চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়া হলে দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বার্থে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রমিক, নাগরিক ও বিশ্লেষকরা।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-সিসিটি ইজারা: বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভাটির আয়োজন করে ‘বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলন’ এবং ‘বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম’।
বক্তারা বলেন, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর। শিল্প, কর্মসংস্থান, জ্বালানি সরবরাহ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও বন্দরের কার্যক্রম সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে এনসিটি ও সিসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে কনসেশন বা দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনার জন্য দেওয়া হলে সেটিকে কেবল বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
আলোচনায় বক্তারা দাবি করেন, এনসিটি ইজারার প্রক্রিয়া নতুন নয়। আগের সরকারের সময়ে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়েও তা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠন, বন্দর শ্রমিক, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন পক্ষের আপত্তির কারণে এক পর্যায়ে প্রক্রিয়াটি থমকে যায়। তাদের অভিযোগ, বর্তমান সরকারও বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা না করে আগের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে।
তাদের মতে, দেশের অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্প খাতের মতো বিষয়গুলোতে সরকারের অগ্রাধিকার থাকা উচিত। এর মধ্যে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় দেওয়ার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, এনসিটি ও সিসিটি রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে নির্মিত অবকাঠামো এবং এসব টার্মিনাল দেশীয় জনবল দিয়েই পরিচালিত হয়ে আসছে। বিদ্যমান অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের ভেতর থেকেই পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব কি না, সেটি আগে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আলোচনায় দাবি করা হয়, চূড়ান্ত ইজারা চুক্তির আগেই কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের চার্জ প্রায় ৩৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আমদানি-রপ্তানির খরচ বাড়তে পারে। সেই বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ ভোক্তার ওপরও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বক্তারা জানান।
রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। তাদের বক্তব্য, বর্তমানে টার্মিনাল পরিচালনা থেকে যে রাজস্ব ও উদ্বৃত্ত আয় হচ্ছে, তা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিদেশি অপারেটর দায়িত্ব নিলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে। চুক্তির আর্থিক শর্ত অনুকূলে না হলে সরকারের নিট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিদেশি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পেলেই দুর্নীতি কমবে বা দক্ষতা বাড়বে—এমন ধারণার সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। প্রশাসনিক দুর্বলতা দূর করতে পারলে দেশীয় ব্যবস্থাপনাতেও বন্দরের কার্যক্রম আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।
বন্দরে কনটেইনার জট ও ধীরগতির জন্য শুধু বন্দর কর্তৃপক্ষকে দায়ী করাও ঠিক নয় বলে মত দেন বক্তারা। তাদের মতে, কাস্টমসের পণ্য ছাড়করণ ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়া, সড়ক যোগাযোগ, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুমোদন প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতাও এতে ভূমিকা রাখে।
পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারা বলেন, বিদেশি অপারেটর নিয়োগ করলেই নতুন বিনিয়োগ বা বন্দরের সক্ষমতা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং চুক্তির শর্ত, বিনিয়োগ বাস্তবায়ন এবং সরকারের কার্যকর তদারকিই প্রকৃত ফলাফল নির্ধারণ করবে।
জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এর আশপাশে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ইস্টার্ন রিফাইনারি এবং বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো রয়েছে। বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে জাহাজ চলাচল, বাণিজ্যিক তথ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা জড়িত।
তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা চুক্তি করার আগে জাতীয় নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। তাদের আশঙ্কা, কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো চুক্তি ভবিষ্যতে পরিবর্তন বা বাতিল করতে গেলে রাষ্ট্রকে আইনি, আর্থিক ও কূটনৈতিক জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লা বাহার, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তমলিম হোসেন সেলিম এবং লেখক, বিশ্লেষক ও গবেষক আবু তাহের খানসহ অন্যরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি কালারপোলকে পূর্ণাঙ্গ থানায় রূপান্তর করা। প্রায় পাঁচ দশক আগে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি সেই উদ্যোগ। ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণার পর ১৯৮১ সালে থানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। তবে নানা প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কালারপোল পুলিশ ফাঁড়িকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, থানা না থাকায় শিল্প ও জনবহুল পশ্চিম পটিয়ার বিপুলসংখ্যক মানুষ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সেবা পেতে পটিয়া সদর থানার ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে কালারপোল হাই স্কুল মাঠে এক জনসভায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কালারপোল পুলিশ ফাঁড়িকে থানায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন। এরপর ১৯৮১ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী জামাল উদ্দিন আহমেদ স্থানীয়দের উপস্থিতিতে থানার জন্য জমি গ্রহণ করেন এবং ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। থানা প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয় বাসিন্দারাও এগিয়ে আসেন। তাদের উদ্যোগে প্রায় সাত কানি জমি দান করা হয়। কিন্তু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেখানে পূর্ণাঙ্গ থানা প্রতিষ্ঠার কাজ আর এগোয়নি। ২০০২ সালের ২৯ মার্চ ‘কালারপোল থানা বাস্তবায়ন কমিটি’র তৎকালীন সভাপতি মো. ইলিয়াস মমতাজ ও সাধারণ সম্পাদক ননী গোপাল মল্লিকের উদ্যোগে কালারপোল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ফাঁড়িটিকে পূর্ণাঙ্গ থানায় রূপান্তরের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রস্তাবিত থানার সীমানা নির্ধারণ ও প্রাথমিক খসড়াও তৈরি করা হয়েছিল। তবে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বাজেট এবং জনবল বরাদ্দ নিয়ে জটিলতার কারণে প্রকল্পটি আটকে যায়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রস্তাবটি একনেক পর্যন্ত পৌঁছালেও এখনো চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হয়নি। ফলে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও শুরু করা যাচ্ছে না। প্রস্তাবিত থানার আওতায় কুসুমপুরা, জিরি, কোলাগাঁও ও হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে কোলাগাঁও ইউনিয়নে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিপইয়ার্ড, ডকইয়ার্ড, পোশাক কারখানাসহ বেশ কয়েকটি ভারী ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ফলে এলাকাটির নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় পৃথক থানার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, কোনো অপরাধ, সংঘর্ষ বা দুর্ঘটনা ঘটলে পটিয়া সদর থানা থেকে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে। এছাড়া জিডি, মামলা ও অন্যান্য আইনি সেবা নিতে স্থানীয়দের দূরের থানায় যেতে হয়। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটিই ব্যয় হচ্ছে। কালারপোল উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় তরুণ দলের যুগ্ম সম্পাদক হারুন কানন বলেন, কালারপোলে পূর্ণাঙ্গ থানা প্রতিষ্ঠা স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। থানা না থাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। দাবি আদায়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। তিনি সংসদ সদস্যের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, কালারপোল পুলিশ ফাঁড়িকে পূর্ণাঙ্গ থানায় রূপান্তরের বিষয়ে তার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টা রয়েছে। থানা প্রতিষ্ঠা হলে পশ্চিম পটিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা কালারপোল থানা বাস্তবায়নের উদ্যোগ এবার দ্রুত কার্যকর হবে। পূর্ণাঙ্গ থানা প্রতিষ্ঠিত হলে পশ্চিম পটিয়ার শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আইনগত সেবা পাওয়ার ভোগান্তিও অনেকটা কমবে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কেয়াবাগান এলাকায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সকালে কুষ্টিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হয় গড়াই পরিবহনের একটি বাস। কেয়াবাগান এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ বাসটির সামনের চাকার এক্সেল ভেঙে যায়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি মহাসড়কের পাশে থাকা খাদে উল্টে পড়ে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করেন। তাদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। বাসের যাত্রী সোহাগ হোসেন জানান, তিনি ঝিনাইদহ থেকে বাসটিতে উঠে যশোর যাচ্ছিলেন। কেয়াবাগান এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পান। এরপর মুহূর্তের মধ্যে বাসটি উল্টে যায়। এতে বাসের প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হন বলে জানান তিনি। বারোবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মৃত্যুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, প্রাথমিকভাবে বাসটির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সেখানে অবস্থানরত এবং ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও আবাসন নির্দেশনা জারি করেছে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উপ-হাইকমিশন থেকে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এতে বাংলাদেশি নাগরিকদের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে অগ্রিম হোটেল বুকিং নিশ্চিত করে কলকাতায় ভ্রমণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। উপ-হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১৯ আগস্ট কলকাতায় একটি মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনার পর ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে কলকাতার স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনাপ্রবণ ও অনিরাপদ আবাসিক হোটেল এবং রেস্তোরাঁসমূহ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। স্থানীয় নিরাপত্তা বিধি ও অন্যান্য নিয়মকানুন মেনে বন্ধ হওয়া এসব হোটেল পুনরায় চালু হতে এক মাসের অধিক সময় লেগে যেতে পারে বলে কলকাতার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অগ্রিম আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে কলকাতায় পৌঁছালে বাংলাদেশিদের তীব্র আবাসন সংকটে পড়ার বড় আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা বা অন্য যেকোনো প্রয়োজনে কলকাতা ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বুকিং শতভাগ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হোটেলটির বর্তমান কার্যক্রম সচল রয়েছে কি না, কক্ষের প্রাপ্যতা কেমন এবং হোটেলটির সঠিক অবস্থান সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত হয়েই তবে যাত্রা শুরু করতে হবে। বিশেষ করে যারা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যাচ্ছেন, তাদের রোগীর সফরসঙ্গীদের কলকাতায় আসার আগেই আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া হোটেলের বুকিংয়ের বৈধতা, সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল থেকে হোটেলের দূরত্ব এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও কলকাতায় পৌঁছানোর পূর্বেই নিশ্চিত হয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।