অভিনেত্রী হিসেবেই শোবিজে পরিচিত জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। দর্শক ভালোবাসায় নাটকের ভুবনে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তিনি তৈরি করে নিয়েছেন। কিন্তু অভিনয়ের বাইরেও হিমির আরও একটি পরিচয় রয়েছে। গত বছরই তিনি সংগীতশিল্পী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে সামনে নিয়ে আসেন। জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি'তে তার গান প্রচার হওয়ার পরই শিল্পী হিসেবে আলোচনায় আসেন হিমি। এরপর থেকেই তার নতুন গানের অপেক্ষায় রয়েছেন ভক্ত-দর্শক। তবে অভিনয়েই বেশি মনোযোগি এ শিল্পী এখনো শখের বসেই গান করে থাকেন বলে জানা। এদিকে আসছে ভালোবাসা দিবসে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার গাওয়া 'দুজন দুজনার' শিরোনামে আরও একটি গান। এতে হিমির সঙ্গে দ্বৈতভাবে গেয়েছেন রাফি। কবির বকুলের কথায় গানটি সুর করেছেন পুলক অধিকারী। গানের মিউজিক ভিডিওতে মডেল হয়েছেন তৌসিফ মাহবুব ও জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। এটি নির্মাণ করেছেন সৈকত রেজা। সাউন্ডটেকের ব্যানারে গানটি মুক্তি পাবে ১৩ ফেব্রুয়ারি। নতুন গান প্রসঙ্গে হিমি বলেন, 'প্রতিবছর ভালোবাসা দিবসে আমার অনেক নাটক মুক্তি পায়, এবারও পাচ্ছে, তবে এর সঙ্গে প্রথমবার আমার গান মুক্তি পাচ্ছে। তাই আমি অনেক বেশি রোমাঞ্চিত। নিজের গানের ভিডিও চিত্রে আবার নিজেই অভিনয় করেছি, সব মিলিয়ে অপেক্ষার তর সইছে না।' অভিনেত্রী আরও বলেন, 'আমি ছোটবেলা থেকেই গান শিখেছি। একটা সময় এমন হতো একাই একাই সারাক্ষণ গান গাইতাম। গাড়িতেও গান বাজিয়ে আমি জোরে জোরে গাইতে থাকি। তবে গানকে পেশা হিসাবে নিবো এটা কখনো ভাবিনি। অভিনয় আমি ভালোবাসি এটি নিয়েই থাকতে চেয়েছি। ইত্যাদি’র মাধ্যমে যখন গান নিয়ে সামনে আসি, এরপর থেকে গান নিয়ে কিছুটা সিরিয়াস হয়েছি। মাঝেমধ্যে হয়তো আমার গান আসবে, তবে নিয়মিত হবো কি না এটি আমার জানা নেই।'
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
একসময় নরসিংদীতে সিনেমা হল ছিল ২০টির বেশি। সবশেষ টিকে ছিল মাধবদীর ‘মমতা’ আর ঘোড়াশালের ‘সোহাগ’। পুরো জেলায় ২টি থাকলেও দর্শক–খরায় ভুগছিল গত কয়েক বছর। গত দুই ঈদে সে অবস্থা ছিল আরও শোচনীয়। এবার জায়গাসহ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে ‘মমতা’। চলতি সপ্তাহ থেকেই গেটে ঝুলছে বিক্রির বিজ্ঞাপন। হলটির বয়স চার দশকের বেশি। ১৯৭৯ সালে সফর আলী ভূঁইয়া হলটি প্রতিষ্ঠা করেন। এক দশক আগেই হলটি পরিচালনা বন্ধ করেছেন তিনি। এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ভাড়া নিয়ে হলটি পরিচালন করেছিলেন বেশ কয়েকজন। কিন্তু লাভের মুখ দেখা তো দূরে থাক, কর্মচারীদের বেতনও তুলতে পারছিলেন না কেউ। এরই মাঝে বদল হয়েছে বেশ কজন ভাড়াটিয়া। সবশেষ আজমান রুশো পরিচালিত শাকিব খানের ‘রকস্টার’ সিনেমা নিয়ে লোকসান গুনলে আর নতুন কোনো ভাড়াটিয়া পাচ্ছিল না মালিক পক্ষ। তাই হলসহ পুরো জায়গা বিক্রির সিদ্ধান্ত। বিক্রির বিজ্ঞাপনে দেওয়া নম্বরে কল করলে ধরেন সফর আলী ভূঁইয়ার ব্যবস্থাপন শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, চার দিন আগে বিজ্ঞাপনটি টানানো হয়েছে। ভালো ক্রেতা পেলে হলসহ পুরো ৪৮ শতাংশ জায়গাই বিক্রি করা হবে। ২০২৫ সালে বন্ধ হয়েছে নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার চালাকচর ইউনিয়নের ‘রুনা’ হল। এ উপজেলায় ছিল ‘পিপাসা’ ও ‘রুনা’ প্রেক্ষাগৃহ। এর আগে পিপাসা বন্ধ হলেও টিকে ছিল রুনা। কিন্তু ২০২২-এর পর থেকে আশানুরূপ ব্যবসা হচ্ছিল না। তাই ৩৯ বছর বয়সী হলটি একবারেই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রেক্ষাগৃহটির ছিল ৩৯ বছরের পথচলা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হচ্ছে। এর আগে ২০২৪ সালে রায়পুরার হাসনাবাদ এলাকার দর্শকপ্রিয় ‘ছন্দা’ সিনেমা হল বিক্রি হয়েছে মাদ্রাসার কাছে।
ছোটপর্দার এই সময়ের দুই জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী ইয়াশ রোহান ও সুনেরাহ বিনতে কামাল প্রথমবার একসঙ্গে জুটি বেঁধে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন। ‘কেউ না জানুক’ শিরোনামের একটি নাটকে দেখা যাবে তাদের। এই নতুন জুটির রসায়ন দেখতে দর্শকদের মাঝে ইতোমধ্যেই বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নাটকটি পরিচালনা করেছেন তরুণ নির্মাতা শাহ মোহাম্মদ রাকিব এবং রচনা করেছেন এলেক্স উজ্জ্বল। নাটকটি প্রসঙ্গে নির্মাতা জানান, প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও নতুনত্ব মাথায় রেখে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। ‘কেউ না জানুক’ নাটকের গল্পে গ্রামীণ পটভূমির এক সাধারণ ছেলে-মেয়ের জীবনসংগ্রাম ও বাস্তবধর্মী আবেগের চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রেম, বাবা-মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, গ্রামীণ জীবনের সরলতা, তরুণদের দায়িত্ববোধ এবং নারীদের মনে চেপে রাখা না-বলা কিছু অনুভূতি এই নাটকের মূল উপজীব্য। পরিচালক শাহ মোহাম্মদ রাকিব বলেন, দর্শকদের জন্য একটি ভিন্নধর্মী ও হৃদয়ছোঁয়া গল্প উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছি, যেখানে বাস্তব জীবনের নানা চড়াই-উতরাই প্রতিফলিত হয়েছে। আশা করি নাটকটি সবার ভালো লাগবে। প্রধান দুই অভিনয়শিল্পী প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, ইয়াশ ও সুনেরাহর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা চমৎকার। এককথায় বলতে গেলে- গুড পিপল, গুড ভাইবস। কাজের প্রতি তাদের ডেডিকেশনে সন্তোষ প্রকাশ করে ভবিষ্যতেও এই জুটিকে নিয়ে আরও কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিনেতা মোশাররফ করিম ও তার স্ত্রী রোবেনা রেজা জুঁই-এর ওপর হামলার খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন জুঁই। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় তাদের সঙ্গে এমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সম্প্রতি সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝরের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার কস্তুরি হোটেলের সামনে মোশাররফ করিম ও তার স্ত্রীকে ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির মতো ঘটনাও ঘটে। তবে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে রোবেনা রেজা জুঁই স্পষ্টভাবে জানান, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হামলার খবর সত্য নয়। তাদের সঙ্গে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং পুরো বিষয়টি গুজবের ওপর ভিত্তি করে ছড়ানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত হামলার দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে অভিনেতার পরিবারের পক্ষ থেকে গুঞ্জনটি নাকচ করে দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে স্পষ্টতা এসেছে। এদিকে খবরটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মোশাররফ করিম ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়।