবং এর ধারণা, প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। পরিদর্শনের শুরুতে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে নিহত প্রায় চার হাজার মানুষের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, জুলাই জাদুঘর বিশ্বের অন্যান্য দেশের অনুরূপ স্মৃতি জাদুঘর ও  প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন, ‘এই জাদুঘরের মূল ভাবনা হলো—এ ধরনের দুঃশাসন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে। এই বার্তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সারা বিশ্বের জন্য প্রযোজ্য।’

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, এই জাদুঘর শেখ হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের ৩৬ দিনের গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায় এখানে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা দুঃশাসনের নানা উপাদানও এতে তুলে ধরা হয়েছে। ইতিহাসের প্রকৃত শিক্ষা হলো—যাতে একই ভুল আবার না ঘটে।’

জাদুঘরের প্রধান কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব কূটনীতিক ও অতিথিদের সামনে জাদুঘরের বিভিন্ন প্রদর্শনী, নথি, আলোকচিত্র ও মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার ব্যাখ্যা দেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, ‘জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করে আমি আনন্দিত। এটি অনুপ্রেরণাদায়ক এবং ইতিহাস বোঝার গুরুত্বের একটি শক্তিশালী স্মারক। কীভাবে গণ-অভ্যুত্থান ঘটে এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি কী ছিল—তা বোঝার ক্ষেত্রে এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

পরিদর্শনে অংশ নেওয়া কূটনীতিকদের মধ্যে ছিলেন আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলুয়াহাব সাইদানি, আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা, ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কার্মা হামু দর্জি, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, মিসরের রাষ্ট্রদূত ওমর মোহি এলদিন আহমেদ ফাহমি, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে, ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রহিমি জাহানাবাদি, ইরাকের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স উইসাম হুসেইন আল ইথাওয়ি, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা, লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদুলমুতালিব এস এম সুলিমান, মরক্কোর চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বুশাইব এজ জাহরি, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন, সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেন, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পাবলিক ডিপ্লোমেসি কাউন্সেলর মনিকা ও কর্মকর্তা স্কট, চীনের দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিউ ইউইন, জাপানের দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব ও সাংস্কৃতিক শাখার প্রধান আওয়াগি ইউ এবং ব্রুনাই দারুসসালামের হাইকমিশনের প্রেস অ্যাটাশে।

পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের কূটনৈতিক প্রতিনিধি ফারুক আদাতিয়া, এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং, বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মণি পাণ্ডে, সিআইআরডিএপির মহাপরিচালক পি চন্দ্র শেখারা, এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি শি জিয়াওছুন, আইএফডিসির কান্ট্রি ডিরেক্টর মুনতাসির সাকিব খান, আইওএমের চিফ অব মিশন ল্যান্স বনো, ইউনেসকোর ভারপ্রাপ্ত প্রধান ড. সুসান ভাইজ, ইউএনএইচসিআরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ ইফতেখার আলী, ডব্লিউএফপির আবাসিক প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা এবং ইউএনওপসের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরলিধরন উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার কার্ষালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থাণে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনকে সংরক্ষণ ও রূপান্তরের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। আগামী সপ্তাহে জাদুঘরটি সীমিত পরিসরে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
রাফাহ সীমান্ত খোলার প্রথম দিনে ডজনখানেক ফিলিস্তিনির মিসরে প্রবেশ

সীমিতভাবে রাফাহ সীমান্ত খোলার প্রথম দিনে কয়েকজন আহত ফিলিস্তিনি ও তাদের সঙ্গীরা গাজা থেকে মিসরে প্রবেশ করেছে। সীমান্তে মিসরীয় পক্ষের একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে। রাফাহ থেকে এএফপি এ তথ্য জানায়। সূত্রটি মঙ্গলবার জানিয়েছে, পাঁচজন আহতের সঙ্গে সাতজন সঙ্গী সীমান্ত পার হয়েছে। জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর দাবি— সীমান্ত পুনরায় খোলা গাজার মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ। এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের অংশ। মিসর সীমান্তের তিন কর্মকর্তার মতে, সোমবার রোগীদের সংখ্যা সীমিত ছিল। প্রত্যেক রোগীর সঙ্গে দু’জন সঙ্গীসহ সর্বমোট ৫০ জনকে যেতে দেওয়া হয়। মিসরের একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ফিলিস্তিনের রোগীরা আসে। আগমনের সময় তাদের পরীক্ষা করে ঠিক করা হয় কোন হাসপাতালে নেওয়া হবে। মিসরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আল-কাহেরা নিউজ জানায়, ফিলিস্তিনি রোগীদের গ্রহণের জন্য ১৫০টি হাসপাতাল ও ৩০০টি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, স্থানান্তরিত রোগীদের সেবায় ১২ হাজার চিকিৎসক ও ৩০টি দ্রুত মোতায়েনযোগ্য দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া বলেন, ২০ হাজার রোগীর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন, যার মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ জন শিশু। সীমান্ত দিয়ে কতজন মানুষ গাজায় ফিরে গেছে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে: সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ কর্মকর্তা

