চট্টগ্রাম চেম্বারে এডিবির প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাইভেট সেক্টর উন্নয়ন সংক্রান্ত স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম চেম্বার ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এর যৌথ উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রামসহ দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আলোচনা করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন।
সভায় তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও বিনিয়োগ বান্ধব করতে হলে জ্ঞানভিত্তিক ইকোনমির কোনো বিকল্প নেই। সরকার আগামী ২০ বছরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টির লক্ষ্যে এডিবির কারিগরি সহায়তায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন করছে তাতে প্রাইভেট সেক্টরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই ব্যবসায়ীদের চাহিদা ও পরামর্শ অনুযায়ী যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে দেশের আমূল পরিবর্তন সাধিত হবে।
চেম্বার সভাপতি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করা এবং ভূ-কৌশলগত ঝুঁকি মাথায় রেখে কোস্টাল বেল্ট-এর পাশ দিয়ে চট্টগ্রাম-নোয়াখালী-চাঁদপুর-নারায়গঞ্জ-ঢাকা বিকল্প সড়ক তৈরি করা জরুরি। কারণ যে কোন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একাধিক বিকল্প সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অপরিহার্য। একই সঙ্গে মাল্টিমোডাল যোগাযোগের অংশ হিসেবে রেল ও নৌ-পথকেও গতিশীল করা জরুরি।
তিনি মাল্টিমোডাল সিস্টেমে চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা, সোনাদিয়া-মহেশখালী-চট্টগ্রাম বন্দর-মিরসরাই ইকোনমিক জোনকে অর্থনৈতিক করিডরে রূপান্তরের মাধ্যমে শিল্পায়ন গড়ে তোলা, চট্টগ্রাম বিমান বন্দরকে দুবাইয়ের শারজাহ বিমান বন্দরের আদলে কার্গো হাবে পরিণত করা, ঢাকা বিমান বন্দরের চেয়ে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরের ট্যারিফ কমিয়ে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরকে আরও গতিশীল করা এবং বড় বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পে বাংলাদেশি ফ্লাগশিপ ব্যবসায়ীসহ বিদেশি কোম্পানিদের যৌথ অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা, কলকারখানা ও শিল্পের চাহিদানুযায়ী মানব সম্পদ তৈরি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারের এই ধরণের দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন করতে হলে এসব বিষয়কে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন চেম্বার সভাপতি।
এডিবির প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট তাহসিন এইচ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ৭০-৮০ ভাগ উন্নয়ন হচ্ছে প্রাইভেট সেক্টরের মাধ্যমে। সরকার বগুড়া-ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার নিয়ে একটি ইন্টিগ্রেটেড ইকোনমিক করিডোর গড়ে তুলতে চায়। সরকার প্রাইভেট সেক্টরের সাথে যৌথভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে। তাই সরকার আইজিএনডি প্রকল্পের মাধ্যমে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি সক্ষমতা ও আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার লক্ষ্যে প্রাইভেট সেক্টরের চাহিদা জানতে এ ধরণের অংশীজন মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মো. রফিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেট্রো পলিটন চেম্বারের সহ-সভাপতি এএম মাহবুব চৌধুরী, বিকেএমইএ’র পরিচালক আহমেদ নূর ফয়সাল, চেম্বারের সাবেক পরিচালক রাহবার এ আনোয়ার ও প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেনসহ চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশন, এডিবির প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট, বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
চট্টগ্রাম চেম্বারে এডিবির প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাইভেট সেক্টর উন্নয়ন সংক্রান্ত স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম চেম্বার ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এর যৌথ উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রামসহ দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আলোচনা করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন। সভায় তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও বিনিয়োগ বান্ধব করতে হলে জ্ঞানভিত্তিক ইকোনমির কোনো বিকল্প নেই। সরকার আগামী ২০ বছরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টির লক্ষ্যে এডিবির কারিগরি সহায়তায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন করছে তাতে প্রাইভেট সেক্টরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই ব্যবসায়ীদের চাহিদা ও পরামর্শ অনুযায়ী যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে দেশের আমূল পরিবর্তন সাধিত হবে। চেম্বার সভাপতি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করা এবং ভূ-কৌশলগত ঝুঁকি মাথায় রেখে কোস্টাল বেল্ট-এর পাশ দিয়ে চট্টগ্রাম-নোয়াখালী-চাঁদপুর-নারায়গঞ্জ-ঢাকা বিকল্প সড়ক তৈরি করা জরুরি। কারণ যে কোন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একাধিক বিকল্প সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অপরিহার্য। একই সঙ্গে মাল্টিমোডাল যোগাযোগের অংশ হিসেবে রেল ও নৌ-পথকেও গতিশীল করা জরুরি। তিনি মাল্টিমোডাল সিস্টেমে চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা, সোনাদিয়া-মহেশখালী-চট্টগ্রাম বন্দর-মিরসরাই ইকোনমিক জোনকে অর্থনৈতিক করিডরে রূপান্তরের মাধ্যমে শিল্পায়ন গড়ে তোলা, চট্টগ্রাম বিমান বন্দরকে দুবাইয়ের শারজাহ বিমান বন্দরের আদলে কার্গো হাবে পরিণত করা, ঢাকা বিমান বন্দরের চেয়ে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরের ট্যারিফ কমিয়ে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরকে আরও গতিশীল করা এবং বড় বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পে বাংলাদেশি ফ্লাগশিপ ব্যবসায়ীসহ বিদেশি কোম্পানিদের যৌথ অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা, কলকারখানা ও শিল্পের চাহিদানুযায়ী মানব সম্পদ তৈরি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারের এই ধরণের দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন করতে হলে এসব বিষয়কে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন চেম্বার সভাপতি। এডিবির