প্রযুক্তি

গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪ দেশে জরিমানা ঝুঁকিতে স্কেল এআই

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণের কাজে যুক্ত কর্মীদের অবৈধভাবে নজরদারি করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কেল এআই। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের প্ল্যাটফর্মে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়, তা কর্মীদের জানানো হয় এবং এ জন্য তাঁদের সম্মতি নেওয়া হয়।

 

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের চারটি দেশে স্কেল এআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে গোপনীয়তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা নোইব (noyb)। মঙ্গলবার ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও অস্ট্রিয়ায় অভিযোগগুলো দায়ের করা হয়।

 

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, স্কেল এআইয়ের ‘আউটলিয়ার’ (Outlier) প্ল্যাটফর্ম এআই মডেলের প্রশিক্ষণ-উপাত্ত তৈরির কাজে যুক্ত ৯ লাখের বেশি ফ্রিল্যান্সারের কার্যক্রম অবৈধভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করারও দাবি জানিয়েছে নোইব।

 

 

তবে স্কেল এআই রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও ভুল বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কর্মীদের পরিচয় যাচাই, জালিয়াতি ঠেকানো, গোপনীয় প্রকল্পের তথ্য সুরক্ষিত রাখা এবং সঠিক পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে তারা প্রচলিত কিছু প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ব্যবহার করে।

 

 

স্কেল এআইয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কিছু প্রকল্পে কাজের সময় ও কম্পিউটার স্ক্রিনে কর্মীদের কার্যক্রম রেকর্ড করার জন্য আলাদা একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সম্মতি দিয়ে কাজ শুরুর আগে নিজেরাই এই ব্যবস্থা চালু করেন বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

 


 
স্কেল এআই আরও বলেছে, কাজ গ্রহণের আগেই কর্মীরা তাঁদের পারিশ্রমিকের হার জানতে পারেন। দক্ষতা, প্রকল্পের ধরন ও কর্মীর অবস্থানের ভিত্তিতে এই হার নির্ধারণ করা হয়।

 

 

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করা হয় না। গ্রাহকদের এআই মডেল প্রশিক্ষণ দিতেও এসব তথ্য ব্যবহার করা হয় না।

 

 

তবে নজরদারির অভিযোগের বিষয়ে ইউরোপের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ বা তদন্তের ফল সম্পর্কে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রযুক্তি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪ দেশে জরিমানা ঝুঁকিতে স্কেল এআই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণের কাজে যুক্ত কর্মীদের অবৈধভাবে নজরদারি করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কেল এআই। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের প্ল্যাটফর্মে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়, তা কর্মীদের জানানো হয় এবং এ জন্য তাঁদের সম্মতি নেওয়া হয়।     বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের চারটি দেশে স্কেল এআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে গোপনীয়তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা নোইব (noyb)। মঙ্গলবার ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও অস্ট্রিয়ায় অভিযোগগুলো দায়ের করা হয়।     অভিযোগে বলা হয়েছে, স্কেল এআইয়ের ‘আউটলিয়ার’ (Outlier) প্ল্যাটফর্ম এআই মডেলের প্রশিক্ষণ-উপাত্ত তৈরির কাজে যুক্ত ৯ লাখের বেশি ফ্রিল্যান্সারের কার্যক্রম অবৈধভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করারও দাবি জানিয়েছে নোইব।     তবে স্কেল এআই রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও ভুল বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কর্মীদের পরিচয় যাচাই, জালিয়াতি ঠেকানো, গোপনীয় প্রকল্পের তথ্য সুরক্ষিত রাখা এবং সঠিক পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে তারা প্রচলিত কিছু প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ব্যবহার করে।     স্কেল এআইয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কিছু প্রকল্পে কাজের সময় ও কম্পিউটার স্ক্রিনে কর্মীদের কার্যক্রম রেকর্ড করার জন্য আলাদা একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সম্মতি দিয়ে কাজ শুরুর আগে নিজেরাই এই ব্যবস্থা চালু করেন বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।       স্কেল এআই আরও বলেছে, কাজ গ্রহণের আগেই কর্মীরা তাঁদের পারিশ্রমিকের হার জানতে পারেন। দক্ষতা, প্রকল্পের ধরন ও কর্মীর অবস্থানের ভিত্তিতে এই হার নির্ধারণ করা হয়।     প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করা হয় না। গ্রাহকদের এআই মডেল প্রশিক্ষণ দিতেও এসব তথ্য ব্যবহার করা হয় না।     তবে নজরদারির অভিযোগের বিষয়ে ইউরোপের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ বা তদন্তের ফল সম্পর্কে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের নির্বাচনে বাড়ছে আরব দলগুলোর রাজনৈতিক প্রভাব

