আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মৌলিক শর্তগুলো থেকে দূরে সরে যাচ্ছে সরকার। ডলারের দাম পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া, মূল্যস্ফীতির হার সন্তোষজনক পর্যায়ে নেমে আসার আগ পর্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ, মুদ্রানীতি ও সুদের হার শিথিল না করার শর্ত মানছে না সরকার।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের দাম সমন্বয় করা এবং বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমানোর শর্তগুলোও এখন পর্যন্ত মেনে চলার জোরালো পদক্ষেপ নেই। বৈদেশিক মুদ্রার নিট রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ ও ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানোর পদক্ষেপও বাস্তবায়ন করতে পারছে না। উলটো এসব শর্ত থেকে সরে গিয়ে জনবান্ধব কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। আইএমএফের শর্ত মানলে সরকারকে জনবিরোধী পদক্ষেপ নিতে হবে।
সম্প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের স্বার্থের পরিপন্থি কোনো শর্ত মেনে আইএমএফের সঙ্গে ঋণচুক্তি করবে না সরকার।
সূত্র জানায়, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ সহায়তা চেয়ে চিঠি দেয়। পাশাপাশি আগের ঋণচুক্তিটি বাতিল করে নতুন ঋণচুক্তির দিকে এগোতে থাকে। এরই অংশ হিসাবে আইএমএফের একটি মিশন ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর করেছে। ওই মিশনটি বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতির চিত্রের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে গেছে। এর আলোকে তারা একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে এবং বাংলাদেশের নতুন ঋণের জন্য নতুন শর্ত নির্ধারণ করবে। এগুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বার্ষিক সভার সাইডলাইনে আলোচনা হবে। মূলত ওই বৈঠকেই ঋণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
বর্তমানে আইএমএফের সঙ্গে কোনো ঋণচুক্তি বিদ্যমান নেই। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার যে চুক্তিটি করেছিল, সেটি নতুন সরকার এসে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা করে বাতিল করেছে। ফলে এখন আইএমএফের সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
তবে আইএমএফের নিয়ম অনুযায়ী, সংস্থাটির দেওয়া ঋণের কোনো কিস্তি পরিশোধ বকেয়া থাকা পর্যন্ত তাদের আরোপিত শর্তগুলো মেনে চলতে হয়। যে কারণে আগের ঋণের শর্ত এখনো মানতে বাধ্য বাংলাদেশ। তবে শর্ত না মানলে নতুন ঋণচুক্তিতে সমস্যা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
আইএমএফের শর্ত ছিল, ডলারের দাম পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দিতে হবে। ডলারের দামে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। কিন্তু ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মাঝেমধ্যেই হস্তক্ষেপ করছে। আগস্টের শুরুর দিকে ডলারের দাম যখন বেশি বাড়ছিল, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল, আন্তঃব্যাংকে এর দাম ১২৩ টাকা ৮২ পয়সার বেশি করা যাবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকির পর এখন আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম ১২২ টাকা ৭৭ পয়সায় নেমে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, ডলারের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে। পাশাপাশি ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতাও কমবে। এ ছাড়া কারসাজি করেও ডলারের দাম বাড়ানোর একটি প্রবণতা রয়েছে। যে কারণে বাজারে তদারকি বাড়াতে হচ্ছে।
আইএমএফের শর্ত ছিল, মূল্যস্ফীতির হার সন্তোষজনক পর্যায়ে নেমে আসার আগ পর্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করতে হবে। এই শর্ত মানছে না সরকার। আগস্টের শুরুর দিকে নীতি সুদের হার কমানো হয়েছে। ঋণের সুদের হার কমাতেও নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সুদের হার কমানোর জন্য উদ্যোক্তারা চাপ দিচ্ছেন। কারণ সুদের হার না কমালে তারা বিনিয়োগ করতে পারছেন না। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকার সুদের হার কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের দাম সমন্বয় করার শর্ত ছিল আইএমএফের। এ শর্তগুলো পুরোপুরি মানছে না সরকার। কারণ আইএমএফের এসব শর্ত মানলে দাম বাড়াতে হবে। তখন ভোক্তার ওপর চাপ বাড়বে। আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমানোর বিষয়েও জোরালো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নেই।
