যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকর করার লক্ষ্যে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। আগামীকাল বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) থাইল্যান্ডের চানথাবুরিতে অনুষ্ঠিত হবে বৈঠক। এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) মালয়েশিয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে বৈঠকের পর একথা জানান থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত কমিটির কাঠামোর মধ্যে হবে আলোচনা।
এর আগে, গত জুলাইয়ে ৫ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই করেছিল দুই দেশ। মধ্যস্থতা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
চলতি মাসের শুরুতে আবার লড়াই শুরু হয় দুই দেশের সীমান্তে। হতাহতের ঘটনাও হয়। ব্যাংককের দাবি, জুলাইয়ের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে তাড়াহুড়ো করা হয়েছিল। ট্রাম্পের মালয়েশিয়া সফরের কারণে ওই সময়ের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য চাপ ছিল ওয়াশিংটনের তরফ থেকে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের আকামা ফি কমানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এ নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, অভিবাসন ব্যয় হ্রাস এবং প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সৌদি আরবে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করায় দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। বৈঠকে জনশক্তি রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। রিক্রুটিং এজেন্সির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং দক্ষ কর্মী নিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি দক্ষতা যাচাইকরণ কর্মসূচি সম্প্রসারণ, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আধুনিকায়ন এবং দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করতে একটি ডিজিটাল ট্যালেন্ট ব্যাংক গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে সৌদি আরবে দক্ষ শ্রমিকের পাশাপাশি উচ্চপদস্থ বা ‘হোয়াইট-কলার’ কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ প্রবাসী কর্মীদের আকামা ফি কমানো এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর বিষয়ে সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে এসব বিষয়ের অনেকটাই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে নতুন চুক্তির মাধ্যমে বাকি বিষয়গুলো যুক্ত করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, আকামা ফি কর্মীদের ওপর চাপানো উচিত নয় এবং এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া নিয়ম না মানা ৯৯০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং কর্মীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ অ্যাপ চালুর প্রস্তাব দেন তিনি। বৈঠকে শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। সৌদি রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে ২৫০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ৫০০ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরব থেকে সিলেটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকের শেষে মন্ত্রী সৌদি রাষ্ট্রদূতকে সিলেট সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ, যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে সামরিক খাতে ব্যয় নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছর বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে—যা টানা ১১তম বছরের মতো বৃদ্ধি নির্দেশ করে। গবেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি এবং সামরিক শক্তি বাড়ানোর প্রতিযোগিতাই এই ব্যয়ের মূল চালিকা শক্তি। মোট ব্যয়ের বড় অংশই এসেছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া থেকে—এই তিন দেশের সম্মিলিত ব্যয় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি ডলার, যা বৈশ্বিক ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে মোট সামরিক ব্যয় বেড়েছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা ব্যয় কমিয়েছে। সিপ্রির গবেষক লরেনৎসো স্কারাৎসাতো জানান, যুক্তরাষ্ট্রের এই কমতি ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর বাড়তি ব্যয় দিয়ে পুষিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “বিশ্ব ক্রমেই নিজেকে অনিরাপদ ভাবছে, আর সেই কারণেই দেশগুলো প্রতিরক্ষা খাতে বেশি বিনিয়োগ করছে।” একই সঙ্গে, বৈশ্বিক জিডিপির তুলনায় সামরিক ব্যয়ের হার ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক খাতে ব্যয় করেছে ৯৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এর পেছনে অন্যতম কারণ ইউক্রেনকে নতুন সামরিক সহায়তা অনুমোদন না হওয়া। তবে এই প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে, কারণ ২০২৬ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ১ লাখ কোটি ডলারের বেশি প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে। ইউরোপে সামরিক ব্যয় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে এই অঞ্চলে ব্যয় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউরোপকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা জোরদারের চাপও এই বৃদ্ধির একটি কারণ। জার্মানি ২০২৫ সালে সামরিক ব্যয়ে চতুর্থ অবস্থানে উঠে এসেছে, তাদের ব্যয় ২৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। স্পেনের ব্যয়ও এক বছরে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। রাশিয়ার সামরিক ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার কোটি ডলার, যা তাদের জিডিপির ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে ইউক্রেন ব্যয় ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ৮ হাজার ৪১০ কোটি ডলারে উন্নীত করেছে—যা দেশটির জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ব্যয় তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও সামগ্রিকভাবে সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ইসরায়েল ও ইরান উভয়ই ব্যয় কমিয়েছে। ইরানে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যয় কমে ৭৪০ কোটি ডলারে নেমেছে, আর গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রভাবে ইসরায়েলের ব্যয় কমে হয়েছে ৪ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার। এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলেও সামরিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে এই অঞ্চলে ব্যয় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৮ হাজার ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে—যা ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ। চীন এখানে প্রধান চালিকাশক্তি, যার সামরিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানও নিজেদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়িয়েছে। জাপানের ব্যয় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ২২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা ১৯৫৮ সালের পর সর্বোচ্চ। বিশ্বব্যাপী এই প্রবণতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—নিরাপত্তা উদ্বেগ যত বাড়ছে, ততই সামরিক ব্যয় বাড়ছে দেশগুলোর মধ্যে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মঙ্গলবার একটি জরুরি প্রতিক্রিয়া কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। তিনি ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তৃতায় বলেন, আগামীকাল আমি কোবরা বৈঠকে সভাপতিত্ব করব। বৈঠকে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিরাও থাকবেন। সংকটে কর্মজীবী মানুষের পাশে থাকতে করণীয় নির্ধারণ করতে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এদিকে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইরানের জাঞ্জান প্রদেশে বিপুল পরিমাণ অবিস্ফোরিত বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এর মধ্যে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের ৩টি বাংকারবিধ্বংসী বোমাও রয়েছে। আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের সময় নিক্ষিপ্ত অবিস্ফোরিত অস্ত্র শনাক্তে বিশেষায়িত বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিটগুলো অভিযান চালায়। চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এ অভিযান পরিচালিত হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযানে ৯ হাজার ৫০০টির বেশি বোমার ক্ষুদ্র অংশ বা ‘বোম্বেট’ শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এগুলো শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান থেকে ফেলা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া, বিভিন্ন ধরনের অবিস্ফোরিত রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। আইআরজিসির তথ্যমতে, মোট ৫২টি রকেট ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।