খেলা

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে লজ্জার হার, অস্ট্রেলিয়া দলে রদবদলের আভাস

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্যাট কামিন্স
প্যাট কামিন্স

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হেরে ক্ষোভ ও হতাশা লুকাতে পারলেন না অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।

 

নিজেদের এমন বাজে পারফরম্যান্সের পর দল যে আর কোনো অজুহাত দেওয়ার অবস্থায় নেই, তা সোজাসাপ্টা ভাষায় স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের হারের পর আর ‘ভুল ঢেকে রাখা সম্ভব নয়।’

 

লজ্জাজনক এই হারের পর অজি অধিনায়ক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, সিরিজের পরবর্তী ম্যাচের একাদশে বড় ধরনের রদবদল আসতে যাচ্ছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে কামিন্স বলেন, মাঠের পারফরম্যান্সে ঘাটতি স্পষ্ট। ব্যর্থতা পর্যালোচনা করে দ্রুত কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। দল হিসেবে ঘুরে দাঁড়াতে একাদশে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।

 

গত ২২ অক্টোবর কেবেখার সেন্ট জর্জ পার্ক টেস্টে স্বাগতিক প্রোটিয়াদের কাছে স্রেফ উড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় ইনিংস ও ৩১ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে  ক্যাঙ্গারুরা। বিশাল এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী সপ্তাহে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শেষ টেস্টটিই এখন পরিণত হয়েছে সিরিজ নির্ধারণী অলিখিত ফাইনালে।

 

ম্যাচের প্রথম ইনিংসে অজিদের ব্যাটিং লাইনআপ যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে, অলআউট হয়ে যায় মাত্র ৯৯ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯৫ রান তুললেও ইনিংস পরাজয় এড়ানো সম্ভব হয়নি। পুরো ম্যাচে অজিদের একমাত্র ইতিবাচক প্রাপ্তি ছিল ট্র্যাভিস হেডের অনবদ্য ১২১ রান এবং নাইটওয়াচম্যান স্কট বোল্যান্ডের ১৬৬ বলে লড়াকু ৪০ রানের বীরত্বপূর্ণ ইনিংস।

 

সিরিজের মাঝপথে এসে ক্যাঙ্গারুদের এমন যাচ্ছেতাই আত্মসমর্পণে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো। শিরোনামে উঠে এসেছে ‘হরর শো’, ‘বিশৃঙ্খল অজি দল’ ও ‘নগ্ন করুণ ব্যর্থতা’-র মতো কড়া সব শব্দবন্ধ।

 

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কামিন্স বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের নিশ্চিতভাবেই এর চেয়ে অনেক ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমার মনে হয়, একটা জয় অনেক সময় দলের ভেতরের দুর্বলতা বা ক্ষতগুলোকে ঢেকে রাখে। কিন্তু বড় একটা হার খেলোয়াড় হিসেবে নিজের ভেতরের কঠিন প্রশ্নগুলো তুলে ধরে এবং নতুন করে জেগে উঠতে বাধ্য করে।’ 

 

কেপটাউন টেস্টের আগে অন্তত তিনজন অজি ক্রিকেটারের একাদশে থাকা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় মার্নাস লাবুশেন, যিনি দীর্ঘ তিন বছর ধরে টেস্টে কোনো শতকের মুখ দেখেননি। তিন নম্বরে নামা লাবুশেনকে নিয়ে কামিন্স বলেন, ‘সে আসলে কঠিন কাজটি করে ফেলছে, ৩০ রান পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। তবে তাকে বুঝতে হবে কীভাবে এই ৩০ রানের ইনিংসগুলোকে বড় স্কোরে রূপান্তর করা যায়। কারণ ৩০ রান আপনাকে ম্যাচ জেতাবে না। আগামী দু-একদিন আমরা এটা নিয়ে কাজ করব। সিরিজে আর মাত্র একটি টেস্ট বাকি, আমাদের যেকোনো মূল্যে এটি জিততেই হবে।’

 

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে দলে ফেরা ওপেনার নিক ম্যাডিনসন এবং অফ-ফর্মে থাকা অলরাউন্ডার বো ওয়েবস্টারের জায়গাও চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। চলতি সিরিজের চার ইনিংসে ম্যাডিনসনের ব্যাট থেকে এসেছে ০, ৪৮, ০ ও ৮ রান। আর পেস বোলিং অলরাউন্ডার ওয়েবস্টার ।

 

ইনজুরি কাটিয়ে কেপটাউনে ফেরার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত অজি অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন। ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেয়েছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জশ ইংলিসও। পাশাপাশি স্কোয়াডে তরুণ কুপার কনোলির মতো বিকল্পকেও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। তবে কেবেখায় স্পিনার নাথান লায়নের জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়া পেসার স্কট বোল্যান্ডকে একাদশ থেকে বাদ দেওয়া টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য বেশ কঠিন সিদ্ধান্ত হবে। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে লড়াকু পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিজের দাবি জোরালো করে রেখেছেন তিনি।

 

কেপটাউনের পিচের মেজাজ বুঝে অস্ট্রেলিয়া কি আবারও চার পেসার নিয়ে নামবে, নাকি একাদশে ফেরানো হবে স্পিন জাদুকর লায়নকে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দল নির্বাচন নিয়ে শক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সংকেত দিয়ে কামিন্স বলেন, ‘এটাই আসল চ্যালেঞ্জ। আপনি কি কাউকে আরও একটা সুযোগ দেবেন, নাকি এখনই পরিবর্তনের সঠিক সময়? আপনাকে বুঝতে হবে কেউ কি একদম ফর্মে ফেরার কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে, নাকি নতুন কাউকে নিয়ে আসার সময় পার হয়ে যাচ্ছে?’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতির সামনেই পদক বিতরণে বিশৃঙ্খলা, সমালোচনার মুখে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও শৃঙ্খলা রাখতে পারলো না বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। ‘আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের পদক দিতে গিয়ে পদকমঞ্চের সামনে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় রাষ্ট্রপতিকে। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। আয়োজকদের এমন অব্যবস্থাপনা ছিল দৃষ্টিকটু।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি। পরে উপভোগ করেন প্রতিযোগিতার সবচেয়ে আকর্ষণীয় পুরুষ ও নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট। এই দুই ইভেন্টের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারও তুলে দেন তিনি।   পুরুষদের ১০০ মিটারের পুরস্কার বিতরণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেও নারীদের ইভেন্টে গিয়ে দেখা দেয় বিপত্তি। ১০০ মিটারে স্বর্ণজয়ী শিরিন আক্তার পদকমঞ্চে উঠে দাঁড়ালেও তখনো উপস্থিত হননি রৌপ্য ও ব্রোঞ্জজয়ী দুই অ্যাথলেট। মাইকে বারবার তাদের ডাকা হচ্ছিল। এদিকে, রাষ্ট্রপতি ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।   একপর্যায়ে দৌড়ে এসে পদকমঞ্চে ওঠেন রৌপ্যজয়ী শরীফা খাতুন। রাষ্ট্রপতির সামনে পুরস্কার নিতে তার এভাবে ছুটে আসার দৃশ্যটি ছিল বিব্রতকর। তবে ব্রোঞ্জজয়ী সুমাইয়া দেওয়ান শেষ পর্যন্ত উপস্থিত হননি। দৌড় শেষ করার সময় তিনি ট্র্যাকে পড়ে গিয়েছিলেন। চোটের কারণে তার পক্ষে পুরস্কার বিতরণীতে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ফেডারেশন।   রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ অতিথির উপস্থিতিতে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের এমন অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ফেডারেশনের প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিয়ে। বিজয়ীদের সময়মতো পদকমঞ্চে উপস্থিত রাখা আয়োজকদের দায়িত্ব হলেও এক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থাপনার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপনকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক মনজুর মোর্শেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি খুব খারাপ হয়েছে। আসলে তৃতীয় হওয়া সুমাইয়া ব্যথা পাওয়ায় আসতে পারেননি।’   তাহলে রৌপ্যজয়ী শরীফা খাতুন কেন সময়মতো পদকমঞ্চে উপস্থিত হতে পারেননি? এমন প্রশ্নের জবাবে মনজুর মোর্শেদ বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। ওই অ্যাথলেটের সংস্থার কাছে আমরা জানতে চাইবো, কেন এমন হলো।’   শুধু পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেই অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠেনি। প্রতিযোগিতা কাভার করতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। দুই দিন আগে প্রেসকার্ড দেওয়ার কথা বলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত অনেককে কার্ড দিতে পারেনি ফেডারেশন। ফলে প্রতিযোগিতা কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকদেরও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্যাট কামিন্স

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে লজ্জার হার, অস্ট্রেলিয়া দলে রদবদলের আভাস

ইমরানুর রহমান ও শিরিন আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

১০০ মিটারে সেরা ইমরানুর, রেকর্ড ভেঙে শীর্ষে শিরিন আক্তার

ছবি: সংগৃহীত

মেসিকে একনজর দেখতে নিজের হাত কাটলেন তরুণ!

ছবি: সংগৃহীত
ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ইতিহাস গড়লেন হ্যারি

ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরির (২০২) রেকর্ড গড়েছেন হ্যারি ব্রুকস। অথচ তার রেকর্ড গড়া ডাবল সেঞ্চুরির ম্যাচে ৪ উইকেটে ৪২৯ রানের পাহাড় গড়েও জিততে পারেনি ইংল্যান্ড।   অতীতে চারশো বা তার বেশি রান করার ম্যাচে জয় নিয়ে অতোটা মাথা ঘামাতে হয়নি ব্রিটিশদের। কিন্তু আজ ৪২৯ রান করেও পরাজয় এড়াতে পারেনি ইংল্যান্ড।   ৪৩০ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে শ্রীলংকা প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ক্রিকেট খেলে। লংকানরা ১ বল হাতে রেখে ২ উইকেটের জয় পায়।   আজ হ্যারি ব্রুকস মাত্র ১১৬ বলে ২১টি চার আর ১০টি ছক্কার সাহায্যে ২০২ রানের রেকর্ডময় ইনিংস খেলেন।   ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেডে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকালেন হ্যারি ব্রুকস। এর আগে ওয়ানডে ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ১৮২ রানের ইনিংস খেলে ছিলেন বেন স্টোকস।   আজ রেকর্ড গড়ার ম্যাচে বাউন্ডারির সাহায্যে সর্বোচ্চ ১৪৪ রান করেন হ্যারি ব্রুকস। যা ওয়ানডে ক্রিকেটে ইংল্যান্ডেরে কোনো ব্যাটসম্যান হিসেবে রেকর্ড সর্বোচ্চ।    এর আগে এক দিনের ম্যাচে বাউন্ডারির সাহায্যে সর্বোচ্চ ১২৪ রান করেছিলেন জস বাটলার।     ইংল্যান্ডের ৪২৯ রান করার পথে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন উইল জ্যাকস। তিনি মাত্র ৩০ বল মোকাবেলা করে ৮টি চার আর তিন ছক্কায় ৬৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। ৬৬ বলে ৮টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৬৯ রান করেন জো রুট। ওপেনার টম ব্যান্টন ৫১ বলে ৯টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৫০ রান করেন। ৩৯ বলে ২৯ রান করেন বেন ডাকেট।     এমন রেকর্ডময় ম্যাচে অবিশ্বাস্য সুন্দর ব্যাটিং করেন শ্রীলংকান ওপেনার আবিস্কা ফার্নান্দো এবং দাসুন শানাকা। তারা মাত্র ৩ রানের জন্য সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন। তবে হতাশ হতে হয়নি পবন রত্নানায়েককে। তিনি ১০৬ বলে ১৫টি চার আর তিন ছক্কায় ১৩০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসের সুবাদে বিশাল জয় নিশ্চিত করে শ্রীলংকা।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের ৩০ দেশের ক্লাব নিয়ে মাঠে গড়াচ্ছে ‘এক্সপ্যাট ওয়ার্ল্ড কাপ’

সংগৃহীত ছবি

রানবন্যার ম্যাচে ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে শ্রীলঙ্কার দুর্দান্ত জয়

ছবি: সংগৃহীত

দল নির্বাচনে আবেগ ও স্বজনপ্রীতি, অভিযোগ ইমরুলের

ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ

আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুধু জিতলেই হবে না, ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠতে হলে ৪১ রানে জয়ের ব্যবধান রাখতে হবে বাংলাদেশকে। এমন সমীকরণের ম্যাচটি সাত উইকেটে হেরেছে তাওহীদ হৃদয়রা।   বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় শারজায় ম্যাচটি শুরু হয়।   বাংলাদেশের দেয়া ১৬১ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৩৫.৩ বলে মাত্র তিন উইকেে হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আফগানরা। ১১৯ রানে আফগানদের অলআউট করতে না পারলে টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের বিদায়। এত কম রানে আফগানদের আটকাতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং ৩ উইকেট হারিয়েই ১১৯ রান পার করে ফেলে তারা। ফলে খেলা চলা অবস্থায়ই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। অর্থাৎ ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে খেলবে আফগানিস্তান আর জিম্বাবুয়ে।   শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ ৪১.২ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৬০ রান তোলে। ইনিংসের শুরু থেকেই আফগান বোলারদের সামনে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। দলীয় ৬ রানেই মাত্র এক রান করে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান। পরের বলেই বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফেরেন সৌম্য সরকার।   এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ২৩ বলে ১৫ রান করে আউট হন। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ও দুই বল খেলে কোনো রান না করেই ফেরেন। মাত্র ২৮ রানেই চার উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।   সেই বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ৯৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরার আশা দেখায়। ৮২ বলে ৪১ রান করে মোহাম্মদ নবীর বলে আউট হন সাইফ।   সাইফের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজও। মাত্র ২ রান করে বিলাল সামির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপরও এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান ইমন। তার ব্যাটে আসে বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ একটি ফিফটি।   তবে ইমনের লড়াইও শেষ পর্যন্ত দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেনি। ৭০ রানে অষ্টম ব্যাটার হিসেবে আউট হন তিনি। এরপর আলিস আল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান কোনো রান না করেই বিদায় নিলে ১৬০ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। তাসকিন আহমেদ ২ রানে অপরাজিত থাকেন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২২, ২০২৬
তাসকিন আহমেদ

তাসকিনের পরপর দুই আঘাত

ছবি: সংগৃহীত

েকর্ড গড়ে সাকিব-আফ্রিদির পাশে মিনহাস

ছবি : বাসস

মালদ্বীপকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আইএইচএফ নেশনস ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশ

0 Comments