কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খনন করতে গিয়ে ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে আগুন ধরে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে শুরু হওয়া সেই আগুন বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নেভানো যায়নি।
৩৩ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জ্বলতে থাকা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট; কিন্তু মাটির নিচ থেকে অবিরাম গ্যাস বের হতে থাকায় আগুন নেভানো যাচ্ছে না।
আগুনের শিখা বিদ্যুতের তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলের আশপাশের অন্তত ২০০ মিটার এলাকায় মানুষের চলাচল সীমিত করেছে প্রশাসন।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী ছোট খাল সেতুর কাছে মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বসতভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। এ সময় মাটির নিচ থেকে দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস বের হতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আগুন ধরে যায়। এরপর থেকে একটানা জ্বলছে আগুন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) দুই সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) এসএম নাফিফুন আরহামের নেতৃত্বে দলটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বুধবার সকাল ও দুপুরেও বিশেষজ্ঞরা সেখানে গিয়ে গ্যাসের নির্গমন ও আগুনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে। এ কারণে এলাকাটি নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় এনে বাপেক্সকে খবর দেওয়া হয়েছে।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এসএম নাফিফুন আরহামের প্রাথমিক ধারণা, নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভের প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের স্তরের কাছাকাছি পৌঁছানো হয়েছিল। সেখান থেকে ভূগর্ভের ফাটল বা ভূতাত্ত্বিক চ্যুতির মধ্য দিয়ে গ্যাস ওপরে উঠে নলকূপের গর্ত দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্যাসের চাপ ও নির্গমনের তীব্রতা বেশি থাকায় সরাসরি আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অন্য স্থানেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গ্যাসের স্তরের ওপরের অংশ উন্মুক্ত হয়ে গেলে ভূগর্ভের বিভিন্ন ফাটল দিয়ে কয়েক দিন পরও গ্যাস ভূপৃষ্ঠে উঠে আসতে পারে। কোনো উৎস থেকে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মানুষের কর্মকাণ্ড কিংবা বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ থেকেও আগুন লাগতে পারে।
আগুনের রঙ ও ধোঁয়া দেখে গ্যাসে তুলনামূলক ভারি হাইড্রোকার্বন থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বাপেক্সের এই কর্মকর্তা। তবে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ না করা পর্যন্ত গ্যাসের প্রকৃতি ও উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে না। ওই এলাকায় গ্যাসের মজুত আছে কিনা, থাকলে কী পরিমাণে আছে, সেটিও এখনো জানা যায়নি।
নাফিফুন আরহাম বলেন, গ্যাসের নির্গমন বন্ধ করতে বা এর চাপ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে ভূগর্ভের অন্য কোনো দুর্বল স্থান দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে আসতে পারে। এতে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এ কারণে আপাতত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সবাইকে দূরে রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।
উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ অনুযায়ী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে উপজেলা প্রশাসন। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ২০০ মিটার দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিচ্ছেন।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। স্টেশন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন; কিন্তু ভূগর্ভ থেকে অবিরাম গ্যাস বের হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। জনবল ও কারিগরি সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরে বাপেক্স, পেট্রোবাংলাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়।
আগুনের শিখা বিদ্যুতের তারে ছড়িয়ে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটন ব্যবসায়ীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বারবার চেষ্টা করেও আগুন নেভাতে পারছে না। সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর শোক ও আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই আবারও আগুনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কাছাকাছি এলাকায় গ্যাসের আগুন জ্বলতে থাকায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও আবু সৈয়দ জানান, দূর থেকেও আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছে। আগুন কখন নিভবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন এলাকার মানুষ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খনন করতে গিয়ে ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে আগুন ধরে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে শুরু হওয়া সেই আগুন বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নেভানো যায়নি। ৩৩ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জ্বলতে থাকা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট; কিন্তু মাটির নিচ থেকে অবিরাম গ্যাস বের হতে থাকায় আগুন নেভানো যাচ্ছে না। আগুনের শিখা বিদ্যুতের তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলের আশপাশের অন্তত ২০০ মিটার এলাকায় মানুষের চলাচল সীমিত করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী ছোট খাল সেতুর কাছে মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বসতভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। এ সময় মাটির নিচ থেকে দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস বের হতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আগুন ধরে যায়। এরপর থেকে একটানা জ্বলছে আগুন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) দুই সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) এসএম নাফিফুন আরহামের নেতৃত্বে দলটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বুধবার সকাল ও দুপুরেও বিশেষজ্ঞরা সেখানে গিয়ে গ্যাসের নির্গমন ও আগুনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে। এ কারণে এলাকাটি নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় এনে বাপেক্সকে খবর দেওয়া হয়েছে। বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এসএম নাফিফুন আরহামের প্রাথমিক ধারণা, নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভের প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের স্তরের কাছাকাছি পৌঁছানো হয়েছিল। সেখান থেকে ভূগর্ভের ফাটল বা ভূতাত্ত্বিক চ্যুতির মধ্য দিয়ে গ্যাস ওপরে উঠে নলকূপের গর্ত দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্যাসের চাপ ও নির্গমনের তীব্রতা বেশি থাকায় সরাসরি আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অন্য স্থানেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গ্যাসের স্তরের ওপরের অংশ উন্মুক্ত হয়ে গেলে ভূগর্ভের বিভিন্ন ফাটল দিয়ে কয়েক দিন পরও গ্যাস ভূপৃষ্ঠে উঠে আসতে পারে। কোনো উৎস থেকে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মানুষের কর্মকাণ্ড কিংবা বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ থেকেও আগুন লাগতে পারে। আগুনের রঙ ও ধোঁয়া দেখে গ্যাসে তুলনামূলক ভারি হাইড্রোকার্বন থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বাপেক্সের এই কর্মকর্তা। তবে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ না করা পর্যন্ত গ্যাসের প্রকৃতি ও উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে না। ওই এলাকায় গ্যাসের মজুত আছে কিনা, থাকলে কী পরিমাণে আছে, সেটিও এখনো জানা যায়নি। নাফিফুন আরহাম বলেন, গ্যাসের নির্গমন বন্ধ করতে বা এর চাপ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে ভূগর্ভের অন্য কোনো দুর্বল স্থান দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে আসতে পারে। এতে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এ কারণে আপাতত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সবাইকে দূরে রাখাই গুরুত্বপূর্ণ। উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ অনুযায়ী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে উপজেলা প্রশাসন। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ২০০ মিটার দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিচ্ছেন। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। স্টেশন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন; কিন্তু ভূগর্ভ থেকে অবিরাম গ্যাস বের হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। জনবল ও কারিগরি সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরে বাপেক্স, পেট্রোবাংলাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়। আগুনের শিখা বিদ্যুতের তারে ছড়িয়ে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটন ব্যবসায়ীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বারবার চেষ্টা করেও আগুন নেভাতে পারছে না। সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর শোক ও আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই আবারও আগুনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কাছাকাছি এলাকায় গ্যাসের আগুন জ্বলতে থাকায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও আবু সৈয়দ জানান, দূর থেকেও আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছে। আগুন কখন নিভবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন এলাকার মানুষ।
সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা, জেলেদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে ও বাওয়ালিরা। জীবিকার সন্ধানে বনে গিয়েও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। এ পরিস্থিতিতে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা এবং বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মানববন্ধন করেছেন হাজারো মানুষ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকার বেড়িবাঁধে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জেলে, বাওয়ালি, বনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় আবারও বনদস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে। ফলে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করতে যাওয়া জেলেরা অপহরণ এবং মুক্তিপণের ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এতে উপকূলের অসংখ্য পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। বক্তারা জানান, সুন্দরবনের ওপর নির্ভর করেই উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু বনদস্যুদের অব্যাহত হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বাভাবিকভাবে বনে প্রবেশ করতে পারছেন না অনেক বনজীবী। জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে বনে গেলেও নিরাপদে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় দাদা ভাই, ভাই ভাই, বাবু বাহিনী, জাহাঙ্গীর, আলিম ও আমির আলীর নামে পরিচিত কয়েকটি বনদস্যু দল সক্রিয় রয়েছে। এসব দলের বিরুদ্ধে জেলেদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় এবং অপহরণের অভিযোগ তোলা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা আরও দাবি করেন, মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য বনে প্রবেশের আগে জেলেদের নৌকাপ্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে কথিত কার্ড বা টিকিট সংগ্রহ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমনকি অপহৃত জেলেদের মুক্তির বিনিময়ে জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে আত্মসমর্পণ করা কিছু ব্যক্তি পুনরায় দস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি বনদস্যুদের বিরুদ্ধে সুন্দরবনে বাঘ হত্যা ও হরিণ শিকারের মতো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও তোলা হয়। বক্তারা বলেন, সুন্দরবনের বনদস্যু সমস্যা সমাধানে সাময়িক অভিযান যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রশাসন, বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান এবং কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধার, মুক্তিপণ আদায় বন্ধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। মানববন্ধনে আয়োজক কমিটির পক্ষে সভাপতিত্ব করেন কামরুল ইসলাম বাবলু। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালাউদ্দিন লিটন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন মাস্টার আব্দুর রহিম, মাওলানা এছাহাক আলী, ইউপি সদস্য আবিয়ার রহমান, ইয়াসিন আরাফাত, সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ফরিদা পারভীন ও আশিকুর রহমান। বক্তারা বলেন, সুন্দরবন শুধু প্রাকৃতিক সম্পদের ভান্ডার নয়, এটি উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস। তাই বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সুন্দরবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। মানববন্ধন শেষে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় বন্ধ এবং জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পরিচয়ে চিঠি ইস্যু করেছেন সাবেক জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। রাকসুর মেয়াদ শেষ হয়েছে গত রোববার। কিন্তু আজ মঙ্গলবার ‘রাকসু সাধারণ সম্পাদক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেতাউর রহমানকে একটি চিঠি দেন আম্মার। এ বিষয়ে উপাচার্য বলেছেন, ‘জরুরি হলে সাবেক পরিচয় দিতে হবে’। রাকসু কোষাধ্যক্ষকে ‘পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও নির্বাচনী তপশিল ঘোষণা প্রসঙ্গে’ বিষয়ে দেওয়া এ চিঠিতে আম্মার লিখেছেন, রাকসুর ষষ্ঠ অধিবেশনে নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম তৈরি ও প্রস্তুতি এবং খসড়া সংবিধান পর্যালোচনা, সংশোধন ও চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কোষাধ্যক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো–অধিবেশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাঁকে উক্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বসমূহ অর্পণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক পত্রের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য প্রতিনিধিদের আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে যাবতীয় ভাউচার জমা প্রদান এবং স্ব-স্ব দাপ্তরিক কক্ষ কোষাধ্যক্ষের দপ্তরের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম ও স্বচ্ছ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তারা এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। চিঠিতে আম্মার আরও লিখেছেন, রাকসু নির্বাচনের বিষয়ে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বর্তমান প্রতিনিধিদের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের জন্য পরবর্তী রাকসু নির্বাচন নিশ্চিত করে যাওয়া। তাই আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তপশিল ঘোষণার মধ্য দিয়েই তারা তাদের দায়িত্ব হস্তান্তর ও স্বচ্ছ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চান। এর আগে ২৬ অক্টোবর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান সালাহউদ্দিন আম্মারকে একটি চিঠি দেন। সেখানে বলা হয়, চলমান রাকসুর মেয়াদ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে সালাহউদ্দিন আম্মারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেনননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠালেও কোনো উত্তর দেননি। তবে রাকসু সহসভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সমকালকে বলেছেন, ‘রাকসুর আনুষ্ঠানিক কোনো ক্লোজিং হয়নি। ফলে এই জায়গা থেকে তিনি করতে পারেন। তবে চিঠিটা তিনি ব্যক্তিগতভাবে দিয়েছেন। এর সঙ্গে রাকসুর পূর্ণ বডির কোনো সংযুক্ততা নেই।’ রাকসু কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান আম্মারের চিঠির বিষয়ে বলেছেন, ‘উনি এখন সাবেক জিএস। এর বাইরে জিএস পরিচয় তিনি কীভাবে দিয়েছেন, সেটি আমার জানা নেই। এর পাশাপাশি তিনি আমাকে তপশিল ঘোষণা করার কথা বলেছেন, সেই এখতিয়ার আমার নেই। নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।’ সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উল ইসলাম বলেন, ‘রাকসু নির্ধারিত সময়েই মেয়াদ পূর্ণ করেছে। এখন রাকসুর কারও পদের পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ নেই। জরুরি ক্ষেত্রে হলে সেখানে সাবেক লিখতে হবে।’ অডিটের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের মেয়াদের শেষ সময়েও তারা বেশ বড় ফান্ডের কিছু ফাইল অনুমোদন নিয়েছে। এর জন্য মেয়াদের মধ্যে অডিট হয়নি। এখন তারা সব বিষয় সমন্বয় করে জমা দেবেন। পরবর্তী বিধি অনুযায়ী অডিট সম্পন্ন হবে। পরবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘সামনে ভর্তি পরীক্ষার বড় আয়োজন রয়েছে। এর সঙ্গে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না। ভর্তি পরীক্ষার পরবর্তীতে আমরা সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচনের বিষয়ে মনোযোগ দেব।’