ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রিস, সাইপ্রাস ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সমন্বয়ে একটি আঞ্চলিক জোট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া উচিত ইসরাইলের। বুধবার রাইখম্যান ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হার্জলিয়া সম্মেলনে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আমির বারাম এমন একটি কৌশলের কথা তুলে ধরেছেন।
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে ইসরাইলের বছরের পর বছর ধরে চলা একটি আলোচনাই আবারও সামনে এসেছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হার্জলিয়া সম্মেলনে বারাম ‘প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভারত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে গ্রিস ও সাইপ্রাস পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বৃহত্তর জোট এবং কঠোর স্বার্থ ও অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের নতুন নিরাপত্তা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতাভুক্ত দেশগুলোর মাধ্যমে ইসরাইলের পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার ধারণাটি ইসরাইল আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। গত এক দশকে গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের উষ্ণতা বৃদ্ধি দেশটির পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। বিষয়টি শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে মহড়া ও বৈঠক এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিও এর অংশ।
সম্প্রতি গ্রিসের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এথেন্স একটি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। এর নকশা অনেকাংশেই ইসরাইলের সমন্বিত ও বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আদলে তৈরি, যা সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে বেশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষার আদলে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
গ্রিসের সংবাদমাধ্যম একাথিমেরিনি সোমবার জানিয়েছে, ‘গ্রিস ইসরাইলের সঙ্গে একটি বড় ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদন নিশ্চিত করার পথে এগোচ্ছে। সরকার পরিকল্পিত ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ প্রতিরক্ষা ছাতার আওতায় ইসরাইলি প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যবস্থা কিনতে ৩ বিলিয়ন ইউরোর চুক্তির অনুমোদন চাইছে।’
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘এই কর্মসূচির আওতায় রাফায়েলের স্পাইডার অল-ইন-ওয়ান ও ডেভিডস স্লিং ব্যবস্থা এবং ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (আইএআই) তৈরি বারাক এমএক্স ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে গ্রিসের প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।’ এর আগে রোমানিয়ার কাছেও রাফায়েল তাদের স্পাইডার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রি করেছে।
গ্রিস, ভারত ও সাইপ্রাসের সঙ্গে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার শিকড় কয়েক দশক আগের। পানি গরম করার মতোই এটি ছিল ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। তবে দীর্ঘদিনের সেই ধীর প্রক্রিয়া এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে সম্পর্ক যেমন বাড়ছে, তেমনি ইসরাইল-ভারত সম্পর্কও আরো দৃঢ় হচ্ছে।
তবে বড় প্রশ্নটি হতে পারে ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে। এসব দেশ আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের অংশ। কিন্তু ৭ অক্টোবরের হামলার পর শুরু হওয়া ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি বিষয়টিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
কিছু বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও উপসাগরীয় দেশগুলো সাধারণত ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী। অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে আমিরাত কোনো ঝুঁকি নেয় না। ইয়েমেন, লিবিয়া, সুদান, হর্ন অব আফ্রিকা এবং অন্যান্য অঞ্চলে বিভিন্ন পররাষ্ট্রনীতি উদ্যোগে তারা জড়িয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের কিছু বিষয়ে আমিরাত হতাশও হয়েছে।
আমির বারাম বলেন, সাম্প্রতিক ‘যুদ্ধ এই অঞ্চলের প্রতিটি পক্ষের কাছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মূল্য আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। এর ফলে ভারত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে গ্রিস ও সাইপ্রাস পর্যন্ত একটি বৃহত্তর জোট গড়ে তোলার অভিন্ন স্বার্থ তৈরি হয়েছে।’
বারামের মতে, ইরান তার সামরিক সক্ষমতা আরও দ্রুত বাড়াতে পারে। তাই তিনি ইসরাইলকে ‘একটি নতুন আঞ্চলিক কাঠামোর’ মাধ্যমে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ‘আমাদের কৌশলগত মিত্র যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশ।’
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বহু বছর ধরে এমন উদ্যোগের পক্ষে কথা বলে আসছেন। তিনি নতুন মধ্যপ্রাচ্যের ধারণা তুলে ধরেছেন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মাধ্যমে ইসরাইল ও ভারতকে সংযুক্ত করার একটি কাঠামোর কথাও বলেছেন। তবে ইসরাইলের নেতৃত্বের জন্য সমস্যা হলো, ৭ অক্টোবরের আগের সময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ নিয়ে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই বদলে গেছে।
রিয়াদ চায়, ইসরাইল আরো মধ্যপন্থী রাজনীতি অনুসরণ করুক এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আরো বেশি সম্পৃক্ত হোক। পশ্চিম তীরে সহিংসতা, সিরিয়ায় হামলার বিষয়ে ইসরাইলের কর্মকর্তাদের হুমকি কিংবা ভবিষ্যতে মিসরের মতো ‘সুন্নি’ শক্তির সঙ্গে ইসরাইলের সংঘাতে জড়ানোর আলোচনা—কোনোটিই রিয়াদ ভালোভাবে দেখছে না। গাজায় ‘বসতি’ স্থাপনের আলোচনা নিয়েও রিয়াদ সম্ভবত বিরক্ত।
তাই সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চল হয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করিডর গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, যদি ইসরাইলি নেতারা বাণিজ্যের চেয়ে সংঘাতকেই বেশি গুরুত্ব দেন। সেক্ষেত্রে রিয়াদ জর্ডান, সিরিয়া ও তুরস্ক হয়ে কিংবা অন্য কোনো পথে বাণিজ্য করিডর পরিচালনার পথ বেছে নেবে।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের ভিত্তি সামরিক জোট নয়, স্থিতিশীলতা ও শান্তি
ইসরাইলের আঞ্চলিক কৌশলের ক্ষেত্রে এটিই সবসময় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের পর নেগেভ ফোরাম, আই২ইউ২ (ভারত, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র) এবং এন৭ উদ্যোগের মতো আঞ্চলিক ধারণাগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়—এসবের ভিত্তি হলো স্থিতিশীলতা, একীভূতকরণ ও শান্তি। এগুলো কোনো সামরিক জোট নয়।
এখানেই গ্রিস-সাইপ্রাসের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক এবং উপসাগরীয় দেশ ও ভারতের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ভারত ও উপসাগরীয় দেশগুলো কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চায় না। অন্যদিকে, তুরস্ক নিয়ে উদ্বেগ থাকায় গ্রিস ও সাইপ্রাস প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি আগ্রহী হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রেও তাদের ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিকে বিবেচনায় রাখতে হবে।
বারাম প্রতিটি দেশ এই সম্পর্ক থেকে কী প্রত্যাশা করে, তা গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাদেশিক দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমান মার্কিন নীতিকে বিচার করার সামর্থ্য রাখি না। ইসরাইলের কেউ কেউ যেটিকে দুর্বলতা বা ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন—মাঠপর্যায়ের প্রতিটি সতর্ক সংকেত উপেক্ষা করা—ওয়াশিংটনে সেটিকে পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক মনোযোগের যুগে ঠান্ডা মাথায়, হিসাব করে ও বাস্তবসম্মত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মধ্যে পার্থক্য হুমকি বোঝার ক্ষেত্রে নয়, অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে। আমাদের কাছে ইরান অস্তিত্বের জন্য হুমকি; আর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এটি দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ। তাদের মূল উদ্বেগ চীন ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল। আমরা তেহরানকে ভাবি, তারা তাইওয়ানকে ভাবে।’
বারামের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতি ইরানের হুমকি ভারত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে গ্রিস ও সাইপ্রাস পর্যন্ত একটি বৃহত্তর জোট গঠনের অভিন্ন স্বার্থ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, প্রমাণিত সামরিক অভিজ্ঞতা ও প্রতিরক্ষা খাতে উদ্ভাবনের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর আর্থিক শক্তি যুক্ত হলে নতুন একটি নিরাপত্তা-অর্থনৈতিক ফ্রন্ট তৈরি করা সম্ভব।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্বের বিকল্প নয়। তবে এটি ইসরাইলকে কৌশলগতভাবে আরো বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ দেবে। পাশাপাশি আমাদের কৌশলগত ভিত্তিও বহুমুখী হবে।’
