অন্যান্য

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার পর প্রথমবার নয়াপল্টনে রিজভী

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী।

 

রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তিনি নয়াপল্টনের কার্যালয়ে এসে নিজের দাপ্তরিক কাজ করেন। এরপর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা এবং ১২ দলীয় জোটের নেতারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কেউ কেউ ফুল দিয়েও শুভেচ্ছা জানান।

 

এর আগে সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রিজভী। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী জানান, তিনি সব সময়ই নয়াপল্টনের কার্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার পরও এ কার্যালয়ে তার যাতায়াত কমেনি। এক বিন্দুও বাড়েনি দূরত্ব। এসময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র ড. মাওলানা মুফতি মহীউদ্দিন ইকরাম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ শামসুদ্দিন পারভেজ, ইউনাইটেড লিবারেল পার্টির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থাকাকালে ২০১৫ সাল থেকেই নিয়মিত নয়াপল্টন কার্যালয়ের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন রিজভী। ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি রাজনৈতিক কারণে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরপাকড় শুরু হলে তিনি নিরাপত্তাগত ও সাংগঠনিক কারণে নয়াপল্টন কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় দপ্তরের একটি ছোট কক্ষে থাকা, খাওয়া ও ঘুমানো শুরু করেন। এরপর ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়ার কারাগারে গেলে তিনি আর বাসায় ফেরেননি।

 

ওই সময় নয়াপল্টনের কার্যালয়কে কার্যত নিজের কর্মস্থলের মতোই ব্যবহার করেছেন বিএনপির এই নেতা। প্রায় ২৫ মাস জেল খাটার পর মুক্তি পাওয়ার পর তিনি মোহাম্মদপুরের বাসায় ফেরেন। সেই সময়ে একটানা ৭৮৭ দিন (প্রায় দুই বছর দুই মাস) তিনি নয়াপল্টনে অবস্থান করেন।

 

সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পরও নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সঙ্গে তার সেই সম্পর্ক অটুট রয়েছে। নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর রোববার প্রথমবারের মতো তিনি সেখানে এসে দাপ্তরিক কাজ করেন।

 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কার্যালয়কেন্দ্রিক দলীয় কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় থাকছেন রিজভী।

 

তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলেন, ‘এ কার্যালয় তার (রিজভী) একটি ভালোবাসার ঠিকানা। তাই সুযোগ পেলেই তিনি সেখানে চলে আসেন।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ফোনের পর্দায় শিশুর জগৎ, বাইরে খেলা ও পরিবারের সময় কতটা থাকছে

ফোনটি হাত থেকে সরিয়ে নিতেই কেঁদে উঠল ছয় বছরের আনাস। কান্না থামাতে আবার তাঁর হাতে ফোনটি ফিরিয়ে দেওয়া হলো। একটু পর একটি বল নিয়ে তাকে বাইরে খেলতে ডাকতেই অবশ্য দৃশ্য বদলে গেল। ফোন রেখে খেলতে চলে গেল সে।   কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের সরারচর গ্রামের শিশু আনাসের সঙ্গে কথা হচ্ছিল তার ফোন ব্যবহারের অভ্যাস নিয়ে। দুই ভাইয়ের মধ্যে আনাস ও আয়াসকে সামলাতে হয় মা সোনিয়াকে। তাদের বাবা সেতু থাকেন ঢাকায়। মা ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকলে দুই ভাই ফোনে কার্টুন দেখে সময় কাটায়। বিশেষ করে মটু-পাতলুর মতো কার্টুন তাদের পছন্দ।   আনাসের কাছ থেকে ফোন নেওয়ার পর তার কান্না দেখে মনে হয়েছিল, ফোন ছাড়া হয়তো তাকে সামলানো কঠিন। কিন্তু খেলার প্রস্তাব পেয়ে ফোন ছেড়ে বাইরে যাওয়া অন্য একটি প্রশ্ন সামনে আনে। শিশুরা কি সত্যিই ফোন ছাড়া থাকতে পারে না, নাকি তাদের মনোযোগ অন্যদিকে নেওয়ার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ?   ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ১০ বছর বয়সী তুবার অভিজ্ঞতা আবার কিছুটা আলাদা। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া তুবাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তার কাছ থেকে ফোন নিয়ে নিলে কেমন লাগবে। পাল্টা প্রশ্ন করে সে জানতে চাইল, ফোন কেন নেওয়া হবে।   তুবা জানাল, সে ফোনে কার্টুন, মাছের কার্টুন এবং মায়ের সাথে ভিডিও দেখে। পরে ফোনে কী দেখে, তা দেখাতে গিয়ে দেখা গেল, এবিসিডি, প্রাণী পরিচিতিসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্টুনও দেখে সে। এমনকি বাবা কাজ থেকে ফিরলে বাবার সাথে বিভিন্ন প্রযুক্তি বিষয়ক ভিডিও দেখেও সময় কাটায় তুবা। ফোন সরিয়ে নেওয়ার পর খুব একটা বিরক্ত হয়নি তুবা। বরং ফোন রেখে আমার সঙ্গে খেলতে শুরু করে।   আবার ১৫ বছর বয়সী রাতুলের কাছে ফোনের অর্থ অন্য রকম। ফ্রি ফায়ার খেলার পাশাপাশি সে ভিডিও, পডকাস্ট, প্রযুক্তিবিষয়ক ভিডিও, খেলার হাইলাইটস দেখে। অনলাইন ক্লাসও করে।   ফোন ছাড়া এক দিন কাটানোর কথা কল্পনা করতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে রাতুল বলে, ‘আমার তো পাগল পাগল লাগবে। মোবাইল ছাড়া আমি এক দিনও চলতে পারব না। মোবাইল ছাড়া আমি কীভাবে ফ্রি ফায়ার খেলব, কীভাবে সময় কাটাব, কীভাবে চ্যাট করব, কীভাবে বন্ধুদের ডাকব?’   রাতুলের কাছে ফোন তাই শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগেরও একটি উপায়। তার ভাষায়, মাঠে গিয়ে খেলার সুযোগ না থাকলে তারা ফোনে ই-ফুটবল বা ফ্রি ফায়ার খেলে। গেমের মধ্যে চ্যাট করার সুযোগ থাকে। কখনো বাইরে দেখা হলেও একসঙ্গে বসে অনলাইনে খেলে।   তিন শিশুর তিন রকম অভিজ্ঞতা। কেউ ফোন সরালে কেঁদে ওঠে, কেউ সহজেই অন্য কাজে মন দেয়, আবার কারও কাছে ফোন বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগেরও মাধ্যম। তাহলে স্ক্রিনটাইমের সমস্যা কি শুধু কতক্ষণ ফোন ব্যবহার করা হচ্ছে, নাকি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিশুর চারপাশের পরিবেশ, পরিবারের সময় এবং বিকল্প কার্যক্রমের সুযোগ?   মোবাইল হাতে, বাবা ও মা এর মনে দুশ্চিন্তা মানিকদীতে রিকশা চালান আব্দুল মান্নান। তাঁর ১৫ বছর বয়সী ছেলে সাজ্জাদ ভালো ক্রিকেট খেলে। পাড়ার বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলে কিছু আয়ও করে। সেই টাকা থেকে সংসারে কিছুটা অবদান রাখে সাজ্জাদ।   সামনে এসএসসি পরীক্ষা। ছেলেকে নিয়ে বাবার স্বপ্ন ছিল, ভালো ফল করবে, সুযোগ পেলে একদিন ক্রিকেটার হবে। কিন্তু গত মাসে ছেলের জন্য মোবাইল কেনার পর থেকে দুশ্চিন্তা বেড়েছে তাঁর।   ফ্রি ফায়ার, পাবজির মতো গেম খেলার জন্য ছেলেকে ফোন কিনে দিয়েছিলেন আব্দুল মান্নান। তাঁর ভাষ্য, ফোন হাতে পাওয়ার পর সাজ্জাদ এখন অনলাইনে গেম নিয়ে পড়ে থাকে। পড়াশোনা, ঘুম, এমনকি শখের ক্রিকেট থেকেও তার মন সরে যাচ্ছে। পরিবারের অন্যদের সঙ্গে আচরণেও আগ্রাসী ভাব দেখা যাচ্ছে বলে জানান তিনি।   আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আসলে আমি চাই সাজ্জাদ আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুক। ওর মোবাইল ব্যবহারে আমার দুশ্চিন্তা হয়।’   মোবাইল কেনার আগে যে বাবা হয়তো ভেবেছিলেন, ছেলের পছন্দের গেম খেলার সুযোগ করে দেবেন, এখন সেই সিদ্ধান্তই তাঁর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফোন ব্যবহারের সীমা কীভাবে ঠিক করবেন, ছেলের পড়াশোনা ও খেলাধুলার আগ্রহ কীভাবে ফিরিয়ে আনবেন, সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তিনি।   রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সেলিনা আখতারও সন্তানের ফোন ব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁর ছেলের বয়স ১৩ বছর। নিজের ব্যস্ততার কারণে কিংবা ছেলের জেদের কাছে, তাকে একটি প্রিমিয়াম অ্যান্ড্রয়েড ফোন কিনে দিয়েছিলেন তিনি।   কয়েক দিন ধরে তাঁর মনে হচ্ছিল, ছেলে কিছু একটা লুকাতে চাইছে। একদিন ছেলের ফোনের ব্রাউজারে ঢুকে বিভিন্ন আপত্তিকর ওয়েবসাইট দেখার বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। সন্তানের জন্য ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে চিন্তায় পড়েন তিনি।   এখানে উদ্বেগটা শুধু ফোনে কত সময় কাটছে, তা নয়। শিশু কী দেখছে, কোন বয়সে দেখছে এবং অভিভাবক তার অনলাইন ব্যবহারের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করতে পারছেন, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।   মিরপুরে রিকশা চালান আজহার। তাঁর মেয়ে আরাফার বয়স ছয় বছর। মেয়ের ফোন ব্যবহারের কথা বলতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠে বিরক্তি ও অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে।   আজহার বলেন, ‘মা টিকটক দেখে, মেয়ে এটা শিখছে। আমি রিকশা চালাই, সারাদিন ব্যস্ত থাকি। মা রান্না করা আর বিভিন্ন কাজ করার সময় উপায় না পাইয়া মাইয়ার হাতে ফোনটা দেয়। মাইয়া এখন পুরা নেশায় ডুইবা গেছে। ফোন ছাড়েই না, সারাদিন টিকটক দেখে।’   কাজ শেষে বাসায় ফিরে মেয়ের হাত থেকে ফোন সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেন আজহার। তখন আরাফা কান্না করে। মেয়ের ফোন ব্যবহার কমাতে তাকে বই কিনে দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। বেশি ফোন দেখলে চোখের ক্ষতি হতে পারে, এমন উদ্বেগও রয়েছে তাঁর।   এই পরিবারের অভিজ্ঞতায় একটি বিষয় স্পষ্ট। ফোনের সঙ্গে শিশুর সম্পর্ক গড়ে ওঠার পেছনে শুধু শিশুর আগ্রহ কাজ করে না। বাবা বাইরে কাজ করেন, মা ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকেন। শিশুকে সামলানোর একটি উপায় হিসেবে ফোন হাতে দেওয়া হয়। পরে সেই অভ্যাসই হয়ে ওঠে দুশ্চিন্তার কারণ।   জরিপে মনোযোগ, বিরক্তি ও জেদের কথা এই প্রতিবেদনের জন্য অভিভাবক, শিশু ও বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি একটি অনলাইন জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতিবেদকের সংগ্রহের হিসাবে ৪৬টি ফর্ম পূরণ করা হয়েছে। এর বাইরে গ্রামের তিন অভিভাবকের সঙ্গে আলাদা কথোপকথন হয়েছে। মৌখিক সাক্ষাৎকারের তথ্য জরিপের সংখ্যার সঙ্গে যোগ করা হয়নি।   জরিপে উত্তরদাতাদের মধ্যে ছিলেন বাবা, মা, অন্য অভিভাবক, আত্মীয় এবং শিক্ষক। ঢাকা শহর থেকে এসেছে ৩২টি উত্তর, জেলা শহর থেকে নয়টি, গ্রাম থেকে তিনটি এবং উপজেলা থেকে দুটি। ফলে এই জরিপকে বাংলাদেশের সব শিশুর প্রতিনিধিত্বকারী নমুনা হিসেবে দেখা যাবে না। এটি অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতার একটি প্রাথমিক চিত্র।   স্ক্রিনটাইমের হিসাব দেওয়ার পদ্ধতিতেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ৪৬টি উত্তরের মধ্যে ২৯ জন বলেছেন, তাঁরা অনুমান করে শিশুর স্ক্রিনে কাটানো সময় জানিয়েছেন। ১২ জন ফোনের Screen Time বা Digital Wellbeing দেখে হিসাব দিয়েছেন। তিনজন শিশুর কাছ থেকে জেনে এবং দুজন অন্যভাবে সময়ের হিসাব করেছেন।   কর্মদিবসে বিনোদনমূলক স্ক্রিন ব্যবহারের জন্য দেওয়া মিনিটের সংখ্যাগুলো গড় করলে সময় দাঁড়ায় প্রায় ১৫২ মিনিট, অর্থাৎ প্রায় ২ ঘণ্টা ৩২ মিনিট। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গড় প্রায় ১৭৭ মিনিট বা প্রায় ২ ঘণ্টা ৫৭ মিনিট। তবে এগুলো উত্তরদাতাদের দেওয়া সময়ের গড়, শিশুদের ডিভাইসে সরাসরি মাপা সময় নয়। কয়েকটি উত্তরে অনেক বেশি সময় থাকায় গড়ও প্রভাবিত হয়েছে।   শিশুরা সবচেয়ে বেশি কী কাজে স্ক্রিন ব্যবহার করে, সেই প্রশ্নে ১৯ জন ইউটিউব বা ভিডিও দেখা, ১৩ জন শর্ট ভিডিও দেখা এবং সাতজন গেম খেলার কথা বলেছেন। টেলিভিশন দেখা, অনলাইন ক্লাস বা পড়াশোনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কথাও এসেছে কয়েকটি উত্তরে।   শিশুর আচরণে গত তিন মাসে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে, এমন প্রশ্নে একাধিক উত্তর দেওয়ার সুযোগ ছিল। ৪৬টি রেকর্ডের মধ্যে ২৬টি উত্তরে বিরক্তি বা অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সংখ্যক উত্তরে স্ক্রিন বন্ধ করতে বললে বেশি রাগ করার কথা এসেছে। ২৩টি উত্তরে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা বা কোনো কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে কষ্ট হওয়ার কথা বলা হয়েছে। স্ক্রিন না পেলে জেদ করার কথা এসেছে ২২টি উত্তরে।   এ ছাড়া ১৭টি উত্তরে মেজাজ দ্রুত খারাপ হওয়ার, ১৫টিতে এক কাজ থেকে আরেক কাজে দ্রুত চলে যাওয়ার, ১১টিতে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় কমে যাওয়ার এবং ১০টিতে ঘুমের সময় বা ঘুমের রুটিন বদলে যাওয়ার কথা এসেছে। আটটি উত্তরে আগের তুলনায় খেলাধুলা কমার কথা বলা হয়েছে। আটটি উত্তরে আবার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি বলে জানানো হয়েছে।   এসব তথ্য অভিভাবকদের পর্যবেক্ষণ, স্ক্রিন ব্যবহার আর আচরণগত পরিবর্তনের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেই একটিকে অন্যটির সরাসরি কারণ বলা যায় না। তবু উত্তরগুলো পরিবারগুলোর উদ্বেগের ধরন বুঝতে সাহায্য করে।   খাওয়ানোর সময় ফোন, ঘুমের আগেও স্ক্রিন খাওয়ানোর সময় শিশুকে শান্ত রাখতে ফোন দেওয়া নিয়ে জরিপে একটি উল্লেখযোগ্য চিত্র এসেছে। ২১ জন বলেছেন, প্রায় প্রতিদিন তাঁরা খাওয়ানোর সময় শিশুকে মোবাইল বা অন্য স্ক্রিন দেন। আরও আটজন বলেছেন, তাঁরা প্রায়ই দেন। অর্থাৎ এই দুই উত্তরে মোট ২৯ জন নিয়মিত বা প্রায় নিয়মিত স্ক্রিন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।   শিশু কান্না বা জেদ করলে তাকে শান্ত করতে স্ক্রিন ব্যবহার করেন কি না, এমন প্রশ্নে ১০ জন বলেছেন প্রায় প্রতিবার এবং নয়জন বলেছেন প্রায়ই। বিপরীতে ১৩ জন বলেছেন, তাঁরা কখনো এভাবে স্ক্রিন ব্যবহার করেন না।   ঘুমানোর আগের এক ঘণ্টায় শিশুর স্ক্রিন ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ১২ জন বলেছেন, তাঁদের শিশু প্রতিদিন এবং ১১ জন প্রায়ই এই সময়ে স্ক্রিন ব্যবহার করে। ১১টি উত্তরে মাঝে মাঝে, তিনটিতে খুব কম এবং নয়টিতে কখনো না বলা হয়েছে।   শিশুর সামনে অভিভাবকের নিজের স্ক্রিন ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল। ১৭ জন বলেছেন, শিশুর সঙ্গে বা সামনে থাকার সময় তাঁদের নিজেদের স্ক্রিন ব্যবহার মাঝারি। আটজন বেশি এবং দুজন খুব বেশি ব্যবহারের কথা বলেছেন। শিশু কথা বলার সময় বাবা-মা নিজের মোবাইল ব্যবহার করেন কি না, এমন প্রশ্নে ১৯ জন বলেছেন মাঝে মাঝে, আটজন প্রায়ই এবং দুজন খুব বেশি ব্যবহার করেন।   এই ফলগুলো একটি প্রশ্ন সামনে আনে। শিশুকে ফোনের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পরিবারের বড়দের অভ্যাসও কি ভূমিকা রাখছে? আবার বড়দের ব্যস্ততা, নিরাপদ খেলার জায়গার অভাব কিংবা শিশুকে কিছুক্ষণ শান্ত রাখার প্রয়োজন কি এই অভ্যাসের পেছনে কাজ করছে?   শহর ও গ্রামের অভিজ্ঞতা এক নয় গণমাধ্যমকর্মী নাজমুলের মেয়ে গ্রামে থাকে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, তাঁর মেয়ে ফোনে গেম খেললেও কেউ ডাকলে তা রেখে বাইরে খেলতে যায়। বাসায় ফিরে আবার ফোন ব্যবহার করে। তাঁর ধারণা, গ্রামে বাইরে যাওয়ার ও খেলাধুলার সুযোগ থাকায় তাঁর মেয়ের জীবনে ফোনের গুরুত্ব সব সময় একই রকম থাকে না।   তবে এটি তাঁর নিজের মেয়েকে নিয়ে অভিজ্ঞতা। সব গ্রামের শিশুর পরিস্থিতিও যে এমন, তা বলা যায় না।   টাঙ্গাইলের জেলা সদরে থাকেন নারী উদ্যোক্তা তনয়া জামান। তাঁর বড় মেয়ের বয়স ছয় বছর, ছোট মেয়ের চার। মেয়েদের ফোন ব্যবহারের বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা কিছুটা আলাদা। তনয়া জানান, ফোন না দিলে তাঁর বড় মেয়ে সাধারণত রাগ করে না। এখন ফোন দেখা যাবে না বললে মেনে নেয়।   তনয়া বলেন, ‘ফোনের প্রতি আসক্ত তো এখন সব বাচ্চাই। কিন্তু আমি যদি বলি, এখন দেখা যাবে না, মেনে নেয়।’   মেয়েরা দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকলে নিজেই তাদের অন্য কাজে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেন তনয়া। তাঁর ভাষ্য, ‘যখন মনে হয় অনেকক্ষণ স্ক্রিনের সঙ্গে আছে, তখন নিজেই বলি, এবার খেলো বা নিচে যাও, কিংবা কোনো কাজে যুক্ত হও। সাধারণত নিজে থেকে ফোন দিই না। তবে কখনো খুব ব্যস্ত থাকলে, ওরা বিরক্ত করলে একটু দেখার জন্য ফোন দিয়ে দিই।’   শিশুরা কেন ফোন বা টেলিভিশনের প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়ে, সে বিষয়ে তনয়ার নিজের একটি পর্যবেক্ষণ রয়েছে। তাঁর মতে, শিশুরা আসলে খেলতে চায়, মা-বাবার মনোযোগও চায়। কিন্তু মা-বাবা যখন তাদের যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না, তখন তারা ফোন বা টেলিভিশন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।   তনয়া বলেন, ‘আমার যেটা মনে হয়, বাচ্চারা খেলতেই চায়। ওরা মা-বাবার অ্যাটেনশন চায়। আমরা যখন সেটা দিতে না পারি, তখন তারা ফোন বা টিভি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।’   ঢাকা ও জেলা শহরের শিশুদের অভিজ্ঞতার তুলনা করতে গিয়ে তনয়া মনে করেন, রাজধানীর ব্যস্ত ও একঘেয়ে জীবনযাপনে শিশুদের স্ক্রিনের ওপর নির্ভরতা বেশি হতে পারে। জেলা শহরে বাইরে যাওয়া, খোলা জায়গায় থাকা কিংবা মাঠে খেলাধুলার সুযোগ তুলনামূলক বেশি থাকলে শিশুরা স্ক্রিনের বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ পায়।   তাঁর ভাষায়, মা-বাবা সপ্তাহের ছয় দিন ব্যস্ত থাকলেও এক দিন শিশুদের বাইরে নিয়ে গেলে তারা খুশি হয়। বরং সেই দিনের অপেক্ষায় থাকে। তবে এটি তনয়ার নিজের অভিজ্ঞতা ও ধারণা, শহর ও গ্রামের সব শিশুর ওপর করা কোনো তুলনামূলক গবেষণার ফল নয়।   তনয়া মনে করেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার ভবিষ্যতে শিশুর শরীর ও মনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিজের মেয়েদের ফোন ব্যবহারের সময়ের দিকে খেয়াল রাখেন এবং বেশি সময় স্ক্রিনে থাকলে অন্য কাজে যুক্ত করার চেষ্টা করেন।   আলাদা কথোপকথনে আরও তিন গ্রামীণ অভিভাবক জানান, তাঁদের আট, ১২ ও ১৪ বছর বয়সী সন্তানরা ফোন ব্যবহার করলেও নিয়মিত স্কুলে যায় এবং বাইরে খেলাধুলার সময়ও পায়। তাঁদের পর্যবেক্ষণে, সন্তানদের আচরণে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তাঁরা ফোনের Screen Time বা Digital Wellbeing দেখে ব্যবহারের সময় হিসাব করেননি। তবে আশপাশে অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনা সম্পর্কে জানার পর সন্তানদের ফোন ব্যবহার নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে।   এই তিনটি অভিজ্ঞতা আনুষ্ঠানিক ফর্মের উত্তর নয়, পৃথক মৌখিক সাক্ষাৎকার। এগুলোও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সব শিশুর অভিজ্ঞতা একই রকম নয়। কোথাও স্ক্রিনের ব্যবহার নিয়ে বড় উদ্বেগ রয়েছে, কোথাও আবার বাইরে খেলাধুলা ও পরিবারের নজরদারির কারণে অভিভাবকেরা তুলনামূলক স্বস্তিতে আছেন।   জরিপেও খেলাধুলার সুযোগ নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত রয়েছে। ১৪টি উত্তরে বলা হয়েছে, শিশুটি দিনে ৩০ মিনিটের কম বাইরে খেলাধুলা বা শারীরিক কর্মকাণ্ড করে। আরও ১১টি উত্তরে বলা হয়েছে, প্রায় খেলাধুলাই করে না। বিপরীতে ছয়জন এক থেকে দুই ঘণ্টা এবং চারজন দুই ঘণ্টার বেশি খেলাধুলার কথা জানিয়েছেন।   একটি উত্তরে খেলার মাঠের অভাব এবং মেয়েশিশুর নিরাপত্তার কারণে বাইরে যেতে না দেওয়ার কথাও এসেছে। ওই অভিভাবকের ভাষ্যে, শিশুটি বাসার ঘরেই খেলে। যে কিন্ডারগার্টেনে পড়ে, সেটিও একটি আবাসিক ভবনে; সেখানে খেলার মাঠ নেই।   এখানে স্ক্রিনের বাইরের আরেকটি বাস্তবতা স্পষ্ট হয়। খেলাধুলার নিরাপদ জায়গা না থাকলে বা সমবয়সী বন্ধুদের সঙ্গে মেশার সুযোগ কম থাকলে শিশুর অবসর কীভাবে কাটবে, সেটিও ভাবতে হবে।   কনটেন্ট, ভাষা ও শিশুর বিকাশ বিইউপির ডিপার্টমেন্ট অব অডিওলজি অ্যান্ড স্পিচ ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ফাতিমা মেঘলা মনে করেন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকা শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, একমুখী ভিডিও বা কার্টুন দেখার সময় শিশুর অন্য মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের সুযোগ সীমিত হতে পারে। এতে ভাষা শেখা, শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা এবং যোগাযোগের দক্ষতা গড়ে ওঠার সুযোগ কমতে পারে।   ফাতিমা মেঘলার মতে, শিশুরা সামনাসামনি যোগাযোগের মধ্য দিয়ে মুখের অভিব্যক্তি, চোখের ভাষা ও অনুভূতির আদান-প্রদান শিখতে থাকে। কেবল স্ক্রিন দেখার মাধ্যমে সেই অভিজ্ঞতার বিকল্প তৈরি হয় না।   তিনি আরও বলেন, ছোট শিশুদের খাওয়ানোর সময় বা কান্না থামাতে নিয়মিত মোবাইল দেওয়ার অভ্যাস তাদের পারস্পরিক যোগাযোগের সময় কমিয়ে দিতে পারে। ভাষা শেখার ক্ষেত্রে কথোপকথনের পালাবদল এবং অন্যের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।   নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার জাহিদ হোসাইন খান বলেন, শিশু কতক্ষণ স্ক্রিনে থাকছে, শুধু সেই হিসাব দিয়ে তার অভিজ্ঞতা বোঝা যাবে না। সে কী দেখছে এবং স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে পড়াশোনা, খেলাধুলা কিংবা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সময় কতটা কমছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।   তাঁর মতে, বয়সোপযোগী শিক্ষামূলক কনটেন্ট সীমিত মাত্রায় ইতিবাচক হতে পারে। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত বা একমুখী বিনোদনমূলক কনটেন্ট শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপনের জায়গা দখল করলে সমস্যা দেখা দিতে পারে।   জাহিদ হোসাইন খান বলেন, স্ক্রিন বন্ধ করার পর সাময়িক বিরক্তি আর সমস্যাজনক ব্যবহারের লক্ষণ এক নয়। শিশু বিকল্প কোনো কাজে সহজেই মনোযোগ ফেরাতে পারছে কি না, তার পড়াশোনা, ঘুম, খাবার ও সামাজিক মেলামেশা ব্যাহত হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।   নয়া বাজার মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মোজাম্মেল হোসেনের পর্যবেক্ষণ, ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী কিছু শিক্ষার্থীকে মোবাইলে অনুপযুক্ত ভিডিও দেখার কারণে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, শিক্ষামূলক কাজে মোবাইলের প্রয়োজন থাকলেও অনেক অভিভাবক প্যারেন্টিং কন্ট্রোল বা কিডস মোডের মতো সুবিধা সম্পর্কে জানেন না। ফলে সন্তান কী দেখছে, তা সব সময় নজরে রাখা সম্ভব হয় না।   স্টারলিং কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষিকা বৃষ্টি হোসেন বলেন, তাঁর ক্লাসের অনেক শিশু অনলাইন ক্লাসের জন্য মোবাইল ব্যবহার করে। তবে কিছু শিশু মোবাইলে বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়লে পড়াশোনা ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ হারায় বলে তাঁর পর্যবেক্ষণ। তিনি মনে করেন, কিছু ক্ষেত্রে ফোন ব্যবহারের কারণে শিশু বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের থেকেও দূরে সরে যেতে পারে।   কখন উদ্বেগের ঘণ্টা বাজে শিশুর অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার এবং মানসিক বা আচরণগত সমস্যার মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি। সাময়িক বিরক্তি বা জেদ দেখালেই শিশুকে আসক্ত বলা যায় না। সমস্যা গুরুতর হচ্ছে কি না, তা বোঝার ক্ষেত্রে দেখতে হবে স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে তার পড়াশোনা, ঘুম, খেলাধুলা, সামাজিক মেলামেশা কিংবা পারিবারিক সম্পর্ক কতটা ব্যাহত হচ্ছে।   অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল (সাবেক পরিচালক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল) ডিভাইসের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এমন নির্ভরতা শিশুদের মধ্যে আক্রমণাত্মক আচরণ ও সাইকোসোমাটিক উপসর্গের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। অপরিকল্পিত ডিভাইস ও ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে অনুপযুক্ত কনটেন্টে প্রবেশ এবং পর্নোগ্রাফির প্রতি নির্ভরতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।(তাঁর বক্তব্যের সূত্র নিউ এজের ‘Device overdependency affects child health in Bangladesh’ শীর্ষক প্রতিবেদন।)    জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিশু, কিশোর ও পরিবার সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ শিবলী সাদিক একই প্রতিবেদনে ঢাকার শিশুদের নিয়ে আইসিডিডিআর,বির গবেষণার প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন ব্যবহারে সীমা টানার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্যে দৈনিক এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি স্ক্রিনটাইম না রাখার বিষয়টি এসেছে। তবে এই পরামর্শকে সব বয়সী শিশুর জন্য একক বৈজ্ঞানিক সীমা হিসেবে দেখার আগে মূল গবেষণা ও নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।   আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ বিষয়ে সতর্কতা ও গবেষণার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। জার্মান সেন্টার ফর মেন্টাল হেলথের মুখপাত্র এবং রুর বিশ্ববিদ্যালয় বোখুমের অধ্যাপক ড. সিলভিয়া স্নাইডার বলেন, শিশু-কিশোরদের মিডিয়া ব্যবহার এবং উদ্বেগ-বিষণ্নতার মতো মানসিক সমস্যার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। তবে সম্পর্ক দেখা গেলেই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে স্ক্রিন ব্যবহারই মানসিক সমস্যার কারণ।   জার্মান সেন্টার ফর মেন্টাল হেলথের প্রেস রিলিজে তাঁর সতর্কতার সারকথা, তামাকের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে শক্ত প্রমাণ পেতেও দীর্ঘ সময় লেগেছিল। তাই ডিজিটাল মিডিয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতা ও আরও গবেষণা প্রয়োজন।   একই প্রতিষ্ঠানের গবেষক ড. ইসাবেল ব্রান্ডহোর্স্ট মনে করেন, স্ক্রিনের সামনে কাটানো সময়ের বিনিময়ে শিশুর বাস্তব অভিজ্ঞতা, সামাজিক সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগ কমে যেতে পারে। তাঁর মতে, শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেই হবে না; স্ক্রিন বন্ধ করার পর শিশুকে খেলাধুলা, সৃজনশীল কাজ ও অন্য আনন্দদায়ক কার্যক্রমের সুযোগও দিতে হবে।   ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জোয়ান লুবির বক্তব্যও এখানে প্রাসঙ্গিক। ‘Early Childhood Mental Health and Media Use’ শীর্ষক Children and Screens প্রতিবেদনে তিনি ব্যাখ্যা করেন, আবেগ চেনা, সহানুভূতি শেখা ও সামাজিক সমস্যা সমাধানের মতো দক্ষতা সরাসরি মানবিক মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়। স্ক্রিন সেই অভিজ্ঞতার বিকল্প হতে পারে না।   নিউইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান ও ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল সেন্টারের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. আন্দ্রেয়া বেথ টেমকিন-ইউ চাপ বা অস্বস্তির সময় নিজেকে শান্ত করতে শিশুর স্ক্রিনের ওপর নির্ভর করাকে সতর্কসংকেত হিসেবে দেখেছেন। নিউইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ানের ‘Screen Addiction: How To Tell If Your Child’s Screen Use Is Harming Their Health’ শীর্ষক প্রতিবেদনে তিনি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।   এই বক্তব্যগুলো মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মূল সতর্কতা হলো, শিশুর স্ক্রিন ব্যবহারের সময়ের পাশাপাশি তার দৈনন্দিন জীবনে কী পরিবর্তন হচ্ছে, সেটিও দেখতে হবে। শিশুকে শুধু বকাঝকা বা ফোন কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে সামলানোর চেষ্টা না করে নিয়মিত রুটিন, বিকল্প কার্যক্রম এবং প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তার দিকে নজর দিতে হবে।   শিশুর অধিকার শুধু ফোন কেড়ে নেওয়া নয় শিশুর স্ক্রিন ব্যবহার নিয়ে আলোচনা অনেক সময় ফোন দেওয়া উচিত কি না, সেই প্রশ্নে এসে থামে। কিন্তু শিশুর অধিকার বিবেচনায় বিষয়টি আরও বিস্তৃত।   শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, খেলাধুলা, বিশ্রাম, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিজের মত প্রকাশের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট বা অনুপযুক্ত যোগাযোগ থেকে সুরক্ষিত থাকাও প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে শেখা, তথ্য পাওয়া ও যোগাযোগের সুযোগও অস্বীকার করা যায় না।   আনাসের অভিজ্ঞতা দেখায়, ফোন নেওয়ার পর সে কেঁদেছিল, কিন্তু বল নিয়ে খেলতে ডাকলে বাইরে চলে গেছে। তুবাও ফোন রেখে খেলায় মন দিয়েছে। রাতুলের অভিজ্ঞতায় আবার ফোন বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের একটি মাধ্যম। তাই সব শিশুর জন্য একই ব্যাখ্যা বা একই ব্যবস্থা কার্যকর হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।   শিশুকে শুধু ফোন থেকে দূরে রাখলেই হবে না, তার জন্য বিকল্প আনন্দ ও শেখার সুযোগও তৈরি করতে হবে। নিরাপদ খেলার মাঠ, বই, সৃজনশীল কাজ, পরিবারের সঙ্গে সময় এবং বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি মেশার সুযোগ না থাকলে ফোনের বাইরে শিশুর অবসর কীভাবে পূরণ হবে, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।   অভিভাবকের ভূমিকার পাশাপাশি স্কুল, পরিবার এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের নিরাপদ পরিবেশ তৈরির দায়িত্বও আলোচনায় থাকা দরকার। শিশুর অনলাইন গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে, তাকে অপমান বা ভয় দেখিয়ে নয়, বোঝাপড়া ও বয়সোপযোগী নিয়মের মাধ্যমে নিরাপদ অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে।   জরিপে স্ক্রিন ব্যবহারের বিকল্প হিসেবে ১৭টি উত্তরে বাইরে খেলাধুলা, ১০টিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নয়টিতে আঁকা বা গানের মতো সৃজনশীল কাজের কথা এসেছে। বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি খেলাধুলার কথা এসেছে পাঁচটি উত্তরে, বই পড়ার কথা তিনটিতে।   এগুলো অভিভাবকদের মতামত। কিন্তু এর ভেতরেই একটা প্রয়োজনের ইঙ্গিত রয়েছে। শিশুর জন্য ফোনের বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ যত বেশি থাকবে, তত বেশি বিকল্প তৈরি হতে পারে।   স্ক্রিনের সময় নয়, শিশুর দিনটা কেমন কাটছে শিশুর মোবাইল ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের জায়গা আছে, কিন্তু সেই উদ্বেগের সমাধান একমাত্র ফোন কেড়ে নেওয়া নয়। শিশুটি কী দেখছে, কতক্ষণ দেখছে, কখন দেখছে এবং স্ক্রিনের কারণে তার ঘুম, খেলাধুলা, পড়াশোনা কিংবা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে কী পরিবর্তন হচ্ছে, সেগুলো একসঙ্গে দেখা জরুরি।   একই সঙ্গে প্রতিটি শিশুর অভিজ্ঞতা আলাদা হতে পারে। কেউ ফোন সরালে কাঁদে, কেউ সহজেই অন্য কাজে মন দেয়, কেউ আবার অনলাইন গেমের মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। তাই নির্দিষ্ট আচরণ দেখেই শিশুকে ‘আসক্ত’ বলে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। সমস্যার স্থায়িত্ব, দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব এবং বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।   এই প্রতিবেদনের জরিপে অংশ নেওয়া অনেক অভিভাবক মনোযোগ, বিরক্তি, জেদ ও আচরণগত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। আবার কিছু উত্তরদাতা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখেননি। তিন গ্রামীণ অভিভাবকের মৌখিক অভিজ্ঞতাতেও তুলনামূলক স্বাভাবিক রুটিনের কথা এসেছে। এই বৈচিত্র্য মনে করিয়ে দেয়, শুধু স্ক্রিনের সময় দিয়ে শিশুর বিকাশের পুরো চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।   শিশুর হাতে ফোন আছে কি না, সেই প্রশ্নের পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রশ্ন জরুরি। ফোনে সে কী দেখছে? কেন দেখছে? ফোন সরিয়ে দিলে তার প্রতিক্রিয়া কী? সে বাইরে খেলতে পারে কি? পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় পায় কি? অনলাইনে নিরাপদ আছে কি? এছাড়াও অভিভাবকদের জানতে হবে কিডস মোড, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল কীভাবে ব্যবহার করে, এসব আধুনিক বিষয় সম্পর্কে।    শিশুর শৈশবের বড় একটি অংশ যদি স্ক্রিনের সামনে কাটে, তাহলে শুধু ঘণ্টা গুনে তার উত্তর পাওয়া যাবে না। বরং জানতে হবে, সেই সময়ের মধ্যে শিশুটি কী শিখছে, কার সঙ্গে যুক্ত থাকছে এবং স্ক্রিনের বাইরে তার নিজের জগৎটা কতটা বড় হয়ে উঠছে?

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ফারজানা রুপা। ছবি: সংগৃহীত

ফারজানা রুপার আইনি লড়াইয়ে যুক্ত হতে চান দুই ব্রিটিশ আইনজীবী

ছবি: সংগৃহীত

আম্মারের পোস্টের প্রতিবাদে রাকসু ভবনে রবীন্দ্রনাথের পোস্টার সাঁটালেন ছাত্রদল নেতা

কক্সবাজার সৈকতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে ভাস্কর্য ‘প্লাস্টিক দানব’

ছবি: সংগৃহীত
জাইমা রহমানের জাতিসংঘে যোগদান ব্যক্তিগত অর্জন: মুশফিক

দাদা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, দাদি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, নানা সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও মন্ত্রী, বাবা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর আসনে আসীন এবং মা স্বনামধন্য চিকিৎসক।   এমন একটি পরিবারের সদস্য ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে ঘিরে দেশের সাধারণ মানুষ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমের আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে পারিবারিক পরিচয়ের পাশাপাশি তার নিজস্ব শিক্ষা, মেধা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও অর্জনকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।   জাইমা রহমানকে নিয়ে সংবাদ, প্রতিবেদন কিংবা সাক্ষাৎকার প্রকাশের বিষয়টিকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তার কর্মস্থল, কাজের ধরন, পেশাগত যোগাযোগ ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে। জনপরিসরে পরিচিত একজন মানুষের ক্ষেত্রে এ ধরনের আগ্রহ অপ্রত্যাশিত নয়। তবে সেই আলোচনায় তার ব্যক্তিগত অর্জনের জায়গাটিও যথাযথভাবে থাকা প্রয়োজন।   সোমবার (১২ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। সেখানে তিনি পারিবারিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের নিজস্ব পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত প্রস্তুতি এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে তাঁর আইন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।   মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্যের বাইরেও জাইমা রহমানের নিজস্ব একটি পরিচয় রয়েছে। পড়াশোনা, আইনি প্রশিক্ষণ, ব্যারিস্টার হয়ে ওঠার পথ, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং সংগ্রাম তাঁর জীবনের একটি নিজস্ব অধ্যায়।   তিনি উল্লেখ করেন, জাইমা রহমান লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও রাজনীতিতে স্নাতক এবং ইনার টেম্পলের মাধ্যমে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যোগ্যতাপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার। তার মতে, এই অর্জনগুলোকে কেবল পারিবারিক পরিচয়ের আড়ালে ফেলে দেওয়া মোটেও ন্যায্য নয়।   জাতিসংঘে কাজের সুযোগ নিয়ে ব্যাখ্যা জাইমা রহমানের পেশাগত সুযোগ প্রসঙ্গে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, নিজের শিক্ষা, মেধা ও প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতিসংঘে পি-৩ পর্যায়ের একটি পদে কাজ করবেন, এটি অস্বাভাবিক কোনো প্রত্যাশা নয়।   তিনি মনে করেন, পারিবারিক পরিচয়কে যোগ্যতা কিংবা অযোগ্যতার চূড়ান্ত সনদ হিসেবে বিবেচনা করলে ব্যক্তির প্রতি সুবিচার করা হয় না।   এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের কর্মী কাঠামোর বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দপ্তরের ৪০ জন কর্মীর মধ্যে আটজনের বেতন-ভাতা জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট থেকে অর্থায়িত হয়। চারজন জাতিসংঘের অন্য সংস্থা বা বিভাগ থেকে প্রেষণে কর্মরত, ২০ জন সদস্যরাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রেষণে নিয়োজিত এবং বাকি আটজন সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে কর্মরত।   মুশফিকুল ফজল আনসারী উল্লেখ করেন, জাইমা রহমান আইন কর্মকর্তা হিসেবে যে পদে যোগ দিয়েছেন, সেটি পি-৩ গ্রেডের এবং জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের অর্থায়নে পরিচালিত। অর্থাৎ, তার ভাষ্য অনুযায়ী, পদটি বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ে প্রেষণে দেওয়া পদ হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়।   জাতিসংঘের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি নিজের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিজেও জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি একসময় একটি অধিভুক্ত সংস্থায় পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। সে ক্ষেত্রে নিজের ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়েছেন।   তার ভাষায়, ‘কানেকশন থাকাটা অযোগ্যতা নয় বরং যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবেই ধরা হয়।’   বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার প্রসঙ্গ জাতিসংঘের পেশাগত পদে বেতন-ভাতা নিয়েও নিজের বক্তব্যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত কাঠামো রয়েছে। পেশাগত পদের বেতন গ্রেড ও ধাপ জীবনযাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। মূল বেতনের সঙ্গে কর্মস্থলের জীবনযাত্রার ব্যয়ভিত্তিক সমন্বয়ও যুক্ত হয়।   তার মতে, বেতনের কোনো অঙ্ক নিয়ে আলোচনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট গ্রেড, কর্মস্থল এবং প্রযোজ্য সুযোগ-সুবিধার নিয়মও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।   সাধারণ পরিষদের সভাপতির সুযোগ-সুবিধার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, সভাপতির নিজের বেতন, আবাসন, গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধা জাতিসংঘের তহবিল থেকে বহন করা হয় না। এ ক্ষেত্রে সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকেই ব্যয় বহন করতে হবে। তবে জাতিসংঘের দায়িত্বসংক্রান্ত সফর ও কার্যক্রমে দপ্তরের বাজেট ও ট্রাস্ট ফান্ড থেকে অর্থায়ন করা হয়।   একপেশে মূল্যায়ন নয়, যোগ্যতার স্বীকৃতি চান ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে জাইমা রহমানকে ঘিরে আগ্রহ, প্রশ্ন ও তার কাজের মূল্যায়নের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, তার কাজের মূল্যায়নে নিজস্ব প্রস্তুতি, পরিশ্রম, মেধা ও পেশাগত পরিচয় যেন যথাযথ স্থান পায়।   তিনি মনে করেন, পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্য জাইমা রহমানের প্রতি মানুষের আগ্রহের যৌক্তিক কারণ। একই সঙ্গে তার নিজ যোগ্যতার মাধ্যমে অর্জিত সুযোগ যেন অযৌক্তিক বিতর্ক ও একপেশে মূল্যায়নের শিকার না হয়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

শারদীয় দুর্গাপূজায় ৩ দিন বন্ধ থাকবে সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম

ছবি: সংগৃহীত

উত্তরায় জিএম কাদেরের বাসায় হামলা, ভাঙল জানালার কাচ

ছবি: সংগৃহীত

জমির দলিলে ভুল হলে সহজে সংশোধন করবেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত
সনদে ভুল তথ্য? জেনে নিন সংশোধনের সহজ উপায়

আকরাম আলী (ছদ্মনাম)। মাগুরা সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন। কয়েক দিন পর নম্বরপত্র হাতে পেয়ে তার চোখ কপালে ওঠে।    কারণ, নম্বরপত্রে তার নাম আকরাম আলীর পরিবর্তে লেখা হয়েছে ছাদ্দাম আলী। এ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তিনি। কী করবেন এখন? নম্বরপত্রে নিজের নামই যদি ভুল থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে নানা সমস্যায় পড়তে হতে পারে।   আকরামের মতো অনেককেই এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। নিজের নামের পাশাপাশি অনেক সময় বাবা বা মায়ের নামও ভুল লেখা হয় সনদে। কখনো জন্মতারিখ কিংবা অন্য কোনো তথ্যেও ভুল থাকে। কিন্তু এসব ভুল কীভাবে সংশোধন করতে হবে, তা জানা না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েন অনেকে।   তবে সনদে নামের বানান, জন্মতারিখ বা অন্য কোনো তথ্য ভুল থাকলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুসরণ করে এসব তথ্য সংশোধনের আবেদন করা যায়। তবে জন্মতারিখসহ বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে বোর্ডের নিয়ম ও নির্ধারিত সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভুল ধরা পড়লে দেরি না করে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।   যেভাবে সংশোধন করবেন   প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন   নাম বা জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম জেনে নিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী হলফনামা (এফিডেভিট) ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রয়োজন হতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীর সনদে থাকা নাম, বাবা-মায়ের নাম, শিক্ষার শাখা, পরীক্ষার সাল, পরীক্ষাকেন্দ্র, রোল নম্বর, শিক্ষা বোর্ডের নাম ও জন্মতারিখ উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি কোন তথ্যটি সংশোধন করতে চান, তা স্পষ্ট করে জানাতে হবে।   শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করুন যে শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়েছেন, সেই বোর্ডে সংশোধনের আবেদন করতে হবে। বোর্ডের নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে তা পূরণ করতে হবে। আবেদন করার আগে সংশোধনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি, জমা দেওয়ার পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি।   যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে সংশোধনের আবেদনের সঙ্গে সাধারণত প্রয়োজন হতে পারে—   নির্ধারিত ফি জমার রসিদ বা প্রমাণপত্র পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে তার কাটিং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার সনদের ফটোকপি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের সত্যায়িত ছবি ও প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র নাম বা জন্মতারিখ সংশোধনের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র প্রয়োজন অনুযায়ী হলফনামার মূল কপি   আবেদনের ধরন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্রের তালিকায় পরিবর্তন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে বোর্ডের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়া উচিত।   আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত আবেদন জমা দেওয়ার পর শিক্ষা বোর্ড প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে শুনানি বা সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হতে পারে। প্রয়োজন হলে আবেদনকারীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকেও ডাকা হতে পারে। যাচাই-বাছাই শেষে বোর্ড সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।   জন্মতারিখ সংশোধনে সতর্কতা জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত নিয়ম ও সময়সীমা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে আবেদনের সুযোগ বোর্ডভেদে বা প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই পাশের সাল থেকে কত দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।   সনদে ভুল তথ্য থাকলে তা ফেলে না রেখে দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ নিন। একই সঙ্গে জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য শিক্ষাগত নথিতে থাকা তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে আবেদন করুন। এতে পরবর্তী সময়ে চাকরি, উচ্চশিক্ষা কিংবা সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতা এড়ানো সহজ হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হুতিদের হামলায় ঝুঁকিতে সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশিরা

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং

‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’রা এক হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীক থাকছে না, একক প্রার্থী দেবে বিএনপি

0 Comments