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে কূটনীতিকেরা

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭

ছবি: সংগৃহীত
নাটোরে পোস্টাল ব্যালটে প্রদত্ত ভোট সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু

 ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নাটোরের চারটি সংসদীয় আসনে পোস্টাল ব্যালটে প্রদত্ত ভোট সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের ট্রেজারিতে স্থাপিত পোস্টাল ব্যালটের ভোট কেন্দ্রে ডাকযোগে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট নির্ধারিত বক্সে ফেলা হয়। পোস্টাল ব্যালট ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসমা খাতুন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, নাটোর প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার মো. শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালাহউদ্দিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।   আজ নাটোর-২ সংসদীয় আসনে প্রাপ্ত ৯৬টি পোস্টাল ব্যালট এবং নাটোর-৪ সংসদীয় আসনে প্রাপ্ত ১৮৩টি পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণ করা হয়। গতকাল নাটোর-২ আসনে ৬৩টি এবং নাটোর-৪ আসনে ৪৫টি পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণ করা হয়। পোস্টাল ব্যালট ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসমা খাতুন জানান, জেলার চারটি সংসদীয় আসনে পোস্টাল ব্যালটে প্রাপ্ত ভোট সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মোট ৩০টি ব্যালট বক্স স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে নাটোর-১ আসনের জন্য সাতটি, নাটোর-২ আসনের জন্য নয়টি, নাটোর-৩ আসনের জন্য ছয়টি এবং নাটোর-৪ আসনের জন্য আটটি। প্রতিটি ব্যালট বক্সে পোস্টাল ব্যালটের ধারণ ক্ষমতা ৪০০টি করে। ব্যালট বক্স স্থাপনকালে চারটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অথবা তাদের প্রতিনিধিবৃন্দের উপস্থিতিতে প্রতিটি ব্যালট বক্সে চারটি করে নিরাপত্তা সিল বা লক করা হয়েছে। ঐসব লক নম্বর প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধিবৃন্দ সংরক্ষণ করবেন। প্রতিটি ব্যালট বক্স পূর্ণ হলে আরো একটি লক অর্থাৎ পঞ্চম লক করা হবে। গণনাকালে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট ঐসব লক মিলিয়ে দেখবেন বলে জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, নাটোর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ১১ হাজার ১১১ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে নাটোর-১ আসনে দুই হাজার ৭৯৫ জন, নাটোর-২ আসনে তিন হাজার ৩৩৬ জন, নাটোর-৩ আসনে দুই হাজার ১০২ জন এবং নাটোর-৪ আসনে দুই হাজার ৮৭৮জন। জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার আসমা শাহীন বাসস’কে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ডাকঘরের মাধ্যমে কিউআর কোডযুক্ত খামে প্রাপ্ত ব্যালট পেপারসমূহ এসব ব্যালট বক্সে সংরক্ষণ করা হবে। ভোট গণনার দিন বিকেল সাড়ে চারটার পরপর এসব ব্যালট বক্সের ভোট গণনা শুরু করা হবে। প্রতিটি আসনে পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনার জন্য একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার ও অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনে বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে : মহাপরিচালক

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তারেক রহমান এগিয়ে : দ্য ইকোনমিস্ট

ছবি: সংগৃহীত

দায়িত্বকে আমানত মনে করে নাগরিক সেবায় আত্মনিয়োগ করুন: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরা সীমান্তে ভারতীয় মালামাল জব্দ

সাতক্ষীরা জেলায় আজ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) -এর চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানকালে কলারোয়া উপজেলার সীমান্ত থেকে ভারতীয় ওষুধ সহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়েছে।  আজ মঙ্গলবার কলারোয়া উপজেলার মাদরা বিওপির আওতাধীন সীমান্ত এলাকা থেকে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।  বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাদরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল কলারোয়া উপজেলার তেতুলতলা মাঠ নামক স্থান হতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ করে। জব্দকৃত ওষুধের সর্বমোট বাজার মূল্য দুইলাখ ১০ হাজার টাকা। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবি’র সাতক্ষীরা ব্যাটেলিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, জব্দকৃত ভারতীয় ওষুধ সাতক্ষীরা কাস্টমসে জমা দেয়া হয়েছে। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

র‌্যাবের নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’

ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে খুন-সহিংসতা বাড়ছে

ছবি : সংগৃহীত

বিটিসিএলের ১৭ কর্মকর্তাকে জেষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতির চেষ্টার অভিযোগ

0 Comments