সারাদেশ

যমুনা সেতুতে ২৩ ঘণ্টায় ২৪ দুর্ঘটনা, ঢাকামুখী মহাসড়কে ভোগান্তি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঈদের ছুটি শেষে পোশাক কারখানা খোলার আগে যানবাহনের চাপের মধ্যে যমুনা সেতুতে ২৩ ঘণ্টায় ছোট-বড় ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

 

এরমধ্যে ছয়টি দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কাজে রেকার ব্যবহার করতে হয়েছে। কখনো সেতুর দুই লেন, কখনো এক লেন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সেতুর দুই পাড়েই।

সব মিলিয়ে শুক্রবার সকাল থেকেই সেতুর পশ্চিমপাড়ে সিরাজগঞ্জ অংশে যানজট ও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে মানুষকে।

বিকেলের পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও সবশেষ রাত ৯টার দিকে যমুনা সেতুর ওপরে দুই বাসের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড়ে আবারো প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়।

এবার কোরবানির ঈদ ঘিরে ২৫ থেকে ৩১ মে টানা সাত দিন ছুটি কাটিয়েছেন সরকারি চাকুরেরা। তবে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পোশাক কারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হয়।

সেই ছুটি শেষে শনিবার থেকে পুরোদমে কাজে ফিরছে পোশাক কারখানাগুলো। তাই শুক্রবার দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী মানুষের ঢল নামে।

তাতে টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এর মধ্যেই যমুনা সেতু অতিক্রম করার সময় দুর্ঘটনায় পড়ে একের পর এক যানবাহন।

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ওসি আমিরুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত সময়ে সেতুর ওপরে ছোট বড় ২৪টি দুর্ঘটনা নথিভুক্ত করেছেন তারা।

এর মধ্যে সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে দুই বাসের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা যায়নি।

দুর্ঘটনার কারণে সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাত ১১টার পর থেকে সেতুর পূর্বপাড়ের যানবাহন পারাপার বন্ধ রেখে সেতুর প্রতিটি লেন দিয়ে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যানবাহন পারাপার শুরু করা হয় বলে জানান ওসি।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “পশ্চিম টোলপ্লাজা পার হওয়ার পরপরই যানবাহন বিকল হওয়া, একটার পিছনে আরেকটার ধাক্কাসহ নানা কারণে সেতুর ওপরে যানবাহন চলাচল ব্যহত হয়। সেগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সেতুর উভয় লেনেই যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যে কোনো একটি যানবাহন বিকল হলেই পেছনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। আজ যানবাহনের চাপও অনেক বেশি, ফলে সংকট আরও বেড়েছে।

সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাসের চালক রুবেল শেখ রাত ১১টার দিকে মোবাইলে বলেন, শুক্রবার সকাল ১০টার পর যমুনা সেতু অতিক্রম করার সময় পশ্চিমপাড়ে ৫ ঘণ্টা যানজটে আটকে ছিলেন তিনি।

এখন কোনাবড়ি থেকে ফেরার পথে টাঙ্গাইলের এলাঙ্গায় এসে সেতুর পূর্বপাড়ে যানজটে আটকে আছি। কখন সেতু পার হতে পারব বুঝতে পারছি না।

সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মহাসড়কে সার্বক্ষণিক সিসি ও ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে। তাদের অফিশিয়াল ফেইসবুক পেজে মহাসড়কের সর্বশেষ পরিস্থিতির তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

যানবাহন ও জনদুর্ভোগের কারণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এই মহাসড়ক দিয়ে সাধারন সময়ে ১৭/১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদের সময়ে তা বেড়ে ৫০ হাজার অতিক্রম করে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
যমুনা সেতুতে ২৩ ঘণ্টায় ২৪ দুর্ঘটনা, ঢাকামুখী মহাসড়কে ভোগান্তি

ঈদের ছুটি শেষে পোশাক কারখানা খোলার আগে যানবাহনের চাপের মধ্যে যমুনা সেতুতে ২৩ ঘণ্টায় ছোট-বড় ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।   এরমধ্যে ছয়টি দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কাজে রেকার ব্যবহার করতে হয়েছে। কখনো সেতুর দুই লেন, কখনো এক লেন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সেতুর দুই পাড়েই। সব মিলিয়ে শুক্রবার সকাল থেকেই সেতুর পশ্চিমপাড়ে সিরাজগঞ্জ অংশে যানজট ও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে মানুষকে। বিকেলের পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও সবশেষ রাত ৯টার দিকে যমুনা সেতুর ওপরে দুই বাসের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড়ে আবারো প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। এবার কোরবানির ঈদ ঘিরে ২৫ থেকে ৩১ মে টানা সাত দিন ছুটি কাটিয়েছেন সরকারি চাকুরেরা। তবে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পোশাক কারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হয়। সেই ছুটি শেষে শনিবার থেকে পুরোদমে কাজে ফিরছে পোশাক কারখানাগুলো। তাই শুক্রবার দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী মানুষের ঢল নামে। তাতে টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এর মধ্যেই যমুনা সেতু অতিক্রম করার সময় দুর্ঘটনায় পড়ে একের পর এক যানবাহন। যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ওসি আমিরুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত সময়ে সেতুর ওপরে ছোট বড় ২৪টি দুর্ঘটনা নথিভুক্ত করেছেন তারা। এর মধ্যে সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে দুই বাসের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণে সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাত ১১টার পর থেকে সেতুর পূর্বপাড়ের যানবাহন পারাপার বন্ধ রেখে সেতুর প্রতিটি লেন দিয়ে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যানবাহন পারাপার শুরু করা হয় বলে জানান ওসি। যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “পশ্চিম টোলপ্লাজা পার হওয়ার পরপরই যানবাহন বিকল হওয়া, একটার পিছনে আরেকটার ধাক্কাসহ নানা কারণে সেতুর ওপরে যানবাহন চলাচল ব্যহত হয়। সেগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেতুর উভয় লেনেই যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যে কোনো একটি যানবাহন বিকল হলেই পেছনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। আজ যানবাহনের চাপও অনেক বেশি, ফলে সংকট আরও বেড়েছে। সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাসের চালক রুবেল শেখ রাত ১১টার দিকে মোবাইলে বলেন, শুক্রবার সকাল ১০টার পর যমুনা সেতু অতিক্রম করার সময় পশ্চিমপাড়ে ৫ ঘণ্টা যানজটে আটকে ছিলেন তিনি। এখন কোনাবড়ি থেকে ফেরার পথে টাঙ্গাইলের এলাঙ্গায় এসে সেতুর পূর্বপাড়ে যানজটে আটকে আছি। কখন সেতু পার হতে পারব বুঝতে পারছি না। সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মহাসড়কে সার্বক্ষণিক সিসি ও ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে। তাদের অফিশিয়াল ফেইসবুক পেজে মহাসড়কের সর্বশেষ পরিস্থিতির তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। যানবাহন ও জনদুর্ভোগের কারণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এই মহাসড়ক দিয়ে সাধারন সময়ে ১৭/১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদের সময়ে তা বেড়ে ৫০ হাজার অতিক্রম করে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে বৃদ্ধা মায়ের সংবাদ সম্মেলন

ছবি: সংগৃহীত

পুশইন ঠেকাতে মেহেরপুর সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় স্থানীয়রা

ফেরিঘাট পরিদর্শনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত

আল্লাহর রহমতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি: নৌ প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় আগুন, ১৪ মিনিটে নিয়ন্ত্রণ

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১১টার দিকে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন কার্গো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের দ্রুত চেষ্টায় ১৪ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি কর্মকর্তা শফিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাত ১১টা ২৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরে রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। আগুনের উৎস ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানা গেছে। বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কার্গো এলাকার কিছু অংশে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। গত বছরের ১৮ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে ভয়াবহ আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি স্টেশনের ৩৭টি ইউনিটকে কাজ করতে হয়। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এসময় বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিয়ে আনসার বাহিনীর ২৫ সদস্যসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হন। ওই ঘটনায় কার্গো এলাকায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল এবং বিমানবন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

মারিয়া রহমান জুন ০৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

জনশক্তি রপ্তানিতে পিছিয়েছে চট্টগ্রাম

ছবি : সংগৃহীত

চামড়ার বাজারে সিন্ডিকেটের থাবা, লোকসানে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

ছবি : সংগৃহীত

মাজারের দীঘিতে শিশুর করুণ মৃত্যু: মানসিক ভারসাম্যহীন মা পেলেন ঠিকানা

ছবি: সংগৃহীত
সন্তানের অবহেলার কারণে মায়ের মৃত্যু: যুগ্ম সচিবকে পদ থেকে প্রত্যাহার

বৃদ্ধা মায়ের প্রতি অবহেলা ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে এক যুগ্ম সচিবকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনিক মহলসহ বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ মায়ের যথাযথ খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত না করায় তার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিষয়টি সরকারের নজরে আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট যুগ্ম সচিবকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।   সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও অসহায় বাবা-মায়ের প্রতি অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় সরকারের অবস্থান কঠোর বলেও তারা উল্লেখ করেন।   সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আধুনিক ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে সন্তানের জন্য মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব ও যত্ন শুধু নৈতিক নয়, সামাজিক ও মানবিক কর্তব্যও বটে। তাই এ ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।   এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ববোধ ও মানবিক আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল।   সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: স্থলবন্দর চেয়ারম্যান

ছবি : সংগৃহীত

প্রহসনমূলক অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে সাতক্ষীরায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ

সেলিনা হায়াৎ আইভী।

অবশেষে জামিনে মুক্তি পেলেন আইভী

0 Comments