এলএনজি কার্গো আসায় আপাতত গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দেশের জ্বালানি সংকট একেবারে স্বাভাবিক হচ্ছে না। তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল চালু না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, নতুন একটি টার্মিনাল নির্মাণ ও চালু করতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। ফলে ততদিন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই চলতে হবে জ্বালানি খাতকে। স্থায়ী সমাধানে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি গ্যাস অনুসন্ধানেও জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
অগ্নিকাণ্ডের পর প্রকট সংকট
গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশে জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। একদিকে গ্যাসের সংকট, অন্যদিকে গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও ঠিকমতো চলতে পারেনি। এতে এ খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।
পরে টার্মিনালটি মেরামত করে চালু করা হলেও এলএনজি কার্গো না থাকায় আবার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশের দৈনিক গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও সার্বিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায়। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি তুলে ধরে জনগণের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দুঃখ প্রকাশ করে বার্তা দেন।
এ ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও সংকট এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এমনকি আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) পেট্রোবাংলার সন্ধ্যা ৬টার হিসাবে, মোট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে ২ হাজার ৩৮২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে ১ হাজার ৬২৪ এবং এলএনজি থেকে সরবরাহ আরও বেড়ে ৭৫৮ মিলিয়ন ঘনফুট পাওয়া গেছে।
দৈনিক ঘাটতি ১ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট
পেট্রোবাংলার হিসাবে, এখন দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়েও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এর মধ্যে এলএনজি থেকে ১ হাজার এবং বাকি ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন আসে দেশীয় গ্যাস থেকে। অর্থাৎ দৈনিক ঘাটতির পরিমাণ ১ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
এই পরিস্থিতিতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন আরও কমে গেলে সংকট বাড়তে থাকবে। আবার সরকার মহেশখালীতে একাধিক টার্মিনাল নির্মাণ করবে, সেই ব্যবস্থাও নেই। মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যে পাইপলাইন রয়েছে, তা দিয়ে আর ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস আনা সম্ভব নয়। অর্থাৎ মহেশখালীতে তৃতীয়টির পর চতুর্থ টার্মিনাল নির্মাণ করতে হলে একই সঙ্গে নতুন পাইপলাইন নির্মাণেরও উদ্যোগ নিতে হবে। যা ব্যয় ও খরচসাপেক্ষ বলে মনে করা হয়।
সরকারের বক্তব্য
গত ১৬ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ছয় মাস কিংবা এক বছরের মধ্যে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অন্তত ২ বছর সময় লাগতে পারে।
তিনি বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। ৬ মাস কিংবা ১ বছরে এর সমাধান হবে না। ন্যূনতম দুই বছর লাগবে। একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল তৈরি করতেই প্রায় দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে। ফলে এর আগে গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান করা কঠিন।’
এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গত ১৩ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে বলেন, আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে আরও নতুন এফএসআরইউ স্থাপন এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। বর্তমান সংকট সাময়িক এবং সরকার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতার মতো পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর অনুসন্ধান না করে শুধু আমদানির ওপর ভিত্তি করে দেশটাকে একটি জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। আবার আমদানির জন্য হলেও যদি ইনফ্রাস্ট্রাকচারটা তৈরি ঠিকমতো করতো, দুটো এফএসআরইউর জায়গায় যদি চারটি এফএসআরইউ বসাতো, তাহলে আজকে এই সমস্যাটা দেখতে হতো না। আমেরিকা থেকে একটি বড় দল বিনিয়োগের জন্য আসছে, তারা এফএসআরইউতে বিনিয়োগ করতে চায়। তাদের আগ্রহের বিষয়ে দ্রুত চিঠি দিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
নতুন টার্মিনালে গ্যাস পেতে দুই বছর
জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, সরকার মহেশখালীতে নতুন একটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। চীনা কোম্পানি সিএনইসিকে কাজ দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন হলেও এখনও চুক্তি সই হয়নি। চীনা কোম্পানিটি চুক্তি সইয়ের পর ২২ মাসের মধ্যে টার্মিনাল নির্মাণ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে দ্রুত চুক্তি হলেও নতুন টার্মিনাল থেকে গ্যাস পেতে প্রায় দুই বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে। তবে এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে গেলে সংকট বাড়তে পারে।
দেশীয় গ্যাসেও তাৎক্ষণিক সমাধান নেই
নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বাড়িয়েও তাৎক্ষণিক সংকট সমাধানের সুযোগ নেই। স্থলভাগে বড় কোনও গ্যাস খনি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এমনকি যেসব খনি থেকে গ্যাস তোলা হচ্ছে, প্রায় প্রতিদিনই সেখানকার উৎপাদনের পরিমাণ কমছে। দেশের সবচেয়ে বেশি গ্যাস উৎপাদনকারী বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন এখন গত তিন বছরের তুলনায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে।
সূত্র জানায়, দেশের দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৭৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে ২০-২১ আগস্টের হিসাবে এসব গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৬২৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ মোট উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৫৯ শতাংশ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে।
এর মধ্যে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) গ্যাসক্ষেত্রগুলোর দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৮৫১ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৪৭৪ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুট। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) সক্ষমতা ১৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও উৎপাদন হয়েছে ১৩৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট। আর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) গ্যাসক্ষেত্রগুলোর ১৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১১০ দশমিক ৩ মিলিয়ন ঘনফুট।
আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর পরিচালিত জালালাবাদ, মৌলভীবাজার, বিবিয়ানা ও বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্র মিলিয়ে এসব ক্ষেত্রের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৯০৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট।
শুধু টার্মিনাল নয়, দরকার গ্যাস অনুসন্ধানও
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল টার্মিনাল বানালেই হবে না। গ্যাস কেনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থও থাকতে হবে। আমদানি নির্ভরতা যত বাড়বে, জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় তত বাড়বে। সে জন্য বিকল্প চিন্তাও করতে হবে। সরকার অবশ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সেটিও সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ বিষয়।
এর বাইরে দেশীয় উৎপাদনও বাড়াতে হবে। যেসব বিদ্যমান খনি রয়েছে, সেখানকার উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ডিপ ড্রিলিং, নতুন খনি খোঁজা এবং সাগরে অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে। যদি সাগরে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু হয়, তাহলে ১০ বছরের আগে গ্যাস গ্রিডে আনার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম মনে করেন, গ্যাস সংকট কাটাতে নেওয়া বড় উদ্যোগগুলোর সুফল পেতে দুই থেকে পাঁচ, এমনকি সাত বছরও সময় লাগতে পারে। তবে প্রতি বছর পাঁচ-ছয়টি করে গ্যাসকূপ অনুসন্ধান করা গেলে এবং যদি গ্যাস পাওয়া যায়, তাহলে পাঁচ বছরের মধ্যে গ্যাসের অভাব অনেকটাই দূর করা সম্ভব।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকার মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে শিক্ষকদের এমন আচরণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। ঘটনাটি ঘটেছে ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। জড়িত দুই শিক্ষক হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষিকা আসমা বেগম। তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছে এবং প্রায় ১৪ বছর ধরে তারা আলাদা বসবাস করছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মামলাও চলছে আদালতে। বিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। ঘটনার ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আফজাল হোসেন ও আসমা বেগমের বিয়ে হয় ২০০৪ সালে। তাদের সংসারে একটি মেয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আলাদা থাকলেও তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে মামলা চলছে। দুজনই ২০১১ সালের দিকে আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। মাঝেমধ্যে সেই বিরোধ বিদ্যালয় পর্যন্ত গড়ায়। ঘটনার দিনও এমন বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এমন ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেন প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন। তিনি জানান, এর আগেও দুই থেকে তিনবার বিদ্যালয়ে তাদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষার্থী রয়েছে ৯০ জনের বেশি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন ঘটনা ঘটায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে শিক্ষকদের এমন ঘটনায় বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিক্ষকদের ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি ১০ থেকে ১২ দিন আগের। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নজরে এসেছে। ওই দুই শিক্ষকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বুধবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হবে। বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
জামায়াত নিশ্চিত পরাজয় জেনে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন। তিনি বলেন, আমি আমার দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছি, আমরা কোনো অবস্থাতেই দায়িত্বশীলতার ঘাটতি হতে দেব না। অন্য কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া যাবে না। কেউ বাধা দিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করব। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়ায় এক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, সবাই জনগণের কাছে যাবেন, মানুষের হৃদয় জয় করে সঠিক নির্বাচনী কৌশল অবলম্বন করে বিজয়ী হওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে কোনো অসুবিধা নেই। মানুষ যদি আপনাকে ভালোবেসে ভোট দেয়, আমরা তা সানন্দে গ্রহণ করব। তিনি আরও বলেন, আপনারা সচেতন থাকবেন, যেন কোনোভাবেই কেউ নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে না পারে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে, কাকে ভোট দেবে। জনগণ যদি চিৎকার করে বলে আপনাকে, অর্থাৎ ধানের শীষকে ভোট দেবে, তাহলে আমার কি কাউকে ভোট দিতে বাধা দেওয়ার প্রয়োজন আছে? আমার কোনো নেতাকর্মী কাউকে বাধা দিচ্ছে না। নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাবেন। কেউ যেন অন্য প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা না দেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে মনসুর খান টাওয়ারে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন। অসুস্থ হওয়া দুজন হলেন জিল্লুর রহমান (৪০) ও নজরুল ইসলাম (৫০)। এর আগে বিকেল ৫টার দিকে চকবাজার থানাধীন মনসুর খান টাওয়ারের সাততলা ভবনটিতে আগুন লাগে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, চকবাজার থেকে অসুস্থ অবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকের বরাতে তিনি জানান, ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেনটেনেন্স) লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান রাত ১টার দিকে জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুজন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।