প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট তাহসিন এইচ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ৭০-৮০ ভাগ উন্নয়ন হচ্ছে প্রাইভেট সেক্টরের মাধ্যমে। সরকার বগুড়া-ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার নিয়ে একটি ইন্টিগ্রেটেড ইকোনমিক করিডোর গড়ে তুলতে চায়। সরকার প্রাইভেট সেক্টরের সাথে যৌথভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে। তাই সরকার আইজিএনডি প্রকল্পের মাধ্যমে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি সক্ষমতা ও আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার লক্ষ্যে প্রাইভেট সেক্টরের চাহিদা জানতে এ ধরণের অংশীজন মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মো. রফিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেট্রো পলিটন চেম্বারের সহ-সভাপতি এএম মাহবুব চৌধুরী, বিকেএমইএ’র পরিচালক আহমেদ নূর ফয়সাল, চেম্বারের সাবেক পরিচালক রাহবার এ আনোয়ার ও প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেনসহ চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশন, এডিবির প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট, বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে পটুয়াখালীর দশমিনা থেকে মারুফ মুন্সি (২২) নামের এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দশমিনা থানার ওসি আতিকুল ইসলাম। তিনি জানান, রবিবার (৩০ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্ত মারুফকে ঢাকা থেকে দশমিনা থানায় স্থানান্তর করা হয়। এ ছাড়া জেলার গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস অঞ্চল থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, একটি আইফোন কেনার টাকা জোগাড় করতেই তিনি নিজের সন্তানকে বিক্রি করেছিলেন; তবে পুলিশি অভিযানে শিশুটিকে ইতিমধ্যে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মারুফের বাড়ি দশমিনা উপজেলার বড় গোপালদী গ্রামে। তিনি মফিজ মুন্সির ছেলে এবং ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। পুলিশ ও পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মারুফ ও তার স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারের মধ্যে পারিবারিক মনোমালিন্য চলছিল। একপর্যায়ে তারা আলাদা থাকতে শুরু করলে শিশুটিকে তার দাদি মাহফুজা বেগম দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগমের ভাষ্যমতে, শনিবার সকালে মারুফ তার সন্তানকে ভালো জামাকাপড় পরিয়ে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যান। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালান। পরে জানা যায়, ঢাকায় কর্মরত মারুফের সহকর্মী ইমরানের শ্বশুর মহিবুল শিশুটিকে অর্থের বিনিময়ে নিয়ে গেছেন। তার কন্যাসন্তান থাকলেও ছেলেসন্তান নেই। শিশুটির স্বজনদের দাবি, শিশুটির দাম ধরা হয়েছিল এক লাখ টাকা। এর মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী লিখিতভাবে নগদ ৫২ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে শিশুটিকে হস্তান্তর করেন মারুফ। মাহফুজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, শিশুটিকে বিক্রির টাকা ও নিজের পুরনো আইফোনের মূল্যের সঙ্গে আরো কিছু টাকা যোগ করে মারুফ একটি নতুন আইফোন কেনেন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সন্তানকে বিক্রির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে পুলিশ হেফাজতে মারুফ জানান, এলাকায় তার কিছু দেনাপাওনা ছিল। সেই দেনা মেটাতে সহকর্মী ইমরান ও তাঁর শ্বশুরের কাছে সন্তানকে লালন-পালনের শর্তে হস্তান্তর করে ৫২ হাজার টাকা নিয়েছেন। দশমিনা থানার ওসি আতিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশি তৎপরতা চালানো হয়। তবে পরিবারের দিক থেকে লিখিত অভিযোগ না থাকায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের পরামর্শ নিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক লজিস্টিকস ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার আশা ব্যক্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সরকার বাংলাদেশকে শুধু লজিস্টিকস হাব নয়, বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ও উন্মুক্ত বাজার হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।’ রোববার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দরে শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার অবকাঠামো নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমির খসরু বলেন, ‘এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে বিশ্বের সেরা লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান, আধুনিক বাণিজ্যিক অবকাঠামো ও উন্নত বন্দর প্রয়োজন। লালদিয়া টার্মিনালের মতো প্রকল্প এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামকে শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য একটি লজিস্টিকস ও বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। বঙ্গোপসাগরের উপকূলজুড়ে আরও কয়েকটি বড় বন্দর ও লজিস্টিকস সুবিধা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা চলছে।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাণিজ্য খাতকে ঘিরে পরিচালিত হয়। ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও অনেকাংশে বন্দরের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। এ কারণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে নেতৃত্বের ভূমিকায় আনতে চায় সরকার।’ মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের দায়িত্ব হবে প্রয়োজনীয় নীতি, সহায়তা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে এপিএম টার্মিনালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমেশ ডেভিড বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে লালদিয়া টার্মিনালে বছরে প্রায় ১০ লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। এতে দেশের কনটেইনার পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়বে। টার্মিনালে থাকবে ৬১৬ মিটার দীর্ঘ জেটি, ৭টি শিপ-টু-শোর ক্রেন, ৩২টি বৈদ্যুতিক রাবার-টায়ারড গ্যান্ট্রি ক্রেন ও ৪১টি বৈদ্যুতিক টার্মিনাল ট্রাক্টর।’ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘টার্মিনালটি চালু হলে একসঙ্গে ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার জাহাজ পরিচালনা করা যাবে, যা বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সরাসরি নোঙর করা জাহাজের সক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ।