আন্তর্জাতিক

ইরান, রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতদের বৈঠক, আলাপ কি নিয়ে?

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত ইরান, রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতরা তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে আরও এক দফা ত্রিপক্ষীয় আলোচনা করেছেন।

রাশিয়ান প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইরানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত বিভিন্ন ইস্যুতে তিন দেশ নিয়মিত পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে। 

এর আগেও এই তিন দেশের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ-র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে যৌথ বৈঠক করেছেন। পশ্চিমা দেশগুলোর অব্যাহত অর্থনৈতিক চাপ ও নানাবিধ অভিযোগের মুখে থাকা ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, তাদের এই পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং এটি নিয়মিতভাবে জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থার পর্যবেক্ষণে রয়েছে। 

২০১৫ সালের জেসিপিওএ চুক্তির পর ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখলেও যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় এবং ইউরোপীয় দেশগুলোও তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়। এর ফলে ইরানও ধাপে ধাপে তাদের অঙ্গীকার থেকে সরে আসতে শুরু করে। ২০২১ সালে এই চুক্তি পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চালানো হলেও পশ্চিমাদের অতিরিক্ত দাবি ও গড়িমসির কারণে তা সফল হয়নি। 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ইরানি সংবাদমাধ্যম নিয়ে তীব্র সমালোচনা ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির খবর পরিবেশন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, গণমাধ্যমগুলো এমনভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, যাতে মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে বা দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। তার মতে বাস্তবতার সঙ্গে মোটেই বিষয়টি সঙ্গতিপূর্ণ নয়।   নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কিছু সংবাদমাধ্যম হয়ত বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে, নয়ত ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তার দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক শক্তিকে ব্যাপকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা অবকাঠামো কার্যত অচল করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই নিহত হয়েছেন। এছাড়া ট্রাম্প আরও বলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুব শিগগিরই পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, তেল পরিবহন পরিস্থিতিও দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসছে এবং তেলবাহী জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আসতে শুরু করেছে। তবে এসব ইতিবাচক অগ্রগতির পরও, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে এমন চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে যেন যুক্তরাষ্ট্রই এই সংঘাতে পিছিয়ে রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, এই ধরনের উপস্থাপন জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করছে। যদিও তিনি সংবাদমাধ্যমের কঠোর সমালোচনা করেছেন, তবুও নির্দিষ্ট করে কোন কোন গণমাধ্যম ইরান যুদ্ধ সম্পর্কিত ভুয়া বা ভুল তথ্য প্রচার করেছে—তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করেননি।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনায় প্রাধান্যে পাচ্ছে ৭ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়ের দাবি নাকচ করল যুক্তরাষ্ট্র, আলোচনায় অনিশ্চয়তা

ছবি : সংগৃহীত

‘সদিচ্ছা আছে, কিন্তু আস্থা নেই’—যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা ঘালিবাফের

ছবি : সংগৃহীত
ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ: যে ৪টি বিষয় জানা জরুরি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নির্ধারিত শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। এই সংলাপ ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে।   ১. মধ্যস্থতায় পাকিস্তান: গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইরানের সঙ্গে দেশটির ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরানকে ভালোভাবে বোঝেন।   ২. যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের প্রস্তাব: ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   ৩. বিকল্প ১৫ দফা প্রস্তাব: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আরও একটি ১৫ দফা প্রস্তাবের কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাব সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   ৪. এখনো প্রকাশ হয়নি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব: উভয় পক্ষের প্রস্তাব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। যদিও কিছু অংশ ফাঁস হওয়ার খবর রয়েছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।   এদিকে, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা এই শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, লেবাননের ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি প্রযোজ্য নয়।   লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে লেবানন আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা করছে। সূত্র : বিবিসি।  

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইরান সংলাপ ঘিরে ট্রাম্পের ‘সতর্ক আশাবাদ’, ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত

ছবি : সংগৃহীত

ইরান আলোচনায় পারমাণবিক অস্ত্রই মূল ইস্যু : ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নেতাদের ‘শুধু আলোচনার জন্য বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে’ : ট্রাম্প

হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দিচ্ছেন মেলানিয়া ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
আমি এপস্টিনের শিকার নই : মেলানিয়া ট্রাম্প

কুখ্যাত মার্কিন অর্থদাতা ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।   বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি এপস্টিনের নিপীড়নের শিকার নই।’ নিজের বিরুদ্ধে ছড়ানো অভিযোগগুলোকে ‘অপবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এসব গুজবের অবসান দাবি করেন। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন এপস্টিন ইস্যু এড়িয়ে যেতে চাইছেন বলে সমালোচনা হচ্ছিল, ঠিক তখনই মেলানিয়ার এই প্রকাশ্য বক্তব্য নতুন করে বিষয়টিকে আলোচনায় নিয়ে আসে। অনলাইনে প্রচলিত একটি দাবিতে বলা হচ্ছিল, এপস্টিনই মেলানিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের পরিচয় করিয়ে দেন। তবে এ দাবি উড়িয়ে দিয়ে মেলানিয়া জানান, ১৯৯৮ সালে নিউইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে প্রথম ট্রাম্পের সঙ্গে তার দেখা হয়। পরে ২০০০ সালে ট্রাম্পের সঙ্গে আরেকটি অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রথমবার এপস্টিনকে দেখেন। মেলানিয়া আরও বলেন, এপস্টিন বা তার সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তার কোনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল না। ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে কেবল আনুষ্ঠানিক ও সাধারণ যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করেন তিনি। ফার্স্ট লেডি মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এপস্টিনের হাতে নির্যাতনের শিকার নারীদের জন্য প্রকাশ্য শুনানির আয়োজন করা উচিত, যাতে তারা শপথ নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারেন। তবে এই প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের ভেতরে প্রেসিডেন্টের প্রতীক সংবলিত পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে মেলানিয়ার এ বক্তব্য দেওয়া বেশ ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এপস্টিন ইস্যুকে আবারও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনের সাবেক প্রেস সেক্রেটারি মাইকেল লারোসা বলেন, ‘বর্তমান সময়ে কোনো ফার্স্ট লেডিকে এভাবে সরাসরি বিতর্কে জবাব দিতে দেখা যায়নি। এটি নিঃসন্দেহে সাহসী পদক্ষেপ।’ প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচারের অপরাধে দণ্ডিত হন জেফরি এপস্টিন। পরে ২০১৯ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি আত্মহত্যা করেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। মেলানিয়া ট্রাম্পের এ বক্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যদিও নির্যাতনের শিকার অনেকেই তার প্রস্তাবিত প্রকাশ্য শুনানির বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, নতুন করে সাক্ষ্য নয়, বরং দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এখন সবচেয়ে জরুরি।    সূত্র: রয়টার্স

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক: কারা থাকছেন, কী রয়েছে আলোচ্যসূচিতে?

ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ‘লকডাউন’ ঘোষণা

ছবি : সংগৃহীত

আরব সাগর থেকে বাংলাদেশিসহ ১৮ নাবিককে উদ্ধার করল পাকিস্তান নৌবাহিনী

0 Comments