অর্থনীতি

ঈদের ছুটিতে বাণিজ্য সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩টি টাস্কফোর্স, কাস্টমসে ১০টি টিম

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ঈদের টানা ছুটিতে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যকে সচল এবং জেটি ও বহির্নোঙরে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রাখতে তিনটি আলাদা টাস্কফোর্স গঠন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একইভাবে কাস্টমসও গঠন করেছে ১০টি বিশেষ টিম।  

বন্দর, কাস্টমস, শিপিং, ব্যাংক, সিঅ্যান্ডএফসহ সংশ্লিষ্ট ২৬টি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের যে কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলেই তৈরি হয় জটিলতা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ঈদের ছুটিতে জেটি ও বহির্নোঙরে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর সচল রাখতে গঠন করা হয়েছে তিনটি আলাদা টাস্কফোর্স। একই সঙ্গে কাস্টম হাউসও শুল্কায়ন কার্যক্রম চালু রাখতে ১০টি বিশেষ টিম গঠন করেছে। 

ঈদের টানা ছুটিতে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যকে সচল এবং জেটি ও বহির্নোঙরে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করতেই এই টাস্কফোর্স ও বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। 

চলতি মে মাসের ২৫ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া পবিত্র ঈদুল আজহার সাত দিনের সরকারি ছুটিকে কেন্দ্র করে এই তৎপরতা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন গড়ে আট হাজার ৭০০ টিইইউস কনটেইনার ওঠানামা হলেও দৈনিক খালাস বা ডেলিভারি হচ্ছে প্রায় সাড়ে চার হাজার টিইইউস কনটেইনার। 

তবে ঈদের ছুটিতে কনটেইনার ওঠানামা স্বাভাবিক থাকলেও পণ্য খালাস বা ডেলিভারি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা।

কারণ আমদানি করা কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় না পৌঁছলে এবং প্রস্তুতকৃত পোশাক রপ্তানি করতে না পারলে, উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়।

এদিকে ঈদের ঠিক আগে ২১টি বেসরকারি অফডকে (আইসিডি) আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

স্বাভাবিক সময়ে আইসিডিগুলোতে প্রতিদিন সাড়ে ৭ হাজার রপ্তানি কনটেইনার ও আড়াই হাজার আমদানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হলেও ঈদের আগমুহূর্তে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার রপ্তানি ও সাড়ে তিন হাজার আমদানি কনটেইনারে। 

বেসরকারি অফডক অ্যাসোসিয়েশন ‘বিকডা’র দাবি, ঈদের আগে শিপমেন্টের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

সংগঠনের মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বিপ্লব বলেন, ঈদুল আজহার পর দীর্ঘ ছুটি থাকায় অনেক আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক ঈদের পরের কাজগুলোও আগেভাগে সম্পন্ন করে রাখছেন। এ কারণেই চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে।

ঈদের ছুটির দিনগুলোতে বাণিজ্য সচল রাখতে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যে তিনটি পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করেছে, সেগুলো মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জোনে কাজ করবে। 

এগুলো হলো- বহির্নোঙরে বাল্ক পণ্য খালাস তদারকি, জেটিতে কনটেইনার ওঠানামা ও ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা সচল রাখা, বন্দরের জলসীমার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।

বিজিএমই’র পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব, তারা যেন ঈদের ছুটিকে সাধারণ ছুটির মতো বিবেচনা করে বন্দর বন্ধ না রাখেন। রপ্তানি ও আমদানির কার্যক্রমকে যেন পুরোদমে অব্যাহত থাকে। পণ্য সময়মতো ইনহাউস করতে না পারলে পোশাক উৎপাদনে বড় ধরনের গ্যাপ তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ জানান, ঈদের সময়ে দুটি টাস্কফোর্স সরাসরি পণ্য খালাস ও জেটি-ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে। এ ছাড়া সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে আরো একটি পৃথক টাস্কফোর্স।  

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, শুল্কায়ন ও এক্সামিনেশন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বে থাকবেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
বস্ত্র খাতে বাড়ল প্রণোদনা, নগদ সহায়তা এখন ৫ শতাংশ

বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের জোরালো দাবি ও দেনদরবারের মুখে অবশেষে বড় ধরনের সুখবর দিল সরকার। দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত তৈরি পোশাকশিল্পের প্রতি বিশেষ নজর দিয়ে এবার নগদ সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে দেশি সুতা বা কাপড় ব্যবহারে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তার হার বর্তমানের ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ নানান চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা বস্ত্র খাতের জন্য সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী একটি বড় প্রণোদনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা। সরকারের এ নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশি বস্ত্রকলগুলো যেমন চাঙা হবে, তেমন তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়েছে।   অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রপ্তানিকারকদের এ নতুন সুযোগ ও বাড়তি প্রণোদনা নেওয়ার আগে অবশ্যই দেশি উৎস থেকে সুতা বা কাপড় সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। নতুন এ বর্ধিত সুবিধা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। এর আগে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে জরুরি সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে বিটিএমএ নেতারা দেশি সুতা ও কাপড়ের ব্যবহার উৎসাহিত করতে এবং এ খাত টিকিয়ে রাখতে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য নগদ সহায়তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করাসহ মোট ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। ব্যবসায়ীদের যুক্তি ছিল, দেশি সুতা ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্প আরও শক্তিশালী এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।   বস্ত্র খাতের অতীত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আড়াই বছর আগেও স্থানীয় সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানির বিপরীতে ৪ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হতো। তবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এ সহায়তার হার কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছিল। এর মাত্র ছয় মাস পর সেই সহায়তা আরও কমিয়ে মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। ফলে দেশি সুতা ও কাপড়ের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

জলভিত্তিক পর্যটন বিকাশে শুরু হলো হাউজবোট মেলা

ছবি: সংগৃহীত

ডলারের পর খোলাবাজারে শীর্ষ চাহিদায় ভারতীয় রুপি

শেয়ার বাজারে আসছে সরকারি কোম্পানি

ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের দাম বেড়ে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

  যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের জেরে জ্বালানির দাম নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার পর বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কী পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে বাজার পর্যবেক্ষকদের পর্যালোচনার মধ্যে ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের দাম বেড়ে গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ইউরোর বিপরীতেও পাউন্ডের দাম গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।   শুক্রবার ডলারের বিপরীতে স্টার্লিংয়ের (পাউন্ড) মূল্য বেড়ে ১ দশমিক ৩৪৫ ডলারে পৌঁছায়, যা গত ১৫ জুনের পর সর্বোচ্চ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী পাউন্ডের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।   পাউন্ডের বিপরীতে ইউরোর দাম কমে ৮৫ দশমিক ১৮ পেন্সে নেমে এসেছে, যা ২০২৫ সালের জুনের শেষ ভাগের পর পাউন্ডের বিপরীতে ইউরোর সর্বনিম্ন দর। তবে পরবর্তীতে এই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিয়ে ইউরোর লেনদেন স্থিতিশীল হয়।   সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাউন্ডের এই শক্তিশালী অবস্থানের পেছনে বিশ্লেষকেরা বিভিন্ন কারণ নিয়ে আলোচনা করছেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিদেশি কোম্পানিগুলোর যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান কিনে নেওয়া, রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রশমন এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নীতিমালার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।   মোনেক্স ইউরোপের সিনিয়র এফএক্স স্ট্র্যাটেজিস্ট ব্যারি ভ্যান ডার ল্যান বলেন, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিউ পিল বৃহস্পতিবার রাতে সুদের হার বাড়াতে হবে বলে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা শুক্রবার পাউন্ডের দর বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।   ভ্যান ডার ল্যান আরও বলেন, এই বার্তাটি বাজারের সেই ধারণাকেই আরও শক্তিশালী করেছে যে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ বা ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) তুলনায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের কাছে মূল্যস্ফীতি উপেক্ষা করার সুযোগ কম।   তবে তিনি বলেছেন, আজ যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কোনও অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশ না হওয়ায়, পাউন্ডের গতিপ্রকৃতি মূলত ডলারের সার্বিক ওঠানামা, তেলের দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের খবরের ওপর নির্ভর করবে।   চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে এবং ২০২৬ সালে ১ শতাংশ সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছে। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি এবং পরবর্তীতে তেলের দাম কমে যাওয়ার কারণে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল ব্রিটেনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল।   আইএমএফ জানিয়েছে, চলতি বছর জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পর ব্রিটেন তৃতীয় দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি হতে যাচ্ছে, যা ইউরোজোনের দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে।   তবে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং ইরানের তেল বাণিজ্যের ওপর দেওয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মওকুফের সুবিধা বাতিলের কারণে তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। অপরিশোধিত তেল সর্বশেষ ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছিলো, যা গত এপ্রিলের সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারের চেয়ে এখনও অনেকটাই কম।   এদিকে লেবার পার্টির সিংহভাগ সংসদ সদস্যের সমর্থন পেয়ে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে গেছেন। কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, পরবর্তী নেতার বিষয়ে স্পষ্টতা এবং বার্নহামের আর্থিক নিয়মনীতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি পাউন্ডের দাম কিছুটা বাড়াতে সাহায্য করেছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, বার্নহাম যখন তার অর্থনৈতিক নীতিগুলোর রূপরেখা প্রকাশ শুরু করবেন, তখন যুক্তরাজ্যের বাজার আরও কিছুটা অস্থির হয়ে উঠতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আবারও বাড়ল সোনা-রুপার দাম, নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ

ছবি : সংগৃহীত

টাকা সঞ্চয়ের সহজ উপায় জানালেন শীর্ষ ব্যাংক কর্মকর্তা

ছবি : সংগৃহীত

সিঙ্গার বাংলাদেশ: একসময়ের ‘ব্লু-চিপ’ কোম্পানি, এখন লোকসানের বেড়াজালে

ছবি: সংগৃহীত
‘এনবিআরের সবাই চাঙ্গা’, রাজস্ব আদায়ে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী

বিদায়ী অর্থবছরের প্রকৃত রাজস্ব আদায়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরে দেওয়া হয়েছে, তা অর্জনে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   তার ভাষ্য, “রাজস্ব আদায় ইনশাআল্লাহ ভালো হবে। এনবিআরের সবাই চাঙ্গা। ইনশাল্লাহ রাজস্বের যে টার্গেট আমরা দিয়েছি সেটা পূরণ হবে।”   বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন চেম্বারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অর্থমন্ত্রী।     চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে ৬ লাখ কোটি ৪ হাজার কোটি টাকা। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকৃত আদায়ের পরিসংখ্যান মেলেনি এখনও। এটি ৪ লাখ কোটি টাকার আশেপাশে থাকতে পারে আগেই এনবিআর তথ্য দিয়েছে।   সৌদি চেম্বারের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “দেশে যেভাবে আমরা কাজ করতেছি সেটা হল, সৌদি আরবে এখন ওখানে যারা আছে, যারা অদক্ষ, তাদেরকে দক্ষ করার জন্য একটা প্রক্রিয়া তারা নিয়েছেন। ওটা ওনারা কাজ করছেন। “এছাড়া সৌদির সাথে রিয়াদের সাথে যে ব্যবসার জন্য ওনারা কাজ করছেন, সেখানে আমরা, আর্থিক সহায়তায় আমরা কি করতে পারি (সেসব আলোচনা হয়েছে)।”   আমির খসরু বলেন, “আর আমি একটা কথা বারবার বলছি, ফাইনান্সিং আর্কিটেকচার কিন্তু পরিবর্তন হয়ে গেছে সরকারের। এজন্য ভিন্নভাবে অর্থায়নের জন্য আমরা সব জায়গায় দেখছি। সৌদির সাথে কি সুযোগ আছে সেটাও দেখছি।” এ সময় টেক্সটাইল মিল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সঙ্গে আলোচনা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “তাদের দাবি- এগুলো আসলে অনেকদিন এসেছে। অনেকদিনের। কিছু সমস্যার সমাধান হয়েছে। আর বাকি সমস্যা ওনারা বলবেন আমরা দেখবো।   “আমরা তো আপনার চাই আমাদের ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে দাঁড় করাতে। অর্থনীতি দাঁড়াতে হলে... ইন্ডাস্ট্রি ভালো না করলে আমাদের অর্থনীতি দাঁড়াবে না। সুতরাং এটার উপর নির্ভর করছে আমাদের আগামী দিনের প্রবৃদ্ধি কী রকম হবে, কর্মসংস্থান কি হবে।”   এজন্য শিল্পের যে সুবিধা-অসুবিধা আছে এগুলো তো আলোচনা করতে হবে, এ কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, “তো আমরা অব্যাহতভাবে ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা, তাদের কোথায় সমস্যা আছে, কী সমস্যা আছে, কীভাবে সমাধান দেওয়া যায়, সেগুলো আলোচনা করছি।   “আমি ইতোমধ্যে অনেক নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেছি। এরপরও যদি কোন সমস্যা থাকে এগুলো আলোচনা হচ্ছে। এগুলো অনবরত সমাধান হচ্ছে এবং হতে থাকবে।”   অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বসায়ী প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের সময় অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং এনবিআরের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬

ব্র্যাক ব্যাংকের রিটেইল ডিপোজিটে ৫০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক

ফাইল ছবি

কঠোর সাজার বিধান রেখে ‘জাল মুদ্রা প্রতিরোধ আইন’ আনছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

সংসদে পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে ১৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

0 Comments