আন্তর্জাতিক

নেপালের বন্যায় জলবিদ্যুৎ টানেলে নিখোঁজ ৮৯৮, উদ্ধার ৩৬১

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ৩০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

নেপালের ত্রিশূলী নদীর তীরের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে নিখোঁজ কর্মীদের উদ্ধারে জরুরি অভিযান চলছে। কাদা ও ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়া টানেলে বাতাস ঢোকানোর পাশাপাশি বড় গর্ত করে উদ্ধারকারী দল ভেতরে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

 

নেপালের ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার এসোসিয়েশন জানিয়েছে, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আনুমানিক ৮৯৮ কর্মীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ৩৬১ কর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

 

নেপালের জ্বালানি, পানি সম্পদ ও সেচমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে জানান, ত্রিশূলী–৩ ‘এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে উদ্ধার অভিযানে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। বন্যার পর কাদা ও পলিতে টানেলটি চাপা পড়ে যায়।

 

উদ্ধারকারীরা খননযন্ত্র দিয়ে টানেলের ভেতরের কাদা ও পলি সরানোর কাজ করছেন। এরই মধ্যে টানেলের ওপরের অংশে ছয় ইঞ্চি একটি গর্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে ভেতরে কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়নি।

 

এরপর ওই গর্ত দিয়ে টানেলের ভেতরে বাতাস, আলো ও শব্দ পাঠানো হয়েছে। তবে ভেতরে থাকা কারও সঙ্গে এখনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

 

মন্ত্রী জানান, এবার ওই গর্তটি আরও বড় করে একটি প্রবেশপথ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে উদ্ধারকারী দলকে টানেলের ভেতরে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামীকালের মধ্যে বিদ্যমান পথ ধরে মূল টানেলে পৌঁছানোই এখন লক্ষ্য।

 

এর আগে শুক্রবার নেপালি সেনাবাহিনী রসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে কয়েকজনকে উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে দেখা যায়, জীবিতরা ঘন কাদার মধ্য দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসছেন এবং উদ্ধারকারীরা তাদের বাইরে নিয়ে আসছেন।

সূত্র: সিএনএন

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
১৫ বছর পরও গাদ্দাফির স্মৃতি কেন তাড়া করে ফিরছে লিবিয়াকে

লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির মৃত্যুর ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশটির রাজনীতি থেকে মুছে যায়নি তার প্রভাব। বরং রাজনৈতিক বিভাজন, সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্য, দুর্নীতি এবং বিচারহীনতার মধ্যে গাদ্দাফির শাসনামল নিয়ে স্মৃতিকাতরতা বাড়ছে দেশটির একটি বড় জনগোষ্ঠীর মধ্যে।   অনেকে তার শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন না করলেও সেই সময়ের স্থিতিশীল জীবন ও কার্যকর রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অভাব অনুভব করছেন। অন্যদিকে, গাদ্দাফি ও তার ছেলে সাইফ আল-ইসলামের মৃত্যুর বিচার না হওয়ায় দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।   গত ২০ অক্টোবর গাদ্দাফির মৃত্যুর ১৫তম বার্ষিকী পালন করেন তার সমর্থকরা। ২০১১ সালে সির্তে শহরে নিহত হওয়ার পর তাকে তড়িঘড়ি করে অজ্ঞাত স্থানে দাফন করা হয়। সেই কবরের অবস্থান এখনো প্রকাশ করা হয়নি। গাদ্দাফির সমর্থকদের কাছে তার গোপন কবর যেন লিবিয়ার অমীমাংসিত রাজনৈতিক সংকটের প্রতীক। অনেকের বিশ্বাস, গাদ্দাফি কবরে যাওয়ার সময় দেশটির পুরোনো রাষ্ট্রব্যবস্থাকেও সঙ্গে নিয়ে গেছেন।   গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলামের মৃত্যুও সেই সংকটকে আরও গভীর করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিহত হন তিনি। তার জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের শোকের মধ্যে গাদ্দাফির স্মৃতিও ফিরে আসে। কারণ, সাইফের মৃত্যু শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিদায় নয়, বরং লিবিয়ার রাজনীতিতে বিকল্প কোনো পথের সম্ভাবনা হারিয়ে যাওয়ার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।   সাইফের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটর কার্যালয় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কথা জানিয়েছিল। কিন্তু আট মাস পেরিয়ে গেলেও কাউকে আদালতে হাজির করা হয়নি। গাদ্দাফি ও তার ছেলের মৃত্যুর ঘটনা তাই একই প্রশ্ন সামনে এনেছে, লিবিয়া কি শেষ পর্যন্ত গাদ্দাফি পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে, নাকি অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ড ও অতীতের বিরোধ ভবিষ্যতেও দেশটিকে প্রভাবিত করবে?   বিপ্লবের পরও বন্ধ হয়নি রাজনৈতিক সহিংসতা ২০১১ সালের অভ্যুত্থান গাদ্দাফির দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটালেও দেশটিতে রাজনৈতিক সহিংসতার অবসান হয়নি। গাদ্দাফির বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এমন এক নজির তৈরি হয়, যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতার নির্ধারক হয়ে ওঠে অস্ত্র, নির্বাচন নয়। ১৫ বছর পর তার ছেলের হত্যাকাণ্ডও সেই বাস্তবতার ধারাবাহিকতা তুলে ধরেছে।   বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বদলে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মিলিশিয়ার প্রভাব বেড়েছে। রাজনৈতিক প্রতিশোধ, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের দুর্নীতির ধারণাসূচকে ১৮২টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে লিবিয়ার অবস্থান ছিল ১৭৭তম।   বিশ্লেষকদের মতে, সাইফ আল-ইসলামের হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে ২০১১ সালের পর গড়ে ওঠা ক্ষমতার কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। এ কারণেই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পথে বাধা রয়ে গেছে।   গাদ্দাফি আমলের স্থিতিশীলতার স্মৃতি লিবিয়ার অনেক মানুষের কাছে গাদ্দাফির শাসনামলের প্রতি নস্টালজিয়া তার কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রতি সমর্থন নয়। বরং তারা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা স্মরণ করেন, যেখানে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু সামাজিক নিরাপত্তা ও আর্থিক সুবিধা ছিল। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ থেকে বার্ষিক আয় পাওয়ার সুযোগ পেত। টেলিযোগাযোগ ও তেল খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবস্থাকে অনেকেই সামাজিক স্থিতিশীলতার অংশ হিসেবে দেখেন।   অন্যদিকে, ২০১১ সালের পর সেই নিশ্চয়তার জায়গায় অনেক ক্ষেত্রে সশস্ত্র গোষ্ঠীর লুটপাট ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গাদ্দাফির বিরুদ্ধে পশ্চিমা ব্যাংকে বিপুল অর্থ গোপনে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময় উঠেছে। তবে নিবন্ধটির দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানেও তার ব্যক্তিগতভাবে বিলিয়ন ডলার গোপন পশ্চিমা ব্যাংক হিসাবে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   সাইফ আল-ইসলামের জানাজায় বানিওয়ালিদে হাজারো মানুষের উপস্থিতি এবং পুরোনো সবুজ পতাকা নিয়ে সমাবেশ শুধু শোকের বহিঃপ্রকাশ ছিল না; বর্তমান পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও ছিল। দেশটির একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠীর কাছে তার মৃত্যু মিলিশিয়াদের আধিপত্যের বাইরে বিকল্প রাজনৈতিক পথের সম্ভাবনা হারিয়ে যাওয়ার প্রতীক।   বিদেশি প্রভাব ও সার্বভৌমত্বের সংকট অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার পাশাপাশি লিবিয়ার সার্বভৌমত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ১৯৬৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর গাদ্দাফি কয়েক মাসের মধ্যে দেশটির ভূখণ্ড থেকে সব বিদেশি সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে দেওয়াকে নিজের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে দেশটির রাজনীতিতে বিদেশি শক্তির প্রভাব স্পষ্ট।   ২০১৯ সালে তুরস্কের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক চুক্তি হয়। তখন খলিফা হাফতারের বাহিনী ত্রিপোলির কাছাকাছি অবস্থান করছিল। তুরস্কের সামরিক সহায়তা ওই সরকারকে টিকে থাকতে সাহায্য করে এবং দেশটিতে তুরস্কের সরাসরি সামরিক উপস্থিতির পথ তৈরি হয়। শুরুতে লিবিয়ার পার্লামেন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ চুক্তিটিকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলে সমালোচনা করেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর একই পার্লামেন্ট চুক্তিটির অনুমোদন দেয়। এই অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক এলিটদের নীতিগত অবস্থানের চেয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার প্রবণতাকেই সামনে এনেছে।   বিচারহীনতা কাটানোই বড় পরীক্ষা গাদ্দাফি ও তার ছেলের মৃত্যুর বিচার না হওয়া লিবিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতাকে তুলে ধরে। শুধু গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করাই যথেষ্ট নয়; অভিযুক্তদের গ্রেফতার, বিচার এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে জবাবদিহির আওতায় আনার মতো স্বাধীনতা ও সক্ষমতা রাষ্ট্রের আছে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।   রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ তদন্ত, সব পক্ষের জন্য সমান বিচার এবং জাতীয় পুনর্মিলন ছাড়া লিবিয়ায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা কঠিন। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো যদি নিজেদের স্বার্থে সহিংসতা ও বিচারহীনতাকে প্রশ্রয় দিতে থাকে, তবে গাদ্দাফির উত্তরাধিকার দেশটির রাজনীতিতে বিভাজনের রেখা হয়েই থাকবে। আর সেই বিভাজন কাটিয়ে উঠতে না পারলে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সার্বভৌম লিবিয়া গড়ে তোলার পথও অনিশ্চিত থেকে যাবে।   সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

পিএইচপির কোডিং ত্রুটিতে সাইবার ঝুঁকিতে ৭০% ওয়েবসাইট, নেপথ্যে কী?

ছবি: সংগৃহীত

কানাডার ভিসা আবেদনে বড় জালিয়াতির অভিযোগ, বিপাকে দুই শতাধিক বাংলাদেশি

মোজতবা খামেনি

মোজতবা খামেনির প্রকাশ্যে না আসার কারণ জানালেন ইরানি কূটনীতিক

ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপজুড়ে তীব্র গরমে প্রাণ গেল ৫০ হাজারের বেশি মানুষের

ইউরোপের শহরগুলোতে চলতি বছরের গ্রীষ্মে তীব্র তাপপ্রবাহে আনুমানিক ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নতুন এক গবেষণা অনুযায়ী, এটি ইউরোপে তাপজনিত মৃত্যুর রেকর্ডে সবচেয়ে প্রাণঘাতী গ্রীষ্ম হতে পারে।   গবেষণা সাময়িকী নেচার হেলথ-এ প্রকাশিত পিয়ার-রিভিউড (সহকর্মীদের দ্বারা পর্যালোচিত) দুটি গবেষণা নিবন্ধের তথ্যানুসারে সিএনএন জানিয়েছে, প্রায় দুই তৃতীয়াংশ মৃত্যু (৩২৬০০ জনেরও বেশি) সরাসরি জীবাশ্ম জ্বালানি দূষণের মাধ্যমে হওয়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটেছে।   এসব গবেষণাপত্রের অন্যতম লেখক ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেছেন, “আমরা নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি যে, ইউরোপের বড় একটি অংশ জুড়ে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালটি সম্ভবত তাপজনিত মৃত্যুর দিক থেকে রেকডর্ করা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ গ্রীষ্মকাল ছিল।”   তুরস্কে জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক নেতারা যখন সেখানে হাজির হতে যাচ্ছেন তখন আশঙ্কাজনক মৃত্যুর এই সংখ্যাটি সামনে এল। কয়েকদিন আগে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, বৈশ্বিক উষ্ণতাকে শিল্পায়নের আগের পর্যায়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সম্ভাবনা এখন আর অবশিষ্ট নেই।   ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ। চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হল ‘চরম তাপ’, তা ইউরোপের ইতোমধ্যেই অসহনীয় হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের মে-র শেষ দিক থেকে অগাস্টের শেষ পর্যন্ত নজিরবিহীন উচ্চ তাপমাত্রায় পুরো মহাদেশটি দগ্ধ হয়েছে।   এটি পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মকাল ছিল। এ সময় কোনো কোনো দেশে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ছিল।গবেষকরা বিভিন্ন শহরে তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা মোট ৫০ হাজার ৩৯১ বলে হিসাব করেছেন। এসব শহরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বসবাস করেন।   গবেষকদের মতে, গত ২৬ বছরের মধ্যে তীব্র তাপপ্রবাহে মৃত্যুর এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। ২০০৩ ও ২০২২ সালে ইউরোপে হওয়া বড় ধরনের তাপপ্রবাহের তুলনায় এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।   সূত্র: গার্ডিয়ান, সিএনএন

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপে রেকর্ড দাবদাহে ৫০ হাজারের বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা

ছবি: সংগৃহীত

জীবিকার তাগিদে জরায়ু অপসারণের পথে ভারতের আখশ্রমিক নারীরা

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৩

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে ৭ জাহাজে হামলা ও মাইন বিস্ফোরণের দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।   বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান।   তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।   হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।   আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিক্ষোভের মধ্যে গণপিটুনিতে প্রাণ হারালেন এক বিদেশি

ছবি: সংগৃহীত

চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নির্ভরতা কমাতে তুরস্কের সঙ্গে নতুন জোটে কানাডা

0 Comments