সংস্থাটির শর্ত অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার নিট রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ ও ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে নিট রিজার্ভ প্রকাশ করা হচ্ছে না। কেবল বিভিন্ন তহবিলে বিনিয়োগ করা অর্থ বাদ দিয়ে রিজার্ভের একটি হিসাব ও গ্রস রিজার্ভ প্রকাশ করা হচ্ছে। এ হিসাবে গ্রস রিজার্ভ এখন ৩৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার এবং বিনিয়োগ করা অর্থ বাদ দিয়ে রিজার্ভ এখন ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার।
খেলাপি ঋণ কমানোর পদক্ষেপ এখনো কার্যকর হচ্ছে না। বরং আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাটের ঋণ খেলাপি হওয়ার কারণে এখন এর পরিমাণ আরও বাড়ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
পুঁজিবাজারে সম্ভাব্য ইনসাইডার ট্রেডিং ও শেয়ারের দর কারসাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল), ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন তদন্তের আওতায় এসেছে। গত ৭ অক্টোবর জারি করা সংশোধিত নির্দেশনায় বিএসইসি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট লেনদেনে ইউনাইটেড গ্রুপের চিফ অ্যাডভাইজার হাসান মাহমুদ রাজা এবং ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের (ইউইসিএল) চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা যাচাই করা হবে। বিএসইসির পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন যুগ্ম পরিচালক জিয়াউর রহমান ও সহকারী পরিচালক আলী আহসান। কমিটিকে সংশোধিত আদেশ জারির দিন থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিশনের মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের পরিদর্শন ও তদন্ত শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় অভিযোগগুলো বিস্তারিত অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। জানা গেছে, এম এম হাবিবুল্লাহ ও নুরুজ্জামান জিন্নাহর দাখিল করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অন্য ব্যক্তির নামে খোলা বেনামি বিও ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রকৃত মালিকানা আড়াল করা হয়েছে। এসব হিসাবের মাধ্যমে বেআইনি ইনসাইডার ট্রেডিং ও শেয়ারের দর প্রভাবিত করার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা অনুসন্ধান করবে কমিশন। তদন্তের অংশ হিসেবে ইউনাইটেড পাওয়ার, সংশ্লিষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠান, মালিকানা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাসঙ্গিক ব্যাংক হিসাব, বিও ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগী ও নিকটাত্মীয়দের হিসাবও প্রয়োজন অনুযায়ী যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে। এসব হিসাবের প্রকৃত মালিক, নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি এবং লেনদেন থেকে সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেবে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া শেয়ার কেনার অর্থের উৎস, ব্যাংকিং লেনদেনের গতিপথ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোনো সন্দেহজনক অর্থ স্থানান্তর হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। শেয়ার লেনদেন থেকে পাওয়া নগদ লভ্যাংশ ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার চূড়ান্ত প্রাপক কারা, সেটিও অনুসন্ধানের আওতায় থাকবে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্দেহভাজন বিও অ্যাকাউন্টে থাকা শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা এবং এসব হিসাব পরিচালনার ক্ষমতা কার হাতে ছিল, তা যাচাই করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জটিল আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীর পরিচয় গোপন করেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে কেপিসিএল ও ইউনাইটেড পাওয়ারসহ সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর কৃত্রিমভাবে বাড়ানো, প্রতারণামূলক লেনদেন বা সংঘবদ্ধ বাজার কারসাজির কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) ব্যবহার করে শেয়ার কেনাবেচা করা হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট তথ্য কার কাছে ছিল এবং কীভাবে তা বিনিময় হয়েছে, সেসব বিষয়ও পর্যালোচনা করবে কমিটি। তদন্তের আওতায় হাসান মাহমুদ রাজা ও মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের পাশাপাশি অভিযোগকারী এম এম হাবিবুল্লাহ ও নুরুজ্জামান জিন্নাহসহ সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আইনবহির্ভূত সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু ব্যক্তি বা কোম্পানি নয়, সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং অন্যান্য আর্থিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও তদন্তে পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে হিসাব খোলা, শেয়ার কেনাবেচার নির্দেশ বাস্তবায়ন, লভ্যাংশ প্রদান ও অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম, অবহেলা কিংবা সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত দল। সিকিউরিটিজ আইন, ইনসাইডার ট্রেডিং নিষিদ্ধকরণ বিধিমালা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীর মালিকানা গোপনসংক্রান্ত বিধিবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করাই তদন্তের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিএসইসির নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত তদন্তের বিষয়গুলোর বাইরে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেলে সেগুলোও তদন্তের আওতায় আনা যাবে। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের বরফ গলানোর বৈঠকে ভারতের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে স্থলবন্দরভিত্তিক বিধিনিষেধ ও অশুল্ক বাধা দূর করার বিষয়ে জোর দিয়েছে ঢাকা। পাশাপাশি বাংলাদেশি পাটপণ্য ও পিইটি ফিল্মের ওপর থেকে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও দেশটিতে বিদ্যমান শুল্কসুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছে। ভারতের নয়া দিল্লিতে বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজিটি) ১৬তম বৈঠকের শুক্রবার দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া দুই দিনের এ সভার আলোচনার বিষয় ছিল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা নিরসন, স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পক্ষ থেকেও আমদানি-রপ্তানিতে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করা ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বিভিন্ন প্রস্তাব আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশীয় রপ্তানিকারকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনার জন্য তুলে ধরা হয়েছে। ভারতীয় বাজারে পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা নিরসনের পাশাপাশি অন্যান্য বাণিজ্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা চলছে। এলডিসি উত্তরণের পর ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের শুল্কসুবিধা কীভাবে অব্যাহত রাখা যায়, সেটিও আলোচনার একটি 'গুরুত্বপূর্ণ বিষয়' ছিল বলে তুলে ধরা হয় বিজ্ঞপ্তিতে। সাফটা চুক্তির আওতায় বর্তমানে পাওয়া সুবিধা উত্তরণের পরও বহাল রাখার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে পণ্যের মান নির্ধারণে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) প্রয়োজনীয় সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজারে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের সুযোগ সম্প্রসারণও বাংলাদেশের অগ্রাধিকারে ছিল। ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভুটানে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছিল। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে সিইওস ফোরাম কার্যকর করার বিষয়ও তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। বৈঠকে স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করতে ভারতের স্থল কাস্টমস স্টেশনগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রবেশপথ, পার্কিং ইয়ার্ড, গুদাম ও শেডের পাশাপাশি পণ্য পরীক্ষা এবং কোয়ারেন্টাইন সুবিধা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। সীমান্তবর্তী স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া গতিশীল করাও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। অন্যদিকে ভারতের আলোচ্যসূচিতে ছিল তুলার সুতা ও অন্যান্য পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থলবন্দরে বিদ্যমান বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা নিরসন, আঞ্চলিক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং বহুমাত্রিক পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আখাউড়া-আগরতলা সংযোগসহ সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক রুটগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগের উন্নয়ন ও সীমান্ত হাটসংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেয়েছে। ভৌগোলিক নৈকট্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে দুই দেশের। তবে এ সুযোগের সুফল পেতে বাজারে প্রবেশের বাধা দূর করার পাশাপাশি সীমান্তে পণ্য পরিবহন ও খালাসের সীমাবদ্ধতা নিরসন প্রয়োজন। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে অগ্রগতি এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পথ সুগম হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ বৈঠকে অংশ নেয়। জেডব্লিউজিটি সাধারণত বছরে একবার বসে। সর্বশেষ ১৫তম বৈঠক হয় ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর; ঢাকায়। এর আগে ১৪তম বৈঠক হয় ২০২২ সালের ২ ও ৩ মার্চ; নয়া দিল্লিতে। ২০২৪ সালের অগাস্টে গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা আসে এবং এ নিয়মিত বৈঠক আর হয়নি। এর মধ্যেই ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানি বন্ধ করে। তবে সমুদ্রপথে আমদানির সুযোগ খোলা রাখা হয়। এর কয়েক সপ্তাহ পর ভারত স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও পিভিসিসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। একই বছরের জুনে পাট ও কিছু বস্ত্রজাত পণ্যেও নিষেধাজ্ঞা আসে। আগের বৈঠকগুলোতে স্থলবন্দর ও ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টের অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, সীমান্ত হাট চালু, রেলপথে পণ্য পরিবহন, আঞ্চলিক সংযোগ এবং পণ্যের মান সমন্বয় ও পারস্পরিক স্বীকৃতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বাংলাদেশ-ভারত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (সিইপিএ) প্রস্তুতি ও যৌথ সমীক্ষা, বাংলাদেশে নিত্যপণ্য সরবরাহ এবং পেট্রাপোল-বেনাপোল চেকপোস্ট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে ছিল।
দেশের কোথায় কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কোন এলাকায় কোন খাতের শিল্পের ঘনত্ব বেশি কিংবা কোথায় কম—এসব তথ্য এবার মানচিত্রে দেখা যাবে। শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থানভিত্তিক তথ্য নিয়ে এমন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল বিজনেস রেজিস্টার’ কার্যক্রমের মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনে এ তথ্য জানান প্রকল্পের যুগ্ম সচিব (সংযুক্ত) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে প্রকল্প পরিচালক ড. দীপংকর রায়। তিনি বলেন, দেশের ব্যবসা ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় ও নিয়মিত হালনাগাদযোগ্য ব্যবসা নিবন্ধন তৈরি করা হচ্ছে। শুরুতে বড় ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র, কুটির ও অনানুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানও এর আওতায় আসবে। এই নিবন্ধনে প্রতিষ্ঠানের ভৌগোলিক অবস্থানও চিহ্নিত করা হবে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট শিল্প খাত নির্বাচন করলে কোন জেলা বা অঞ্চলে ওই খাতের প্রতিষ্ঠান বেশি, কোথায় কম—তা মানচিত্রে দেখা যাবে। নদীকেন্দ্রিক শিল্পের ক্ষেত্রে কারখানাগুলো নদীর কাছাকাছি রয়েছে কি না, সেটিও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। ড. দীপংকর রায় বলেন, এসব তথ্য শিল্প ও অবকাঠামো পরিকল্পনায় কাজে লাগবে। কোনো এলাকায় শিল্পের ঘনত্ব বেশি হলে সড়ক, পরিবহণ, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চাহিদা নির্ধারণে সহায়তা করবে। একইভাবে শিল্পের আঞ্চলিক বৈষম্যও চিহ্নিত করা যাবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর অধীনে কতগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং সেগুলো কোন কোন খাতে কাজ করছে, সেই তথ্যও নিবন্ধনে রাখা হবে। ফলে শিল্পগোষ্ঠীর ব্যবসার পরিধি সম্পর্কে নিবন্ধিত তথ্য পাওয়া যাবে। বিবিএস ইতোমধ্যে বিভিন্ন উৎসের তথ্য একীভূত করার কাজ এগিয়ে নিয়েছে। তথ্য দেখানোর জন্য একটি ড্যাশবোর্ড তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে এর কার্যকর সংস্করণ চালুর আশা করছে বিবিএস। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারিতে দেশে অর্থনৈতিক এককের সংখ্যা ১ কোটি ১৭ লাখ। ২০১৩ সালে ছিল প্রায় ৭৮ লাখ। এক দশকে সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। তবে প্রায় ৬৫ শতাংশ অর্থনৈতিক একক এখনো নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে। নিবন্ধনে প্রতিষ্ঠানের চালু, সাময়িক বন্ধ বা পুরোপুরি বন্ধ থাকার তথ্যের পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স, করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর, মূল্য সংযোজন কর নিবন্ধনসহ বিভিন্ন তথ্য যুক্ত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ইউনিক পরিচিতি নম্বর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিবন্ধন ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।