গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগের দিন রাজধানীর পল্টন এলাকার ‘আজাদ প্রোডাক্টসের’ গলিতে গুলিবিদ্ধ হন শাকিল মোল্লা ওরফে বাপ্পি। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। জুলাই যোদ্ধাদের যে সরকারি গেজেট করা হয়েছে, সেখানেও আছে তার নাম।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করে ২০২৫ সালের ৬ মে নিজে বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা করেন এই জুলাই যোদ্ধা। মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের ও স্থানীয় নেতা, পুলিশের শীর্ষ কর্তাসহ ৩৪৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত ভার পড়ে পল্টন থানা পুলিশের ওপর। তদন্তে নেমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে বেগ পেতে হয় তদন্ত কর্মকর্তার। পর পর দুইজন কর্মকর্তা তদন্ত করেও ঘটনাটি সত্য কিনা, তা জানতে পারেননি। তৃতীয় কর্মকর্তা এসে সত্যতা যাচাই না করতে পারার রহস্য উন্মোচন করেন।
এই তদন্ত কর্মকর্তা খুঁজে পান, মামলার এজাহারে ঘটনাস্থল হিসেবে যে জায়গার কথা বলা হয়েছে, সেটি সঠিক নয়। তাই আগের কর্মকর্তারা তদন্ত শেষ করতে পারেননি।
প্রায় এক বছরের বেশি সময় দুই কর্মকর্তা তদন্ত করেন, তৃতীয় তদন্ত কর্মকর্তার এসে প্রকৃত ঘটনাস্থলের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হন। ঘটনাস্থল নিয়ে এই রহস্য কেন, তা জানার চেষ্টা করেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
গেল ৩০ জুন মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছেন পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক তদন্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান।
সেই তদন্ত প্রতিবেদনে মামলার বাদী শাকিল মোল্লার জবানবন্দি তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এই মামলার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতেন না। মামলা যেদিন দায়ের করা হয়েছে, সেদিন তার এক নিকট আত্মীয় তাকে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে, এমন আশ্বাসে একজন আইনজীবীর কাছে পাঠান।
শাকিল যখন সেই আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে যান, তখন তিনি কিছু কাগজপত্রে তার স্বাক্ষর নেন এবং চলে যেতে বলেন।
এক পর্যায়ে মামলার তদন্ত শুরু হলে তিনি মামলার বিষয়ে জানতে পারেন এবং অবাক হন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন এক পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়, ৫ অগাস্ট ভারতে চলে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটে।
শাকিলের মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪ আগস্ট বিকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আল্লাহ করিম মসজিদ এলাকায় নতুন ফুটব্রিজের নিচে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। একটি বুলেট এসে তার বুকে লাগে। এরপর সেখান থেকে তাকে আন্দোলনকারীরা প্রথমে সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্রও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম মামলার বাদী শাকিল মোল্লার সঙ্গে কথা বলেছে।
তিনি বলেন, “আমি এই মামলার বিষয়ে জানতামই না। আমাকে সহায়তার কথা বলে ডেকে নিয়ে আইনজীবী রুবেল ভূঁইয়া কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে এই মামলা করিয়েছে। আমার বাড়ি বরিশালে হলেও কাজের সুবাদে আমি মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকি। আমি আল্লাহ করিম মসজিদের সামনেই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলাম।
“তারা (নিকট আত্মীয় ও আইনজীবী) যখন আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিল তখন আমার শরীরের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। গুলিবিদ্ধ শরীর নিয়ে এত আগপিছ ভাবি নাই আমি।”
ঘটনাস্থল সঠিক না হওয়ায় মামলার তদন্ত করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল পল্টন থানার এসআই আতিকুজ্জামানের।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঘটনাস্থল সঠিক থাকলে আমরা অনায়াসেই মামলাটি শেষ করতে পারতাম। ঘটনা মোহাম্মদপুরে আর তদন্তের সময় আমরা সত্যতা যাচাই করেছি পল্টনের আজাদ প্রোডাক্টসের গলিতে।
“সেখানে ফল বিক্রেতা থেকে শুরু করে ভবঘুরে সবার কাছেই দিন, তারিখ ও সময় উল্লেখ করে জানতে চেয়েছি। কেউ কিছু বলতে পারে নাই। ফলে আমার আগে দুইজন কর্মকর্তা এটার রহস্য উন্মোচন করতে পারেননি।”
একটি সত্য ঘটনার ঘটনাস্থল কেন ভুল দেওয়া হল? জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “জবানবন্দি অনুযায়ী উনি (বাদী) তো জানতেনই না মামলা হচ্ছে। তাকে যারা ডেকে এনেছিল, তারাই এই কাজটি করেছে।”
যারা শাকিল মোল্লাকে ডেকে নিয়ে সহায়তার কথা বলে কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে মামলা করেছেন বলে তার অভিযোগ, তাদের একজন আইনজীবী রুবেল ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার রাতে এই আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। তিনি শাকিল মোল্লার মামলা সম্পর্কে জানেন কিনা, এ প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন এই আইনজীবী।
না জানিয়ে মামলার করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুবেল ভূঁইয়া বলেন, “এই বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি না। তাই এই মুহূর্তে আপনার সঙ্গে এটি নিয়ে কথা বলতে চাইছি না।”
ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের গত বছরের অগাস্টের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ দমন-পীড়নের বিভিন্ন ঘটনায় রাজধানীর ৫০টি থানায় ৭০৭টি মামলা হয়েছে।
ডিএমপি সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এসব মামলার মধ্যে ১২৬টির তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। গেল ৩০ জুন পর্যন্ত অন্তত ২১ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
এই ১২৬টি মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এজাহারে দেওয়া ঘটনাস্থল সঠিক নয়, এমন মামলার সংখ্যা ১৪। এর মধ্যে পল্টন থানাতেই রয়েছে এমন ১২টি। এছাড়া এজাহারে প্রকৃত ঘটনাস্থল নেই, এমন মামলার সংখ্যা ৩৭।
জুলাই আন্দোলনের দুই বছরেও সারাদেশে দায়ের করা মামলার বেশির ভাগেরই তদন্ত শেষ না হওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে। সারাদেশে ১ হাজার ৮২৬টি মামলার মধ্যে ২৫৪টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার তথ্য এসেছে এসব খবরে। মামলায় ঢালাও আসামি করা ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগও এসেছে।
মামলা তদন্তের ক্ষেত্রেও বাদী ও ভুক্তভোগী কেউ সহায়তা করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে নেমে এজাহারে দেওয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা না পেয়ে বাদী ও ভুক্তভোগীকে ডেকেও সাক্ষাৎ না পাওয়ার মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তদন্ত কর্মকর্তাদের।
পল্টন থানায় ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি একটি মামলা হয়েছে, যেখানে মো. মোবারক হোসেন নামে এক ব্যক্তি কোটা সংস্কারের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মোবারক যেখানে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, সেটি পল্টন থানার আওতাধীন এলাকা। তবে মামলার তদন্তে নেমে ঘটনাস্থলে (তদন্ত চলমান থাকায় সুনির্দিষ্ট জায়গার নাম বলা হল না) গিয়ে এমন দাবির সত্যতা পাননি এসআই মো. নূর ইসলাম।
বৃহস্পতিবার তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিস্তারিত জানার জন্য বাদী ও ভুক্তভোগীকে কয়েকবার থানায় ডেকেছিলাম, তারা আসে নাই।”
এই মামলার বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ভুক্তভোগীর বোন খাদিজা ইসলামের সঙ্গে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কথা বলেছে।
তিনি বলেন, “আমার ভাই ঢাকা মেডিকেলে ছিল। সেখানে একটা সংস্থার নাম করে কিছু টাকা দিয়ে আমাদের কাগজপত্র নিয়ে যায় এবং তারাই মামলাটি করেছে। এর বেশি কিছু জানি না।”
মামলার এজাহারে ঘটনাস্থল ভুল, এক থানা এলাকার ঘটনায় আরেক থানায় হওয়া মামলাগুলো ত্রুটিমুক্ত করার কথা বলেছেন ডিএমপির সদ্য বিদায়ী অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।
বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি সদর দপ্তরে কর্মরত এই কর্মকর্তা এসবের ভুলের কারণে তদন্তে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার কথাও বলেছেন।
বৃহস্পতিবার তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মামলার একাধিক ঘটনাস্থল বা সঠিক তথ্য না থাকার মতো যেসব প্রতিবন্ধকতা ছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে আমলে নেওয়া হয়েছে এবং সে অনুযায়ী আইনগত পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।
“জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড এবং হত্যাচেষ্টার মামলাগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শুরুতে তদন্তের ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি বা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়েছিল। যেমন—একই ঘটনায় একাধিক থানায় মামলা দায়ের হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা পরবর্তীতে আমরা ত্রুটিমুক্ত ও সংশোধন করেছি। আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রকৃত ঘটনাস্থল পড়েছে এক থানায়, অথচ মামলা রুজু হয়েছে অন্য থানায়; সেগুলোও তদন্তের স্বার্থে ইতোমধ্যে ঠিক করা হয়েছে।
নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে যে যার মতো করে যেভাবে পেরেছে তথ্য দেওয়ায় এই ধরনের কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমানে এগুলো অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি এখন একটি নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যে চলে এসেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসায় ছয় বছরের শিশুশিক্ষার্থীকে চুমুকাণ্ডে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে পুলিশ। পুলিশ প্রথমে রুমিকে গ্রেপ্তারে অভিযানের কথা জানালেও এখন বলা হচ্ছে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান। ওই পোস্টে তিনি লেখেন,গাজীপুর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। টঙ্গীর মাদ্রাসার ঘটনায় শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তার করার কোনো সিদ্ধান্ত পুলিশ নেয়নি এবং পুলিশ কোনো অভিযানও পরিচালনা করেনি। সরকারের পক্ষ থেকেও গ্রেফতারের কোনো পরামর্শ পুলিশকে দেওয়া হয়নি। কতিপয় মিডিয়াতে শাহজালাল রুমির গ্রেফতারের অভিযানের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে রুমিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর রুমিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় ছয় বছরের এক ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। এ ঘটনায় করা মামলায় মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেম আহমদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার মোসলেম আহমদের বাড়ি কুড়িগ্রামের রৌমারী থানার কর্তিবাড়ী মাস্টারপাড়া এলাকায়। তিনি টঙ্গীর আউচপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। অন্যদিকে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরীর অভিযোগ, একদল লোক প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলাতেই শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। শিশুটির বাবা রুমিকে উদ্দেশ করে ধর্মীয় বক্তা জুবায়ের আহমাদ তাশরিফের ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে পড়েছে। ওই বক্তব্যে রুমিকে হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, শিক্ষককে মারধর ও মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগে রুমিসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ। একই ঘটনায় শিশুটিকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে গেছেন মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেম আহমদ।
সাগরকন্যা কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর দিগন্তজোড়া সূর্যাস্ত উপভোগ করতে ভ্যানে চড়ে সৈকত ঘুরে দেখেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে ভ্যানে চড়ে লেম্বুরবন এলাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন তারা। এ সময় সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি পর্যটন এলাকার পরিবেশ ও দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ সফরসঙ্গীরা। ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬’ উপলক্ষে তাদের এ ব্যতিক্রমী ভ্রমণ ঘিরে পর্যটকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। ভ্যানে চড়ে সৈকতসংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তারা কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কাছ থেকে উপভোগ করেন। বিকালের সোনালি আলো, সাগরের ঢেউ আর দিগন্তে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য তাদের ভ্রমণে যোগ করে বাড়তি আকর্ষণ। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন জুঁই, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান শামীমুজ্জামান, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাশু সরকার কুট্টি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী এনডিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬। এ উপলক্ষে সৈকতজুড়ে আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠান। বিচ ফুটবল, ঘুড়ি উৎসব, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন এবং কুয়াকাটাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও প্রসারিত করবে। পাশাপাশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে আঞ্চলিক সংগঠনের অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। বৃহস্পতিবার অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষের পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলাগুলির পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আটকা পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপত্তা দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ঘটনার প্রতিবাদে আবারও রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। ফলে পাহাড়ের পর্যটন, জনজীবন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদিকে সাজেকে অবরোধকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ আজ রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সংর্শ্লিষ্টরা। গোলাগুলির ঘটনায় সেনাবাহিনীর দাবি, এতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালালে আত্মরক্ষায় পালটা গুলি চালানো হয়। তবে ইউপিডিএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীই একতরফা গুলি চালিয়েছে। অবরোধকারী সংগঠনগুলোকে ইউপিডিএফ-ঘনিষ্ঠ হিসাবে বিভিন্ন মহল থেকে উলেখ করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা গুলি চালিয়েছে এবং সহিংসতা কীভাবে শুরু হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। জনশূন্য গঙ্গারাম, শুক্রবারও চলে অবরোধ বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর সাজেক গঙ্গারাম এলাকায় জনশূন্যতা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে বাড়িঘর, দোকানপাট ছেড়ে সাধারণ মানুষজন প্রায় নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন বলে জানান সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা। তবে শুক্রবারও সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার সাজেক সড়কে অবরোধের ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব বলেন, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদারের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং যৌথবাহিনীর (পুলিশ ও সেনাবাহিনী) অভিযান চলছে। বন্ধ সাজেক, বড় ক্ষতিতে ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এতে পর্যটননির্ভর রিসোর্ট, কটেজ, পরিবহণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছে। শুধু পর্যটন নয়, সড়ক অবরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণ এবং জুমের ফসল বাজারজাতকরণও ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, এখন পর্যটনের ভরা মৌসুম। অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে সব বুকিং বাতিল করে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যটকবাহী জিপ চলাচল করত, কিন্তু বর্তমানে সেগুলো বন্ধ। এছাড়া খাদ্যসামগ্রী আনা-নেওয়া এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে বিক্রি করতে না পেরে স্থানীয় সাধারণ মানুষও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, কোটি কোটি টাকার আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পর্যটন বন্ধ থাকায় কটেজ মালিকদের পাশাপাশি পরিবহণ খাত, স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকাও চরম সংকটে পড়েছে। একই কথা জানান সাজেক পর্যটন ভ্যালির কুঁড়েঘর রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী যতেন ত্রিপুরা। সাজেক খুলে দিতে আলটিমেটাম পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়ীরা। শক্রবার বিকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের সরকারি কলেজ গেটের সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে এসে শেষ হয়। যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা বলেন, পর্যটন এখানকার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। পর্যটন বন্ধ হলে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। দ্রুত সাজেক খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ইটাব) সদস্য উজ্জ্বল দে বলেন, ‘আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধের কারণে পর্যটকরা আতঙ্কের মধ্যে আছে। দ্রুত অবরোধ প্রত্যাহার না করলে আমরা বড় আন্দোলনে যাব।’