নদীর পানি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মরে ভেসে উঠছে দেশীয় প্রজাতির ছোট-বড় অসংখ্য মাছ। দলবেঁধে সেসব মাছ সংগ্রহ করছেন নদী তীরের মানুষ। দূষিত এই পানি গায়ে লাগায় হচ্ছে চুলকানিও। হঠাৎ করেই নদীর মাছে মরক দেখা দিয়েছে নাটোরের বারনই নদীতে।
নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পর্যন্ত বারনই নদীর প্রবাহ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মরে ভেসে ওঠা মাছ ধরতে শুরু করেন নদী পাড়ের মানুষ। কিন্তু দুর্গন্ধযুক্ত পানি গায়ে লাগার পর চুলকানি শুরু হওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কী কারণে নদীতে মাছের মোড়ক দেখা দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখাতে এখন পর্যন্ত কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি স্থানীয় মৎস্য বিভাগের।
নদী তীরের মানুষের দাবি
বারনই নদীর প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পানি কালচে রঙ ধারণ করেছে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই। পানির ভেতর কোনও কোনও স্থানে গ্যাসের বুদবুদ দেখা গেছে। পানি দিয়ে ছড়াতে থাকে দুর্গন্ধ। সকালে নদীর পানিতে আদমরা এবং মরা অবস্থায় মাছ ভেসে উঠতে শুরু করে। মাছ ভেসে ওঠা দেখে নদীর দুই তীরে বহু মানুষ দেখার জন্য ভিড় করেন। আবার অনেকে নদীতে নেমে মরা মাছ তুলে বাড়িতে নিয়ে যান।
বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বারনই নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন নাটোরের নলডাঙ্গার বাশিলা গ্রামের জেলে ভবেশ চন্দ্র। তিনি বলেন, ‘কয়দিন ধরি নদীত নামি মাছ ধরতে পারছিনি। পানিত খুব গন্ধ। পানি গায়ে লাগলে চুলকাচ্ছে। মাছও মরছে। তাই আজ (শনিবার) মাছ ধরতে যাইনি। এভাবে চললে তো সংসার চালানোই মুশকিল হয়া পড়বি।’
নলডাঙ্গা ব্রিজ ঘাটের নৌকার মাঝি হবিবর রহমান জানান, সারাদিন তিনি বারনই নদীর পানিতেই নৌকা নিয়ে থাকেন। কিন্তু দুই দিন হলো নদীর পানি দুর্গন্ধ হয়েছে। সব মাছ মরে ভেসে উঠছে। ভয়ে নদীর পানি মুখেও নিতে পারছেন না তিনি।
বর্জ্য ও রাসায়নিকমিশ্রিত পানিতে নদীদূষণ
নাটোর থেকে রাজশহী পর্যন্ত বিস্তৃত বারনই নদীটি এর আগেও দূষণের শিকার হয়েছে। নষ্ট হয়েছে পানির স্বভাবিক গুণ। মূলত রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন বর্জ্য ও রাসায়নিকমিশ্রিত দূষিত পানি খাল-নালা হয়ে বারনই নদে গিয়ে পড়ে। এ কারণে পানি পচে অক্সিজেনের মাত্রা কমে ২০২২ সালেও এই নদীতে মাছের মড়কের ঘটনা ঘটেছিল। এবার মাছের মড়ক নিয়ে সুনিদিষ্টভাবে কিছু জানা না গেলেও স্থানীয় লোকজন বিষাক্ত বর্জ্যে পানি দূষণকেই দায়ি করছেন।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, নদীর প্রাণ প্রকৃতি, মাছ-উদ্ভিদ তরুলতা এবং নদীর সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততার কথা চিন্তা না করে হরহামেশাই ইচ্ছামতো বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা হয়। ফেলা হয় চিনিকলের বর্জ্যও। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে নদীর পানি দূষণ করে পরিবেশ নষ্ট করা হলেও প্রশাসনিকভাবে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে নদী দূষণও বন্ধ হয় না।
জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করে জাতীয় পুরস্কার লাভ করা নলডাঙ্গার তরুণ ফজলে বলেন, বারনই নদীতে আগেও পানি পচে দুর্গন্ধ হয়েছিল। মাছেও মড়ক দেখা দিয়েছিল। কিন্তু কেন মাছ মরেছিল তার কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আজও পাওয়া যায়নি। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টদের কোনও আগ্রহ নেই।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
নলডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাঈদের ভাষ্য, পাট পচানোর বর্জ্য নদীর পানিতে দূষণ সৃষ্টি করতে পারে। এতে করে নদীর পানিতে অতিমাত্রায় গ্যাস হতে পারে। এ ছাড়া রাজশাহী নগরী ও শিল্পকারখানার রাসায়নিকবর্জ্য মিশে বারনই নদীর পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে মাছে মড়ক দেখা দিতে পারে। নদীর মাছ মরে ভেসে ওঠার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে এখনও কোনও নির্দেশনা পাননি তিনি।
নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর আলী বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে তাহেরপুর এলাকার পোলট্রিখামারের বর্জ্য ও রাজশাহী সিটির বর্জ্য এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের রাসায়নিক বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে পানি ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করবো। আমাদের পরীক্ষা–নিরীক্ষার মেডিসিন নেই, যন্ত্রপাতিও নষ্ট। কয়েক দিন মানুষকে নদীর পানি ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ায় জামায়াতের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, ‘একদিন আপনারাই (জামায়াত) বলবেন, দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষলাম!’ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জামায়াতের লংমার্চে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। যেহেতু তারা সহযোগিতা চেয়েছিল, পুলিশ প্রটেকশন দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত জামায়াতের গাড়ি বহর নিয়ে যায়। সহযোগিতা না চাইলেও পুলিশ একই ধরনের নিরাপত্তা প্রদান করতো।’ তিনি বলেন, ‘তবে পরিকল্পিতভাবে একটা ঝামেলা করার প্ল্যান ছিল জামায়াতের। রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করেছিল। জানি না, এই লাঠিগুলো পরে বহরের গাড়িতে তোলা হয়েছিল কি না। তবে জামায়াতের বহরে শীর্ষ নেতারা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছে, হৈ হৈ রৈ রৈ ছাত্রদল, যুবদল গেলি কই!’ রাশেদ খাঁন বলেন, ‘অনেকে বলছে, সবকিছু দেখে মনে হলো, এটি জামায়াতের ব্যবস্থাপনায়, অর্থায়ন ও জনবলে এনসিপির লংমার্চ। জামায়াত যেহেতু সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না, সে ক্ষেত্রে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে, মাঝখানে থেকে খেলতে চায়! তবে জামায়াত শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ও একটিভিস্টরা এনসিপিকে জামায়াতের মুখপাত্র বানানোকে মানতে পারছে না। তাদের মন্তব্য এমন যে, এনসিপি আজ হোক আর আগামীকাল হোক, জামায়াত জোট ছাড়বে। সুতরাং তাদের কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে! এ নিয়ে সচেতন নেতাকর্মীদের খুব আক্ষেপ পরিলক্ষিত হলো!’ তিনি বলেন, ‘শোনেন, জামায়াত জোটে কারা আছে? এনসিপিকে বিএনপি ৪টার বেশি আসন ছাড়েনি, এ জন্য জামায়াতে গেছে। আর মাওলানা মামুনুল হক সাহেবের দলও পর্যাপ্ত আসন পেলে বিএনপিতেই থাকতো। এছাড়া বাকিরা একটা করে আসন না পেয়ে জামায়াতে গেছে। ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে, এরা সবাই আবার বক্তব্য পরিবর্তন করে ব্যাক করবে!’ রাশেদ খাঁন বলেন, ‘সবমিলিয়ে জামায়াত যাদের ওপর ভরসা রেখে এত অর্থকড়ি খরচ করছে, তারাই একদিন জামায়াতকে এমন দেওয়া দেবে যে, জামায়াত আর ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে না! জামায়াত স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানচিত্রবিরোধী শক্তি, ভারতের এক্সটেনশন, সংস্কারের নামে ভণ্ডামি করছে, জামায়াত ইসলামিক দল নয় থেকে শুরু করে কি বলে নাই এনসিপি?’ তিনি বলেন, ‘তাই বলি, ভবিষ্যতের ডায়েরি এখন থেকে কিনে রাখুন, কী কী বলবে সেটি নোট করার জন্য! জামায়াতের নেতাকর্মীরা মনে রাখুন, এনসিপি ৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছে। বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলেও জনশ্রুতি আছে। আর কিছু বললাম না.... শুধু এতটুকু বলবো, একদিন আপনারাই বলবেন, দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষলাম!’
নদীর পানি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মরে ভেসে উঠছে দেশীয় প্রজাতির ছোট-বড় অসংখ্য মাছ। দলবেঁধে সেসব মাছ সংগ্রহ করছেন নদী তীরের মানুষ। দূষিত এই পানি গায়ে লাগায় হচ্ছে চুলকানিও। হঠাৎ করেই নদীর মাছে মরক দেখা দিয়েছে নাটোরের বারনই নদীতে। নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পর্যন্ত বারনই নদীর প্রবাহ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মরে ভেসে ওঠা মাছ ধরতে শুরু করেন নদী পাড়ের মানুষ। কিন্তু দুর্গন্ধযুক্ত পানি গায়ে লাগার পর চুলকানি শুরু হওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কী কারণে নদীতে মাছের মোড়ক দেখা দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখাতে এখন পর্যন্ত কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি স্থানীয় মৎস্য বিভাগের। নদী তীরের মানুষের দাবি বারনই নদীর প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পানি কালচে রঙ ধারণ করেছে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই। পানির ভেতর কোনও কোনও স্থানে গ্যাসের বুদবুদ দেখা গেছে। পানি দিয়ে ছড়াতে থাকে দুর্গন্ধ। সকালে নদীর পানিতে আদমরা এবং মরা অবস্থায় মাছ ভেসে উঠতে শুরু করে। মাছ ভেসে ওঠা দেখে নদীর দুই তীরে বহু মানুষ দেখার জন্য ভিড় করেন। আবার অনেকে নদীতে নেমে মরা মাছ তুলে বাড়িতে নিয়ে যান। বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বারনই নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন নাটোরের নলডাঙ্গার বাশিলা গ্রামের জেলে ভবেশ চন্দ্র। তিনি বলেন, ‘কয়দিন ধরি নদীত নামি মাছ ধরতে পারছিনি। পানিত খুব গন্ধ। পানি গায়ে লাগলে চুলকাচ্ছে। মাছও মরছে। তাই আজ (শনিবার) মাছ ধরতে যাইনি। এভাবে চললে তো সংসার চালানোই মুশকিল হয়া পড়বি।’ নলডাঙ্গা ব্রিজ ঘাটের নৌকার মাঝি হবিবর রহমান জানান, সারাদিন তিনি বারনই নদীর পানিতেই নৌকা নিয়ে থাকেন। কিন্তু দুই দিন হলো নদীর পানি দুর্গন্ধ হয়েছে। সব মাছ মরে ভেসে উঠছে। ভয়ে নদীর পানি মুখেও নিতে পারছেন না তিনি। বর্জ্য ও রাসায়নিকমিশ্রিত পানিতে নদীদূষণ নাটোর থেকে রাজশহী পর্যন্ত বিস্তৃত বারনই নদীটি এর আগেও দূষণের শিকার হয়েছে। নষ্ট হয়েছে পানির স্বভাবিক গুণ। মূলত রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন বর্জ্য ও রাসায়নিকমিশ্রিত দূষিত পানি খাল-নালা হয়ে বারনই নদে গিয়ে পড়ে। এ কারণে পানি পচে অক্সিজেনের মাত্রা কমে ২০২২ সালেও এই নদীতে মাছের মড়কের ঘটনা ঘটেছিল। এবার মাছের মড়ক নিয়ে সুনিদিষ্টভাবে কিছু জানা না গেলেও স্থানীয় লোকজন বিষাক্ত বর্জ্যে পানি দূষণকেই দায়ি করছেন। পরিবেশবাদীরা বলছেন, নদীর প্রাণ প্রকৃতি, মাছ-উদ্ভিদ তরুলতা এবং নদীর সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততার কথা চিন্তা না করে হরহামেশাই ইচ্ছামতো বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা হয়। ফেলা হয় চিনিকলের বর্জ্যও। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে নদীর পানি দূষণ করে পরিবেশ নষ্ট করা হলেও প্রশাসনিকভাবে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে নদী দূষণও বন্ধ হয় না। জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করে জাতীয় পুরস্কার লাভ করা নলডাঙ্গার তরুণ ফজলে বলেন, বারনই নদীতে আগেও পানি পচে দুর্গন্ধ হয়েছিল। মাছেও মড়ক দেখা দিয়েছিল। কিন্তু কেন মাছ মরেছিল তার কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আজও পাওয়া যায়নি। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টদের কোনও আগ্রহ নেই। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নলডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাঈদের ভাষ্য, পাট পচানোর বর্জ্য নদীর পানিতে দূষণ সৃষ্টি করতে পারে। এতে করে নদীর পানিতে অতিমাত্রায় গ্যাস হতে পারে। এ ছাড়া রাজশাহী নগরী ও শিল্পকারখানার রাসায়নিকবর্জ্য মিশে বারনই নদীর পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে মাছে মড়ক দেখা দিতে পারে। নদীর মাছ মরে ভেসে ওঠার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে এখনও কোনও নির্দেশনা পাননি তিনি। নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর আলী বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে তাহেরপুর এলাকার পোলট্রিখামারের বর্জ্য ও রাজশাহী সিটির বর্জ্য এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের রাসায়নিক বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে পানি ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করবো। আমাদের পরীক্ষা–নিরীক্ষার মেডিসিন নেই, যন্ত্রপাতিও নষ্ট। কয়েক দিন মানুষকে নদীর পানি ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ নিজ শহর ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় এটাই তার প্রথম সফর। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সফরের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। পরদিন সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এছাড়া সংক্ষিপ্ত এই সফরে রাষ্ট্রপতি বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও এলাকার ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে ঠাকুরগাঁও জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। তার সফরের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ঠাকুরগাঁও শহর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু বাসসকে বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও আসছেন এই খবর শোনার পর তৃণমূল থেকে শুরু করে সব স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। রাষ্ট্রপতিকে দেখার জন্য সবাই অপেক্ষা করে আছে। সৌন্দর্যবর্ধন ও স্বাগত জানানোর অংশ হিসাবে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, মোড় ও সরকারি দপ্তরগুলো চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রং করার কাজ।