বিনোদন

এবারও ভোট দেবেন না ইরফান সাজ্জাদ, জানালেন কারণ

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬

রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। শোবিজ অঙ্গনের তারকারা কে কোথায় ভোট দিতে যাবেন এ নিয়েও দর্শক-ভক্তদের আগ্রহ তুঙ্গে। তারকারাও নতুন সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরছেন। সব মিলিয়ে সারাদেশে এক উৎসবের আমেজ বইছে। ঠিক এসময় অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ জানালেন তিনি এবারও ভোট দিতে যাচ্ছেন না!

 

এ অভিনেতা চট্টগ্রাম-১০ আসনের ভোটার। বহু বছর আগে ভোটার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেননি তিনি। কারণ হিসেবে জানালেন এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা।

ইরফান সাজ্জাদ বলেন, ‘ভোটার হওয়ার পর প্রথমবার খুব উৎসাহ নিয়ে ভোট দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রে গিয়ে দেখি, আমার ভোট আগেই অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছে। ঘটনাটা আমাকে ভীষণভাবে হতাশ করেছিল। এর পর থেকে আর কখনোই ভোট দিতে ইচ্ছে হয়নি।’

বর্তমানে রাজধানীতে শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকায় চট্টগ্রামে যাওয়ার পরিকল্পনাও নেই তার। অভিনেতা বলেন, ‘একটা প্রতীককে জিতিয়ে তো আমার ব্যক্তিগত কোনো লাভ নেই। আমি যে প্রতীককেই ভোট দিই, সেটা যে দলেরই হোক না কেন যদি সে নির্বাচিত হয়ে এলাকার জন্য কাজ না করে, আমাদের জন্য কাজ না করে তাহলে সেই ভোটের মূল্য কী? বিগত বছরগুলোতে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখিনি।’

এদিকে নতুন সরকারের কাছে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে ইরফান বলেন, ‘আমাদের খুব বেশি চাওয়া নেই। চাই নতুন সরকার জনগণের সরকার হোক, আপামর জনসাধারণের হোক। জনগণের কাছাকাছি থাকুক, তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করুক। ব্যস, এতটুকুই। অবশ্যই অনুরোধ করতে চাই, জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।’

যোগ করে অভিনেতা আরও বলেন, ‘চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি, ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলোর কারণে রাস্তাঘাটে বের হতে ভয় পায় মানুষ। এক দিনেই হয়তো আইন-শৃংখলা বাহিনীগুলোর অনেক বেশি উন্নতি হয়ে যাবে না, কিন্তু এটলিস্ট এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিক।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

বিনোদন

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
রূপালী পর্দা থেকে হারিয়ে যাওয়া সাহারা, এখন কোথায় এই একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা?

ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় ও আলোচিত নায়িকা সাহারা এখন বিনোদন জগতের আলোচনার বাইরে। বহু বছর ধরে তাকে আর কোনো চলচ্চিত্র, শুটিং বা মিডিয়া অঙ্গনে দেখা যায় না। ফলে এক সময়ের পর্দা কাঁপানো এই অভিনেত্রী এখন প্রায় পুরোপুরি আড়ালে।   চলচ্চিত্রে তার অভিষেক হয় পরিচালক শাহাদাত হোসেন লিটনের ‘রুখে দাঁড়াও’ সিনেমার মাধ্যমে। অভিষেক ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফল না হলেও সাহারার উপস্থিতি ও সাহসী উপস্থাপন তাকে আলোচনায় আনে। এরপর ‘ভাড়াটে খুনি’সহ একাধিক ছবিতে অভিনয় করে তিনি ধীরে ধীরে পরিচিতি পান।   পরবর্তীতে অ্যাকশন ঘরানার ছবিতে আলেকজান্ডার বো-এর সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘অর্ডার’, ‘লাকি সেভেন’ ও ‘ড্যাম কেয়ার’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছান সাহারা। বিশেষ করে ‘অর্ডার’ ছবির একটি গানে তার উপস্থিতি তাকে ব্যাপক আলোচনায় নিয়ে আসে।   এরপর রুবেল ও রিয়াজের মতো তারকাদের সঙ্গে বড় বাজেটের সিনেমায় কাজ করেন তিনি। তবে ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে ব্যক্তিগত জীবনে পরিবর্তন আসে। প্রযোজক মাহবুবুর রহমান মনির সঙ্গে প্রেম ও পরবর্তীতে ২০১৫ সালে বিয়ের পর তিনি ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।   বিয়ের পর চলচ্চিত্র জগৎকে বিদায় জানিয়ে পুরোপুরি সংসার জীবনে মনোযোগী হন সাহারা। এরপর থেকে আর কোনো সিনেমা, মিডিয়া ইভেন্ট বা তারকাদের আড্ডায় তাকে দেখা যায়নি।   ফলে ঢালিউডের এক সময়ের আলোচিত এই নায়িকা এখন দর্শকদের কাছে কেবলই এক সোনালী স্মৃতি, যিনি হঠাৎ করেই রূপালী পর্দা থেকে হারিয়ে গেছেন।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রায়হান রাফীর ‘আন্ধার’ কবে মুক্তি পাবে? জানা গেল নতুন আপডেট

