স্বাস্থ্য

এক বছরের আগে শিশুকে মধু কেন নয়? জানুন ঝুঁকির কারণ

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

মধুকে সাধারণত প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধারণা প্রযোজ্য নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক বছরের কম বয়সি শিশুকে কোনোভাবেই মধু খাওয়ানো উচিত নয়। কারণ মধু থেকে এ বয়সি শিশুর বিরল হলেও গুরুতর একটি রোগ—ইনফ্যান্ট বোটুলিজম—হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

 

মধুতে কী এমন আছে, যা শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?

মধুর মধ্যে কখনো কখনো ক্লোস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনাম নামের ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকতে পারে। বড় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের পরিপাকতন্ত্র সাধারণত এসব স্পোরের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু এক বছরের কম বয়সি শিশুর পাচনতন্ত্র এখনও পুরোপুরি পরিণত হয় না।

 

ফলে শিশু মধুর মাধ্যমে এসব স্পোর গ্রহণ করলে তা অন্ত্রে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ক্ষতিকর নিউরোটক্সিন তৈরি করতে পারে। এই বিষ শরীরের পেশি নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলেই দেখা দিতে পারে ইনফ্যান্ট বোটুলিজম।

 

তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি মধুর বোতলেই এই ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকে বা মধু খেলে প্রতিটি শিশুই অসুস্থ হয়ে পড়বে। ইনফ্যান্ট বোটুলিজম একটি বিরল রোগ। তারপরও এক বছরের কম বয়সি শিশুর জন্য মধু কোনো প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে না। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এ বয়সে মধু সম্পূর্ণ বাদ দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

 

মধুকে অনেক সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো কিংবা সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। কিন্তু শিশুর ক্ষেত্রে মূল উদ্বেগ মধুর চিনি বা মিষ্টতা নয়; বরং এতে থাকা সম্ভাব্য ব্যাকটেরিয়ার স্পোর।

 

বিশ্বজুড়েও দেখা যাচ্ছে রোগটির উপস্থিতি

শিশুদের বোটুলিজমের ঝুঁকিকে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় সাম্প্রতিক বৈশ্বিক তথ্যেও। Pediatrics জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৮টি দেশে ২০০৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইনফ্যান্ট বোটুলিজমের ২ হাজার ৯৪৩টি নিশ্চিত ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

 

গবেষণায় দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়াল স্ট্রেন এই রোগের জন্য দায়ী হতে পারে। এর মধ্যে টাইপ এ ও টাইপ বি বোটুলিনাম টক্সিনের ঘটনাই ছিল বেশি।

 

গবেষকদের মতে, ইনফ্যান্ট বোটুলিজম সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে এখনও সচেতনতা তুলনামূলক কম। অনেক জায়গায় রোগটি শনাক্ত করার সীমিত সক্ষমতার কারণে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া ঘটনাগুলোর চেয়েও বেশি হতে পারে।

 

শিশুর শরীরে কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে?

ইনফ্যান্ট বোটুলিজমের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক লক্ষণ হলো কোষ্ঠকাঠিন্য। অনেক সময় শিশুর স্পষ্ট দুর্বলতা দেখা দেওয়ার আগেই এই সমস্যা শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে—

  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • খেতে বা দুধ পান করতে সমস্যা
  • দুর্বলভাবে কান্না করা
  • মুখের নড়াচড়া কমে যাওয়া
  • চোখের পাতা ঝুলে পড়া
  • মাথা ঠিকভাবে ধরে রাখতে না পারা
  • গিলতে সমস্যা হওয়া

বিষক্রিয়ার কারণে গিলতে ও শ্বাস নিতে ব্যবহৃত পেশিগুলোও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করার পাশাপাশি শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।

 

তাই এক বছরের কম বয়সি কোনো শিশুর মধ্যে অস্বাভাবিক দুর্বলতা, খাওয়ানোর সমস্যা, দুর্বল কান্না, কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
এক বছরের আগে শিশুকে মধু কেন নয়? জানুন ঝুঁকির কারণ

মধুকে সাধারণত প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধারণা প্রযোজ্য নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক বছরের কম বয়সি শিশুকে কোনোভাবেই মধু খাওয়ানো উচিত নয়। কারণ মধু থেকে এ বয়সি শিশুর বিরল হলেও গুরুতর একটি রোগ—ইনফ্যান্ট বোটুলিজম—হওয়ার ঝুঁকি থাকে।   মধুতে কী এমন আছে, যা শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ? মধুর মধ্যে কখনো কখনো ক্লোস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনাম নামের ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকতে পারে। বড় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের পরিপাকতন্ত্র সাধারণত এসব স্পোরের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু এক বছরের কম বয়সি শিশুর পাচনতন্ত্র এখনও পুরোপুরি পরিণত হয় না।   ফলে শিশু মধুর মাধ্যমে এসব স্পোর গ্রহণ করলে তা অন্ত্রে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ক্ষতিকর নিউরোটক্সিন তৈরি করতে পারে। এই বিষ শরীরের পেশি নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলেই দেখা দিতে পারে ইনফ্যান্ট বোটুলিজম।   তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি মধুর বোতলেই এই ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকে বা মধু খেলে প্রতিটি শিশুই অসুস্থ হয়ে পড়বে। ইনফ্যান্ট বোটুলিজম একটি বিরল রোগ। তারপরও এক বছরের কম বয়সি শিশুর জন্য মধু কোনো প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে না। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এ বয়সে মধু সম্পূর্ণ বাদ দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।   মধুকে অনেক সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো কিংবা সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। কিন্তু শিশুর ক্ষেত্রে মূল উদ্বেগ মধুর চিনি বা মিষ্টতা নয়; বরং এতে থাকা সম্ভাব্য ব্যাকটেরিয়ার স্পোর।   বিশ্বজুড়েও দেখা যাচ্ছে রোগটির উপস্থিতি শিশুদের বোটুলিজমের ঝুঁকিকে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় সাম্প্রতিক বৈশ্বিক তথ্যেও। Pediatrics জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৮টি দেশে ২০০৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইনফ্যান্ট বোটুলিজমের ২ হাজার ৯৪৩টি নিশ্চিত ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।   গবেষণায় দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়াল স্ট্রেন এই রোগের জন্য দায়ী হতে পারে। এর মধ্যে টাইপ এ ও টাইপ বি বোটুলিনাম টক্সিনের ঘটনাই ছিল বেশি।   গবেষকদের মতে, ইনফ্যান্ট বোটুলিজম সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে এখনও সচেতনতা তুলনামূলক কম। অনেক জায়গায় রোগটি শনাক্ত করার সীমিত সক্ষমতার কারণে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া ঘটনাগুলোর চেয়েও বেশি হতে পারে।   শিশুর শরীরে কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে? ইনফ্যান্ট বোটুলিজমের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক লক্ষণ হলো কোষ্ঠকাঠিন্য। অনেক সময় শিশুর স্পষ্ট দুর্বলতা দেখা দেওয়ার আগেই এই সমস্যা শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে— কোষ্ঠকাঠিন্য খেতে বা দুধ পান করতে সমস্যা দুর্বলভাবে কান্না করা মুখের নড়াচড়া কমে যাওয়া চোখের পাতা ঝুলে পড়া মাথা ঠিকভাবে ধরে রাখতে না পারা গিলতে সমস্যা হওয়া বিষক্রিয়ার কারণে গিলতে ও শ্বাস নিতে ব্যবহৃত পেশিগুলোও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করার পাশাপাশি শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।   তাই এক বছরের কম বয়সি কোনো শিশুর মধ্যে অস্বাভাবিক দুর্বলতা, খাওয়ানোর সমস্যা, দুর্বল কান্না, কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতীকী ছবি

ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফাইল ছবি

হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু ঠেকাতে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান মেয়র শাহাদাতের

রোগীদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ শুক্রবার সকালে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
মুগদা হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বাইরে পরীক্ষা করানোর অভিযোগ

অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ শুক্রবার সকালে তিনি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসক ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি ডেঙ্গু ওয়ার্ডও পরিদর্শন করেন। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে- এমন অভিযোগ পান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এতে রোগীদের নিজেদের পকেট থেকে টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ রোগীদের চিকিৎসার জন্য সরকার অর্থ দিচ্ছে এবং হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মুগদা হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা রয়েছে। পরিদর্শনের সময় রোগীদের কাগজপত্র দেখে এবং তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, অনেক রোগীকে বাইরে থেকে পরীক্ষা করানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটিকে প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। এরপরও রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সম্প্রতি হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি নিজেই সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে রোগীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা হাসপাতালের সেবার মান উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

জ্বর হলে কি গোসল করা উচিত? জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

হাম প্রতিরোধে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন টিকাদান কর্মসূচির ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

পাথরকুচি পাতা একটি অত্যন্ত পরিচিত ঔষধি উদ্ভিদ।

পাথরকুচি পাতার ১১ অসাধারণ গুণ

প্রতীকী ছবি
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়ক যে ১০ খাবার

প্রতিদিনের ব্যস্ততায় আমরা প্রায়ই লক্ষ করি যে, আমাদের মনোযোগ কমে যাচ্ছে বা প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার খাদ্যাভ্যাস সরাসরি আপনার মস্তিষ্কের গঠন এবং কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে? সঠিক কিছু খাবার আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, মনোযোগ রক্ষা এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখতে চমৎকার ভূমিকা রাখতে পারে।   দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের অনেকেরই দৈনন্দিন খাবারে ওমেগা-৩ বা কোলাইনের মতো মস্তিষ্কের জন্য অপরিহার্য উপাদানের ঘাটতি থেকে যায়, যা স্মৃতিশক্তি ও চিন্তার গতি কমিয়ে দেয়। এমনকি আমাদের অন্ত্র বা ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ সুস্থ না থাকলে তা আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও মেজাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্মৃতিশক্তিকে শাণিত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ককে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে সহায়ক এমন ১০টি বিশেষ খাবার নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের ফিচার।   ১. তৈলাক্ত মাছ মস্তিষ্কের জন্য অন্যতম সেরা খাবার হলো সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ। এতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা মস্তিষ্কের কোষের গঠন এবং স্নায়ুকোষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিষণ্নতা এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।   ২. ডিম   ডিমকে বলা হয় স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতার জন্য আদর্শ খাবার। এটি কোলাইন নামক উপাদানের সেরা উৎস, যা অ্যাসিটাইলকোলিন তৈরি করে; এটি স্মৃতিশক্তি এবং দ্রুত চিন্তা করার ক্ষমতা ধরে রাখে। এ ছাড়া ডিমের ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মন ভালো রাখার হরমোন ‘সেরোটোনিন’ তৈরিতে সাহায্য করে।   ৩. বেরি জাতীয় ফল স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি বা ব্ল্যাকবেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস। এর ফ্লেভোনয়েড উপাদান মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং নতুন মস্তিষ্কের কোষ তৈরিতে উদ্দীপনা দেয়। এটি বয়সজনিত মানসিক অবক্ষয় রোধেও কার্যকর।   ৪. অ্যাভোকাডো পুষ্টিবিদদের মতে, এটি বিশ্বের অন্যতম নিখুঁত খাবার। এতে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে [৯]। এর টাইরোসিন উপাদান আপনাকে কাজে মনোযোগী ও অনুপ্রাণিত রাখতে ভূমিকা রাখে।   ৫. কেল (সবুজ শাক) কেল বা এই জাতীয় সবুজ শাক পুষ্টির বোমা হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা ভিটামিন ‘কে’ মৌখিক স্মৃতিশক্তি উন্নত করে এবং ভিটামিন ‘সি’ প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট হিসেবে কাজ করে।   ৬. সামুদ্রিক শৈবাল আয়োডিন ও ভিটামিন বি-১২ এর চমৎকার উৎস হলো সামুদ্রিক শৈবাল। আয়োডিন বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এতে থাকা টাউরিন নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে শান্ত ও প্রফুল্ল রাখে।   ৭. ডার্ক চকোলেট চকোলেটে থাকা ‘আনন্দমাইড’ নামক উপাদান মনকে পরম শান্তিতে ভরিয়ে দেয় [১৭]। এর সামান্য ক্যাফেইন স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে, তবে এটি আপনাকে অস্থির করে তোলে না।   ৮. আখরোট মস্তিষ্কের জন্য আখরোট হলো বাদামের মধ্যে সেরা। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাট মস্তিষ্কের প্রদাহ কমায় এবং শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করে।   ৯. হলুদ রান্নার এই অতিপরিচিত মসলাটি বিষণ্নতা রোধে ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করতে পারে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয়।   ১০. অলিভ অয়েল অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেল স্মৃতিশক্তি এবং অন্যান্য জ্ঞানীয় ফাংশন উন্নত করে। এটি মস্তিষ্কে আলঝেইমার রোগের জন্য দায়ী প্রোটিন পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।   সঠিক ডায়েট এবং পুষ্টিকর খাবার আপনার মস্তিষ্ককে কেবল সচলই রাখে না, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ থেকে মুক্তি দিয়ে জীবনকে করে তোলে আনন্দময়।   নিউরো হেলথ অবলম্বনে

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৫৭১

ছবি: সংগৃহীত

মাতৃমৃত্যু কমানো ও নবজাতকের টিটেনাস নির্মূলে বাংলাদেশের প্রশংসা ডব্লিউএইচওর

ছবি: সংগৃহীত

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু

0 Comments