বাংলাদেশের মানুষ আফগানিস্তানের চেয়ে চিকিৎসা খাতে নিজের পকেট থেকে বেশি ব্যয় করেন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্বাস্থ্য খাতের এই নাজুক পরিস্থিতি দূর করতে সরকার ‘ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার’ বা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬–২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন ও বাংলাদেশ বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। সভাপতিত্ব করেন ইআরএফের সভাপতি দৌলত আকতার।
অনুষ্ঠানে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ স্বাস্থ্য খাতে (চিকিৎসা খরচ) নিজের পকেট থেকে সবচেয়ে বেশি খরচ করেন, যা আফগানিস্তানের চেয়ে বেশি। আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা এত খারাপ। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষেরা, যাঁরা চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারেন না, তাঁদের স্বাস্থ্য যদি আমরা ঠিক করতে না পারি, তবে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
এ সময় সব নাগরিকের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে আমরা তাদের প্রাথমিক সহায়তা দিতে পারলে সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের অবনতি কম ঘটবে। অর্থাৎ সামনের দিকে অসুখ–বিসুখ কম হবে।’
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ কাজটি করা কঠিন, কিন্তু কঠিন হলেও তা করতে হবে।’ এ জন্য শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর না করে এখানে বেসরকারি খাত ও এনজিওদের সঙ্গে কাজ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
ফ্যামিলি কার্ড রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হবে
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই কার্ডের বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই, থাকবে না। আমরা এটি সম্পূর্ণ নিশ্চিত করেছি।’
অর্থমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যে পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা গেছে, এত বড় কার্যক্রমে বিচ্যুতির হার মাত্র ১ থেকে দেড় শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বড় সাফল্য। তবে এই সামান্য বিচ্যুতিটুকুও এখন সংশোধন করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে শতভাগ না হলেও অন্তত ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ নির্ভুলভাবে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো যায়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দেশের সকল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলকে একটি অভিন্ন নীতিমালার আওতায় আনতে কাজ করছে সরকার। শিক্ষার মানোন্নয়ন, পাঠদানের গুণগত উৎকর্ষ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা এবং জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বুধবার রাজধানীর The Aga Khan Academy Dhaka পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের আয়োজিত স্টুডেন্ট এক্সিবিশন ঘুরে দেখেন এবং তাদের গবেষণা, উদ্ভাবনী প্রকল্প ও সৃজনশীল উপস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষাভিত্তিক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চিন্তাশীল, উদ্ভাবনী ও নেতৃত্বদানে সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, “আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে আজকের শিক্ষার্থীরা। তাই তাদের বিশ্বমানের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।” ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, “বাংলা মাধ্যম, ইংলিশ ভার্সন কিংবা ইংলিশ মিডিয়াম—যে ধারাতেই শিক্ষার্থী পড়াশোনা করুক না কেন, সবাই যেন সমানভাবে জাতীয় মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।” পরিদর্শনকালে তিনি The Aga Khan Academy Dhaka-এর আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পাঠদান এবং নেতৃত্ব বিকাশমূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও গবেষণা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল শিক্ষাচর্চা আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান। এ সময় একাডেমির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়,জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ তানভীর মিয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয় ।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসার সামনে দুই নারীর কাছ থেকে ব্যাগ ও মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করলেও রাজধানীতে এসে নিয়মিত ছিনতাই করত। বুধবার (৩ জুন) মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম। পুলিশ জানায়, গত ৩১ মে ভোরে ঈদের ছুটি শেষে ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় ফেরেন দুই বোন। মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে বাসার সামনে নামার পর একটি পিকআপে আসা কয়েকজন ব্যক্তি চাপাতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে একটি ট্রলি ব্যাগ, একটি হ্যান্ডব্যাগ ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে জুয়েল নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত পিকআপ ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়। পরে একই ঘটনায় জড়িত আনোয়ার নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জুয়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে মাদক, ডাকাতি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত পিকআপের চালক ও মালিককেও শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। এছাড়া ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আরও একজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের তথ্যমতে, ছিনতাই হওয়া মালামালের কিছু অংশ উদ্ধার করা গেলেও একটি ট্রলি ব্যাগ ও একটি মোবাইল ফোন এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এডিসি ফজলুল করিম জানান, মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ভোরে যাত্রী নামার স্থান ও বাসস্ট্যান্ডগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, নূরজাহান রোডের ঘটনার পরদিন তাজমহল রোডেও একই চক্র ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি ছিনতাইয়ের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
বাংলাদেশের মানুষ আফগানিস্তানের চেয়ে চিকিৎসা খাতে নিজের পকেট থেকে বেশি ব্যয় করেন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্বাস্থ্য খাতের এই নাজুক পরিস্থিতি দূর করতে সরকার ‘ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার’ বা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬–২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন ও বাংলাদেশ বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। সভাপতিত্ব করেন ইআরএফের সভাপতি দৌলত আকতার। অনুষ্ঠানে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ স্বাস্থ্য খাতে (চিকিৎসা খরচ) নিজের পকেট থেকে সবচেয়ে বেশি খরচ করেন, যা আফগানিস্তানের চেয়ে বেশি। আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা এত খারাপ। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষেরা, যাঁরা চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারেন না, তাঁদের স্বাস্থ্য যদি আমরা ঠিক করতে না পারি, তবে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।’ এ সময় সব নাগরিকের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে আমরা তাদের প্রাথমিক সহায়তা দিতে পারলে সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের অবনতি কম ঘটবে। অর্থাৎ সামনের দিকে অসুখ–বিসুখ কম হবে।’ এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ কাজটি করা কঠিন, কিন্তু কঠিন হলেও তা করতে হবে।’ এ জন্য শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর না করে এখানে বেসরকারি খাত ও এনজিওদের সঙ্গে কাজ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। ফ্যামিলি কার্ড রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হবে অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই কার্ডের বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই, থাকবে না। আমরা এটি সম্পূর্ণ নিশ্চিত করেছি।’ অর্থমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যে পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা গেছে, এত বড় কার্যক্রমে বিচ্যুতির হার মাত্র ১ থেকে দেড় শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বড় সাফল্য। তবে এই সামান্য বিচ্যুতিটুকুও এখন সংশোধন করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে শতভাগ না হলেও অন্তত ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ নির্ভুলভাবে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো যায়।