সংগৃহীত ছবি

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে চাই সচেতনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ

ছবি: রয়টার্স

নিয়ন্ত্রণ না হারিয়েই এআই খাতের অর্থ সংগ্রহে মেটার নতুন পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত
প্রেমে সফল হতে এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন ভারতীয়রা

প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া, প্রথম ডেটে কী বলবেন কিংবা পছন্দের মানুষের সঙ্গে কথোপকথন কীভাবে এগিয়ে নেবেন, এসব বিষয়ে পরামর্শ নিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্য নিচ্ছেন ভারতের অনেক মানুষ। এক জরিপে দেখা গেছে, গত ১২ মাসে দিল্লির ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা কাউকে আকৃষ্ট করার কৌশল উন্নত করতে এআইভিত্তিক কথোপকথন সহকারীর সাহায্য নিয়েছেন। এ তালিকায় মুম্বাইয়ের ৪৯ শতাংশ, হায়দরাবাদের ৪৮ শতাংশ এবং বেঙ্গালুরুর ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতাও রয়েছেন।   ডেটিং অ্যাপ গ্লিডেন ও গবেষণা সংস্থা ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেড় হাজারের বেশি মানুষের অংশগ্রহণে পরিচালিত জরিপটি থেকে বোঝা যায়, ভারতের ডেটিং সংস্কৃতিতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। আগে প্রেম বা সম্পর্কের বিষয়ে পরামর্শের জন্য মানুষ বন্ধু কিংবা পরিচিতদের ওপর নির্ভর করতেন। এখন সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে চ্যাটবট।   প্রেমের বিভিন্ন পর্যায়ে এআইয়ের ব্যবহার জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য সঙ্গীকে আকৃষ্ট করতে শুধু কথোপকথন নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল সাজাতেও এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন অনেকে। দিল্লি ও মুম্বাইয়ের ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা গত এক বছরে নিজেদের ডেটিং বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলের বিবরণ উন্নত করতে এআই ব্যবহার করেছেন। বেঙ্গালুরুতে এ হার ৩৫ শতাংশ এবং হায়দরাবাদে ২৬ শতাংশ।   সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে লিখিত কথোপকথন আরও আকর্ষণীয় করে তুলতেও এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন অনেকে। দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা এ কাজে এআই ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন।   ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্লিডেন-ইপসোসের আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৬০ শতাংশ নারী জীবনের কোনো এক সময়ে কাউকে আকৃষ্ট করার কৌশল উন্নত করতে এআই ব্যবহার করেছেন। প্রথম ডেটের জন্য স্থান বা কার্যক্রম বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এআইয়ের পরামর্শ নিচ্ছেন তারা। এ কাজে এআই ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন ৬৪ শতাংশ পুরুষ ও ৬১ শতাংশ নারী।   