অন্যান্য

হেফাজত আমিরের সঙ্গে মামুনুল হকের সাক্ষাত: জামায়াত নিয়ে বার্তা

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ১৮, ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আদর্শিক বা আকিদাগত কোনো ঐক্য হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আকিদা, বিশ্বাস ও চিন্তাগত মতপার্থক্য আগে যেমন ছিল, এখনো তেমনি রয়েছে। এই রাজনৈতিক সমন্বয় কোনোভাবেই আদর্শিক বা আকিদাগত ঐক্য নয়, বরং বৃহত্তর জাতীয় প্রেক্ষাপটে একটি কৌশলগত রাজনৈতিক ঐক্য।

 

রোববার চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে মামুনুল হক এসব কথা বলেন।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই বিভিন্ন মত ও পথের রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য গঠন করা হয়েছে। তাঁদের জোটে এমন কিছু দলও রয়েছে, যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ভিন্নমত পোষণ করে। তবে বর্তমান জাতীয় পরিস্থিতির প্রয়োজনেই এই রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে উঠেছে।

 

মামুনুল হক আরও বলেন, হেফাজতে ইসলাম কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক আদর্শ অনুসরণ করে পরিচালিত একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তি। দেশ ও ইসলামের স্বার্থে, ইসলামের ওপর যে কোনো দেশীয় বা আন্তর্জাতিক আঘাতের বিরুদ্ধে সংগঠনটি অতীতের মতো ভূমিকা রাখবে।

 

এ সময় হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মাহফুজুল হক, মুফতি জসিমউদ্দীন, যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
হেফাজত আমিরের সঙ্গে মামুনুল হকের সাক্ষাত: জামায়াত নিয়ে বার্তা

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আদর্শিক বা আকিদাগত কোনো ঐক্য হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আকিদা, বিশ্বাস ও চিন্তাগত মতপার্থক্য আগে যেমন ছিল, এখনো তেমনি রয়েছে। এই রাজনৈতিক সমন্বয় কোনোভাবেই আদর্শিক বা আকিদাগত ঐক্য নয়, বরং বৃহত্তর জাতীয় প্রেক্ষাপটে একটি কৌশলগত রাজনৈতিক ঐক্য।   রোববার চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে মামুনুল হক এসব কথা বলেন।   প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই বিভিন্ন মত ও পথের রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য গঠন করা হয়েছে। তাঁদের জোটে এমন কিছু দলও রয়েছে, যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ভিন্নমত পোষণ করে। তবে বর্তমান জাতীয় পরিস্থিতির প্রয়োজনেই এই রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে উঠেছে।   মামুনুল হক আরও বলেন, হেফাজতে ইসলাম কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক আদর্শ অনুসরণ করে পরিচালিত একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তি। দেশ ও ইসলামের স্বার্থে, ইসলামের ওপর যে কোনো দেশীয় বা আন্তর্জাতিক আঘাতের বিরুদ্ধে সংগঠনটি অতীতের মতো ভূমিকা রাখবে।   এ সময় হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মাহফুজুল হক, মুফতি জসিমউদ্দীন, যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ১৭, ২০২৬

