অন্যান্য

হাদি হত্যার বিচার চেয়ে ঢাবি শিক্ষক মোনামীর কড়া বার্তা

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ 0
শেহরীন আমিন মোনামী। ছবি : সংগৃহীত
শেহরীন আমিন মোনামী। ছবি : সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার রাজপথ দখল না করা পর্যন্ত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আলোচিত শিক্ষক শেহরীন আমিন মোনামী।

 

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শেহরীন আমিন মোনামী বলেন,
আমরা এখানে একটাই দাবি নিয়ে এসেছি—শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার। আমি মনে করি, এখানে আরও মানুষের আসা প্রয়োজন। বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ দরকার। যেন শুধু আমরা কয়েকজন বারবার না আসি। জুলাই মাসে যেমন শাহবাগে বিশাল জনসমুদ্র দেখেছি, তেমনই গণজমায়েত আবার প্রয়োজন।

ঢাবির লোকপ্রশাসন বিভাগের এই শিক্ষক আরও বলেন,
“যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা রাস্তায় নামব না, যতক্ষণ পর্যন্ত রাজপথ দখল করব না, ততক্ষণ পর্যন্ত আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার হবে না। অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছি। রাষ্ট্রের উচিত নয় আমাদের এভাবে পরীক্ষা নেওয়া।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় দুঃখ প্রকাশকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন,
যারা বাসায় বসে দুঃখ প্রকাশ করছেন, অনুরোধ করছি—ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে আসুন। আমাদের সঙ্গে রাজপথে নেমে বিচারের দাবি তুলুন।

হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেয় ইনকিলাব মঞ্চ। একপর্যায়ে তা অবরোধ কর্মসূচিতে রূপ নেয়। বিকেলে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।

এর আগে বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল জাবের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার নামে চার্জশিট দাখিল না হলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করা হবে।

তিনি বলেন,
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য আমরা বিশ্বাস করি না। হাদিকে হত্যা করা হয়েছে, কারণ তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভারতীয় সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিলেন। ঘটনার ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও সরকার এখনো প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা সরকারের সদিচ্ছার অভাবের প্রমাণ।

 

তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে চার্জশিট দিতে হবে। অন্যথায় ৭ জানুয়ারির পর সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
মাদরাসা শিক্ষকদের বদলি ইস্যুতে যা জানা গেল

এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (মাদরাসা) কর্মরত শিক্ষকদের বদলির নীতিমালা করা হলেও তা বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে মাদরাসায় শূন্য পদের তথ্য প্রেরণের সফটওয়্যারও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।   সোমবার (২০ এপ্রিল) অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।   নোটিশে বলা হয়েছে, শূন্য পদে তথ্যাদি প্রেরণের লিংক ও সফটওয়্যার উন্নয়ন কাজের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। উন্নয়ন কাজ শেষ হলে নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে নোটিশের মাধ্যমে জানানো হবে।   এর আগে বেসরকারি মাদরাসায় এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য শূন্য পদের তথ্য পাঠানোর বিষয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছিল।   জানা গেছে, দেশে মোট এমপিওভুক্ত মাদরাসা ৮ হাজার ২২৯টি। এর মধ্যে দাখিল-আলিম-ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের মাদরাসা রয়েছে যথাক্রমে ৫ হাজার ৭৬৭টি, ১ হাজার ২৮৫টি, ফাজিল ৯৯৩টি এবং কামিল ১৮৪টি। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডের অধীনে। ছবি : সংগৃহীত

আজ এসএসসি পরীক্ষা শুরু, অংশ নিচ্ছে সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী

জাহেদুল ইসলাম সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ছবি : সংগৃহীত

হঠাৎ মধ্যরাতে সরে দাঁড়ালেন এনসিপি যুবশক্তির সদস্যসচিব, কারণ কী?

ফাইল ছবি

এমপিওভুক্ত মাদরাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যা জানা গেল

বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
অচিরেই সুখবর আসবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল এখন তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সোমবার বিকালে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৬ বছর দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা এবং ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সঙ্গে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। গণআন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল। তিনি বলেন, স্বৈরাচার সরকার মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি করেছে। লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে যখন নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে ঠিক সেই মুহূর্তে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে এবং বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। ৮৬ সালের নির্বাচনে তারা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। ৯৬ সালেও তারা স্বৈরাচারের সঙ্গে নিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। ২০০৮ সালে ওয়ান ইলেভেনের সঙ্গে যোগ দিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ২০২৪ এর ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের ভূত বিরোধী দলের ঘাড়ে চেপেছে। তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দেশের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। আমরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দেশটাকে নতুন করে সাজানোর কাজ শুরু করেছি। নির্বাচনের আগে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ধর্মগুরুদের সম্মানী দিয়েছি। সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কাজ শুরু হয়েছে। স্বল্প খরচে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অচিরেই সুখবর আসবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া জাতির সামনে সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। পরবর্তীতে আমরা জাতির সামনে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছি। অন্তর্বর্তী সরকার সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে যে জুলাই সনদ তৈরি করেছে বিএনপি সেটাতে সবার আগে স্বাক্ষর করেছে। আমরা যেই সনদে স্বাক্ষর করেছি সেই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করব। তিনি বলেন, আমরা বারবার এ কথাটি পরিষ্কারভাবে বলার পরও কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে এবং সংসদের বাইরে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। যারা জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তারা নারীর উন্নয়ন, নারীর স্বাধীনতা নিয়ে কোনো কথা বলে না। মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কথা বলে না। কিভাবে প্রশাসনকে ঠিক করতে হবে সেই কথা বলে না। তারা শুধু জুলাই সনদ নিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বগুড়াবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি বগুড়া-সিরাজগঞ্জ সরাসরি রেললাইন নির্মাণ কাজ শিগগিরই করা হবে। পাশাপাশি বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং সেখানে কৃষিসহ বিভিন্ন বিভাগ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখেন- জেলা যুবদল সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সরকার মুকুল, জেলা ছাত্রদল সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান প্রমুখ। জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া শহরের স্টেশন রোডে বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। এরপর তিনি সেখানে বগুড়া প্রেস ক্লাবের নবনির্মিত ভবন এবং নিজের গড়া বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। বাগবাড়ীতে খাল খনন পিতৃভূমি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা পৌনে ৪টার দিকে নশিপুরে সরকার প্রধান কোদাল দিয়ে মাটি কেটে চৌকিদহ খালের খনন কার্যক্রমের সূচনা করেন। এ সময় বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোরশেদ মিলটন, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু উপস্থিত ছিলেন। পৈতৃক ভিটা ‘জিয়াবাড়ি’ ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়িতে পৈতৃক ভিটা ‘জিয়াবাড়ি’ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটের দিকে তিনি তার পিতা শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এ বাড়িতে প্রবেশ করেন। তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি ‘জিয়াবাড়ি’তে এসেছিলেন। বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীকে টাকার মালা দিয়ে বরণ করল শিশু বগুড়ার শাজাহানপুরে জালশুকা এলাকায় সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা যায়। গাবতলীর বাগবাড়িতে পৈতৃক ভিটায় যাওয়ার পথে এক শিশু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে টাকার মালা পরিয়ে বরণ করে নেয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিশুটির কাছ থেকে টাকার মালা গ্রহণ করেন এবং পরে সেটি আবার তার গলায় পরিয়ে দেন। পাশাপাশি আরেকটি শিশুর মাথায় স্নেহভরে হাত বুলিয়ে দেন তিনি।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি

সংরক্ষিত আসনে জামায়াত জোট প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ

বিএনপির মনোনয়ন পেলেন নাদিয়া পাঠান পাপন। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির মনোনয়ন পেলেন নাদিয়া পাঠান পাপন

ছবি : সংগৃহীত

শিশু হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস

সংরক্ষিত ধানের ক্ষতি কমাতে স্মার্ট আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন

দেশে ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে নতুন সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে এক সেমিনারে। “ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা রূপান্তরের কৌশলগত পথরেখা: সংরক্ষিত ধানের ক্ষতি কমাতে বাজার-উপযোগী স্মার্ট আল্ট্রাসনিক সমাধান এবং এসডিজি ২ ও ১২ অর্জন” শীর্ষক এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি), ফার্মগেট, ঢাকায়। রবিবার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র (বাউ-রিক)।   অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, কৃষিতে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার সময়ের দাবি এবং ফসল-পরবর্তী ক্ষতি কমানো খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিথি হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সালিম খান বলেন, ফসল-পরবর্তী ক্ষতি এখনো কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তির মতো উদ্ভাবন এ ক্ষতি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আনোয়ার উদ্দিন প্রযুক্তির বিস্তারে ডিজিটাল উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।   বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ডিজিটাল বিশেষজ্ঞ ও টাস্ক টিম লিডার সুপার্না রায় মাঠপর্যায়ে সহজে গ্রহণযোগ্য, বাজার-উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।    বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুস সালাম গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানান। এসিআই মোটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিকীকরণে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আউয়াল। তিনি জানান, স্মার্ট আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তি রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই সংরক্ষিত ধানকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম, যা একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ও কার্যকর।    কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিটি বিভাগের ইডিজিই প্রকল্পের কম্পোনেন্ট লিড ফারুক আহমেদ জুয়েল। সভাপতির বক্তব্যে বাউ-রিকের আরএলসি কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. কে. এম. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ধরনের উদ্ভাবন জাতীয় অগ্রাধিকার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি দ্রুত এ প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
সানজিদা ইসলাম তুলি। ছবি: সংগৃহীত

সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন তুলি

ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা, মানতে হবে কঠোর নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

তরুণদের মধ্যে বাড়ছে লিভার রোগ, ‘নীরব’ ফ্যাটি লিভার থেকে বাঁচার উপায় কী?

0 Comments