টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের পর কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। প্রায় ৯ দিন পর জেলার অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৭০টি ইউনিয়নের প্রায় ৪৯ শতাংশ এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে ৪৫ হাজার ৪৩৬টি পরিবারের মোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
গত ৫ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত বন্যার পানি ও পাহাড়ধসের ঘটনায় জেলার সাত উপজেলায় মোট ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন রোহিঙ্গা আশ্রয়ার্থী রয়েছেন।
সোমবার রাতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম। তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব এবং ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজাদের রহমান জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া উপজেলা। সেখানে ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১১ হাজার ২৩১টি পরিবারের প্রায় ৭৫ হাজার ৫০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সাতজন নিহত হয়েছেন।
পেকুয়া উপজেলায় সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৮ হাজার ৫৬২টি পরিবারের ৪৫ হাজার ৪৪৮ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেখানে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ৭ হাজার ৯৮১টি পরিবারের প্রায় ৪০ হাজার ২০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ উপজেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই তিন উপজেলার জন্য ২২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, ঈদগাঁও ও মহেশখালী উপজেলাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় আটজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শহিদুল আলম জানান, নিহত ১৮ জন স্থানীয় বাসিন্দার পরিবারের মধ্যে আটটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা এবং আহত তিনজনের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৪৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি উপজেলায় ইউনিয়নভিত্তিক ট্যাগ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত নয় দিনে কক্সবাজারে মোট ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনা আসা হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস ওরফে তৌহিদ ইসলাম অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে দেশে ফেরেন ২০১০ সালে। ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। সোমবার (১৩ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ তরনীদাসের ছেলে। তিনি ২০০৬ সালে পলাশবাড়ীর হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০০৮ সালে ঢাকা ক্যাম্ব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফেরেন। জসীম উদ্দিন খান জানান, ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন তিনি। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিতেন এবং বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের এডিট করা ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সেভ করা ভুয়া ফোনকল দেখাতেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিষয়ে অভিযোগ থাকায় সিআইডি প্রাথমিক অনুসন্ধান করে। অনুসন্ধানকালে সিআইডি জানতে পারে, হরিদাস চন্দ্র তরনীর বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও তার বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস হিসাবে ৯ দশমিক ৩৫ কোটি টাকা জমা হয়েছে। তিনি প্রায় সমপরিমাণ টাকা উত্তোলন করেছেন, যা সন্দেহজনক। তার ব্যাংক হিসাবগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি কর্তৃক বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করা হয়েছে, যা তার পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্য পূর্ণ নয়। তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন আরও জানান, হরিদাস চন্দ্র তরনীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি মুদ্রাপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সংগ্রাম, দীর্ঘ ধৈর্য এবং নানামুখী প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজকের অবস্থানে আসার স্মৃতিচারণ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের তরুণ ও সম্ভাবনাময় নতুন উদ্যোক্তাদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছেন, নতুন কিছু করার পথটি অত্যন্ত কঠিন হলেও যেকোনও মূল্যে সরকার তাদের পাশে থাকবে এবং সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে সহযোগিতা করবে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আলী চৌধুরী সিনেট হলে আয়োজিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের যাপিত জীবন ও সংগ্রামের গল্প তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমি ব্যবসা-বাণিজ্য করেছি। যতটুকু ডিসেন্টভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন— আমি ব্যবসা-বাণিজ্য করেছি। কারণ আমার লাইফে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করতে না করতেই আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাই। দুটো জিনিস একসঙ্গে চলে না। কিন্তু বেঁচে থাকতে হবে, সেজন্য যতটুকু ব্যবসা-বাণিজ্য করা প্রয়োজন ততটুকু করেছি। বাকি সময়টা আমি রাজনীতির জন্য দিয়েছি। আমি ঠিক করে নিয়েছি যে এখানেই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “কিন্তু এই এগিয়ে যেতে একটা মানুষকে অনেক কিছুর ভেতর দিয়ে যেতে হয়। আমি গিয়েছি; মানসিক নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন, বিভিন্ন রকম হিউমিলিয়েশন (লাঞ্ছনা), ফিজিক্যাল টর্চার এবং যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে আমি গিয়েছি। অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে, তারপরে আমি আজ আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে একটা জায়গায় এসেছি।” তরুণ ও সম্ভাব্য উদ্যোক্তাদের সাহস জুগিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যারা এখানে নতুন উদ্যোক্তা আছেন, সম্ভাব্য উদ্যোক্তা আছেন, যারা এগিয়ে আসতে চাচ্ছেন, যারা কিছু করতে চাচ্ছেন আপনাদেরকে একটা কথা আমি শুধু বলি— আপনারা যেটা করতে চাইছেন, এটা খুব সহজ কাজ নয়, খুবই কঠিন। কিন্তু আপনি পারবেন যদি আপনার ইচ্ছা থাকে। আমি আমার লাইফের ছোট্ট একটা বিষয় আপনাদের সামনে তুলে ধরে আপনাদের নিরুৎসাহিত করছি না, বরং উৎসাহ দিতে চাইছি।” উদ্যোক্তাদের লড়াইয়ের গুরুত্ব মনে করিয়ে দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “আপনাদেরকে খুব সংক্ষেপে এটা বলার অর্থ হলো— আপনাদেরকে এরকম অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে আপনাদের এতটুকু বলতে পারি, এই মুহূর্তে সরকারের অবস্থান থেকে আমি বলতে পারি আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে, আপনাদেরকে হেল্প করার জন্য, আপনাদেরকে পথ দেখানোর জন্য। আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি। কতটুকু পারবো আমি জানি না, কিন্তু আমরা আছি, যতটুকু পারবো সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।” তিনি যোগ করেন, “আপনাদের এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা আজকে যারা এন্টারপ্রেনার (উদ্যোক্তা) হবেন, যারা হতে চাইছেন, যারা হয়ে গিয়েছেন এবং এগিয়ে গিয়ে যারা মানুষ, সমাজ ও সামগ্রিকভাবে দেশের উপকার করছেন, আপনাদেরকে প্রয়োজন। নিজের জন্য আপনাদের প্রয়োজন না, আপনাদের প্রয়োজন লাখো-কোটি মানুষের জন্য, আপনাদের প্রয়োজন এই দেশের জন্য।” দেশকে নিয়ে নিজের স্বপ্ন ও আশাবাদের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক কিছু অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি চীনে গিয়েছিলাম। সেখানে একটি ইনোভেশন ইভেন্ট হচ্ছিল। আমরা ছোটবেলায় সায়েন্স ফেয়ার বলতে যা বুঝতাম, অনেকটা ওরকম। বিভিন্ন স্কুলের বাচ্চারা সারা দেশ থেকে এসেছে, তারা ওখানে বিভিন্ন রকম প্রজেক্ট নিয়ে এসেছে। কিছুদিন আগে আরেকটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে প্রায় সারা বাংলাদেশের প্রাইমারি স্কুলের ২২ লাখ শিশু পার্টিসিপেট করেছিল। ক্লাস টু-থ্রি থেকে ফাইভ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ছিল। ওদের ফুটবল ম্যাচটা আমি দেখতে গিয়েছিলাম।” রাজনীতির মাঠের ক্লান্তি ও হতাশার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যেহেতু আমি রাজনীতি করি, মাঝে মাঝেই হয়তো হতাশ হয়ে যেতাম বা এখনও মাঝে মাঝে অনেক ক্ষেত্রে বেশি হতাশ লাগে। কিন্তু এই দুটো ইভেন্ট দেখার পরে, এই বাচ্চাগুলোকে দেখার পরে নিজেকে খুব কনফিডেন্ট মনে হয়েছে। আর আজ যখন আপনাদের (স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের) কতগুলো কাজ দেখলাম, কয়েকজনের বক্তব্য শুনলাম, তখন নিজের কনফিডেন্সটা আজকে আরও বেড়ে গিয়েছে।” দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “যেহেতু রাজনীতি করি, আমার একটা লক্ষ্য আছে, উদ্দেশ্য আছে। দলের পরিকল্পনা আছে, সবকিছু আছে, কাজ আছে। যেহেতু দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছি— দেশকে নিয়ে আমরা চিন্তা করি, দেশের বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে চিন্তা করি। আজ যখন আপনাদের দেখলাম এবং ওইদিন ওই দুটো ইভেন্টে ওই বাচ্চাগুলোকে দেখেছি, আমার কাছে মনে হয়েছে— এই যে আমরা রাতদিন পরিশ্রম করছি, চেষ্টা করছি একটু চেঞ্জ করার জন্য, আমাদের এই দেশটাকে আমরা এমন কিছু মানুষের হাতে দিয়ে যেতে পারবো, যারা আমরা যেখানে রেখে যাবো সেখান থেকে দেশটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। এই যে দেশটাকে আপনারা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন, আপনাদের কাছে এই প্রত্যাশা এবং এই দৃঢ় বিশ্বাস আমার আছে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত এক লরি চালকের মরদেহ চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পথেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লরি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত জামাল (৫৬) ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার উত্তর চর আইচা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় লরি চালক ছিলেন। লরির সহকারী বেলাল হোসেন জানান, ভোররাতের দিকে সিলেটের শেরপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উজানিসার ব্রিজ এলাকায় সরু সড়কের কারণে লরির গতি কমে গেলে ৪ থেকে ৫ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে লরির সামনের কাচ ভাঙচুর করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চালককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। বেলালের ভাষ্য, গুরুতর আহত হওয়ার পরও জামাল তাকে কোনো স্থানে না থেমে গাড়ি চালিয়ে যেতে বলেন। আতঙ্কের মধ্যেই তিনি লরি চালিয়ে ফেনী পর্যন্ত পৌঁছান। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে চালক পথেই মারা যান। পরে অন্য চালকদের সহায়তায় লরিটি মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ এলাকায় নিয়ে আসা হয়। জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম জানান, মরদেহে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। যেহেতু হামলার ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকায় ঘটেছে, তাই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট থানা গ্রহণ করবে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।