ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব নাগরিকদের ভোট ও তাদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এবারের নির্বাচনে সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দলগুলোর অবস্থান, শর্ত এবং অন্য রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য জোট গঠনের আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে।
ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। নির্বাচনের আংশিক হিসাব ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্বাভাসে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এসব পূর্বাভাস চূড়ান্ত ফল নয়।
আরব দলগুলোর মধ্যে মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম সরকারে অংশ নেওয়ার পক্ষে। ২০২১ সালে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বে গঠিত জোটকে সমর্থন দিয়ে সরকার টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছিল দলটি। এবারও একই ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে আব্বাসের মতে, আগে নিশ্চিত হতে হবে সরকার গঠনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, এরপর আলোচনা হতে পারে শর্ত নিয়ে।
অন্যদিকে, হাদাশ, তা’আল ও বালাদকে নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট সরকারে সরাসরি যোগ দেওয়ার পরিবর্তে নেতানিয়াহুর বিকল্প সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী। দলটির নেতা ইউসেফ জাবারিন অপরাধ দমনে অর্থায়নসহ কার্যকর ও তদারকিযোগ্য পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন। তবে যুদ্ধনীতি, বসতি সম্প্রসারণ ও জাতীয় ইস্যুতে দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে ইসরায়েলের ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও বিভক্তি রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট রা’আমকে নিয়ে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান আরব দলকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটও আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে কিছু শর্ত দিয়েছেন। এসব মতপার্থক্য সরকার গঠনের সমীকরণকে আরও জটিল করেছে।
ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনাতেও ভিন্নমত রয়েছে। একদিকে, আরব নাগরিকেরা ভোট দিয়ে পার্লামেন্টে প্রতিনিধি নির্বাচিত করছেন এবং সরকার গঠনের আলোচনায় ভূমিকা রাখছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের ভেতরে বৈষম্য এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুতর বিতর্ক রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিষয়কে আলাদা প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা জরুরি।
আরব দলগুলোর রাজনৈতিক কৌশলেও পার্থক্য রয়েছে। কেউ সরাসরি সরকারে অংশ নিয়ে নীতি নির্ধারণে প্রভাব রাখতে চায়, আবার কেউ সরকারের বাইরে থেকে নির্দিষ্ট শর্তে সমর্থন দেওয়ার পক্ষে। ফলে কেবল আসনসংখ্যা নয়, অপরাধ দমন, জনসেবা, নিরাপত্তা ও জাতীয় নীতির মতো বিষয়েও সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের ফল শেষ পর্যন্ত যে সরকারই গঠন করুক, আরব দলগুলোর অবস্থান ইসরায়েলের জোট রাজনীতি ও নাগরিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। তবে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত ফলাফল, সম্ভাব্য জোটের শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার ওপর।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব নাগরিকদের ভোট ও তাদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এবারের নির্বাচনে সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দলগুলোর অবস্থান, শর্ত এবং অন্য রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য জোট গঠনের আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। নির্বাচনের আংশিক হিসাব ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্বাভাসে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এসব পূর্বাভাস চূড়ান্ত ফল নয়। আরব দলগুলোর মধ্যে মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম সরকারে অংশ নেওয়ার পক্ষে। ২০২১ সালে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বে গঠিত জোটকে সমর্থন দিয়ে সরকার টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছিল দলটি। এবারও একই ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে আব্বাসের মতে, আগে নিশ্চিত হতে হবে সরকার গঠনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, এরপর আলোচনা হতে পারে শর্ত নিয়ে। অন্যদিকে, হাদাশ, তা’আল ও বালাদকে নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট সরকারে সরাসরি যোগ দেওয়ার পরিবর্তে নেতানিয়াহুর বিকল্প সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী। দলটির নেতা ইউসেফ জাবারিন অপরাধ দমনে অর্থায়নসহ কার্যকর ও তদারকিযোগ্য পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন। তবে যুদ্ধনীতি, বসতি সম্প্রসারণ ও জাতীয় ইস্যুতে দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে ইসরায়েলের ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও বিভক্তি রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট রা’আমকে নিয়ে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান আরব দলকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটও আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে কিছু শর্ত দিয়েছেন। এসব মতপার্থক্য সরকার গঠনের সমীকরণকে আরও জটিল করেছে। ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনাতেও ভিন্নমত রয়েছে। একদিকে, আরব নাগরিকেরা ভোট দিয়ে পার্লামেন্টে প্রতিনিধি নির্বাচিত করছেন এবং সরকার গঠনের আলোচনায় ভূমিকা রাখছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের ভেতরে বৈষম্য এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুতর বিতর্ক রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিষয়কে আলাদা প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা জরুরি। আরব দলগুলোর রাজনৈতিক কৌশলেও পার্থক্য রয়েছে। কেউ সরাসরি সরকারে অংশ নিয়ে নীতি নির্ধারণে প্রভাব রাখতে চায়, আবার কেউ সরকারের বাইরে থেকে নির্দিষ্ট শর্তে সমর্থন দেওয়ার পক্ষে। ফলে কেবল আসনসংখ্যা নয়, অপরাধ দমন, জনসেবা, নিরাপত্তা ও জাতীয় নীতির মতো বিষয়েও সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের ফল শেষ পর্যন্ত যে সরকারই গঠন করুক, আরব দলগুলোর অবস্থান ইসরায়েলের জোট রাজনীতি ও নাগরিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। তবে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত ফলাফল, সম্ভাব্য জোটের শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার ওপর। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মাসে অন্তত ১৫টি মৌলিক ভিডিও পোস্ট করলেই মিলতে পারে ৩ হাজার ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। ভিডিও নির্মাতাদের উৎসাহিত করতে ‘ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস’ নামে নতুন কর্মসূচি চালু করেছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্মটি। তবে এ সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। আপাতত এক্সের কাছ থেকে আমন্ত্রণ পাওয়া নির্বাচিত নির্মাতারাই এই বোনাস পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির আওতায় ৩০ দিনের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন দিনে অন্তত ১৫টি ভিডিও প্রকাশ করতে হবে। ভিডিওগুলোতে নির্দিষ্টসংখ্যক ভিউ, লাইক কিংবা দর্শক পাওয়ার কোনো শর্ত নেই। অর্থাৎ, নির্ধারিত নিয়ম মেনে ভিডিও প্রকাশ করতে পারলেই নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকবে। এক্স জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মে মানসম্মত ভিডিও কনটেন্ট তৈরিতে নির্মাতাদের উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওর দর্শকসংখ্যা ও পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে নির্মাতাদের আয় নির্ধারিত হয়। তবে ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস কর্মসূচিতে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলেই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ভিডিও প্রকাশের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত মানতে হবে ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাসের আওতায় প্রকাশিত ভিডিওগুলো অবশ্যই মৌলিক হতে হবে। প্রতিটি ভিডিও খাড়াভাবে ধারণ করা এবং তিন মিনিটের কম দৈর্ঘ্যের হতে হবে। নির্মাতারা নিজেদের তৈরি এমন ভিডিওও এক্সে প্রকাশ করতে পারবেন, যেগুলো আগে অন্য প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা হয়েছে। তবে ভিডিওতে অন্য প্ল্যাটফর্মের ওয়াটারমার্ক থাকা যাবে না। অন্যের তৈরি ভিডিও পুনরায় পোস্ট করে এ কর্মসূচির আওতায় বোনাস পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ, নিজের তৈরি ভিডিও নির্ধারিত নিয়মে প্রকাশ করাই এ কর্মসূচির মূল শর্ত। ভিডিওতে কত ভিউ বা লাইক এসেছে, সেটি বোনাস পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়। কারা পাবেন ৩ হাজার ডলারের বোনাস? এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে হলে এক্সের কাছ থেকে আমন্ত্রণ পেতে হবে। এখন পর্যন্ত কাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো মানদণ্ড প্রকাশ করেনি প্ল্যাটফর্মটি। আমন্ত্রণ পাওয়া নির্মাতাদের আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে এক্সের ক্রিয়েটর স্টুডিওর ‘প্রোগ্রামস’ বিভাগে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মসূচির শর্ত পূরণ করতে হবে। তবে আপাতত এটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হওয়ায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা সরাসরি নিবন্ধন করেই বোনাস পাওয়ার সুযোগ পাবেন না। এক্সের ‘অরিজিনাল কনটেন্ট রিওয়ার্ডস’ কর্মসূচির সঙ্গে নতুন ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। আগের কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন, অন্তত ৫০০ ভেরিফায়েড অনুসারী এবং নির্দিষ্টসংখ্যক ইমপ্রেশনসহ বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। কিন্তু নতুন ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাসের ক্ষেত্রে এসব শর্ত বাধ্যতামূলক নয়। ফলে আমন্ত্রণ পাওয়া নির্মাতাদের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক মৌলিক ভিডিও প্রকাশ করে অর্থ উপার্জনের একটি নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে কি সবার জন্য চালু হবে? ভিডিও নির্মাতাদের আগ্রহ বাড়াতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে এ কর্মসূচি। তবে ভবিষ্যতে আরও বেশি নির্মাতাকে এর আওতায় আনা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানায়নি এক্স। তাই মাসে ১৫টি ভিডিও প্রকাশ করলেই যে প্রত্যেক ব্যবহারকারী ৩ হাজার ডলার পাবেন, বিষয়টি এমন নয়। আপাতত এক্সের আমন্ত্রণ পাওয়া নির্বাচিত নির্মাতারাই নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে এই বোনাস পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
ওপেনএআইয়ের ‘জিপিটি-৫.৬ সল’ পরিবারের একটি অভ্যন্তরীণ গবেষণা মডেল কোডিংয়ের কাজ করতে গিয়ে অনুমতি ছাড়াই অন্যের ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে পরীক্ষামূলক ইথেরিয়াম কয়েন খরচ করেছে। ইথেরিয়ামের পরীক্ষামূলক নেটওয়ার্ক সেপোলিয়ায় গত ২৬ জুন ঘটনাটি ঘটলেও, ২৫ সেপ্টেম্বর কাজের লগ পর্যালোচনার সময় তা ওপেনএআইয়ের নজরে আসে। ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য জানায়। জানা যায়, মডেলটিকে একটি পরীক্ষামূলক ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম হালনাগাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। স্মার্ট কনট্রাক্ট চালুর অনুমতি থাকলেও, এর জন্য প্রয়োজনীয় ‘গ্যাস ফি’ বা নেটওয়ার্ক ফি দেওয়ার মতো কোনো কয়েনযুক্ত ওয়ালেট মডেলটিকে দেওয়া হয়নি। অন্যের ওয়ালেট ব্যবহারেরও অনুমতি ছিল না। কিন্তু কাজ সম্পন্ন করতে মডেলটি ৩৬২টি ওয়ালেটে খোঁজ চালিয়ে প্রকাশ্যে পরিচিত একটি ‘রিকভারি ফ্রেজ’ ব্যবহার করে একটি ওয়ালেটে প্রবেশ করে। আশ্চর্যজনকভাবে, তহবিল ব্যবহারের আগে এটি নিজেই নৈতিকতার বিচার করে। পরীক্ষামূলক কয়েনের নগণ্য আর্থিক মূল্য এবং রিকভারি ফ্রেজটি প্রকাশ্যে থাকাকে যুক্তি হিসেবে ধরে, ওয়ালেটের মালিক বা নির্দেশদাতার বিনা অনুমোদনেই মডেলটি ওই তহবিল ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক ফি মেটায়। প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার পর বিকল্প নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মডেলটি এই লেনদেন সম্পন্ন করে। তবে এতে কত কয়েন খরচ হয়েছে বা ওয়ালেটটির মালিক কে, তা প্রকাশ করেনি ওপেনএআই।