স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আত্মসমর্পণ করলেন অভিনেতা আলভী

ছবি : সংগৃহীত

৪৭ বছরের পথচলার ইতি, থামছে মাধবদীর ‘মমতা’

সাদিয়া জাহান প্রভা। ছবি - সংগৃহীত
১৬ বছর পরও থামেনি ট্রল, এবার মুখ খুললেন প্রভা

প্রায় ১৬ বছর আগে ব্যক্তিগত একটি ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছিলেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। সময়ের সঙ্গে সেই বিতর্ক মুছে যাওয়ার কথা থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে তাকে বছরের পর বছর। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর এবার এক ভিডিও বার্তায় নিজের অভিজ্ঞতা, মানসিক যন্ত্রণা এবং অনলাইন হয়রানির ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।   সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রভা বলেন, 'গত ১৬ বছর ধরে তাকে নিয়মিত ট্রল, কটূক্তি ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে। নতুন কোনো কাজ, ছবি কিংবা পোস্ট প্রকাশ করলেই একশ্রেণির মানুষ পুরোনো বিষয়টি টেনে এনে তাকে অপমান করার চেষ্টা করেন।'   ভিডিও বার্তায় তিনি সাইবার বুলিংকারীদের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষ্য, 'একজন মানুষের জীবনের একটি ঘটনা দিয়ে তাকে সারাজীবন বিচার করা কিংবা সেই ঘটনাকে বারবার সামনে এনে অপমান করা কোনোভাবেই মানবিক আচরণ নয়।'   প্রভা বলেন, 'আমি এখন কিছু জ্বালাময়ী সত্যি কথা বলব। আমি অনেকদিন সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ব্যাপার নিয়ে কথা বলি না। কিন্তু ভেবেছিলাম কথা বলেও তো আসলে কোনো লাভ নাই। কিন্তু আসলে নিজের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে মনে হয়, কিছু জিনিস চোখ বন্ধ করে আসলে থাকা যায় না। চলেন আপনাদের একটা কথা বলি। আপনারা আপনাদের নিজের যোগ্যতা, নিজের স্থান, নিজের সৌন্দর্য, নিজের কোয়ালিফিকেশন এ সবকিছুর প্রতি আসলে আপনাদের ইনসিকিউরিটি থাকার জন্যই তো আসলে আপনারা মানুষকে মুখ করেন। এটা আমার কথা না। এটা হিউম্যান সাইকোলজি। এগুলো সাইকিয়াট্রিস্টরা এগুলো পড়াশোনা করে বের করেছেন। এগুলা একদম আমার কথা না।'   তিনি বলেন, 'যারা মানুষের ব্যাপারে এত অ্যাগ্রেসিভলি জাজ করে এবং বুলি করে এবং মক করে; সোশ্যাল মিডিয়াতে ভারবালি অ্যাবিউস করে। এরা আসলে নিজেদের নিয়ে যেহেতু অনেক বেশি স্যাটিসফাইড না এবং তারা দুঃখী। আমরা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের জায়গাতে কোন না কোন জায়গায় দুঃখী। কিন্তু যারা ইনসিকিউর যারা ব্যাপারটাকে মানতে পারে না, যারা নিজের যোগ্যতাটা নিয়ে অনেক বেশি ইনসিকিউরড আমি বলব এরাই আসলে ম্যাক্সিমাম টাইমে বিভিন্ন সোশ্যাল প্লটফর্মগুলো সেলিব্রেটিদের বা ইনফ্লুয়েন্সার বা আর্টিস্ট সবাইকে বুলিং করে। তো আমার বুলিং তো আসলে ইটস বিন অলমোস্ট ১৬ বছর, আমাকে বুলিং করা হয়। আমার কথা হচ্ছে আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে আমাকে বুলিং করে মজা পান; এতে আপনাদের পৈশাচিক আনন্দ হয় আই টোটালি আন্ডারস্ট্যান্ড; কিন্তু ঠিক যতটুকু আমাকে বুলিং করছেন তার যদি ৫০% মানে আমি ওরফে ব্র্যাকেটে ভিকটিম আমাকে ৫০% করে বাকি ৫০% ক্রিমিনালটাকে খুঁজে বের করে ওকে যদি এরকম বুলিং করতেন; ওকে নিয়ে যদি লেখালেখি করতেন; ওর চেহারাটা যদি বারবার মানুষের সামনে মানে প্রকাশ্যে আনতেন যে ও ক্রিমিনাল।'   এই অভিনেত্রী বলেন, 'যারা আরেকটা মানুষের ক্ষতি করে তাদের কনসেন্ট ছাড়া তাদের প্রাইভেসি ডিসক্লোজ করে এবং সেটা একটা গুরুতর ক্রাইম। সেই মানুষগুলোকে আপনারা বুলিং না করে আপনারা যে ভিকটিমকে বুলিং করছেন ডে বাই ডে; আই আন্ডারস্ট্যান্ড। আমাকে বুলিং না করে যদি ক্রিমিনালকে করতেন তাহলে পৃথিবীতে তন্ময়ের জন্ম হত না।'

