ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ অবস্থান টিকেছিল মাত্র ২৪ ঘণ্টা। বিশ্লেষকদের মতে, এতে স্পষ্ট হচ্ছে, দীর্ঘায়িত এই সংঘাতের ইতি টানতে তিনি এখন ভিন্নধর্মী উপায় খুঁজছেন, তবে এখনো কার্যকর কোনো কৌশল খুঁজে পাননি।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানি নৌপরিবহণের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আবারও কার্যকর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজ, এমনকি, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জাহাজকেও ২০ শতাংশ ফি দিতে হবে। দাবি, বিশ্বের অন্যতম অস্থিতিশীল এই জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের যে ব্যয় হচ্ছে, সেই খরচ মেটাতেই এই অর্থ নেওয়া হবে।
তবে, মাত্র একদিনের ব্যবধানে সেই অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে আসেন ট্রাম্প। নতুন প্রস্তাবে তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি করা হবে। ইঙ্গিত দেন, এসব দেশের জন্য হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-যাতায়াত নিশ্চিত করার বিনিময়ে অর্থ আদায়ের বদলে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথেই এগোতে চায় ওয়াশিংটন।
ট্রাম্পের এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন এমন এক সময়ে এল, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত চার মাসের বেশি সময় ধরে চলছে। এক মাস আগে, দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেটির মাধ্যমে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। তবে বাস্তবে সেই উদ্যোগ সংঘাত থামাতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করতে ট্রাম্প অনাগ্রহী হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধটি এখনো জনপ্রিয় নয়। যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং মার্কিন সেনা ও মিত্রদের ওপর আবারও ইরানের হামলার ঝুঁকিও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, কোনো নতুন সমঝোতা ছাড়াই যুদ্ধের ইতি টানাও ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে। কারণ তিনি এমন একটি চুক্তি করতে চান, যেটিকে ২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের করা পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে ভালো বলে দাবি করা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ-এর মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিড বলেন, সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিণতি হলো: এই যুদ্ধের কোনো স্পষ্ট সমাপ্তি নাও হতে পারে। এটি এখন অমীমাংসিত যুদ্ধে পরিণত হয়েছে, আর এ ধরনের যুদ্ধ সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৬ মিনিটে ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক ঘোষণার মাধ্যমে কার্যত সমঝোতা স্মারকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ওই পোস্টে তিনি ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পুনরায় কার্যকর করার ঘোষণা দেন। একই সময়ে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে মার্কিন হামলাও শুরু হয়।
এর জবাবে, অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আরও জোরদার করে ইরান। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবারও প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
প্রায় এক মাস ধরে, দুই দেশের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চললেও মাঝেমধ্যেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা তথাকথিত যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সেই একই সংকটের মুখোমুখি, যা সংঘাতের শুরু থেকেই বিদ্যমান ছিল।
সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজ, যুদ্ধবিমান ও বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস এবং দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করার মতো কিছু লক্ষ্য অর্জন করেছে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান এখনো কাগজে-কলমে মেলেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে দুর্বল হলেও ইরান এখনো হরমুজ প্রণালিতে নৌ-যাতায়াত বাধাগ্রস্ত করার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র যদি এ অঞ্চলে সামরিক অভিযান নাটকীয়ভাবে আরও বিস্তৃত না করে, তাহলে তেহরানকে সেই পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখা তাদের পক্ষে কঠিন হবে।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ ফি'কে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে সামরিক উপস্থিতির ব্যয়কে গ্রহণযোগ্য করে তোলার একটি রাজনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। যদিও এটি নতুন কোনো ধারণা নয়। যুদ্ধ চলাকালেও একাধিকবার তিনি একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
তবে মাত্র এক মাস আগে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের সম্ভাব্য ফি আরোপের পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।
রুবিও বলেছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশ টোল বা ফি আরোপ করতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইনে এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বের সব আন্তর্জাতিক জলপথেই এই নীতি প্রযোজ্য এবং এখানেও আমরা সেটাই প্রত্যাশা করি।’
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান বদল আবারও প্রমাণ করছে যে, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তার সামনে এখনো সুস্পষ্ট কোনো 'পথ নেই'।
এদিকে, সমঝোতা স্মারকটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে বহু বিষয় ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য খোলা রাখা হয়। সেখানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল তদারকির ক্ষেত্রে ইরানের একটি ভূমিকার কথাও উল্লেখ ছিল। নথিতে বলা হয়, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সর্বোচ্চ চেষ্টা করে কোনো ধরনের ফি ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করবে।’
এই ভূমিকাকে দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে, সমঝোতা স্মারকে ইরানে কয়েকশ' কোটি ডলারের বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও ছিল।
ওয়াশিংটনের ধারণা ছিল, এসব অর্থনৈতিক প্রণোদনা এবং চুক্তি লঙ্ঘনের সম্ভাব্য পরিণতির সতর্কবার্তা মিলিয়ে ইরানকে হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখা যাবে। তবে আপাতত সেই হিসাব সঠিক প্রমাণিত হচ্ছে না।
সূত্র: বিবিসি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তার মতে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নেতানিয়াহুর এই ‘হুমকির’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ফিদান বলেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও সেখানে সংঘটিত গণহত্যার পর নেতানিয়াহু ‘মানবতার শত্রুতে’ পরিণত হয়েছেন। তার নীতির বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নেতানিয়াহুর নীতির কারণে শুধু ফিলিস্তিনিরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না; এর প্রভাব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত পরিস্থিতি আরও গুরুতর হওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। ফিদানের বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, বেসামরিক হতাহত এবং মানবিক সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই গাজায় ইসরায়েলি সামরিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে আসছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও ফিলিস্তিনিদের ওপর গুরুতর অপরাধের অভিযোগ তুলে আসছেন। ফিদানের সর্বশেষ মন্তব্যে সেই অবস্থান আরও কঠোরভাবে উঠে এসেছে। তিনি মূলত নেতানিয়াহুর নীতিকে শুধু আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয় হিসেবে না দেখে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা
২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে মোট ৬৯ লাখের বেশি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফ্লাইটের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০২৫ সালে তা করোনার আগের সময়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, মোট ফ্লাইটের ৯১ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল নির্ধারিত সময়সূচির নিয়মিত ফ্লাইট। বাকি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল চার্টার ও অন্যান্য বিশেষ বাণিজ্যিক ফ্লাইট। ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর ছিল নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম শিফল। সেখানে মোট ৪ লাখ ৮৮ হাজার বাণিজ্যিক ফ্লাইটের ওঠানামা হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্সের প্যারিস শার্ল দ্য গল বিমানবন্দর। সেখানে ফ্লাইটের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৭৬ হাজার। তৃতীয় অবস্থানে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দর, যেখানে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এরপর রয়েছে স্পেনের মাদ্রিদ-বারাহাস ও বার্সেলোনা-এল প্রাত বিমানবন্দর। মাদ্রিদে ৪ লাখ ২৩ হাজার এবং বার্সেলোনায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার ফ্লাইটের ওঠানামা হয়েছে। ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যস্ততম ১০ বিমানবন্দর হলো— ১. আমস্টারডাম শিফল, নেদারল্যান্ডস — ৪ লাখ ৮৮ হাজার ২. প্যারিস শার্ল দ্য গল, ফ্রান্স — ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৩. ফ্রাঙ্কফুর্ট, জার্মানি — ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৪. মাদ্রিদ-বারাহাস, স্পেন — ৪ লাখ ২৩ হাজার ৫. বার্সেলোনা-এল প্রাত, স্পেন — ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬. মিউনিখ, জার্মানি — ৩ লাখ ২৯ হাজার ৭. রোম ফিউমিচিনো, ইতালি — ৩ লাখ ২০ হাজার ৮. এথেন্স, গ্রিস — ২ লাখ ৭১ হাজার ৯. কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক — ২ লাখ ৫৪ হাজার ১০. ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড — ২ লাখ ৫২ হাজার তালিকায় সবচেয়ে বেশি ফ্লাইটের দিক থেকে আমস্টারডাম শিফল এগিয়ে থাকলেও গ্রীষ্মের মাসগুলোতে চার্টার ও অন্যান্য অনিয়মিত ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। বিশেষ করে জুন, জুলাই ও আগস্টে এ ধরনের ফ্লাইটের হার ছিল তুলনামূলক বেশি। সূত্র: ইউরোনিউজ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শুধু ইরানের বিরোধী নয়, পুরো মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। রোববার (৩০ আগস্ট) মুসলিম ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মোজতবা খামেনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা, ন্যায়বিচার ও অভিন্ন লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, তাদের বিরোধিতা শুধু ইরান বা ইরানের জনগণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার দেশসহ পুরো মুসলিম উম্মাহ তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোর শাসকদেরও নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। খামেনির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত সরকারগুলোর ওপরও বিভিন্ন ধরনের চাপ ও অসম্মান করা হচ্ছে। মুসলিম বিশ্বের বিভাজনকে ‘শত্রুদের বড় সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় ও মতাদর্শগত পার্থক্যের পাশাপাশি জাতিগত, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বিভেদও কাজে লাগানো হচ্ছে। তার দাবি, মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বিভক্ত করে তাদের শক্তি দুর্বল করা এবং পরে তাদের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করাই আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর উদ্দেশ্য। মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন খামেনি। তার বক্তব্য, যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন তৈরিতে ভূমিকা রাখে, তারা জেনে বা না জেনে শত্রুদের স্বার্থকে এগিয়ে দিতে পারে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ করে ফিলিস্তিন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে খামেনি প্রশ্ন তোলেন, মুসলিম বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ থাকলে ফিলিস্তিনিরা কি এতটা অসহায় অবস্থার মুখোমুখি হতো? পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল নিয়েও মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, ওই অঞ্চলের দেশগুলোর জনগণ ও সরকারগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাইরের কোনো শক্তির পক্ষে তাদের ভূখণ্ড ও সম্পদের দিকে আগ্রহ দেখানো কঠিন হতো। মুসলিম ঐক্যের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। এগুলো হলো—বিভেদ এড়িয়ে ঐক্য ধরে রাখা, হুমকি ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একে অন্যকে সহযোগিতা করা এবং সম্পদ, নিরাপত্তা, জ্ঞান ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানো। খামেনির মতে, মুসলমানদের ঐক্যই শক্তিশালী ইসলামি সভ্যতা গঠনের অন্যতম ভিত্তি। মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের মাধ্যমেই নতুন একটি ইসলামি সভ্যতার পথ তৈরি করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।