দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিক্যাল সেন্টারটি প্রায় দুই দশক ধরে চলছে একই কাঠামো ও জনবল দিয়ে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারসহ বছরে কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসা চাহিদা সামলালেও গত ২০ বছরে এখানে নতুন কোনো চিকিৎসক পদ সৃষ্টি হয়নি, হয়নি উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়নও।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে জাবি মেডিক্যাল সেন্টারে সর্বশেষ চিকিৎসক পদ সৃষ্টি করা হয়। এরপর সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেলেও চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়েনি।
বরং একই জনবল দিয়েই বর্তমানে ২৪ ঘণ্টা ও তিন শিফটে চিকিৎসাসেবা চালু রাখার চেষ্টা চলছে। ফলে সীমিত কাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে চিকিৎসাসেবায়, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
চিকিৎসা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়মিত ৬ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। অথচ অনুমোদিত চিকিৎসক পদের সংখ্যা ১১টি, যার মধ্যে একটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
আরেকটি পদ পরিবর্তন করে রাত্রিকালীন ডিউটির জন্য খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সহকারী নার্স রয়েছেন মাত্র চারজন। তার মধ্যে আর একজন রয়েছেন দিন-মজুরি হিসেবে। তাছাড়া ফার্মাসিস্ট ছয়জন, আয়া একজন ও ক্লিনার তিনজন।
রোগী পরিবহনের জন্য মাত্র সাতজন ড্রাইভার দিয়ে তিন শিফটে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালানো হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে স্বীকার করছেন সংশ্লিষ্টরাই।
একই সঙ্গে রেডিওলজি, ইসিজি ও ডেন্টাল ইউনিট চালুর প্রয়োজন থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে তা কার্যত অচল। ২০২০-২১ সালের দিকে ইসিজি মেশিন ক্রয় করা হলেও দক্ষ নার্স না থাকার কারণে সেটি এখনো চালু হয়নি।
সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ আসবাবপত্রসহ অনেক মেশিন চলছে অনুদানের টাকায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তা জানান, মেডিক্যাল থেকে তারা বারবার উপাচার্য বরাবর বাজেট এবং লোকবল নিয়োগের জন্য চিঠি দিলেও তা প্রশাসন আমলে নেননি।
এদিকে ২০০৫ সালে জাবিতে আবাসিক হল ছিল ৯টি, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১টিতে। বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৭টি। শিক্ষার্থীর সংখ্যাও চার গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে মেডিক্যাল সেন্টারের জন্য কোনো নতুন ভবন, শয্যা সম্প্রসারণ বা আধুনিক ডায়াগনস্টিক ইউনিট স্থাপন হয়নি।
মেডিক্যাল সূত্র জানায়, মেডিক্যালের ডাক্তার এবং স্টাফ থেকে তিন লাখের অধিক টাকা চাঁদা তুলে মেডিক্যালের বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্রয় করা হয়েছে। বর্তমানে সেবা দেওয়া মেডিক্যাল ভবনটি ২০১৪ সালে উদ্বোধন করা হয় একতলা নিয়ে এবং এর দ্বিতীয় তলা তৈরি করা হয় ২০১৮ সালে।
বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যালের সংকট গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ওষুধ। আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু কয়েক ধরনের ওষুধ শুধু পাওয়া যেত। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল যে কোনো রোগের জন্য মেডিক্যালে গেলেই দেওয়া হতো নাপা। এই নিয়ে শিক্ষার্থীরা নানা সময় আওয়াজ তুললেও কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি প্রশাসনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওষুধ ব্যবস্থাপনায় কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
জাকসু এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদের নেতৃত্বে নতুন একটি ওষুধ ক্রয় কমিটি গঠনের পর একই বাজেট কাঠামোর মধ্যে ওষুধের আইটেম সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫টিতে উন্নীত করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে ৬ লাখ টাকার বরাদ্দের বিপরীতে ইতোমধ্যে চার লাখ ২১ হাজার টাকার ৫৩ প্রকার ওষুধ কেনা হয়েছে। বাকি ৩২ প্রকার ওষুধ আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তালিকায় যুক্ত হয়েছে উন্নতমানের অ্যান্টিবায়োটিক, ইনজেকশন, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধসহ টিটেনাস ও র্যাবিস ভ্যাকসিন—যা আগে কখনো ছিল না।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে একই বাজেটে জাকসু ওষুধ সংখ্যা বাড়ালেও তা দীর্ঘস্থায়ী সেবা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়।
