ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং ইরানের শীর্ষ নেতাদের আর্থিক নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল দপ্তর (ওএফএসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌযানের ওপর ইরানের নতুন হামলার পর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন আলি আনসারি। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং দেশটির শাসকগোষ্ঠীর আর্থিক সম্পদ পরিচালনার একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক তদারকি করতেন। শেল কোম্পানি ও বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ রিয়েল এস্টেট ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক খাতে সরিয়ে নিয়েছেন বলেও দাবি ওয়াশিংটনের।
এছাড়া বিলুপ্ত আয়ানদেহ ব্যাংকের মাধ্যমে কয়েকশ কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে ইরানের তিনটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান, তাদের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কয়েকটি কোম্পানিও। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান শেল কোম্পানির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি ব্যাংকগুলোর অর্থ লেনদেন গোপন করতে সহায়তা করত।
এর আগে ৮ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জেরে ইরানের তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া একটি সাধারণ লাইসেন্স বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চলমান লেনদেন শেষ করার জন্য ১৭ জুলাই পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা দিলেও, তেহরানের অনুরোধে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালিতে আবারও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে—এমন আশায় শুক্রবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে সপ্তাহের হিসাবে তেলের দাম এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫২ সেন্ট বা প্রায় ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৭৫ দশমিক ৭৮ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮৩ সেন্ট বা প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৭১ দশমিক ২৫ ডলারে। তবে পুরো সপ্তাহের হিসাবে ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আপাতত না বাড়া এবং আগামী সপ্তাহে আবার আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার আশা জোরালো হয়েছে। এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানে গিয়ে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে আলোচনা করছেন। এই খবর প্রকাশের পর তেলের দাম আরও কিছুটা কমে। তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আগের তুলনায় ধীর রয়েছে। যদিও কিছু তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)বাহী জাহাজ ইতোমধ্যে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আগামী বছরের বৈশ্বিক তেলের বাজার নিয়ে তাদের পূর্বাভাস বদলে যেতে পারে।
হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে নয় এবং সেখানে এখনো আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। খবর শাফাক নিউজের। শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তার দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানে ইরানের সীমান্তের বাইরে হামলা চালানোর সক্ষমতা কমে গেছে। তবে দেশটির কাছে এখনো কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা রয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর নেই। এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি। তাই ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং সম্ভাব্য নৌমাইনের ঝুঁকি সম্পর্কে সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ন্যাটো সম্মেলন শেষে দেশে ফিরে নিজের মালপত্রে একটি পিস্তল ও তাজা গুলি দেখে বিস্মিত হয়েছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ত দে ওয়েভার। তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলন শেষে অংশ নেওয়া রাষ্ট্রপ্রধানদের এমনই ব্যতিক্রমী বিদায়ী উপহার দিয়েছেন স্বাগতিক দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে গুমুশায় .৩৫৭ ম্যাগনাম মডেলের একটি রিভলবার। শুধু প্রদর্শনের জন্য নয়, পিস্তলের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে তাজা গুলিও। বিভিন্ন দেশের নেতাদের জন্য তৈরি পিস্তলগুলোতে আলাদাভাবে তাদের নাম খোদাই করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের মুখপাত্র। লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নৌসেদার কার্যালয়ের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, দৃষ্টিনন্দন কাঠের বাক্সে রাখা রয়েছে রিভলবারটি। বাক্সের ওপর তুরস্কের পতাকা ও ন্যাটোর লোগোর পাশাপাশি তুর্কি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা রয়েছে—‘গুমুশায়, আমাদের দেশে তৈরি প্রথম রিভলবার জাতীয় হ্যান্ডগান’। এই রিভলবারটি নব্বইয়ের দশকে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমকেই তৈরি করেছিল। তুরস্কের সমরাস্ত্র শিল্পকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে এবং অস্ত্র রফতানির সক্ষমতা প্রদর্শন করতেই এরদোয়ান এমন অভিনব কূটনৈতিক উপহারের পথ বেছে নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উপহারের বাক্সে পিস্তলের সঙ্গে একটি ক্লিনিং কিট এবং ৫০০ রাউন্ড গুলিও দেওয়া হয়েছে বলে ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে এই অস্বাভাবিক উপহার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের নেতারা। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী তার পাওয়া পিস্তলটি বিমানবন্দর পুলিশের নিরাপদ হেফাজতে জমা দিয়েছেন। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাওরোকির সহকারী জানিয়েছেন, তাদের পিস্তলটি ওয়ারশ বিমানবন্দরে শুল্ক ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। পরে উপহারের মর্যাদা বজায় রেখে এটি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হবে। নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীদের পাওয়া পিস্তল আঙ্কারায় তাদের নিজ নিজ দূতাবাসে নেওয়া হয়েছে। ডাচ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের পিস্তলটি অকেজো করে সংরক্ষণ করা হবে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির পাওয়া রিভলবারটি অন্যান্য রাষ্ট্রীয় উপহারের সঙ্গে সরকারি কার্যালয় পালাজ্জো চিজিতে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রাপ্ত পিস্তল যথাক্রমে সামরিক জাদুঘর ও এথেন্সের যুদ্ধ জাদুঘরে দান করার পরিকল্পনা করছেন। জেনেভাভিত্তিক গবেষণা সংস্থা স্মল আর্মস সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, তুলনামূলক কম দামে পিস্তল ও শটগান সরবরাহ করে ইউরোপের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে তুরস্ক। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের ক্ষুদ্রাস্ত্র রফতানি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির পর বিশ্বে তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। তুরস্কের অস্ত্রশিল্পের এই উত্থান ও রফতানি সক্ষমতার প্রতীক হিসেবেই ন্যাটো নেতাদের হাতে বিরল এই রিভলবার উপহার তুলে দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। সূত্র: সিএনএন