বিশ্ব

হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিল ইরান

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ০১, ২০২৬

পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে তেল পরিবহনের অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেভাল মিশন এসপাইডেসের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড জানিয়ে দিয়েছে ‘হরমুজ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।’

তেল রপ্তানির জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি। এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারীদের জন্য তেল রপ্তানির পথ। এখান দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তেল পাঠায় সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত। সরু এ সামুদ্রিক পথটি ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরকে যুক্ত করেছে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এখনো বেঁচে আছেন। যতদূর জানি, তিনি নিহত হননি।’

ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর খবর প্রকাশের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এনবিসি নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন।

চ্যানেল-১২ দাবি করে, শনিবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এ ধরনের তথ্য পাচ্ছেন।

লাইভ বক্তব্যে আরাঘচি বলেন, ‘হামলায় দুই কমান্ডার মারা গেছেন। তবে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বেঁচে গেছেন। সব উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বেঁচে আছেন। সবাই এখনো তাদের অবস্থানে আছেন। আমরা এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি এবং সবকিছু ঠিক আছে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবনে বিমান বিধ্বস্ত, বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ উঁচু ভবন ‘সিটিক টাওয়ারে’ একটি বিমান আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় ভবনটিতে থাকা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত ভবনটি থেকে সবাইকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   এতে হয়েছে, দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি বিমানে কতজন আরোহী ছিলেন, সেটি কোথা থেকে আসছিল এবং ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তাও এখনো জানা যায়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানটি ৫২৮ মিটার উঁচু ভবনটির ওপরের দিকের একটি তলায় আঘাত হানে। এরপর ধ্বংসাবশেষের বড় বড় টুকরো নিচের রাস্তা ও সবুজ চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া বিভিন্ন ফুটেজে ভবনটি থেকে লোকজনকে দ্রুত সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।   স্থানীয় এক নারী বলেন, ‘সন্ধ্যা ৬টার দিকে আমাকে জরুরি ভিত্তিতে ভবন থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার পরিচয়পত্র বা ব্যাগ নেওয়ার সময়ও পাইনি। দৌড়ে বেরিয়ে এসেছি।’   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থলের চারপাশের রাস্তাগুলো ঘিরে রেখেছে। এলাকাটি থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উঁচু ভবনটির চারপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সও অবস্থান করতে দেখা গেছে।   অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, বিমানটির নিবন্ধন নম্বর ছিল বি-১২পিপি। ফ্লাইট-সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, এটি চীনের স্টারএয়ার এয়ারক্রাফট কোম্পানির তৈরি ‘সানওয়ার্ড এসএ৬০এল অরোরা’ মডেলের একটি দুই আসনের বিমান।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় ব্যক্তিগত পাইলট প্রশিক্ষণ ও আকাশপথে পর্যটনসেবা প্রদানকারী একটি কোম্পানি বিমানটি পরিচালনা করছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।   উল্লেখ্য, বেইজিংয়ে যেকোনো ধরনের হালকা বিমান ওড়ানোর জন্য চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের অনুমতি নিতে হয়। গত মাসে বেইজিং সব ধরনের সাধারণ বিনোদনমূলক উড্ডয়ন ও ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করে নতুন নিয়ম জারি করেছে। ফলে এখন বেইজিংয়ে যেকোনো উড্ডয়নের আগে সরকার ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের বাধ্যতামূলক অনুমতি নিতে হয়।   সিটিক টাওয়ার চীনের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ‘চায়না ইন্টারন্যাশনাল ট্রাস্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশনের’ সদর দপ্তর। ২০১৮ সালে ভবনটি নির্মিত হয়। বর্তমানে এটি বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ স্থাপনা।   সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট 

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ লাখ ‘ড্রোন যোদ্ধা’ গড়ে তুলবে দক্ষিণ কোরিয়া

ছবি: সংগৃহীত

ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ৫৮৯ মৃত্যু, ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান

ছবি: সংগৃহীত
চার দশক পর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ইরান

চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার ফলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকলে তেল রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং নতুন বিনিয়োগের সুবাদে আগামী এক দশকের মধ্যেই ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।   ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ৬০ দিনের জন্য ইরানের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দেয়। এর ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলো সরাসরি ইরানি তেল কিনতে পারবে, ডলারে মূল্য পরিশোধ করতে পারবে এবং আগে কালো তালিকাভুক্ত ট্যাংকার থেকেও তেল সংগ্রহের সুযোগ পাবে। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের পর এই প্রথম এত বড় পরিসরে ইরানি তেলের ওপর বিধিনিষেধ কার্যত শিথিল হলো।   ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তেল নিষেধাজ্ঞা শুরু হয় ১৯৮০ সালে। পরে ২০১০-এর দশকে আরও কঠোর 'সেকেন্ডারি স্যাংশন' আরোপ করা হয়, যাতে অন্য দেশগুলোকেও ইরানি তেল কেনা থেকে বিরত রাখা হয়। ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তির পর কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হলেও ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর সেগুলো আবার কার্যকর হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সিদ্ধান্ত আগের সব ছাড়ের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত। এর মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানির বড় বাধাগুলো সাময়িকভাবে দূর হয়েছে এবং দেশটির জ্বালানি খাত নতুন করে গতি পেতে শুরু করেছে।   জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রায় স্থবির অবস্থায় থাকা ইরানের তেল রপ্তানি বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। তবে যুদ্ধের আগে যে দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল রপ্তানি হতো, সেই পর্যায়ে ফিরতে এখনও সময় লাগবে।   বিশ্ববাজারেও এই ঘোষণার বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থাকায় বিশ্লেষকদের ধারণা, বাজার আগেই ইরানি তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা ধরে নিয়েছিল।   তবে রপ্তানি আরও বাড়াতে হলে ইরানকে নতুন ক্রেতা খুঁজতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির অধিকাংশ তেল কিনেছে চীনের ছোট স্বাধীন শোধনাগারগুলো। কিন্তু এখন ইরানি তেলের দাম ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলের কাছাকাছি চলে আসায় আগের মতো সস্তায় কেনার সুযোগ নেই।   এ ছাড়া সম্ভাব্য নতুন ক্রেতাদের মধ্যে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের এই ছাড় আপাতত ৬০ দিনের জন্য কার্যকর। পাশাপাশি ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় অনেক আন্তর্জাতিক ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়ী এখনও ইরানের সঙ্গে বড় আকারে বাণিজ্যে আগ্রহী নয়।   তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই লাইসেন্স যদি দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকে, তাহলে ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো পুরোনো ক্রেতারাও আবার ইরানি তেল আমদানি শুরু করতে পারে।   অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশিত সুফল এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ প্রাথমিক সমঝোতার কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দেয়। একই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের চলাচল আরও সক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং সমন্বয়ের জন্য একটি বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করবে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে শুধু তেল রপ্তানিই নয়, ইরানের তেল মজুত কমছে, উৎপাদন বাড়ছে এবং পরিবহন ও আর্থিক লেনদেনের ব্যয়ও কমে যাচ্ছে। ফলে প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রিতে দেশটি আগের তুলনায় বেশি মুনাফা করছে।   তাদের মতে, এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকলে, এর সঙ্গে অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত হওয়া, সম্ভাব্য ট্রানজিট ফি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুত আর্থিক সহায়তা যুক্ত হলে আগামী এক দশকে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।   সূত্র: দ্য ইকোনোমিস্ট

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনের মিন্ডানাও দ্বীপে ৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

শুক্রবার জাপানে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন রাফায়েল গ্রোসি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনে আশাবাদী আইএইএ

ছবি : সংগৃহীত

সমাবেশে অনড় মমতা, ‘৫ জন থাকলেও যাব’

ছবি - সংগৃহীত
ব্রিটেনের শীর্ষ করদাতাদের তালিকায় রাজা চার্লস

দীর্ঘ দশ বছরব্যাপী সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পরও ঐতিহ্যবাহী বাকিংহাম প্যালেসে আর সপরিবারে থাকছেন না ব্রিটিশ রাজা চার্লস। রাজপরিবারের কর্মকর্তারা গতকাল (২৫ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় দুই শতাব্দী পর ব্রিটিশ রাজাদের প্রধান কার্যালয় ও প্রধান বাসভবন হিসেবে বাকিংহাম প্যালেস ব্যবহারের ঐতিহাসিক অধ্যায়ের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।   একই সঙ্গে গতকাল কর্মকর্তারা প্রথমবারের মতো রাজার কর দেওয়ার হিসাব প্রকাশ্যে এনেছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজা চার্লস কর বাবদ ১ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ড (প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার) পরিশোধ করেছেন, যা তাকে ব্রিটেনের শীর্ষ ১০০ করদাতার তালিকায় স্থান দিয়েছে। ২০২২ সালে রানি এলিজাবেথের মৃত্যুর পর রাজপরিবারের আর্থিক হিসাব-নিকাশ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সমালোচনা বাড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক বিষয়ে আরও বেশি স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল রাজপরিবার।   আগামী বছর বাকিংহাম প্যালেসের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কাজ শেষ হবে। তবে রাজা চার্লস তার পুরোনো বাসস্থান লন্ডনের 'ক্ল্যারেন্স হাউস'-এই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাকিংহাম প্যালেসের এই সংস্কার প্রকল্পের আওতায় মূলত জরাজীর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ, পাইপলাইন এবং হিটিং সিস্টেম পরিবর্তন করা হচ্ছে।   ২০১৭ সালে যখন এই সংস্কার কাজ শুরু হয়, তখন আশা করা হয়েছিল এটিই হবে ব্রিটিশ রাজাদের প্রধান বাসভবন; যেমনটি ১৮৩৭ সালে রানি ভিক্টোরিয়ার সিংহাসন আরোহণের পর থেকে হয়ে আসছিল। রাজার কোষাধ্যক্ষ জেমস চ্যালমার্স জানিয়েছেন, বাকিংহাম প্যালেস সপরিবারে থাকার জন্য ব্যবহৃত না হলেও বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানানোসহ সব ধরনের রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র হিসেবেই বহাল থাকবে।   তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'এটি রাজতন্ত্রের প্রধান কার্যালয় এবং আমাদের জাতীয় ভবনগুলোর মুকুট হিসেবেই থাকবে। মহামান্য যখনই লন্ডনে থাকবেন, ভবনের ছাদে রাজকীয় পতাকা সগর্বে উড়তে থাকবে।' জানা গেছে, ২০১৯ সালের পর থেকে রাজা চার্লস বা প্রয়াত রানি এলিজাবেথ কেউই বাকিংহাম প্যালেসে রাত কাটাননি। তবে প্যালেসে রাজার ব্যক্তিগত কক্ষগুলো আগের মতোই সংরক্ষিত থাকবে। প্রতি বছর প্রায় ৭ লাখ দর্শনার্থী এই ঐতিহাসিক ভবনটি পরিদর্শন করেন। এখন থেকে সাধারণ মানুষের জন্য এই প্রাসাদে প্রবেশের সুযোগ আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন জেমস চ্যালমার্স।   আইন অনুযায়ী ব্রিটিশ রাজাকে আয়কর, ক্যাপিটাল গেইনস বা উত্তরাধিকার কর দিতে হয় না। তবে ১৯৯৩ সাল থেকে রানি এলিজাবেথ যেভাবে স্বেচ্ছায় কর দেওয়া শুরু করেছিলেন, রাজা চার্লসও সেই ধারা বজায় রেখেছেন। কিন্তু এর আগে কখনো কর পরিশোধের সুনির্দিষ্ট অংক প্রকাশ করা হয়নি।   ১৩৯৯ সাল থেকে চলে আসা নিয়ম অনুযায়ী, ব্রিটিশ রাজারা 'ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার' নামক বিশাল এক ভূসম্পত্তি থেকে ব্যক্তিগত আয় পেয়ে থাকেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই সম্পত্তি থেকে রাজার আয় ছিল ২ কোটি ৫২ লাখ পাউন্ড। এর বাইরেও তার অন্যান্য সম্পদ ও বিনিয়োগ থেকে আয় রয়েছে।   কোষাধ্যক্ষ চ্যালমার্স জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজা চার্লস ১ কোটি ১৭ লাখ পাউন্ড কর দিয়েছেন। ২০২২ সালে সিংহাসনে বসার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনি ৩ কোটি পাউন্ডের বেশি কর পরিশোধ করেছেন। ব্যক্তিগত আয়ের পাশাপাশি রাজপ্রাসাদের রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং যাতায়াত খরচের জন্য সরকারের কাছ থেকে বার্ষিক অনুদান (সভেরেন গ্রান্ট) পেয়ে থাকেন রাজা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই অনুদানের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৩ কোটি ৭৯ লাখ পাউন্ড। তবে চ্যালমার্স জানান, রাজার স্পষ্ট ইচ্ছার কারণেই ২০২৭-২৮ অর্থবছরে এই অনুদান কমিয়ে ১০ কোটি পাউন্ড করা হবে এবং ২০৩১-৩২ অর্থবছর পর্যন্ত তা অপরিবর্তিত থাকবে।   ২০১৬ সালে বাকিংহাম প্যালেসের সংস্কার কাজের তহবিল জোগাতে অনুদান বরাদ্দের নীতিমালায় যে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তার চেয়ে বর্তমান বরাদ্দ প্রায় ৬ কোটি পাউন্ড বেশি। এই বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়ে চ্যালমার্স বলেন, 'এটি কোনো ব্ল্যাঙ্ক চেক (উন্মুক্ত বরাদ্দ) নয়।' বরাদ্দের পরিমাণ যেন সুসংগত থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা রয়েছে।   এদিকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭৭ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড কর দিয়েছেন বলে তার কার্যালয় জানিয়েছে। পাশাপাশি একটি বন্ধ কারাগার থেকে পাওয়া ১৫ লাখ পাউন্ড ভাড়া তিনি স্থানীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণে দান করার নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, সেনাবাহিনী, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা এবং স্কুলগুলোর কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে রাজপরিবারের মুনাফা করার যে সমালোচনা উঠেছিল, চার্লস ও উইলিয়াম তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। সূত্র: রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৬, ২০২৬
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ বাড়ায় কমল তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত

প্রকাশ্যে মদ্যপানে নিষেধাজ্ঞা জারি করল ফ্রান্স

অযোধ্যার রাম মন্দির। ছবি : সংগৃহীত

রাম মন্দিরে দানের ৭ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগ

0 Comments