সম্পর্কের জটিলতা বুঝতেও এআই ডেটিং অ্যাপ আইসলের ৮ হাজার ২৪০ জন শহুরে অবিবাহিত মানুষের ওপর পরিচালিত আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৫৩ দশমিক ১ শতাংশ নারী নিজেদের অনুভূতি ও সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগের কথা এআইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন। জেনারেশন জেড বা জেন-জি প্রজন্মের ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ সম্ভাব্য সঙ্গীর পাঠানো দুর্বোধ্য বার্তার অর্থ বুঝতেও এআইয়ের সাহায্য নিয়েছেন।   তবে এআই ব্যবহারের বিষয়ে মানুষের মনোভাবেও অসংগতি রয়েছে। জরিপে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা নিজেরা এআই ব্যবহার করলেও সম্ভাব্য সঙ্গী একই কাজ করলে বিরক্ত বোধ করবেন।   শহরভেদে এআই নিয়ে ভিন্ন মনোভাব আইসলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেঙ্গালুরুর ৫৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এআই দিয়ে লেখা বার্তা তারা শনাক্ত করতে পারেন। তবে ৮৮ শতাংশের ধারণা, এআই দিয়ে তৈরি প্রথম বার্তা ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে এড়ানো কঠিন হয়ে উঠবে।   দিল্লি ও এর আশপাশের অঞ্চলের ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বাস্তব ডেটের কথোপকথনের চেয়ে এআইয়ের সঙ্গে আলোচনা বেশি অর্থবহ মনে হয়। মুম্বাইয়ের ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ অবশ্য এআইয়ের চেয়ে নিজেদের সহজাত অনুভূতির ওপর বেশি আস্থা রাখেন। পুনের ৪২ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, এআইয়ের পরামর্শ তাদের ডেটিংয়ের আত্মবিশ্বাস উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। অন্যদিকে, হায়দরাবাদের ৫৫ শতাংশ মানুষ সম্পাদনাবিহীন স্বাভাবিক প্রোফাইল ছবি পছন্দ করেন। ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ জানিয়েছেন, এআই দিয়ে তৈরি ছবি দেখলে তারা সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেবেন। কলকাতার ডেটিংপ্রত্যাশীদের মধ্যে এআই ব্যবহারের বিরোধিতা তুলনামূলক বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে সতর্কতা এআইয়ের তাৎক্ষণিক পরামর্শ, বিচার না করার প্রবণতা এবং নিরপেক্ষ মনে হওয়ার কারণে অনেকে বন্ধুদের বদলে চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আইসলের প্রতিবেদনে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা এআইয়ের তাৎক্ষণিক প্রাপ্যতাকে এবং ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ বিচারহীন পরিবেশকে এর প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   তবে বিশেষজ্ঞরা এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত আবেগগত নির্ভরতা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, এতে কল্পনা ও বাস্তবতার সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি অবাস্তব প্রত্যাশা, একাকিত্ব, অতিরিক্ত আসক্তি এবং নিজের প্রতি অসন্তুষ্টিও বাড়তে পারে।   প্রেমের ক্ষেত্রে এআই পরামর্শ দিতে পারে, কথোপকথন সাজাতে পারে কিংবা প্রথম ডেটের পরিকল্পনা করতে সাহায্য করতে পারে। তবে সম্পর্কের অনুভূতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সিদ্ধান্তের জায়গায় মানুষের নিজস্ব ভূমিকার বিকল্প হয়ে উঠতে পারে না।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এক্সে মাসে ১৫টি ভিডিও বানিয়ে আয়ের নতুন সুযোগ চালু

ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানের রায়ে আপিলের ঘোষণা মেটার

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম: শিশুর সাইবার হয়রানি বাড়ছে

ছবি: সংগৃহীত
মোবাইল হারিয়ে গেলে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ফিরে পাবেন যেভাবে

স্মার্টফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে শুধু ফোনের দাম নিয়েই দুশ্চিন্তা থাকে না, ব্যক্তিগত ছবি, বার্তা, যোগাযোগের নম্বর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপে ব্যক্তিগত কথোপকথন থাকলে সেগুলো অন্যের হাতে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে দ্রুত কয়েকটি পদক্ষেপ নিলে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া এবং ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।   প্রথমেই বন্ধ করুন হারানো সিম ফোন হারানোর পর যত দ্রুত সম্ভব মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিম কার্ডটি বন্ধ করুন। এতে অন্য কেউ সিমটি ব্যবহার করে কল করা বা এসএমএসের মাধ্যমে যাচাইকরণ কোড পাওয়ার ঝুঁকি কমবে।এরপর একই ফোন নম্বরের একটি বিকল্প সিম সংগ্রহ করুন। হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের জন্য আগের নম্বরটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ চালু করবেন যেভাবে নতুন বা অন্য একটি ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ইনস্টল করে আগের ফোন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন শুরু করুন। এরপর এসএমএস বা ফোনকলের মাধ্যমে পাওয়া যাচাইকরণ কোড দিয়ে নম্বরটি নিশ্চিত করুন। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে সাধারণত হারানো ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।   মনে রাখবেন, যাচাইকরণ কোড কখনো অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না। কেউ হোয়াটসঅ্যাপের কর্মী পরিচয় দিলেও তাঁকে এই কোড জানাবেন না।   পুরোনো বার্তা কি ফিরে পাওয়া যাবে? নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ চালু করলেই আগের সব কথোপকথন ফিরে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আগে থেকে চ্যাটের ব্যাকআপ রাখা থাকলে তা পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সাধারণত গুগল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এবং আইফোনে আইক্লাউডের মাধ্যমে চ্যাটের ব্যাকআপ রাখা যায়। ব্যাকআপ পুনরুদ্ধার করতে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ থাকতে হবে। ব্যাকআপ না থাকলে পুরোনো বার্তা ফিরে পাওয়া কঠিন হতে পারে।   তাই গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন হারানোর ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত চ্যাট ব্যাকআপ চালু রাখা ভালো।   হোয়াটসঅ্যাপ দিয়ে কি হারানো ফোন খুঁজে পাওয়া যায়? না, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি হারানো ফোনের অবস্থান শনাক্ত করা যায় না। এ জন্য অ্যান্ড্রয়েডের ‘ফাইন্ড হাব’ (আগের ‘ফাইন্ড মাই ডিভাইস’) অথবা আইফোনের ‘ফাইন্ড মাই’ সুবিধা ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ফোনে প্রয়োজনীয় সেটিংস চালু থাকা এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ হওয়া জরুরি।   হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব বা ডেস্কটপ সংস্করণ থেকেও সরাসরি হারানো ফোনের অবস্থান জানা যায় না। তবে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপের ‘লিংকড ডিভাইসেস’ তালিকা পরীক্ষা করে অপরিচিত ডিভাইস থেকে লগআউট করা যেতে পারে।   পুরোনো নম্বর ফিরে না পেলে কী করবেন? পুরোনো সিম হারিয়ে গেলে প্রথমে মোবাইল অপারেটরের কাছ থেকে একই নম্বরের বিকল্প সিম সংগ্রহের চেষ্টা করুন। হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পুনরায় নিবন্ধনের জন্য ওই নম্বরে যাচাইকরণ কোড পাওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।   অন্য নম্বরে অ্যাকাউন্ট স্থানান্তর করতে চাইলে হোয়াটসঅ্যাপের ‘চেঞ্জ নম্বর’ সুবিধা ব্যবহার করা যায়। তবে এ জন্য পুরোনো অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ এবং নতুন নম্বরটি সচল থাকা প্রয়োজন। শুধু নতুন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করলেই পুরোনো অ্যাকাউন্টের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানান্তরিত হবে না।   ফোন হারালে আরও যেসব পদক্ষেপ নেবেন ফোন লক বা মুছে দিন: অ্যান্ড্রয়েডের ফাইন্ড হাব বা আইফোনের ফাইন্ড মাই সুবিধা দিয়ে সম্ভব হলে ফোনটি লক করুন। প্রয়োজন হলে দূর থেকে ফোনের তথ্য মুছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিন। ই-মেইল ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করুন: সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং অন্য ডিভাইসের সক্রিয় সেশন পরীক্ষা করুন। ব্যাংকিং অ্যাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: ফোনে আর্থিক সেবার অ্যাপ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। চুরি হলে পুলিশকে জানান: ফোনের আইএমইআই নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অভিযোগ করুন।   ফোন হারালে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সিম বন্ধ করা, একই নম্বরের বিকল্প সিম সংগ্রহ এবং নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ পুনরায় নিবন্ধনের উদ্যোগ নিন। পাশাপাশি ফোনের অবস্থান শনাক্ত করার সুবিধা ব্যবহার ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করলে ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অনুমতি ছাড়াই অন্যের ওয়ালেটের পরীক্ষামূলক কয়েন ব্যবহার করল ওপেনএআই মডেল

টেসলার ‘উড়ন্ত গাড়ি’। ছবি : রয়টার্স

টেসলার ‘উড়ন্ত গাড়ি’ উন্মোচন, চমকে দিলেন ইলন মাস্ক

সংগৃহীত ছবি

মোবাইল টাওয়ারের বাইরেও মিলবে সংযোগ, আসছে বাংলালিংকের স্টারলিংক সেবা

0 Comments