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৭, ২০২৬
নীলাঞ্জনা নীলা ও তার স্বামী। ছবি - সংগৃহীত

স্বামীর সঙ্গে কাটানো বিশেষ সময়ের ছবি প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী

তারকাদের ছবি দিয়ে কোলাজ। ছবি : সংগৃহীত

মেসিকে নিয়ে তারকাদের উচ্ছ্বাস

ইয়াশ রোহান ও সুনেরাহ। ছবি : সংগৃহীত

প্রথমবার জুটি বাঁধলেন ইয়াশ রোহান ও সুনেরাহ

ছবি: সংগৃহীত
তারকাখ্যাতির নেশায় আসক্ত ছিলাম: সামান্থা

মুক্তি পেতে যাচ্ছে দক্ষিণ ভারতের তারকা অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর নতুন সিনেমা ‘মা ইন্টি বাঙ্গারাম’। সিনেমাটির প্রচারণা নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। এর মধ্যেই এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবন, তারকাখ্যাতি এবং অসুস্থতার কারণে নেওয়া বিরতি নিয়ে কথা বলেছেন সামান্থা। জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে পাওয়া সাফল্য তাঁর চিন্তাভাবনা ও জীবনকে অনেকটাই বদলে দিয়েছিল।   সাক্ষাৎকারে সামান্থা জানান, ভারতের ছোট্ট একটি শহর থেকে উঠে আসা একজন মেয়ে হিসেবে হঠাৎ তারকাখ্যাতি তাঁর কাছে বিস্ময়কর ছিল। জনপ্রিয়তা, দর্শকদের ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাস—এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘তারকাখ্যাতির খেলায় আমি আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম।’   সামান্থা আরও বলেন, ‘এক বছরে টানা পাঁচটি ছবিতে অভিনয় করেছিলাম এবং সব কটিই সফল হয়েছিল। তখন অনেকেই আমাকে “গোল্ডেন লেগ” বলে অভিহিত করতেন। সেই সময় মনে করতাম, দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতেই হবে।’   অভিনেত্রী জানান, সাম্প্রতিক বিরতির আগে তিনি সব সময় কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন, সব সময় আরও বেশি সিনেমা করতে চাইতেন। তিনি কখনো ভাবেননি যে অভিনয়জীবনেরও একটি শেষ থাকতে পারে। তবে সেই বিরতি তাঁকে নিজের সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।   সামান্থা বলেন, ‘একজন অভিনেতা যখন সাফল্যের মধ্যে থাকেন, তখন মনে হয় এই যাত্রা কখনো শেষ হবে না। কিন্তু অসুস্থতার কারণে বিরতি নেওয়ার পর বুঝতে পেরেছি, অভিনয়জীবনেরও একটা শেষ আছে। এই উপলব্ধি আমার চিন্তাভাবনা ও জীবনদৃষ্টিতে অনেক পরিবর্তন এনেছে।’ তিনি জানান, বিরতির সময় তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে অভিনয়ে ফিরলে অনেক পুরোনো অভ্যাস ও কাজের ধারা পরিবর্তন করবেন।   ২০২২ সালের অক্টোবরে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে সামান্থা জানান, তিনি মায়োসাইটিস নামের রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তখন তিনি লিখেছিলেন, রোগটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করলেও সুস্থ হতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগছে। এ সময় কাজ থেকে কিছুটা বিরতি নেন তিনি।   সামান্থার নতুন ছবি ‘মা ইন্টি বাঙ্গারাম’ পরিচালনা করেছেন নন্দিনী রেড্ডি। ২০১৯ সালের সফল ছবি ‘ওহ! বেবি’র পর এই ছবিতে আবারও একসঙ্গে কাজ করেছেন পরিচালক ও সামান্থা। পারিবারিক অ্যাকশন-কমেডি ঘরানার ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন রাজ নিদিমোরু ও বসন্ত মারিঙ্গান্তি। প্রথমে ১৪ মে মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও পোস্ট-প্রোডাকশন ও প্রচারণার কারণে ছবিটির মুক্তি পিছিয়ে দেওয়া হয়। এটি ১৯ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৭, ২০২৬
অভিনেত্রী এজে ইর্তেম। ছবি - সংগৃহীত

জন্মদিনের আনন্দের মাঝেই না ফেরার দেশে অভিনেত্রী

রাজ রিপা ও 'ময়না' সিনেমার দৃশ্য। ছবি - সংগৃহীত

ভারতে মুক্তি পাচ্ছে রাজ রিপার প্রথম সিনেমা ‘ময়না

মোশাররফ করিম। ছবি - সংগৃহীত

মোশাররফ করিমের ওপর হামলার খবর কতটা সত্য? জানালেন জুঁই

0 Comments