সাফল্যের অন্যতম প্রধান সোপান হলো ক্রমাগত শিক্ষা ও জ্ঞানার্জন। জ্ঞানহীন মানুষ অন্ধের মতো, যে গন্তব্যে পৌঁছানোর সঠিক পথ খুঁজে পায় না। মহানবী (সা.)-এর কাছে আসা প্রথম ওহি ছিল—‘পড়ো’।
তিনি শুধু ধর্মীয় শিক্ষাই নয়, বরং জাগতিক জ্ঞান, ভাষা এবং কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপরও সমান গুরুত্ব দিয়েছিলেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে তাঁর বলা ১০টি উপায় তুলে ধরা হলো:
১. জ্ঞানার্জন বাধ্যতামূলক মনে করা
সাফল্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটি প্রতিটি মানুষের মৌলিক দায়িত্ব।
রাসুল (সা.) বলেছেন, “জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ (অবশ্যপালনীয়)।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৪)
২. আজীবন শিক্ষার মানসিকতা
শেখার কোনো বয়স বা সীমা নেই। নবীজি (সা.) দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অন্বেষণের প্রেরণা দিয়েছেন এবং উপকারী জ্ঞানের জন্য সব সময় দোয়া করতেন।
রাসুল (সা.) বলতেন, “হে আল্লাহ! আমাকে এমন জ্ঞান দিন, যা আমার উপকারে আসবে এবং আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৫১)
৩. ভাষার দক্ষতা অর্জন
সাফল্যের একটি বড় মাধ্যম হলো যোগাযোগ। নবীজি (সা.) তাঁর সাহাবিদের ভিনদেশি ভাষা শেখার জন্য উৎসাহিত করতেন, যাতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সহজ হয়।
হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) বলেন, “নবীজি আমাকে ইহুদিদের ভাষা (হিব্রু ও সিরিয়াক) শেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে আমি মাত্র ১৫ দিনে তা শিখে ফেলি।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৭১৫)
৪. অন্যের মেধার সম্মান করা
একজন সফল নেতা বা মানুষের গুণ হলো অন্যের মেধার মূল্যায়ন করা। নবীজি (সা.) বদর যুদ্ধের শিক্ষিত যুদ্ধবন্দীদের মুক্তিপণের বিনিময়ে মদিনার শিশুদের অক্ষরজ্ঞান শেখানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। (আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ১/৫৪৭, দারুল মা’রিফাহ, বৈরুত, ২০০৪)
৫. হাতে-কলমে শিক্ষা
তাত্ত্বিক জ্ঞানের চেয়ে ব্যবহারিক বা হাতে-কলমে শেখা কাজের গুণগত মান বাড়ায়। নবীজি (সা.) সাহাবিদের বিভিন্ন কারিগরি ও সমরবিদ্যা হাতে-কলমে শিখিয়েছেন। বলেছেন, “তোমরা তির নিক্ষেপ করা শেখো এবং অশ্বারোহণ শেখো।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫১৩)
৬. অজানাকে জানার কৌতূহল
অহংকারবশত প্রশ্ন না করা বা শেখার সুযোগ হারানো সাফল্যের অন্তরায়। নবীজি (সা.) সাহাবিদের প্রশ্ন করার সুযোগ দিতেন এবং নিজেও প্রশ্ন করে তাঁদের মেধা যাচাই করতেন।
তিনি একবার জিজ্ঞেস করলেন, “বলো তো, এমন একটি গাছ আছে, যার পাতা ঝরে না এবং যা মুসলিমের উদাহরণ?” সাহাবিরা উত্তর দিতে পারলেন না, তখন তিনি নিজেই শিখিয়ে দিলেন—“সেটি হলো খেজুরগাছ।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১)
৭. সৃজনশীল সমাধান ও বুদ্ধিবৃত্তি
প্রথাগত চিন্তার বাইরে গিয়ে নতুন কোনো আইডিয়া গ্রহণ করা নবীজি (সা.)-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। খন্দকের যুদ্ধে সালমান ফারসি (রা.)-এর পরামর্শে পরিখা খননের সিদ্ধান্ত ছিল এক অনন্য সৃজনশীল রণকৌশল। (আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি, ফাসলুল খিতাব ফি সিরাতি আমিরিল মুমিনিন উমার ইবনিল খাত্তাব, ১/২৪৫-২৪৬, দার ইবনে কাসির, বৈরুত, ২০০২)
৮. নোট নেওয়া বা লিখে রাখা
স্মৃতিশক্তির ওপর শুধু নির্ভর না করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লিখে রাখা সফলতার একটি বড় কৌশল। নবীজি (সা.) সাহাবিদের জ্ঞান লিখে রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন।
তিনি এক আনসারী সাহাবির উদ্দেশে বলেছিলেন, “তুমি তোমার ডান হাতের সাহায্য নাও (অর্থাৎ লিখে রাখো)।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৬৬৬)
৯. বিনয় ও শিক্ষক-ছাত্রের মর্যাদা
জ্ঞান অর্জন করতে হলে বিনয়ী হতে হয়। নবীজি (সা.) নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং ছাত্রদের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু।
তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৯)
১০. অর্জিত জ্ঞানের প্রচার ও প্রয়োগ
সাফল্য তখনই সার্থক হয় যখন অর্জিত জ্ঞান নিজের জীবনে প্রয়োগ করা হয় এবং অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
রাসুল (সা.) বিদায় হজের ভাষণে বলেছিলেন, “উপস্থিতরা যেন অনুপস্থিতদের কাছে আমার কথাগুলো পৌঁছে দেয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৭)
রাসুলের জ্ঞানভিত্তিক এই দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং জীবনমুখী শিক্ষা এবং সৃজনশীলতাই প্রকৃত অগ্রগতির চাবিকাঠি। যে জাতি জ্ঞানে সমৃদ্ধ, তারাই পৃথিবীতে নেতৃত্ব দেয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে সরকার পরিচালনা, শরিকদের সঙ্গে সমন্বয়, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং আন্দোলনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শরিক নেতাদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকার পরিচালনায় শরিকদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জোটকে আরও সুসংহত করতেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। নির্বাচনের আগে বিএনপি ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকারে মাত্র তিনটি শরিক দলের তিনজন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করায় কয়েকটি দলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেও বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ যুগপৎ আন্দোলনের বিভিন্ন শরিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আন্দালিভ রহমান পার্থ, সাইফুল হক, রফিকুল ইসলাম বাবলু, শাহাদাত হোসেন সেলিম, ফরিদুজ্জামান ফরহাদসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অংশ নেন। বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে আ স ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) বৈঠকে অংশ নেয়নি। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও দলটি কৌশলগত কারণে অংশ নেয়নি বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েই যাইনি। তবে কেন যাইনি, সে বিষয়ে আমরা বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে একটি চিঠি দিয়েছি।’ জানা গেছে, চিঠিতে জেএসডি বলেছে, জুলাই সনদ, গণভোট ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার আগে বিএনপির সঙ্গে পৃথক রাজনৈতিক বৈঠকে অংশগ্রহণ দলের নীতিগত অবস্থান ও জনগণের প্রতি প্রদত্ত অঙ্গীকার সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই জেএসডি এই মুহূর্তে প্রস্তাবিত বৈঠকে অংশ নিচ্ছে না। তবে রাষ্ট্র বা সরকারের উদ্যোগে সব রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণে জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হলে জেএসডি তাতে গঠনমূলকভাবে অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচনের পর শরিকদের অবস্থান গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি শরিক দলগুলোর জন্য ১৫টি আসন ছেড়ে দেয়। এর মধ্যে নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া পাঁচটি দলের জন্য ছিল আটটি আসন। নির্বাচনে জয়ী হন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হক। পরে জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক ও ববি হাজ্জাজকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। আন্দালিভ রহমান পার্থকে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়। এ ছাড়া কয়েকটি শরিক দলের নেতা নিজ নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তাঁদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন সেলিম ও ববি হাজ্জাজ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খাঁনকে গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর এ বৈঠকে ধর্মভিত্তিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। যদিও জমিয়ত যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত ছিল না। পরে বিএনপির সঙ্গে তাদের নির্বাচনী সমঝোতা হয়। কিন্তু দলটি বৈঠকে অংশ নেয়নি। গত জাতীয় নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে সর্বোচ্চ চারটি আসন ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। তবে দলটির সভাপতি-মহাসচিবসহ কোনো প্রার্থীই জয়ী হননি। এই চার আসনের একটিতে খেলাফত মজলিস, একটিতে বিএনপির বিদ্রোহী, একটিতে জামায়াতে ইসলামী ও একটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী জয়ী হন। নির্বাচনের পর থেকে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে কওমি মাদ্রাসা ও জামায়াত ধারার আলেমদের মধ্যে নানা বিষয়ে বিতর্ক চলছে। তাঁদের মধ্যে জমিয়তের সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক জামায়াতের আদর্শিক ও রাজনৈতিক ধারার সমালোচনা করছেন। জানা গেছে, বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের জানিয়েই জমিয়ত প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে অংশ নেওয়া থেকে কৌশলগত কারণে বিরত থেকেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা দাওয়াত পেয়েছি। কিন্তু আমরা এটাতে (বৈঠকে) যাব না, এটা আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। কারণটা আমরা আপাতত বলছি না।’ যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির অন্যতম শরিক জোটের একটি হচ্ছে গণতন্ত্র মঞ্চ। সে জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, তাঁর দল নাগরিক ঐক্য। বিএনপি তাঁকে প্রার্থী করেনি। এ নিয়ে নির্বাচনের আগমুহূর্তে কিছুটা তিক্ততাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরে কোনো পক্ষই বিষয়টি নিয়ে এগোয়নি। তবে মাহমুদুর রহমান মান্না গতকালের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। বৈঠকে দ্বিমত, হাস্যরস বৈঠকসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আলোচনায় একজন শরিক নেতা বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বৈঠকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণপত্র মুখ্য সচিবের কার্যালয় থেকে পাঠানো হলেও পরে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রক্রিয়া প্রত্যাশিত রাজনৈতিক মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি। আলোচনায় সরকার গঠনের পর বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কয়েকজন নেতা বলেন, সরকারে আসার পর বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা তেমন দৃশ্যমান নয়। একই সঙ্গে গত পাঁচ মাসে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপি সমালোচনার মুখে পড়েছে বলেও মত দেন তাঁরা। বৈঠকে শরিকদের মধ্যে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা হয়। একজন নেতা বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচন, স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে শরিক দলগুলোর অংশগ্রহণ ছিল না। এতে বিএনপি ‘একলা চলো’ নীতি অনুসরণ করছে—এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। এতে শরিকদের মধ্যে দূরত্ব ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বৈঠকের শেষ দিকে পরিবেশ কিছুটা হালকা করতে একজন নেতা রসিকতার সুরে প্রশ্ন করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই নৈশভোজ কি ‘ফেয়ারওয়েল ডিনার’? জবাবে প্রধানমন্ত্রী হাস্যরসের সঙ্গে বলেন, ‘না, এটি ওয়েলকাম ডিনার।’ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। তবে সরকার জনগণের কাছে পৌঁছাতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি কৃষিঋণ, পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় নেতা ও খেলোয়াড়দের ভাতা, খাল পুনঃখননসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকার একটি ‘ধ্বংসস্তূপ’ থেকে কাজ শুরু করেছে এবং ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আরও নিয়মিত মতবিনিময় এবং আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। মির্জা ফখরুলের প্রতিক্রিয়া বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর এ বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। তিনি জানান, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের আন্দোলন, কারাবরণ, মামলা, গুম ও হত্যার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বৈঠকে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। শরিক দলগুলোর নেতারা সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান আইনে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নৈশভোজে অংশ নেন।
প্রক্সি পরীক্ষার্থীর সহায়তায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পাওয়ার পর যোগদানপত্র দাখিল করতে এসে ফেস ভেরিফিকেশনে (মুখের অবয়ব পরীক্ষা) ধরা পড়েছেন চারজন। শাহবাগ থানায় করা প্রতারণার মামলায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মো. জোনাইদ সোমবার (২০ জুলাই) তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তারা হলেন, মো. রাসেল রানা লিটন (৩২), মো. আলিম (২৮), মো. আলী হায়দার (২৯) এবং মো. মাসুদ ফকির (৩১)। মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৫ মে অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদের ২০টি শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এরপর গত ১৯ জুন লিখিত এবং ২৪, ২৫ ও ২৬ জুন মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। পরীক্ষা শেষে গত ৬ জুলাই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয় এবং রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টার মধ্যে সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ১৮০২ নম্বর কক্ষে যোগদানপত্র দাখিল করতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ে আসামিরা সচিবালয়ে যোগ দিতে এলে তাদের চেহারা ও উপস্থিতি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে উপস্থিত কর্মকর্তারা তাদের ছবি ও তথ্য মৌখিক পরীক্ষার সময় তোলা ক্যামেরার ছবির সঙ্গে মেলান (ফেস ভেরিফিকেশন)। এতে মুখের অবয়বে মারাত্মক অসংগতি ধরা পড়ে। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এইচ এম আরিফুর রহমান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস বা বার্ধক্যে পা রাখা মানেই হলো নিজের শরীরের প্রতি বাড়তি যত্ন আর ভালোবাসার সময়। বয়স ৬৫ পার হলে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। জীবনের এই পর্যায়ে শরীর দীর্ঘস্থায়ী রোগ যেমন হৃদরোগ, ক্যানসার এবং অস্টিওপরোসিসের মতো জটিলতার প্রতি আরও সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। তাই শরীরকে এই রোগগুলোর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে এবং অভ্যন্তরীণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি ক্ষতিকর খাবারগুলো চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি এই বয়সে কেবল ওজনই বাড়ায় না, বরং উচ্চ রক্তচাপ, শরীরে পানি জমা এবং এমনকি ডিমেনশিয়ার মতো মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এছাড়া ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কমে যায় বলে সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ‘ফুড পয়জনিং’-এর ঝুঁকিও তাদের জন্য অনেক বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। সুস্থ বার্ধক্যের পথে হাঁটা কখনো অসম্ভব নয়, আর এর প্রথম ধাপই হলো ক্ষতিকর খাবারগুলো খাদ্যতালিকা থেকে সীমিত করা বা প্রয়োজনে পুরোপুরি বর্জন করা। ৬৫ বছর বয়সের পর সুস্থ থাকতে যে ১০ খাবার এড়িয়ে চলবেন ১. লবণযুক্ত বা সংরক্ষিত খাবার: অতিরিক্ত লবণযুক্ত আচার বা লবণ দিয়ে সংরক্ষিত খাবার রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। ২. চিনিযুক্ত পানীয় ও মিষ্টান্ন: অতিরিক্ত চিনিযুক্ত সোডা বা মিষ্টি জাতীয় খাবার ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ৩. রিফাইন করা দানা শস্য: সাদা পাউরুটি বা ইনস্ট্যান্ট সিরিয়ালের মতো খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। ৪. প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস: চিপসের মতো উচ্চ সোডিয়াম ও প্রিজারভেটিভ যুক্ত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ৫. ভাজাপোড়া খাবার: ডুবো তেলে ভাজা খাবার হজমে সমস্যা ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। ৬. মাখন ও ডালডা: স্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ মাখন বা ডালডা হৃদরোগ ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ৭. লাল মাংস বা প্রক্রিয়াজাত মাংস: দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার জন্য রেড মিট বা সসেজ-এর মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস সীমিত রাখা উচিত। ৮. ডেলি সালাদ: বাইরে তৈরি করা সালাদে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থাকার সম্ভাবনা থাকে, যা বয়স্কদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ৯. অপাস্তুরিত বা উচ্চ চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্য: কাঁচা দুধ বা অপাস্তুরিত পনির থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। ১০. কাঁচা বা আধা-সিদ্ধ খাবার: কাঁচা ডিম, মাংস বা মাছ এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ এগুলো থেকে গুরুতর অসুস্থতা হতে পারে। বিশেষ সতর্কতা: অ্যালকোহল বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীর অ্যালকোহলের প্রতি অধিক সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এটি ভারসাম্যের অভাব ঘটিয়ে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, যা বয়স্কদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। বিকল্প হিসেবে কী খাবেন? খাদ্যতালিকায় প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে তাজা ফলমূল, শাকসবজি, হোল গ্রেইন বা লাল চাল/আটা, এবং চর্বিহীন প্রোটিন রাখা উচিত। এছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং মিষ্টি ছাড়া ভেষজ চা পান করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। শেষ কথা সুস্থ বার্ধক্যের জন্য আপনার খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। তবে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাসই পারে আপনাকে দীর্ঘকাল কর্মক্ষম ও সুস্থ রাখতে। তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন