বিশ্ব

গাজার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে ভালো লাগছে: ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার উপত্যকার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখে ভালো লাগছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ। উত্তর গাজা সফরের সময় সাংবাদিকরা গাজার বর্তমান পরিস্থিতি দেখে তার অনুভূতি জানতে চাইলে কাটজ এমন মন্তব্য করেন।

 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। 

 

গাজার ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাটজ বলেন, ‘ভালো লাগছে, তাই না?

 

তিনি দাবি করেন, এই ধ্বংসযজ্ঞ ইসরাইলের ‘পরিকল্পিত নীতির’ ফল, যার উদ্দেশ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি দূর করা। 

 

তিনি আরও বলেন, আগের মতো সাময়িক অভিযান চালিয়ে ফিরে আসার কৌশল থেকে সরে এসেছে ইসরাইল।

 

কাটজের ভাষায়, ‘আগের মতো ঢুকে আবার বেরিয়ে আসা নয়। এখন সেনাবাহিনী ভেতরে রয়েছে, সশস্ত্র যোদ্ধারা বাইরে, আর ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।’

 

এ সময় তিনি গাজা উপত্যকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে হুতিদের ওপর হামলা চালালেন সৌদি যুবরাজ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।   সোমবার সৌদি বাহিনী হুতিদের নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানার বিমানবন্দরে হামলা চালায়। এর কিছুক্ষণ পর হুতিরা সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ২০২২ সালের পর এটিই দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা বলে মনে করা হচ্ছে।   মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, হামলার আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে বিষয়টি জানান এবং তার সমর্থন চান। ট্রাম্পও ওই অভিযানে সমর্থন দেন।   গত সপ্তাহে সৌদি আরব সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে। এরপর ওয়াশিংটনে সৌদি রাষ্ট্রদূত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে রুবিও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এর একদিন পর ট্রাম্প ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যেও টেলিফোনে আলোচনা হয়।   এই হামলার পেছনে সাম্প্রতিক একটি ঘটনার ভূমিকা রয়েছে। প্রায় ১০ দিন আগে ইরানের মাহান এয়ারের একটি বিমান সানায় অবতরণ করে। বিমানটিতে হুতিদের একটি প্রতিনিধিদল ছিল, যারা ইরান সফর শেষে ফিরছিল।   সৌদি আরবের অভিযোগ, ওই বিমানে হুতিদের জন্য অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং সামরিক বিশেষজ্ঞ আনা হচ্ছিল। তবে হুতিরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।   সোমবার একই ধরনের আরেকটি ইরানি বিমান সানার দিকে গেলে সৌদি বাহিনী বিমানবন্দরে হামলা চালায়। এতে বিমানটি গন্তব্য পরিবর্তন করে আল হুদাইদাহ শহরে অবতরণ করে।   এর জবাবে হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আভা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ে। পাশাপাশি তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, সানার বিমানবন্দরের ওপর থেকে অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত সৌদি আকাশসীমায় বিমান চলাচল নিরাপদ থাকবে না।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘কামিকাজে ড্রোন বোট’ দিয়ে ইরানে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেনে’ হামলার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

গাজার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে ভালো লাগছে: ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী

১১ বিলিয়ন ডলারে তৈরি হচ্ছে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার দ্বীপ

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। সেই চাহিদাকে কেন্দ্র করে পর্যটনের নতুন ধারা হিসেবে ‘ওয়েলনেস ট্যুরিজম’ বা স্বাস্থ্য ভালো রাখার পর্যটন এখন বেশ জনপ্রিয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এক ছোট দ্বীপে এবার শুধু বেড়ানো নয়, সুস্থ থাকাকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তোলার এক মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ৪ হাজার কোটি দিরহাম (প্রায় ১০.৯ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৯০ কোটি ডলার) ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে এক বিশেষ দ্বীপ, যার নাম ‘ফাহিদ আইল্যান্ড’। ২০২৯ সালের মধ্যে পুরোপুরি চালু হতে যাওয়া এই দ্বীপে ৬ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি তৈরি করা হচ্ছে, যা মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বাড়াতে একদম শুরু থেকে পরিকল্পিতভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।   বিনোদন ও সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল ইয়াস আইল্যান্ড এবং সাদিয়াত আইল্যান্ড-এর মাঝে অবস্থিত ২.৭ মিলিয়ন বর্গমিটারের এই বিশাল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে আবুধাবি সরকারের মালিকানাধীন রিয়েল এস্টেট কোম্পানি আলদার ডেভেলপমেন্ট। আলদার জানায়, এখানকার সব অবকাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধা বাসিন্দাদের সুস্থতার এক অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।   চলতি মাসে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষকদের প্রকাশিত এক মার্কিন গবেষণায় দেখা গেছে, সবুজে ঘেরা এবং হেঁটে চলার উপযোগী এলাকায় বসবাস করলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য অনেক ভালো থাকে। এই ধারণাকে মাথায় রেখেই ফাহিদ আইল্যান্ডের কেন্দ্রস্থল দিয়ে তৈরি হচ্ছে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ বার্ম পার্ক। এটি মূলত একটি ‘ফিটনেস এবং ওয়েলনেস করিডোর’, যেখানে দৌড়ানোর ট্র্যাক এবং তিনটি সাইকেল চালানোর রুট থাকবে। এই পার্কটি একই সঙ্গে সমুদ্র সৈকত ও ম্যানগ্রোভ বনের মাঝে একটি চমৎকার প্রাকৃতিক ও শব্দ নিরোধক দেয়াল হিসেবেও কাজ করবে।   ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা বরাবর এই দ্বীপে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে শুরু করে আল্ট্রা-লাক্সারি ভিলাসহ তিনটি আবাসিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। আলদারের ওয়েবসাইটে অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য শুরু হয়েছে ১৯ লাখ দিরহাম (৫ লাখ ১৭ হাজার ডলার) থেকে, যা প্রিমিয়ার রেসিডেন্সের জন্য সর্বোচ্চ ৭৬ লাখ দিরহাম (২০ লাখ ডলার) পর্যন্ত হতে পারে। বাসিন্দারা ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি আন্তঃসংযুক্ত হাঁটার পথ দিয়ে রিটেল বুলেভার্ড, বিচ ক্লাব এবং ওয়াটার স্পোর্টস হাবগুলোতে যাতায়াত করতে পারবেন। এই হাঁটার পথের ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশ থাকবে ছায়াবৃত, যাতে মানুষ পুরো দ্বীপে অনায়াসে হেঁটে চলাচল করতে পারে।   আলদার ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এমা ম্যাকক্রিরি ব্রিন বলেন, অনেকেরই সুস্থতা নিয়ে ভুল ধারণা আছে। ভবনে কেবল একটা জিম বা স্পা রাখলেই সুস্থতার পরিবেশ তৈরি হয় না। এর মানে এমন এক পরিবেশের নকশা করা যাতে মানুষ প্রতিদিন সুস্থ ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যেমন আমাদের ওয়াটারফ্রন্ট প্রমোনাড বাসিন্দাদের সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ করে দেবে, যা ভালো থাকার জন্য জরুরি।   এই দ্বীপের শিক্ষার্থীরা ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত বেসরকারি স্কুল কিংস কলেজ স্কুল উইম্বলডন-এর ক্যাম্পাসে হেঁটে যেতে পারবে। আমেরিকার সিডিসি এবং জিএসএ-র তৈরি করা সুস্থ ভবনের সনদ প্রদানকারী প্রোগ্রাম ফিটওয়েল-এর সর্বোচ্চ থ্রি-স্টার রেটিং পেয়েছে ফাহিদ আইল্যান্ড এবং এই স্কুলটি, যা বিশ্বে প্রথম। শারীরিক কর্মকাণ্ড, স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব বিবেচনা করে এই রেটিং দেওয়া হয়েছে।   ফিটওয়েল পরিচালনাকারী সংস্থা সেন্টার ফর অ্যাক্টিভ ডিজাইন-এর সিইও জোয়ানা ফ্রাঙ্ক বলেন, আলদার স্বাস্থ্যকে কেবল আলাদা কিছু সুযোগ-সুবিধা হিসেবে না দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলেছে, যা ফাহিদ আইল্যান্ডকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বসবাসের জন্য সেরা স্থান হিসেবে প্রস্তুত করছে।   সূত্র: সিএনএন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জন্মহার বাড়াতে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে ভুটান

ছবি: সংগৃহীত

হামলার কারণে তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে

ছবি: সংগৃহীত

বাহরাইনে বিমান হামলার সাইরেন, নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে শোক জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ১৩ জুলাই ২০২৬ (বাসস): কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, রাজপরিবার, সরকার এবং দেশটির জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।   রোববার আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে পাঠানো এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর বাবা ও কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যু সংবাদে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি আপনার, রাজপরিবার, কাতার সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম কাতারি জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ছিলেন একজন দূরদর্শী ও প্রজ্ঞাবান রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর বিচক্ষণ নেতৃত্বে কাতার আধুনিক, সমৃদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে তাঁর অসামান্য অবদান ইতিহাসে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কাতারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত মূল্যায়ন করে। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং দুই দেশের জনগণের আন্তরিক বন্ধনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এ সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। শোকের এই কঠিন মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর চিন্তা ও প্রার্থনা আমির শেখ তামিম, রাজপরিবার এবং কাতারের জনগণের সঙ্গে রয়েছে। শোকবার্তার শেষে প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করে বলেন, তিনি যেন মরহুম শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানিকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং শোকসন্তপ্ত রাজপরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার ধৈর্য, শক্তি ও সান্ত্বনা দান করেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতে মার্কিন হিমার্স ধ্বংসের দাবি ইরানের

১৪ গো-রক্ষককে সাজা দেয়ার পর হত্যার হুমকি পাচ্ছেন মুসলিম বিচারক

দুর্যোগে বাংলাদেশ, সমবেদনা জানালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

0 Comments