নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৯১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে ৮৫৩ জন বিদেশি নাগরিক।
দুর্যোগের ছয় দিন পর সোমবার কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানিয়েছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯০৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন। তাদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক।
নিখোঁজদের উদ্ধারে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলছে। একই সঙ্গে কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।
নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ২৫ জন পুলিশ সদস্য, ৪৫ জন সেনাসদস্য, ১৩ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য, ১৪ জন শুল্ক দপ্তরের কর্মী এবং তিনজন অভিবাসন দপ্তরের কর্মী রয়েছেন। বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের আরও ৯৩৩ কর্মীরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
এ ছাড়া নিখোঁজদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি যাত্রী রয়েছেন।
অন্যদিকে, চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতে ১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
চীনে নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।
নেপাল ও চীনের তথ্য মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৯ জনে। নিখোঁজের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৯৩। তাদের মধ্যে ৮৫৩ জন বিদেশি।
উদ্ধারকাজে চীন ২ হাজার ১০০ জনের বেশি কর্মী মোতায়েন করেছে। তাদের সঙ্গে শত শত যানবাহন ও হাজার হাজার উদ্ধার সরঞ্জামও রয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট এই ভয়াবহ দুর্যোগ শুরু হয়। নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ে। এর ফলে বরফ ও পাথরের বিশাল স্রোত তৈরি হয়। পরে তা পানির প্রবল স্রোত ও কাদার সঙ্গে মিশে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি করে।
নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, কাভ্রে এবং কাঠমান্ডু উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের গিরং সীমান্ত এলাকাতেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
রয়টার্স
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সৌদি আরবে ড্রোন ও বিমানবন্দর হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও আটজন আহত হওয়ার ঘটনার পর দেশটিতে অবস্থানরত নিজেদের কিছু কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। এ ছাড়া এই অঞ্চলের আরও একাধিক মার্কিন মিশন থেকেও পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর প্রেক্ষাপটে মার্কিন সরকার কেবল সৌদি আরবে অবস্থানরত ‘জরুরি নন এমন কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের’ ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে। টমি পিগট আরও বলেন, ইরান-সমর্থিত হুথিরা বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোসহ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক লোক হতাহত হচ্ছে এবং বিমান চলাচলে গুরুতর বিঘ্ন ঘটছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন মিশন থেকেও পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। তবে সৌদি আরবের বাইরের মিশনগুলোর পরিবর্তনের বিষয়ে পিগট কোনও মন্তব্য করেননি। প্রস্থান নির্দেশনার পরপরই সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। এর আগে একই দিনে সৌদির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি অরামকোর শাইবাহ তৈলক্ষেত্রের একটি স্থাপনায় হামলার চেষ্টাকালে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ড্রোন ধ্বংস করে। এ ঘটনায় দুই জন নিহত হন। সূত্র: রয়টার্স
যন্তর মন্তরে কর্মসূচি ঘিরে এ বার হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়লেন ককরোচ জনতা পার্টির সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা। বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে প্রশ্ন উঠল, যখন কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য যন্তর মন্তরকে ডি-নোটিফাই করে দেওয়া হয়েছে, তা হলে কেন তাঁরা সেখানে গেলেন? এ দিনের শুনানি পর্বে উঠল ‘অন্য দেশ’-এর প্রসঙ্গও। স্পেশাল এগ্জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন, পরে যার মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানো হয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টে যান এই দুই সিজেপি নেতা। এ দিন একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ শুনিয়েছে আদালত। ককরোচ নেতাদের প্রশ্ন দিল্লি হাইকোর্টের যন্তর মন্তরে সব রকম বিক্ষোভ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর পরেও গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় পতাকা হাতে বেশ কিছু সিজেপি সমর্থক সেখানে যান। তার আগে দিল্লির কনৌট প্লেসে ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ কর্মসূচির ডাক দিয়ে আগেভাগেই আটক হন দীপকে। পরে পুলিশকে মুচলেকা দিয়ে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান তিনি। আগামী এক বছর রাজধানী দিল্লিতে কোথাও কোনও ভাবে শান্তিভঙ্গ করবেন না তিনি— দিল্লি পুলিশের পিস বন্ডে সই করে শর্তসাপেক্ষ জামিন পান ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত্ দীপকে। আপনারা ব্যারিকেড ভাঙলে তো... এ দিকে বেল-বন্ড ভেঙে জাতীয় পতাকা-সহ যন্তর মন্তর চত্বরে ঢুকে অশান্তির বাধানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় দুই ককরোচ নেতা সৌরভ ও আশুতোষকে। আইনভঙ্গের কারণে ঠাঁই হয় জেলে। জেল থেকে ছাড়া পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা। এ দিন আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘আপনারা সামনে সারিতে। আপনারা ব্যারিকেড ভাঙলে, আরও অনেকে তা অনুসরণ করবে, তার সম্ভাবনা থাকে। সেখানে এমন লোক থাকতেই পারেন, যিনি আপনাদের নিয়ন্ত্রণে নন।’ অন্য দেশে অশান্তি প্রসঙ্গ বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদ এই প্রসঙ্গে অন্য দেশের অশান্তির প্রসঙ্গ তোলেন। যদিও কোনও দেশের নাম তিনি করেননি। বলেন, ‘আমরা দেখেছি দেশের বাইরে কী হয়েছে। যা ছাত্র আন্দোলন দিয়ে শুরু হয়েছিল, তা অন্যদিকে মোড় নেয়। আগুন জ্বলে, ভাঙচুর চলে।’ কোর্টরুমে প্রশ্ন ওঠে ‘ব্রিচ অফ বন্ড’ নিয়ে। প্রথম গ্রেপ্তারির পরে সিজেপি নেতারা যে কাগজে সই করেছিলেন, সেই শর্ত ভাঙা নিয়ে। মামলার সূত্রপাত গত ১০ অক্টোবর প্রথমবার গ্রেপ্তার হন সৌরভ, আশুতোষ, দীপকেরা। দিল্লি এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেপ্তার হন তাঁরা। সে দিনই ৫০ হাজার টাকার পিস বন্ডে সই করে ছাড়া পান তাঁরা। সৌরভ ও রাঙ্কা ফের গ্রেপ্তার হন ১৪ অক্টোবর, যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টার কারণে। তাঁদের পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। এর পরে ১৯ অক্টোবর স্পেশাল এগজ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (SEM) সেই জেল হেফাজত আরও দু’দিন বাড়ানোর নির্দেশ দেন। SEM-এর পর্যবেক্ষণ ছিল, ইচ্ছাকৃত দুই সিজেপি নেতা বন্ডের শর্ত অমান্য করেছেন। ম্যাজিস্ট্রেটের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান সৌরভ ও রাঙ্কা। আপনারা GenZ নন আদালত প্রশ্ন করে, ‘আপনি যখন কোনও বন্ডের শর্ত ভঙ্গ করেন, তখন কি কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর শর্তযুক্ত বন্ড চাওয়ার অধিকার থাকে না?’ আদালত এই দুই সিজেপি নেতার বয়স জানতে চায়। তাঁদের আইনজীবী জানান, ২৭ আর ৩৩। তা শুনে আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘তার মানে আপনারা GenZ নন। মিলেনিয়ালদের বয়স কত? এটা তো ছাত্র বিক্ষোভ ছিল। বাচ্চারা ছিল সেখানে, কিন্তু এখন তো অন্য বিষয়। লোকজন একই, কিন্তু বিষয় বদলে গিয়েছে।’ সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের আইনজীবী হাইকোর্টে করা আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। হাইকোর্টে করা আবেদন প্রত্যাহার সিজেপির দুই নেতার আইনজীবীদের আদালত পরামর্শ দেয়, সন্ধে অবধি অপেক্ষা করতে পারেন, যতক্ষণ না ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পেশ করা হচ্ছে। এর পরেই সিজেপি নেতাদের আইনজীবী হাইকোর্টে করা আবেদন প্রত্যাহার করে নেন।
ইউরোপজুড়ে দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতার মধ্যে বিশ্ব বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুসিচ। তার দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। পরে বুধবার আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে তার বক্তব্য ভাষান্তর করা হয়। রুশ সাংবাদিক কসেনিয়া সোবচাককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভুসিচ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামরিক সক্ষমতা জোরদার করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলোসহ ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্র নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জার্মানির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাইনমেটালের উদাহরণ টানেন ভুসিচ। তিনি দাবি করেন, সামরিক সরঞ্জামের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ১৭ গুণ বেড়েছে। ভুসিচ বলেন, ‘ইউরোপ কীভাবে নিজেদের অস্ত্রসজ্জিত করছে, তা যদি আপনারা দেখতে না পান, তাহলে ইচ্ছাকৃতভাবেই বিষয়টি উপেক্ষা করছেন। কিন্তু তারা অস্ত্রসজ্জিত হচ্ছে কেন? কী উদ্দেশ্যে?’ ইউরোপের দেশগুলোর সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি