সারাদেশ

ভারতের সীমান্তে ভুল করে ঢুকে পড়ায় ৫ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সীমানায় ঢুকে পড়ায় ৫ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বাংলাবাজার এলাকা থেকে পাট কিনে নৌকায় ফেরার পথে আটক হন তারা।

 

আটকরা হলেন— রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর মধ্যপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার কলেজ পড়ুয়া ছেলে মোশাররফ হোসেন (২৬), ইয়ানজের ছেলে সাহাবুল আলী (৪০), শাহাজাহান প্রামাণিকের ছেলে বাবর আলী (৪০), সামাদ মন্ডলের ছেলে নৌকার মাঝি সাইফুল ইসলাম (৪৬) ও জামাল মন্ডলের ছেলে নৌকার মাঝি আশাদুল ইসলাম (৩৮)। এদের মধ্যে ৩ জন পাট ব্যবসায়ী এবং ২ জন নৌকার মাঝি রয়েছেন। তার মধ্যে কলেজ ছাত্র একজন।

 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজশাহীর ওপারে ভারতীয় সীমান্তের বাংলাবাজার থেকে পাট কিনে নৌকায় এপারে ফিরছিলেন তারা। রাতে নদীতে স্রোতের বিপরীতে নৌকা চালাতে গিয়ে মাঝি বাংলাদেশের সীমানা ভুল করে ভারতের সীমান্তে চলে যান। এসময় ভারতীয় সীমান্তের বিএসএফ পাট বোঝাই নৌকাসহ তাদের আটক করে নিয়ে যায়।

 

খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন প্রথমে বাংলাদেশ সীমান্তের আলাইপুর বিওপি ক্যাম্পে যোগাযোগ করেন। পরে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ জানায়, তারা আমাদের আয়ত্তে নেই। উপর মহলে যোগাযোগ করতে হবে।

 

এদিকে আটকদের পরিবার বিষয়টি রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদকে জানান। এমপি চাঁদ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন বলে পরিবারকে জানিয়েছেন। কিন্তু ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাদের কোথায় রাখা হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি।

 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে আটকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বললে কান্নায় ভেঙে পড়েন নারী-পুরুষরা।

 

নৌকার মাঝি আশাদুল ইসলামের মেয়ে বৈশাখী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আপনারা আমার বাবাকে এনে দেন। বাবা ছাড়া আমাদের সংসার চালানোর দ্বিতীয় কোন মানুষ নেই। এই কয়দিন আত্মীয় স্বজনের কাছে ধার নিয়ে সংসার চলছে। এভাবে কতদিন চলবো।

 

কলেজ ছাত্র মোশাররফের বাবা গোলাম মোস্তফার দুচোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, অভাবের সংসারে লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে ছেলে ব্যবসা করে। এবার পার্টনারে দুইজনের সঙ্গে পাট কেনা-বেচা করছিল।

 

বাবর আলীর স্ত্রী হেলেনা বলেন, কোথায় কেমন আছে জানতে পারলে তাও শান্তি পেতাম।

 

আসাদুলের ভাই সাহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিজিবি ও বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন, ভুল করে ভারতের সীমান্তে চলে যাওয়ায় বিএসএফ পাট বোঝাই নৌকাসহ তাদের আটক করেছে।

 

স্থানীয়রা জানান, আটক ৫ জনই এলাকার পরিচিত পাট ব্যবসায়ী ও নৌকার মাঝি। তাদের বিরুদ্ধে চোরাচালানের কোন অভিযোগ নেই।

 

পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত তাদের ফেরত পাওয়ার জন্য সরকারের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

 

পাকুড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফকরুল হাসান বাবলু বলেন, এরা গরিব মানুষ। ভুল করে সীমান্তে চলে গেছে। দ্রুত ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হোক।

 

আলাইপুর বিওপি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার মাকসুদুর রহমান প্রথমত কথা বলতে রাজি না হয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১ নম্বর ব্যাটালিয়ন রাজশাহীর মিডিয়া সেলে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে তিনি বলেন, ওপারের (বিএসএফ)সদর খাস মহলের সঙ্গে পতাকা বৈঠক হয়েছে, কিন্তু ফেরত না দিলে আমরা কি করবো।

 

তিনি আরও জানিয়েছেন, সীমান্ত ভুল করে ভারতের দুই-আড়াই কিলোমিটার ভেতরে চলে গিয়েছিল। মোবাইল ফোনে বিজিবির মিডিয়া সেলে যোগাযোগ করলে সেখান থেকেও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। তবে বিষয়টি জেনেছি। বিজিবির সঙ্গে কথা বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবো।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
চুল কাটার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সেলুন ব্যবসায়ীকে হত্যা

ময়মনসিংহের ভালুকায় পূর্ববিরোধের জেরে রবীন্দ্র ঋষি (৪৩) নামে এক সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সাদ্দাম হোসেন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া মোড় এলাকার নোমান কম্পোজিট মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে।   নিহত রবীন্দ্র ঋষি ধোবাউড়া উপজেলার উত্তরপাড়া এলাকার রঞ্জিত ঋষির ছেলে। তিনি ভালুকার জামিরদিয়া তরিফ মুন্সী মোড় এলাকায় কাশেম মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকতেন এবং সেখানে সেলুনের ব্যবসা করতেন। অভিযুক্ত সাদ্দাম একই এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে।   যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রবীন্দ্রের সেলুনে ঢুকে তাকে ছুরিকাঘাত করেন সাদ্দাম। প্রাণ বাঁচাতে রবীন্দ্র সেখান থেকে দৌড়ে সাদ্দামের বাবার দোকানে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেখানেও তাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে বাড়ির উঠানে তাকে ফেলে আবারও ছুরিকাঘাত করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।   টাকা ও পারিবারিক বিরোধের অভিযোগ নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস আগে রবীন্দ্রের মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে সাদ্দামের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছিল। ওই ঘটনার জের ধরেও হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে দাবি পরিবারের। নিহতের স্ত্রী সূচিত্রা জানান, নেশার জন্য সাদ্দাম প্রায়ই তার স্বামীর কাছ থেকে টাকা নিতেন। এ ছাড়া সেলুনে চুল কাটিয়ে টাকা পরিশোধ করতেন না। সম্প্রতি টাকা না দেওয়া এবং চুল কাটতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সূচিত্রার অভিযোগ, এর আগেও সাদ্দাম তার স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। পূর্ববিরোধের জেরেই তার স্বামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   মরদেহ উদ্ধার, আইনি প্রক্রিয়া চলছে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরায় চড়া মাছ-মাংসের দাম, পুষ্টিকর খাবার কমাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রীদের নিরাপত্তায় বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে সিসিটিভি বসাচ্ছে রংপুর সিটি করপোরেশন

ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা সেতুর পাশে নদীতে নিখোঁজ দুই জনের একজনের মরদেহ উদ্ধার, অপরজনের সন্ধানে অভিযান

ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ায় ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশের ভেন্যু নিয়ে জটিলতা, জিলা স্কুল মাঠ ছাড়তে নারাজ আয়োজকরা

আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা–খুলনা–কুষ্টিয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ায় ভেন্যু নির্ধারণ নিয়ে প্রশাসন ও ১১ দলীয় ঐক্যের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন আটটি শর্তে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাবেশের অনুমতি দিলেও পূর্বঘোষিত কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠেই কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন আয়োজকরা।   সমাবেশের স্থান নিয়ে ভিন্ন অবস্থানের কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে শহরের বিভিন্ন স্থানে টানানো ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে সমাবেশের স্থান হিসেবে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।   সোমবার (২৬ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক শেষে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির একেএম খন্দকার আলী মহসিন জানান, জেলা প্রশাসক ও খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মৌখিক সম্মতিও পাওয়া গিয়েছিল।   তবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জারি করা অনুমতিপত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।   আট শর্তে স্টেডিয়ামে সমাবেশের অনুমতি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদন ও জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২৬ অক্টোবর সহকারী কমিশনার জাকিউল আলম স্বাক্ষরিত পত্রে আটটি শর্তে স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। অনুমতির শর্ত অনুযায়ী, সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং আয়োজকদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করবে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন আলোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মসূচি শেষ করে মাঠ পরিষ্কার করতে হবে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে কর্তৃপক্ষ সমাবেশ বন্ধ করতে পারবে। অনুমতিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ছাড়া অন্য কোনো স্থান ব্যবহার করা যাবে না। মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও জনদুর্ভোগ এড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   জিলা স্কুল মাঠেই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা এদিকে সোমবার রাতে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক জানান, পূর্বনির্ধারিত স্থান পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে স্টেডিয়ামে সমাবেশের অনুমতি চাওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকল্প স্থান নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরে ১৮ অক্টোবর কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠ ব্যবহারের জন্য আবেদন করা হয়। আয়োজকদের দাবি, জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের মৌখিক সম্মতির পর থেকেই জিলা স্কুল মাঠকে কেন্দ্র করে প্রচার-প্রচারণা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু হয়। কর্মসূচির মাত্র কয়েক দিন আগে পুনরায় স্টেডিয়ামে সমাবেশের অনুমতি দেওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ধৈর্য ধারণ, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের উসকানিতে সাড়া না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।   জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ অন্যদিকে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণার প্রতিবাদে সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। এতে সমাবেশের স্থান নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।   কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় স্থানীয় নেতারা কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর জানান, সমাবেশের স্থান পরিবর্তনের বিষয়টি স্থানীয় নেতৃত্বের একক সিদ্ধান্তের আওতায় নেই। এটি ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, প্রশাসনের মৌখিকভাবে জানানো স্থানের ভিত্তিতেই প্রচারসামগ্রী তৈরি ও বিতরণ করা হয়েছে। ভেন্যু নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে সমাবেশের স্থান নিয়ে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য জানতে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। আগামী ৩১ অক্টোবরের কর্মসূচি ঘিরে প্রশাসনের লিখিত অনুমতি ও আয়োজকদের ঘোষিত অবস্থানের মধ্যে অসংগতি থাকায় সমাবেশের চূড়ান্ত স্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে উদ্ধার হওয়া ১০৭টি চুরি যাওয়া মোবাইল মালিকদের ফেরত দিল ডিবি

ছবি: সংগৃহীত

মাটি খুঁড়লেই মিলছে গুপ্তধন, কোটি টাকার প্রত্নসম্পদ পাচার হচ্ছে বিদেশে

ছবি: সংগৃহীত

দুপুরেই তালাবন্ধ প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ ইউএনও

ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে অভিযান: ৪ তলা রিসোর্টসহ ১৩ স্থাপনা উচ্ছেদ

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারতলা একটি রিসোর্টসহ ১৩টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। সোমবার সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয়। এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কউকের সচিব সানজিদা বেগম।     সানজিদা বেগম বলেন, এটি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চলমান অভিযানের অংশ, নতুন কোনো অভিযান নয়।     প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে রিসোর্ট ভবনটির সামনে খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) নিয়ে আসা হয়। সেখানে শ্রমিকেরাও উপস্থিত হন। উচ্ছেদ অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ভিড় করতে থাকেন। দুপুরের দিকে ভবনের নিচে ও দুই পাশে থাকা ১০ থেকে ১২টি দোকানঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর চারতলা ভবনটির কাচ ভাঙা হয়। পরে মূল ভবনের পিলার ভাঙার কাজ শুরু হয়।     অভিযান চলাকালে কউকের কর্মকর্তারা জানান, অবৈধভাবে নির্মিত রিসোর্টটি নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে মালিকপক্ষকে চারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নোটিশ দেওয়ার পরও ভবনটি সরিয়ে নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। এ কারণে অভিযান চালিয়ে ভবনটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে।     তবে ভবনটির মালিক শহিদুল হক বলেন, ২০১৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করেন তিনি। সম্প্রতি ভবনের নিচতলায় কয়েকটি দোকান, দ্বিতীয় তলায় রেস্তোরাঁ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় পর্যটকদের থাকার জন্য কয়েকটি কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছিল। প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি কিছুদিনের মধ্যে উদ্বোধনের পরিকল্পনা ছিল। এর আগেই সেটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো।       নোটিশের জবাব না দেওয়ার বিষয়ে শহিদুল হক বলেন, ‘চারটি নোটিশেরই জবাব দিয়েছি। ভবন নির্মাণের পক্ষে কাগজপত্রও আছে, কিন্তু কেউ তা আমলে নিচ্ছে না।’     কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিন ড্রাইভের ৮০ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ২০০টি রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগ কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি। তার দাবি, এসব স্থাপনার কোনোটিরই অনুমোদন নেই।     জসিম উদ্দিন আরও বলেন, অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে সম্প্রতি কউকের পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় যৌথভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। মেরিন ড্রাইভে কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখতে দেওয়া হবে না।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৭, ২০২৬
গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিক কম্পোজিট (তৈরি পোশাক) কারখানা

শ্রমিক অসন্তোষের মুখে গাজীপুরের পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম।

এসবি প্রধান মনিরুলের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণ

মহিন উদ্দিন রিপন

গাজীপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে দৈনিক কালবেলার সাংবাদিককে অপহরণ ও নির্যাতন

0 Comments