বারামের কৌশলগত আলোচনা এমন একটি বিষয় সামনে এনেছে, যার ঘাটতি কখনো কখনো প্রকটভাবে দেখা গেছে—বড় চিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অন্যান্য দেশ কী চায় এবং তারা পরিস্থিতিকে কীভাবে দেখছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
জেরুজালেমের কিছু রাজনীতিকের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইসরাইলকে ভবিষ্যতে একাধিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে—এমন একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। ‘সুন্নি’ দেশগুলো, সিরিয়া, মিসর ও তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর কথাও বলা হচ্ছে। এসব বক্তব্য ইসরাইলের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূমিকার জন্য কোনোভাবেই সহায়ক নয়।
বেশির ভাগ দেশই অনন্তকাল ধরে চলা যুদ্ধে জড়াতে চায় না। একইভাবে, তারা ইসরাইলের ‘সুপার-স্পার্টা’র সঙ্গে অংশীদারিত্বও চায় না।
তারা হয়তো এথেন্সের মতো একটি অংশীদারকে পছন্দ করবে—তবে সেই এথেন্স, যুদ্ধের আগে; সেই সময়ের এথেন্স, যখন তার স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন নেতারা দেশটিকে ধ্বংসাত্মক পেলোপনেশীয় যুদ্ধে জড়িয়ে দেননি।
যুদ্ধের আগে এথেন্সের কৌশল মোটামুটি সঠিক ছিল। যুদ্ধের পর এথেন্সের পতন ঘটে। আর সময়ের সঙ্গে স্পার্টাও কার্যত হারিয়ে যায়। বৃহত্তর কৌশল নিয়ে যারা চিন্তা করেন, তারা নিশ্চয়ই ইসরাইলের ভবিষ্যৎকে এমন দেখতে চাইবেন না।
ইসরাইলের জন্য বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল হলো পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত সম্পর্ক গড়ে তোলা। যুক্তরাষ্ট্রও এসব বিষয়ে কাজ করছে—লিবিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগসহ অন্যান্য বৈশ্বিক ইস্যুতেও। তাই ইসরাইলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করা লাভজনক; আঞ্চলিক সংঘাত আরও বাড়ানো নয়।
জেরুজালেম পোস্টের বিশ্লেষণ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
এক চুক্তিতে তিন দেশ, যাকে অনেকেই বলছেন ‘মুসলিম ন্যাটো’। তবে এর আনুষ্ঠানিক নাম মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের এই চুক্তি বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যার মূল কারণ এর সামরিক দিক। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক ও তুরস্কের হাসান কালিয়ানকু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুরাত আসলাম বলেন, এটিকে আক্রমণাত্মক জোট ভাবা ভুল হবে; এটি মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট। এই জোটের নির্দিষ্ট কোনো শত্রু দেশ নেই, বরং এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো- সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করবে না এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে। একই সাথে এর বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এতে নতুন নতুন দেশ যুক্ত হতে পারে। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে প্রাথমিকভাবে তিনটি দেশ থাকলেও এখানে দেশের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে এবং এই আলোচনায় বাংলাদেশের নামও উল্লেখ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, এই চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক। তবে এই জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। গতকাল সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জোটে যোগদানের বিষয়টি নির্ভর করছে বর্তমান সদস্যদের অভিপ্রায়ের ওপর; তারা আমন্ত্রণ জানালে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। এটি মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হওয়ায় অন্যদের উদ্বেগের কোনো অবকাশ নেই। নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসিব আজিজ বলেন, মক্কা জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের মূলত যৌথ সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে, যেখানে তুরস্ক ও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব, এআই পার্টনারশিপ এবং বড় সামরিক জোটের মতো গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই তুরস্ক থেকে বায়রাক্তার ড্রোন এবং অটোকার কোবরা ভেহিকেল আমদানি করছে, যা এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আরো সম্প্রসারিত হতে পারে। তবে তুরস্কের ভূরাজনীতির অধ্যাপক মনে করেন, এটি নতুন কোনো ন্যাটো নয়, কারণ এখানে ন্যাটোর মতো কোনো কমান্ড স্ট্রাকচার বা সেনাবাহিনী নেই। যেমন অতীতে সৌদি আরব ইরানের হামলার শিকার হলেও পাকিস্তানকে কোনো যুদ্ধে জড়াতে হয়নি। তবে এই জোটের অন্যতম ঝুঁকিটি হলো দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি। এই জোটে পাকিস্তান থাকায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত শুরু থেকেই জোটটিকে সন্দেহের চোখে দেখছে। ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তানের কোনো দ্বন্দ্বে এই জোটের ভূমিকা কী হবে এবং বাংলাদেশের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, তা একটি বড় প্রশ্ন। সূত্র: বিবিসি বাংলা
