সারাদেশ

এআই ক্যামেরার পর ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ প্রযুক্তি আনছে ডিএমপি

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ক্যামেরা। ছবি: সংগৃহীত
ক্যামেরা। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর রাস্তায় ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নতুন প্রযুক্তির পরিধি বাড়াচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। 

 

এআই ক্যামেরার উচ্চ খরচ কমাতে এবার কম ব্যয়ের ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানীর একটি বড় অংশকে সহজেই ডিজিটাল নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান রাজধানীর ডিএমপি সদর দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ পরিকল্পনার কথা জানান।

 

তিনি বলেন, ‘ডিএমপি আশা করছে, এসব ক্যামেরার মাধ্যমে কম খরচে রাজধানীর আরও বেশি এলাকায় নজরদারির আওতা বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’

 

ভবিষ্যতে যানজট নিরসনে নতুন কোনো প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাফিকের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সে দিকটি নিয়েই কাজ করছি। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির অংশ হিসেবে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ নামে একটি নতুন সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে এআই প্রযুক্তির যে ক্যামেরাগুলো ব্যবহার করা হয়, সেগুলো কার্যকর হলেও তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। কিন্তু ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের জন্য খুব দ্রুত আমাদের নজরদারির আওতা বাড়ানো প্রয়োজন। সে কারণেই আমরা ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ নামে নতুন ধরনের ক্যামেরা নিয়ে আসছি।’

 

তিনি আরও বলেন, এসব ক্যামেরার দাম তুলনামূলকভাবে কম হলেও আমাদের উদ্দেশ্য পূরণে কার্যকর হবে। এসব ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো গেলে আশা করি, ট্রাফিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

 

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে ভবিষ্যতে নতুন পদ্ধতি গ্রহণের পরিকল্পনা সম্পর্কে আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমি সবসময়ই নগরবাসীর প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। কারণ আমাদের এআই ক্যামেরার এই নতুন পথচলা মাত্র দুই মাসের হলেও ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। নগরবাসী এতটা দৃশ্যমান সহযোগিতা করবেন, শুরুতে তা আশা করিনি। তারা ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন, সিগন্যাল অনুসরণ করছেন এবং আধুনিক উদ্যোগগুলোর প্রশংসাও করছেন। এর অর্থ, কাউকে জোর করে আইন মানানো হচ্ছে না। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিয়ম মেনে চলছেন।’

 

মো. আনিছুর রহমান বলেন, ঢাকায় যানজটের প্রধান কারণ মিশ্র যানবাহন। এ শহরে যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহন একসঙ্গে চলাচল করে। অটোরিকশা এখন আরেকটি বড় সমস্যা। বর্তমানে এটি সবার জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ যানবাহনের ওপর চালকের কার্যকর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

 

অন্যদিকে, একটি শহরের যানবাহন ধারণক্ষমতার নির্দিষ্ট সীমা থাকে। কিন্তু এই মহানগরে যানবাহনের সংখ্যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ছে। এটি কোথায় গিয়ে থামবে, সেটিও বলা কঠিন।

 

রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক আনফিট গাড়ি চলাচল করে জানিয়ে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই মেগাসিটির জন্য এখনো উন্নত কোনো গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ভালো গণপরিবহন ব্যবস্থা না থাকলে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত কখনোই সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

'

আনিছুর রহমান বলেন, পথচারীদের চলাচলের ধরনও সমস্যা সৃষ্টি করছে। প্রায়ই দেখা যায়, অনেকে যত্রতত্র রাস্তা পারাপার করেন। তাদের নিয়মের মধ্যে আনা কঠিন। আমরা এখন কিছু জায়গায় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করেছি। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, একটি গাড়ি হয়তো এক মিনিট ২০ সেকেন্ডের জন্য সবুজ সংকেত পেয়েছে, অথচ এই স্বল্প সময়ের জন্যও পথচারীরা অপেক্ষা করতে চান না। তারা হাত তুলে রাস্তা পার হতে শুরু করেন।

 

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়েই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শুধু গাড়ির চালক, মালিক বা ট্রাফিক পুলিশের ওপর নির্ভর করে না। এর বড় একটি অংশ নির্ভর করে সড়ক ব্যবহারকারীদের, বিশেষ করে পথচারীদের মানসিকতা ও আচরণগত অভ্যাসের ওপর। আমাদের বাস্তবতায় সেই পরিবর্তন এখনো পুরোপুরি আসেনি।

 

যেসব এলাকায় যানজট বেশি, সেসব এলাকায় অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক)। 

 

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। তাই ঢাকা মহানগরীর কোথায়, কখন যানজট বেশি হয়, সে বিষয়ে আমাদের স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। কোথাও পিক আওয়ার, আবার কোথাও অফ-পিক আওয়ার থাকে। সে অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। এলাকা ও যানজটের মাত্রা বিবেচনায় কোথাও কম, কোথাও বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

 

তিনি বলেন, রাজধানীর প্রায় ২৫টি পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। কারণ সেখানে সার্বক্ষণিক যানবাহনের চাপ থাকে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শুধু ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন এভাবে কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
তিস্তার পানি কমে বিপৎসীমার নিচে

টানা ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বৃদ্ধি পাওয়া তিস্তা নদীর পানি কমে এখন বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে সোমবার রাতে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।      তবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টায় নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৩ সেন্টিমিটার ( বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) যা বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।     তিস্তার পানি বেড়ে সোমবার রাতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছিল।    ডিমলা টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ইউপি) রবিউল ইসলাম সাহিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সোমবার রাতে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে ওঠায় নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছিল। আজকে সকালে কমে যাওয়ার কারণে পানি নেমে যাচ্ছে।   ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, বেলো ১১টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ক্যামেরা। ছবি: সংগৃহীত

এআই ক্যামেরার পর ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ প্রযুক্তি আনছে ডিএমপি

সংগৃহীত ছবি

জাবিতে ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণে ছাড়া পেল ৬ বাস

আদালত চত্বরে আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা। ছবি: সংগৃহীত

আদালতে ব্রিফিংয়ের সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের ধাক্কাধাক্কি

ছবি : সংগৃহীত
পটিয়ায় মাছের খামারে নজিরবিহীন বিপর্যয়, পুনর্বাসনের দাবি চাষিদের

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম মৎস্য ও পোনা উৎপাদনের কেন্দ্র পটিয়া উপজেলা। উপজেলার শত শত বাণিজ্যিক মাছের খামার ও রেনু উৎপাদন কেন্দ্র থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার মাছ ও পোনা সরবরাহ হয় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।   এই খাতকে ঘিরেই জীবিকা নির্বাহ করেন হাজারো পরিবার। কিন্তু এবারের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় সেই সম্ভাবনাময় মৎস্য খাত নজিরবিহীন বিপর্যেয়র মুখে পড়েছে।   উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রাথমিক হিসাব বলছে, বন্যায় প্রায় ১ হাজার ৪০০টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   তবে এটি কেবল প্রাথমিক হিসাব। ইউনিয়নভিত্তিক তালিকা তৈরির কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পুকুরের পানি উপচে পড়ে মাছ ও পোনা পাশের খাল, বিল ও নদীতে চলে গেছে। কোথাও বাঁধ ভেঙে গেছে, কোথাও আবার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে কয়েক মাসের লালন-পালন করা বাজারজাত মাছ।   সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন রেনু উৎপাদনকারী খামারিরা।   মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাইদগাঁও, কেলিশহর, দক্ষিণ ভূর্ষি ও ধলঘাট ইউনিয়নে রেনু উৎপাদনকারী খামারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে খরনা, শোভনদণ্ডী, কচুয়াই, ছনহরা, আশিয়া, কাশিয়াইশ, কুসুমপুরা ও পটিয়া পৌরসভা এলাকায় বাণিজ্যিক মাছচাষিদের অধিকাংশ পুকুর পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। শুধু মাছ হারানোই নয়, পুকুরের বাঁধ, স্লুইস, জাল, পাম্প, খাদ্য ও অন্যান্য অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।   ফলে উৎপাদন পুনরায় শুরু করতেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। বহু চাষি এক মৌসুমের পুরো বিনিয়োগ হারিয়েছেন। পটিয়ায় মোট পুকুরের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৫০০, পুরো চট্টগ্রামের দুই-তৃতীয়াংশ নার্সারার পটিয়াতে। পটিয়া থেকেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় মাছ চাষিরা পোনা নিয়ে যায়।     পটিয়া পৌরসভার হক ফিসারিজের মালিক এনামুল হক বলেন, ‘এক রাতের বন্যায় আমার কয়েকটি পুকুরের প্রায় সব মাছ বেরিয়ে গেছে। শুধু মাছ নয়, পুকুরের অবকাঠামোও নষ্ট হয়েছে। লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন সরকারি সহযোগিতা ছাড়া নতুন করে উৎপাদনে ফেরা কঠিন।’     মৎস্যচাষি রকিব হাসান বলেন, ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলাম। বিক্রির সময় ঘনিয়ে এসেছিল। কিন্তু বন্যার পানিতে সব মাছ ভেসে গেছে। এখন ঋণের কিস্তি দেব কীভাবে, সংসার চালাব কীভাবে সেটাই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।   খামারিদের অভিযোগ, বন্যার আগাম সতর্কতা থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় মাছ রক্ষায় কোনো কার্যকর কারিগরি সহায়তা বা জরুরি প্রস্তুতি ছিল না। ফলে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ পুকুরের মাছ বেরিয়ে যায়। তবে উপজেলা মৎস্য বিভাগ বলছে, এবারের পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রম।   সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, ‘গত কয়েক বছরে এমন অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের ঘটনা ঘটেনি। ফলে অনেক চাষির পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। যেসব পুকুর এখনো পুরোপুরি তলিয়ে যায়নি, সেখানে জাল বা বাঁশের বানা দিয়ে মাছ আটকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বন্যার পর পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় মাছের রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রতি শতাংশে ১ থেকে ১.৫ কেজি চুন প্রয়োগ এবং আপাতত সম্পূরক খাদ্য ও সার প্রয়োগ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের প্রকৃত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, যাতে সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।’   মৎস্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘পটিয়ার রেনু উৎপাদন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর প্রভাব শুধু উপজেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী মৌসুমে পোনার সংকট দেখা দিলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাসহ আশপাশের জেলার মাছচাষও ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদন কমে গেলে বাজারে মাছের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’   স্থানীয় চাষিদের দাবি, ক্ষতির তালিকা তৈরির পাশাপাশি দ্রুত আর্থিক অনুদান, বিনামূল্যে পোনা ও মাছের খাদ্য বিতরণ, সহজ শর্তে পুনর্বাসন ঋণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর সংস্কারের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। অন্যথায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম 'মৎস্য ও পোনার ভান্ডার' হিসেবে পরিচিত পটিয়ার এই সম্ভাবনাময় খাত দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়ে যেতে পারে। এদিকে পটিয়ার মৎস্য খাত শুধু মাছ উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রেনু উৎপাদন, মাছের খাদ্য ব্যবসা, পরিবহন, বরফকল, আড়ত, খুচরা বিক্রেতা এবং হাজারো শ্রমজীবী মানুষ। ফলে এই বন্যার প্রভাব পুরো স্থানীয় অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দ্রুত পুনর্বাসন করা না গেলে আগামী মৌসুমে মাছ উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দামও বাড়তে পারে।   ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিদের দাবি, শুধু ক্ষতির তালিকা করলেই হবে না জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক অনুদান, বিনামূল্যে পোনা বিতরণ, মাছের খাদ্য সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে এবারের বন্যার ক্ষত কাটিয়ে ওঠা অনেক খামারির পক্ষেই সম্ভব হবে না।   অন্যদিকে কৃষি ও প্রাণিসম্পদের পর এবার মৎস্য খাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে পটিয়ায়। প্রাথমিক ক্ষতির অঙ্ক ৩ কোটি টাকা হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, ইউনিয়নভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের পর ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বাড়তে পারে। তাই দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং কার্যকর পুনর্বাসনই এখন পটিয়ার মৎস্য খাতকে টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চাঁদার দাবিতে হামলা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৫ লাখ টাকা লুট

ছবি: সংগৃহীত

ঝাড়ফুঁক-তাবিজের আড়ালে অপচিকিৎসা, কবিরাজকে জরিমানা

বিদ্যুতের লাইন মেরামতের কাজ চলছে। ছবি: সংগৃহীত

আজ যেসব এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকবে না

নদীর বুকে নির্মিত বাঁধ। ছবি: সংগৃহীত
বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে তিস্তার পানি, ঝুঁকিতে নিম্নাঞ্চল

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।   সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় রেকর্ড করা তথ্যে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে আবারও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।   পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে বিকেল ৬টার পর থেকে পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যা ৭টায় পানির উচ্চতা দাঁড়ায় ৫২ দশমিক ২৫ মিটারে, যা বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের তুলনায় ১০ সেন্টিমিটার বেশি। পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের সব ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।   তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিমলা, জলঢাকা ও তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের নিম্নভূমিতে নতুন করে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এতে কৃষিজমি, সবজি-খেত, মাছের ঘের ও নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আবারও বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।   উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, এর আগে দুই দফা বন্যার পানিতে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক পরিবার এখনো সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এরই মধ্যে আবারও নতুন করে পানি প্রবেশ করায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের।   টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন, তিস্তার পানি বাড়তে থাকায় নদীবেষ্টিত কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যে পানি প্রবেশ করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। পানি আরও বাড়লে নিচু এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে।   নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, দুপুরের পর থেকে তিস্তার পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।   এর আগে গত ২৮ জুনও তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় তিস্তাপাড়ের মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।   এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।   স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর তিস্তা নদীতে বিপুল পরিমাণ পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে নদীর নাব্যতা ও পানি ধারণক্ষমতা ক্রমাগত কমে আসছে। ফলে অল্প বৃষ্টিপাত কিংবা উজানের ঢলেই নদী দ্রুত উপচে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। প্রতিবছরই বন্যা ও নদী-ভাঙনের কারণে হাজার হাজার একর আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভিটেমাটি হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়ছে অসংখ্য পরিবার। জীবিকা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন তিস্তাপাড়ের হাজারো মানুষ।   স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের দাবি, তিস্তা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত ও কার্যকর ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত তিস্তা মহা-পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।   তাদের মতে, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীর পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, বন্যা ও নদী-ভাঙনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে, কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং তিস্তাপাড়ের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদ সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার গাড়িবহরের সামনে ইট নিক্ষেপের অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ বছরে নির্মাণ হয়েছে মাত্র ১৭টি পিলার

ছবি: সংগৃহীত

ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

0 Comments