চিফ মেডিক্যাল কর্মকর্তা বলেন, ‘একই বাজেটে বেশি আইটেম যুক্ত করলে প্রতিটি ওষুধের পরিমাণ কমে যায়। এতে মাসজুড়ে ধারাবাহিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থাৎ বৈচিত্র্য বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সরবরাহের সংকট থেকেই যায়।’
জানা যায়, চলতি বছরে মেডিক্যালের ওষুধ এবং যন্ত্রাংশ সচল ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মেডিক্যাল থেকে যে বাজেট চাওয়া হয়েছিল সে পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ হয়নি।
মেডিক্যালের নথি অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মেডিক্যালের যন্ত্রপাতি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেড় লক্ষ টাকার চাওয়ার বিপরীতে বরাদ্দ এসেছে এক লাখ টাকা, ওষুধ ও ড্রেসিং দ্রব্যাদির জন্য চাওয়া ৬০ লাখ টাকার বিপরীতে বাজেট বরাদ্দ হয়েছে ২৬ লাখ টাকা যা আগে ছিল ২৪ লাখ টাকায়। এছাড়া প্যাথলজি কীটস ক্রয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকার বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৩ হাজার টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে চারটি। তার মধ্যে শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়ার জন্য রয়েছে তিনটি, অপর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নিকট সংরক্ষিত।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, জরুরি সময়ে ঠিকমতো অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। কখনো কখনো তিন থেকে চার ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স আসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তারা এই সমস্যার সমাধান চান।
অ্যাম্বুলেন্স সংকটের কারণ হিসেবেও লোকবল সংকটকে দায়ী করছে মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ।
প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি ২০০০ সালে দেখেছি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে তিনটি। বর্তমানে ২০২৫ সালেও অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা তিনটি।’
এছাড়া তিনি জানান, অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার রয়েছেন সাতজন। যাদের কেউ কেউ মাঝে মাঝে একাধারে ডিউটি করা লাগে। এভাবে সাধারণ একজন মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে। এত বিশাল একটা কমিউনিটিকে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স এবং সাতজন ড্রাইভার দ্বারা সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়া সম্ভব নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য খাত থেকে মেডিক্যাল খাতটা তুলনামূলক বেশি অবহেলিত।’
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে বাজেট অনুমোদন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অরগানোগ্রাম বেশ পুরোনো। এখনো ২০০৫ সালে তৈরি হওয়া অরগানোগ্রামে এটি চলছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন অরগানোগ্রামের কাজ চলছে, আশা করি শিগগিরই তা শেষ হয়ে যাবে। নতুন অরগানোগ্রাম হয়ে গেলেই আশা করি আমরা আরেকটু সুযোগ-সুবিধা পাব।’
এদিকে গোপন একটি সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটি কবে নাগাত আসতে পারে সে সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ীতে সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২৫ জুন এক পত্রে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। ২৪ জুন অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়। পত্রে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি দূর করা, লেখাপড়ায় মনোযোগ বাড়ানো এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে অভিভাবককে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনার অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এক টাকার দুর্নীতিও প্রমাণ করতে পারলে সংসদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির এক সংসদ সদস্যের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জাতীয় সংসদে এই ঘোষণা দেন। এর আগে আজ জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, অনেকেই জুলাই চেতনা বিক্রি করেন। তাঁদের অনেকে আগে রিকশায় চড়তেন। আর এখন প্রাডো গাড়িতে চড়েন। সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় তিনি আক্তারুজ্জামানের আনা অভিযোগেরও জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘আজকেও এ সংসদে জুলাই-সংশ্লিষ্ট আমাদের উদ্দেশ করে বলা হয়েছে—আমরা আগে রিকশায় চড়তাম, এখন আমরা গাড়িতে চড়ি।’ সরকারি দলের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আপনাদের নিয়ন্ত্রণে। ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশ, মিলিটারি সবাই আপনাদের নিয়ন্ত্রণে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, আপনাদের মতো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এলিগেশনের টোনে এলিগেশন না দিয়ে আপনারা তদন্ত করে যদি এক টাকার দুর্নীতি, এক টাকার কোনো ধরনের অসাধু উপায়ের কোনো ধরনের প্রমাণ করতে পারেন, আমি এই সংসদ থেকে ইস্তফা দেব।’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন কাজের ধরন দ্রুত বদলে দিচ্ছে। তথ্য বিশ্লেষণ, লেখা তৈরি, কোডিং কিংবা নকশা প্রণয়নের মতো বহু কাজ এখন অল্প সময়েই সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে মানুষের হাতে অতিরিক্ত সময় তৈরি হচ্ছে, যা নতুন করে ভাবনার সুযোগ এনে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি কাজের গতি বাড়াতে পারলেও সঠিক সিদ্ধান্ত, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার বিকল্প হতে পারে না। ইসলামী শিক্ষাও মানুষের চিন্তা, আত্মসমালোচনা এবং সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। ইসলামী পরিভাষায় কাজের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে—একটি হলো বাস্তব কর্ম বা ‘আমল’, অন্যটি হলো গভীর চিন্তা, পরিকল্পনা ও উপলব্ধি, যা ‘তাদাব্বুর’ নামে পরিচিত। আধুনিক প্রযুক্তি আমলের গতি বাড়াতে সক্ষম হলেও তাদাব্বুর বা প্রজ্ঞাভিত্তিক চিন্তার দায়িত্ব মানুষেরই। চিন্তাকে গভীর করার পাঁচটি অভ্যাস: ১. নিয়ত পরিশুদ্ধ রাখা: ইসলামে প্রতিটি কাজের মূল্যায়ন নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। কোনো কাজ শুরু করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা—কেন এই কাজটি করছি—তা সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে সহায়তা করে। ২. নির্জনে চিন্তার সময় রাখা: কোরআনে বারবার চিন্তা ও আত্মমন্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ততার মাঝেও কিছু সময় একান্তে চিন্তার জন্য বরাদ্দ রাখা সৃজনশীলতা ও প্রজ্ঞা বাড়াতে সহায়ক। ৩. পরামর্শ গ্রহণের অভ্যাস: গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পরামর্শ বা ‘মশওয়ারা’ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী মানুষের পরামর্শ অনেক সময় প্রযুক্তিগত তথ্যের চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে। ৪. আল্লাহর ওপর ভরসা করা: ইস্তিখারার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করা একজন মুসলিমের গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন। এটি মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে সব জ্ঞান ও পরিকল্পনার ঊর্ধ্বে আল্লাহর ইচ্ছাই চূড়ান্ত। ৫. ধীরস্থিরতা বজায় রাখা: তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে সময় নিয়ে চিন্তা করা এবং তাড়াহুড়া এড়িয়ে চলা ইসলামে প্রশংসনীয় গুণ হিসেবে বিবেচিত। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য বিরতি আরও ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। বেঁচে যাওয়া সময়ের সঠিক ব্যবহার: প্রযুক্তি মানুষের সময় সাশ্রয় করছে, কিন্তু সেই সময় কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে সময় একটি আমানত, যার সঠিক ব্যবহারের জন্য মানুষকে জবাবদিহি করতে হবে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নেওয়া, আত্মউন্নয়ন কিংবা ইবাদতের জন্য সময় ব্যয় করা—এসবই সময়ের ইতিবাচক ব্যবহার হতে পারে। প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের জীবনকে সহজ করছে, তবে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং গভীর চিন্তার বিকাশ ছাড়া সেই অগ্রগতি পূর্ণতা পায় না। তাই এআই যুগে প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রজ্ঞা, সচেতনতা ও আত্মিক উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন চিন্তাবিদরা।