২০২৫ সালের ৩ মার্চ। স্থানীয় সময় দুপুর ২টা। ইরাকের দুর্গম পশ্চিম মরুভূমিতে এক বেদুইন শিবিরের বাসিন্দারা একটি ট্রাক যেতে দেখেন। এটি ছিল স্থানীয় এক মেষপালকের গাড়ি। গাড়িটি কাছেই আল-নুখাইব শহরের দিকে যাচ্ছিল।
তবে কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাকটি ফিরে আসতে দেখেন তারা। তবে সেটি আর অক্ষত ছিল না। যেন অসংখ্য গুলিতে ট্রাকটি ঝাঁঝড়া হয়ে গেছে। ট্রাকটির কোনো অংশ আগুনও জ্বলছিল।
শিবিরের তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একটি হেলিকপ্টার ট্রাকটিকে ধাওয়া করছিল এবং সেখান থেকে অনবরত গুলি ছোড়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে ট্রাকটি মরুভূমিতে থেমে যায়।
ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন ২৯ বছর বয়সি আওয়াদ আল-শাম্মারি। তিনি বাজার করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আওয়াদের চাচাতো ভাই আমির আল-শাম্মারি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, আওয়াদ ঘটনাবশত এমন এক গোপন ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির সন্ধান পেয়েছিলেন, যা ইরাকের মরুভূমিতে গোপন অবস্থায় ছিল। তাদের ধারণা, এই ঘাঁটির সন্ধান পাওয়ার কারণেই হয়ত আওয়াদের প্রাণ গেছে।
আওয়াদের এই সন্ধানের মধ্যে দিয়ে এটা স্পষ্ট যে, ইরাকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে গোপনে ইসরায়েলি দুটি ঘাঁটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। উল্লেখ্য, ইসরায়েলকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে মনে করে ইরাক।
আঞ্চলিক সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আওয়াদ এক সময় ইরাকের আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডে ফোন করে জানিয়েছিলেন, তিনি কিছু সৈন্য, হেলিকপ্টার এবং তাঁবু দেখতে পেয়েছেন। ইরাকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় সহায়তার জন্য ইসরায়েল সেখানে এই ঘাঁটি পরিচালনা করছিল।
ইরাকে ইসরায়েলি ঘাঁটির উপস্থিতির খবর এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশ করেছিল। তবে ইরাকের কর্মকর্তারা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, পশ্চিম মরুভূমিতে আরও একটি দ্বিতীয় গোপন ঘাঁটি ছিল, যা আগে প্রকাশিত হয়নি।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, আওয়াদ যে ঘাঁটির সন্ধান পেয়েছিলেন, সেটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধের আগেই স্থাপন করা হয়েছিল এবং ২০২৫ সালের জুনে তেহরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধে এটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, ভবিষ্যৎ সংঘাতের কথা মাথায় রেখে ইসরায়েল ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকেই অস্থায়ী এই ঘাঁটি তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেছিল এবং দূরবর্তী এলাকাগুলো চিহ্নিত করছিল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছে এসব ঘাঁটি ও আওয়াদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে বারবার জানতে চাইলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।
আওয়াদের মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শীরা নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ করতে চাননি। একইভাবে, ইসরায়েলি ঘাঁটি নিয়ে কথা বলা অধিকাংশ কর্মকর্তাও পরিচয় গোপন রাখতে চান।
তাদের দেওয়া তথ্য থেকে বোঝা যায়, অন্তত একটি ঘাঁটির বিষয়ে, অর্থাৎ যেটি আওয়াদ আবিষ্কার করেছিলেন, সেটির বিষয়ে ওয়াশিংটন ২০২৫ সালের জুন বা তারও আগে থেকেই জানত। এর অর্থ হতে পারে, ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ইরাককে এটা জানায়নি যে তাদের ভূখণ্ডে একটি শত্রু শক্তি (ইসরায়েলি বাহিনী) সক্রিয় রয়েছে।
ইরাকি আইনপ্রণেতা ওয়াদ আল-কাদু বলেন, 'এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব, সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী এবং জনগণের মর্যাদার প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা।'
আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বলেন, ইরাকে গোপনে কার্যক্রম চালানো নিরাপদ হবে— এমন সিদ্ধান্ত নিতে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরাকের নিরাপত্তা সহযোগিতাকেই বিবেচনায় নিয়েছিল।
দুই ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গত বছরের যুদ্ধ এবং বর্তমান সংঘাত উভয় সময়েই ওয়াশিংটন ইরাককে তাদের রাডার ব্যবস্থা বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছিল, যাতে মার্কিন বিমান নিরাপদে চলাচল করতে পারে। এর ফলে শত্রু তৎপরতা শনাক্ত করতে বাগদাদকে আরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হয়।
এই ঘাঁটির তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় ইরাকের জন্যও অস্বস্তিকর কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। যেমন— একজন মেষপালক বিষয়টি প্রকাশ না করা পর্যন্ত কি সত্যিই ইরাকি বাহিনী বিদেশি উপস্থিতি সম্পর্কে জানত না? নাকি তারা জানার পরেও চুপ ছিল?
