আন্তর্জাতিক

গ্রিনল্যান্ড দখল পরিকল্পনায় অনড় ট্রাম্প, শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৬, ২০২৬

গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনায় অনড় অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে সমর্থন না দেওয়া দেশগুলোর ওপর বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

 

শুক্রবার হোয়াইট হাউজে আয়োজিত একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক গোলটেবিল আলোচনায় ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে একমত না হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর শুল্ক বসানো হতে পারে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান, প্রতিরক্ষা গুরুত্ব এবং বিপুল খনিজ সম্পদের কথা উল্লেখ করে আসছেন। আর্কটিক অঞ্চলে এই দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিখাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও দাবি করেন তিনি।

এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে একজন বিশেষ দূত নিয়োগ দিয়েছে, যা ডেনমার্কে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক-এর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।

 

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করা হলে দেশটির নিরাপত্তা স্বার্থ আরও সুসংহত হবে। তিনি জানান, সেখানে উচ্চপ্রযুক্তি খাতে ব্যবহারের উপযোগী বিপুল খনিজ সম্পদ রয়েছে। এমনকি এই দ্বীপ দখলের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও তিনি পুরোপুরি নাকচ করেননি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনার তথ্য নিয়ে তুরস্কের সংশয়

ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে গত মাসে তুরস্কের আঙ্কারায় সফর করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফর শেষে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অস্বাভাবিক সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রথমে প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন। পরে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখান থেকে নেমে একটি খাবার পরিবহনকারী ট্রাকে করে অন্য একটি সামরিক বিমানে যান এবং সেই বিমানে করেই তুরস্ক ত্যাগ করেন। এয়ারফোর্স ওয়ানে তখন সাংবাদিক ও অন্যান্য সফরসঙ্গীরা অবস্থান করছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মিডেল ইস্ট আইয়ের দাবি, মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে ইসরায়েল থেকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল যে ইরানের একটি সেল ট্রাম্পের বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। সম্ভাব্য হামলায় কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র বা ম্যানপ্যাড ব্যবহারের আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছিল।   তবে তুরস্কের কয়েকজন কর্মকর্তা ওই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা তথ্যটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান। তাদের ধারণা, ইসরায়েল ইরান-সংক্রান্ত কূটনৈতিক আলোচনা এবং তুরস্কের সম্ভাব্য এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রাপ্তির বিষয়কে প্রভাবিত করতে এমন তথ্য দিয়ে থাকতে পারে।   তুর্কি সূত্রগুলোর দাবি, ন্যাটো সম্মেলন উপলক্ষে আঙ্কারায় অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। শহরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয় এবং সম্মেলন চলাকালে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। এ অবস্থায় সম্ভাব্য হামলা চালানো বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন ছিল বলে তারা মনে করেন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রথমে ট্রাম্পের আঙ্কারা বিমানবন্দর থেকে তুরস্ক ত্যাগ করার কথা থাকলেও পরে তার যাত্রা এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে সম্পন্ন করা হয়।   তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক বা ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ট্রাম্পের নিরাপত্তা হুমকি, বিমান পরিবর্তন বা তথাকথিত ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   সূত্র: মিডেল ইস্ট আই

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসান চায় কিয়েভ, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাব

ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের পর জাহাজে হুথিদের প্রাণঘাতী হামলা, নিহত ৬

ছবি : সংগৃহীত

ইরানি জাহাজের ইঞ্জিন অচল করল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি : সংগৃহীত
কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহত বেড়ে ২৫৪

কলম্বিয়ায় স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর মঙ্গলবারও (১১ আগস্ট) ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা জীবিতদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।   মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত শহর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ২৫৪ জনের মধ্যে কফি উৎপাদন অঞ্চলের পেরেইরা শহরেই ১০১ জন মারা গেছেন। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালি শহরে নিহত হয়েছেন ৯৫ জন।   উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করছেন। এ সময় তারা সবাইকে নীরব থাকার অনুরোধ করছেন, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা কারও বেঁচে থাকার শব্দ শোনা যায়।   চলতি শতকে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে দেশটির কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, বাড়িঘর, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ভবন ধসে পড়েছে, আবার কিছু ভবন হেলে পড়েছে বা বড় ধরনের ফাটল ধরেছে।   ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী চোকো অঞ্চলের বনাঞ্চলে বসবাসকারী অনেক আদিবাসী জনগোষ্ঠী এখনো বিদ্যুৎ ও মৌলিক সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। এতে সেখানে উদ্ধার তৎপরতা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।   নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার শপথ নেওয়ার কয়েক দিন পরই এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং ঘরবাড়ি হারানো মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।   ন্যাশনাল কফি ফেডারেশন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। সংস্থাটির প্রধান জার্মান বাহামোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, কৃষি খামার ও গ্রামীণ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে।   এদিকে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীরা ক্রেন, খননযন্ত্র ও নিজেদের হাত ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। মানবশৃঙ্খল তৈরি করে তারা ধ্বংসাবশেষ সরাচ্ছেন এবং বালতি হাতে হাতে এগিয়ে দিয়ে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করছেন। উদ্ধারকর্মীদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকে থাকতে পারেন।    সূত্র: রয়টার্স

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি হতে পারে শিগগিরই : পাকিস্তান

ছবি : সংগৃহীত

সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের মক্কা চুক্তি নিয়ে ভারতের বার্তা

ছবি : সংগৃহীত

গাঁজা সেবন করে পাইলটিং, মাঝআকাশে হঠাৎ ৩০০ ফুট নিচে নামল বিমান

ছবি : সংগৃহীত
হাদি হত্যার আসামি ও হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে যা বলল ভারত

ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্রুত প্রত্যার্পণ ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি হাসিনা ও হাদির হত্যাকারীদের ফেরত দেওয়ার প্রসঙ্গটি তোলেন।   আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি জানান, হাদির হত্যাকারীদের বিষয়টি তদন্তনাধীন। আর হাসিনাকে প্রত্যার্পণের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।   জয়সওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের হাইকমিশনার গতকাল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন এবং তারা দুজন দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বলেন। আপনারা (সাংবাদিকরা) আরও যে দুটি ইস্যু শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ এবং হাদির (হত্যার) কথা উল্লেখ করলেন— হাদির বিষয়ে আমি বলব এটি একটি আইনি বিষয় এবং এ নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। আর প্রত্যার্পণের বিষয়ে, যেমনটা আমি আগে বলেছি, সুনির্দিষ্ট এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট যে, আমাদের পক্ষ থেকে যে প্রক্রিয়া আছে সেটির ওপর ভিত্তি করে আমরা বিষয়টি দেখছি।”   গত ১২ ডিসেম্বর হাদিকে হত্যা করে দুই সন্ত্রাসী। এরপর তারা ভারতে পালিয়ে যায়। এরপর এ বছরের শুরুতে কলকাতা পুলিশ হাদির দুই হত্যাকারী ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।   এরপর থেকেই এ দুই হত্যকারীকে ফেরত চেয়ে আসছে বাংলাদেশ।   অপরদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের হত্যা করায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ড কার্যকর করতে হাসিনাকে তুলে দিতে বার্তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ।   সূত্র: এএনআই

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে চার মানবাধিকার সংস্থার মামলা

ছবি : সংগৃহীত

দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করলেন নরেন্দ্র মোদি

প্রতীকী ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে প্রথমবার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল যে দেশ

0 Comments