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি, ছাত্রদল বলছে হাস্যকর

ছবি: সংগৃহীত

বেসিসের নেতৃত্বে ফিরছে আওয়ামী সিন্ডিকেট

ছবি: সংগৃহীত

জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিন: ইবাদতের বিশেষ মৌসুম

ছবি: সংগৃহীত
এক পরিবারের কব্জায় সিকদার ইন্স্যুরেন্স

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে বীমা আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানিটির ১২ জন পরিচালকের মধ্যে ৯ জনই একই পরিবারের সদস্য; যা বিদ্যমান বীমা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বীমা কোম্পানিটিতে প্রয়াত জয়নুল হক সিকদারের কন্যা নাসিম হক সিকদার চেয়ারপারসন এবং পুত্র মমতাজুল হক সিকদার ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া পরিচালক হিসেবে রয়েছেন পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য। তারা হলেন— নাতনি লিজা ফাতেমা সিকদার, মনিকা সিকদার খান, জেফরি খান সিকদার, জোনাস খান সিকদার, নাতনি মন্ডি খান সিকদার, নাতিন জামাই সালাউদ্দিন খান ও নাতি মোহতাসিম বিল্লাহ খান। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে তারাই প্রাধান্য বিস্তার করে আছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ২০১৬ সালের সার্কুলার অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা তার পরিবারের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে একটি বীমা কোম্পানির ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবেন না। এছাড়া প্রত্যেক উদ্যোক্তা পরিচালকের ন্যূনতম শেয়ারধারণের হার ২ শতাংশ নির্ধারিত। সে হিসাবে ৯ পরিচালক যদি ন্যূনতম ২ শতাংশ করে শেয়ার ধারণ করেন, তাহলে তাদের সম্মিলিত শেয়ার দাঁড়ায় ১৮ শতাংশ; যা নির্ধারিত সীমার স্পষ্ট লঙ্ঘন । এ বিষয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি বলেন, “বিদ্যামান বীমা আইনে কোনো বীমা কোম্পানির পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারেন না। এককভাবে প্রত্যেক পরিচালক সর্বনিম্ন ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারেন। সে হিসাবে আইন অনুযায়ী বীমা কোম্পানিটিতে একসঙ্গে একই পরিবারের এত সদস্য পরিচালনা পর্ষদে কোনোভাবেই থাকতে পারেন না। যদি কোনো বীমা কোম্পানিতে এই ধরনের পরিচালকরা থাকেন তাহলে আইডিআরএ কর্তৃপক্ষ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।’ এদিকে ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিটির গত সাড়ে পাঁচ মাসে শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ১০৭ শতাংশ। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি দাম বেড়েছে ১৯ টাকা ৯০ পয়সা। সর্বশেষ গতকাল বুধবার কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩ টাকা ৪০ পয়সা বা ৯.৬৯ শতাংশ। ৬ এপ্রিল থেকে টানা ঊর্ধ্বমুখী কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে গত ৬ মে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বীমা কোম্পানিটিকে চিঠি দেয়। জবাবে কোম্পানি জানায়, কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ারদর বাড়ছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোম্পানিটির পেশাদার ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে এবং অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতার অভাব দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আইপিওর মাধ্যমে তোলা ১৬ কোটি টাকা ‘অযৌক্তিকভাবে’ ব্যবহার করা হয়েছে। সিকদার পরিবারের আর্থিক অনিয়ম ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতের নির্দেশে পরিবারটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৮৯টি দেশীয় ও ১৪টি বিদেশি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বীমা কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের প্রায় সবাই বিদেশে পলাতক রয়েছেন। আইনগত ঝামেলা এড়াতে তারা মিডিয়ার সামনে আসছেন না। দীর্ঘদিন অংশ নিচ্ছেন না বীমা কোম্পানির বোর্ড মিটিংয়েও; যা বীমা আইনের লঙ্ঘন । কোম্পানির সচিব আব্দুর রাজ্জাক শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি, পূর্বের আইনগত বিষয় সম্পর্কে এখনো অবগত নই। এ সময় পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের এত সদস্য সম্পর্কে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, পর্ষদের সদস্যরা যদি কোনো আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে থাকেন তাহলে পরিচালনা পর্ষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে শেয়ারদরের গত পাঁচ মাস ধরে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে তিনি কিছু জানে না বলেও জানান । ‘ ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি আইপিও সম্পন্ন করার পর কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করে। ডিএসইতে এর ট্রেডিং কোড ‘এসআইসিএল’ এবং কোম্পানিটি বর্তমানে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে লেনদেন করছে। সবশেষ ডিএসইর তথ্য মতে, বর্তমানে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ৫০ দশমিক ৪০ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী রয়েছেন ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ৪৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকদার ইন্স্যুরেন্সের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি। আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি- সেপ্টেম্বর) সিকদার ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ৭৭ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৩৫ পয়সায়। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ আলোচ্য হিসাব বছরে সিকদার ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ২৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮২ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ২৮ পয়সায় । ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ 1 আলোচ্য হিসাব বছরে সিকদার ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ২২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এসএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ৪৯ পয়সায়।

মারিয়া রহমান মে ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সরকার, ভারত ও প্রতিপক্ষকে কঠোর বার্তা জামায়াত আমিরের

ছবি: সংগৃহীত

সরকারের পারফরম্যান্সেই নির্ভর করবে মধ্যবর্তী নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম

এনসিপি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ভারতের সঙ্গে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি চলবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি : সংগৃহীত
তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, জানালেন আসিফ নজরুল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবশ্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।   নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, তারেক রহমান ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন এবং প্রায় দুই মাস ক্লাসও করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি সেখানকার ছাত্র ছিলেন কি না। বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের শিক্ষক আসিফ নজরুল। পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তিনি অবশ্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তিনি ১৯৮৫-৮৬ ব্যাচে আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন, মাস দুয়েক ক্লাসও করেছেন। আইন বিভাগের উপরের ব্যাচের একজন ছাত্র হিসেবে তখনই বিষয়টি জানতাম আমি।’ আসিফ নজরুল আরও লেখেন, ‘তারেক রহমানের সহপাঠীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অতি পরিচিত মানুষ রয়েছেন। সাবেক স্পিকার শিরিন শারমীন চৌধুরী, সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বর্তমান বিচারপতি ফারাহ মাহবুব তারেক রহমানের সহপাঠী ছিলেন।’ আসিফ নজরুল আরও লেখেন, ‘তখন দেশে এরশাদের প্রবল শাসন চলছিল। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে এরশাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। সম্ভবত নিরাপত্তাজনিত কারণে তারেক রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।’

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

একসঙ্গে পদত্যাগ করলেন এনসিপির ২২ নেতাকর্মী

রংপুরে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির সময় অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াতকে কিছুই জানায়নি: জামায়াতের আমির

ছবি: সংগৃহীত

লালমনিরহাটে এক লাখ ৬০ হাজার ডলারসহ যুবক আটক

0 Comments