যে সম্ভাবনাই সত্য হোক না কেন, এ থেকে স্পষ্ট হয় যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মধ্যে আটকে থাকা ইরাক এখনো নিজের ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
ওয়াদ আল-কাদু বলেন, 'আমাদের নিরাপত্তা নেতাদের অবস্থান লজ্জাজনক।'
ইরাকি সামরিক বাহিনীর পশ্চিম ইউফ্রেটিস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আল-হামদানি বলেন, মেষপালকের আবিষ্কারের এক মাস আগেই সেনাবাহিনী মরুভূমিতে ইসরায়েলি উপস্থিতির সন্দেহ করেছিল।
তিনি বলেন, 'এখন পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে নীরব রয়েছে।'
ইসরায়েলি ঘাঁটির বিষয়টি স্বীকার করা ইরাক সরকারের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারণ, ইরাকের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং দেশটির জনগণ ইসরায়েলকে শত্রু হিসেবেই দেখে।
ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ মান নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, 'ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির অবস্থান সম্পর্কে ইরাকের কাছে কোনো তথ্য নেই।'
দুই আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, আওয়াদ যে ঘাঁটিটি উন্মোচন করেছিলেন, সেটি ইসরায়েল বিমান সহায়তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং চিকিৎসা সেবার জন্য ব্যবহার করত।
ঘাঁটিটি স্থাপন করা হয়েছিল যাতে ইসরায়েলি বিমানকে ইরানে পৌঁছাতে কম দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। এটি মূলত অস্থায়ী উপস্থিতি হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল, বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুনের যুদ্ধের মতো সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য। কর্মকর্তাদের মতে, সেই যুদ্ধে ঘাঁটিটি অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়।
গত বছরের যুদ্ধের পর দেওয়া এক ভাষণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বলেন, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সফল করা সম্ভব হয়েছে 'বিমান বাহিনী ও স্থল কমান্ডো বাহিনীর সমন্বয় এবং কৌশলগত বিভ্রান্তিমূলক তৎপরতার' মাধ্যমে।
পেন্টাগনের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরাকে ইসরায়েলি কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। জানতে চাইলেও এটি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানায়।
তবে অঞ্চলটিতে দায়িত্ব পালন করা সাবেক মার্কিন সামরিক কমান্ডার, পেন্টাগন কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিবেচনায় পশ্চিম ইরাকে ইসরায়েলি উপস্থিতির বিষয়ে সেন্ট্রাল কমান্ড কিছুই জানত না — এমনটা কল্পনাও করা যায় না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষের খোঁজ পাওয়া যায়নি; নিহতের সংখ্যাও ক্রমাগত বাড়ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ২৪ জুনে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৫৯৫ জন মারা গেছেন এবং আরও ১২ হাজার ৪০০ জন আহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেস জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সেই ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত ৮৬২টির বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ভেনেজুয়েলার এমপি হোর্হে রদ্রিগেস জানিয়েছিলেন, ঘরবাড়ি হারানো বা ঘরবাড়ির মারাত্মক ক্ষতি হওয়াসহ মোট ২৬ হাজার ৪০৩ জন এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবিসি নিউজ লিখেছে, গত সপ্তাহের সেই শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে, কোনো কোনো এলাকার পুরো মহল্লাই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং বেশ কিছু মানুষ দিনের পর দিন সেখানে আটকা পড়ে আছেন। ভূমিকম্পের এক সপ্তাহের বেশি সময় পরও ধ্বংসস্তূপ থেকে কারো কারো অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরার গল্পও সামনে এসেছে। একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত শপিং মলের নিচে আটকা পড়া দুই সন্তানের জনক এক ব্যক্তিকে দীর্ঘ ১২০ ঘণ্টার চেষ্টার পর বৃহস্পতিবার জীবিত উদ্ধার করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা তাকে বের করে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাচ্ছেন এবং উপস্থিত উৎসুক জনতা করতালি দিয়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন। ভূমিকম্পের দুই দিন পর, শুক্রবারে দাইয়ানা পতিনিও এবং তার ১৮ দিন বয়সী ছেলে হুয়ান ডেভিডকে তাদের ধসে পড়া অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়। সেখানে তারা ত্রিশ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকা ছিলেন। পতিনিও জানান, ধ্বংসস্তূপের পাইপের মধ্য দিয়ে একটি প্লাস্টিকের নল ঢুকিয়ে উদ্ধারকারীরা শিশুটির কাছে পানি পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলেন। ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) জানিয়েছে, এখনও নিখোঁজ থাকা প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে বহু শিশু রয়েছে। উদ্ধারকারীরা জীবিতদের খোঁজে খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালাচ্ছেন। এদিকে ভেনেজুয়েলার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা কিছু এলাকায় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, যার ফলে বেঁচে যাওয়া বহু মানুষ নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানিয়েছে আইআরসি।
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) সদর দফতরে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকি সম্বলিত ই-মেইল পাঠানোর পরপরই তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ইসরোর চেয়ারম্যান ড. ভি নারায়ণনের কার্যালয়ে এই হুমকিমূলক ই-মেইলটি পাঠানো হয়। সতর্কবার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াডের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পুরো কার্যালয় চত্বরে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালান। তবে তল্লাশি চলাকালে বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত ওই সদর দফতর থেকে কোনও বিস্ফোরক ডিভাইস বা বস্তু উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ই-মেইলটি কে পাঠিয়েছেন এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে তা উদঘাটন করতে ইতোমধ্যেই পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমেছে। এই ই-মেইলের উৎস দেশের বাইরে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গত বছরও দিল্লির ডিপিএস দ্বারকা, কৃষ্ণা মডেল স্কুল এবং সর্বোদয় বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি স্কুলে একই ধরনের হুমকিমূলক ই-মেইল পাঠানো হয়েছিল, যার ফলে স্কুলগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়। ইসরো কার্যালয়ে পাঠানো এই হুমকির ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের দক্ষিণে অবস্থিত সোডারটেলিয়া শহরে গত এক দশকে মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে এই বৃদ্ধি শরণার্থী প্রবাহের কারণে নয়; বরং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ মুসলিম পেশাজীবীদের স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার ফলেই এ পরিবর্তন এসেছে। স্থানীয় ইসলামিক কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত দশ বছরে মসজিদের সঙ্গে যুক্ত মুসলিম পরিবারের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়ে ১০০ থেকে ৩০০-তে পৌঁছেছে। স্ক্যানিয়া ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া প্রকৌশলী, গবেষক ও অন্যান্য পেশাজীবীরাই এ সম্প্রদায়ের সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখছেন। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নতুন বাস্তবতা: স্ক্যানিয়ার কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ার আফিফ আসালি জানান, ২০০৮ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে এই পরিবর্তন শুরু হয় এবং ২০১৫ সালের অভিবাসন সংকটের পর এর গতি আরও বাড়ে। বর্তমানে অনেক মুসলিম পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্থানীয় মুসলিম সমাজও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আরেক প্রকৌশলী মোহাম্মদ অসীম ফিরোজ বলেন, সুসংগঠিত মুসলিম সমাজ ও ধর্মীয় পরিবেশের কারণেই তিনি সোডারটেলিয়াকে বসবাসের জন্য বেছে নিয়েছেন। তার মতে, বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। রাজনৈতিক বিতর্ক ও সামাজিক বাস্তবতা: সুইডেনে মুসলিমদের একীভূত হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে দেশটির কিছু রাজনৈতিক মহলে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য নতুন নয়। তবে সোডারটেলিয়ার বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখানকার মুসলিম পেশাজীবীরা কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও অংশ নিচ্ছেন এবং পরিবার নিয়ে স্থানীয় সমাজে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন। ইসলামভীতি নিয়ে উদ্বেগ: স্থানীয় মুসলিম নেতারা বলছেন, মুসলিম সমাজের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানুষের মধ্যে ইসলামভীতিও বেড়েছে। ঈদের জামাতের মতো বড় ধর্মীয় আয়োজনের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের ঘটনাও সামনে এসেছে। অ্যাসোসিয়েশনের অপারেশন প্রধান দাউদ ওমর আলীর মতে, ধর্ম সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব থেকেই অনেক ক্ষেত্রে ভুল ধারণা ও অযৌক্তিক ভয় তৈরি হয়। তিনি বলেন, পারস্পরিক পরিচয় ও সংলাপ বাড়ানো গেলে এসব ভুল বোঝাবুঝি কমানো সম্ভব। স্থায়ী ভিত্তি গড়ার লক্ষ্য: স্থানীয় মুসলিম সংগঠনগুলো এখন শিশু-কিশোরদের জন্য শিক্ষামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, রমজানের আয়োজন আরও সুশৃঙ্খল করা এবং সমাজের সঙ্গে ইতিবাচক যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য, শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়—শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সুইডিশ সমাজের একটি স্বাভাবিক ও স্থায়ী অংশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। বিশ্লেষকদের মতে, সোডারটেলিয়ার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে যে দক্ষ কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে মুসলিম কমিউনিটি সুইডেনে নতুন একটি বাস্তবতা তৈরি করছে। তবে এই অগ্রযাত্রার পাশাপাশি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, ইসলামভীতি মোকাবিলা এবং সফল একীভূতকরণ ভবিষ্যতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।