নেপালে সম্প্রতি হিমবাহধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কবল থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক মার্কিন দম্পতি। দেশে ফিরে তারা সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, পাহাড়ের ওপর থেকে কাদা ও পানির স্রোত এত দ্রুত নিচে নেমে আসছিল যে, সেটিকে ‘সুনামি’র সঙ্গে তুলনা করা যায়। বেঁচে যাওয়া দম্পতি হলেন অঞ্জনা রাজা (৫২) ও পট্টাভিরামন ভেঙ্কটেশন (৫৬)। পেশাদার গাইডের নেতৃত্বে নেপালে ভ্রমণের সময়ই ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েন তারা। কাঠমান্ডুতে সিএনএনের প্রতিনিধি উইল রিপলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দম্পতি জানান, তাদের গাইডের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও তৎপরতার কারণেই তারা বেঁচে গেছেন। আকস্মিক বন্যার পানি নামতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই গাইড তাদের নিয়ে দ্রুত পাহাড়ের উঁচু ও নিরাপদ একটি স্থানে চলে যান। ফলে ভয়াবহ স্রোতের হাত থেকে রক্ষা পান তারা। এদিকে নেপালে হিমবাহধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ৫৪৭ জনে পৌঁছেছে। গত বুধবারের এই দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ১ হাজার ৪৭৩ জন। এখনো অন্তত ৯৭৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। নেপালের পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, অঞ্জনা ও পট্টাভিরামনসহ এখন পর্যন্ত ১২১ জন বিদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করেছে নেপাল সরকার। উদ্ধারকাজে পুলিশের সাড়ে চার হাজারের বেশি সদস্য অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় আরও ১ হাজার ২০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চীনের একটি উদ্ধারকারী দলও পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টেও একই অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটেছিল। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে সে সময় তিব্বতের একটি হিমবাহ-হ্রদের পানি উপচে পড়ে। ওই ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি নেপাল ও চীনের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুসহ বেশ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সূত্র: সিএনএন
তামিলনাড়ু বিধানসভার দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা ভেঙে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের জন্ম দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। বৃহস্পতিবার বিধানসভার অপরাহ্ন সেশনের অধিবেশন চলাকালীন নিজের জন্য নির্ধারিত আলাদা আসন ছেড়ে প্রথম সারিতে সাধারণ মন্ত্রীদের পাশে গিয়ে বসেন তিনি। সাধারণত তামিলনাড়ু বিধানসভায় স্পিকারের আসনের কাছাকাছি মুখ্যমন্ত্রীর জন্য একটি পৃথক ও নির্দিষ্ট আসন থাকে। তার পাশে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে মন্ত্রীরা বসেন এবং বিপরীত সারিতে বিরোধী দলের সদস্যরা অবস্থান করেন। তবে বৃহস্পতিবার স্পিকার জেসিডি প্রভাকরের ডান পাশে থাকা নিজের নির্দিষ্ট আসন ছেড়ে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় হঠাৎই সভার প্রধান কে এ সেনগোট্টাইয়ান এবং মন্ত্রী আধব অর্জুনের মাঝে গিয়ে বসেন। বিধানসভা সূত্রের মতে, মুখ্যমন্ত্রীদের আসন পরিবর্তনের এই ঘটনা বিধানসভার ইতিহাসে নজিরবিহীন। এদিকে একই দিনে অধিবেশন চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সময় বিভাগীয় সচিবদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন। কারুর পদদলিত হওয়ার মতো ঘটনা নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী ডিএমকে সরকারের আমলে মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন এবং মুখ্য সচিবসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত থাকতেন। বর্তমান সেশনে সেই প্রশাসনিক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। এর জবাবে মন্ত্রী আধব অর্জুন জানান, কর্মকর্তারা পাশেই ‘ওয়ার রুমে’ উপস্থিত থেকে বিধায়কদের বক্তব্য পর্যবেক্ষণ ও নোট নিচ্ছেন। স্পিকার জেসিডি প্রভাকর বিরোধীদলীয় নেতার দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে জানান, অধিবেশন চলাকালীন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিধানসভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হবে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে