অর্থনীতি

বিকাশ অ্যাপে ন্যানো ঋণ: সাড়ে চার বছরে ৩৫ লাখ গ্রাহক

মারিয়া রহমান জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল ন্যানো লোন বা ক্ষুদ্রঋণ দ্রুতই সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে। যেকোনো প্রয়োজনে নিজের স্মার্টফোনে বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে মাত্র কয়েক মিনিটেই কোনো ধরনের জামানত ছাড়া এই ঋণ নেওয়া যাচ্ছে। বিকাশ থেকে গত সাড়ে চার বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার ডিজিটাল ক্ষুদ্র ঋণ নিয়েছেন ৩৫ লাখ মানুষ।

 

সিটি ব্যাংক-বিকাশের উদ্যোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণের যাত্রা শুরু হয়। এই সেবা চালুর প্রথম বছরে ১০১ কোটি টাকার ঋণ নেন গ্রাহকেরা। দ্বিতীয় বছরে এসে ঋণ বিতরণ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯৪ কোটি টাকায়। ২০২৪ সালে ৮৫৫ কোটি টাকার ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ নিয়েছেন গ্রাহকেরা। গত বছর সেই ঋণ প্রায় সাড়ে ৪ গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকায়। আর চলতি বছরের ৯ জুলাই পর্যন্ত ৪ হাজার ৫৯১ কোটি টাকার ডিজিটাল ঋণ নিয়েছেন গ্রাহকেরা। সব মিলিয়ে গত সাড়ে চার বছরে সিটি ব্যাংক ও বিকাশের বিতরণ করা ন্যানো ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক ছাড়িয়েছে।

 

এ বিষয়ে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ যখন বড় উদ্বেগের বিষয়, তখন দেখা যাচ্ছে ছোট অঙ্কের ডিজিটাল ঋণে পোর্টফোলিওর মান ঈর্ষণীয় পর্যায়ের। এই ঘটনা থেকে পুরো ব্যাংক খাতের শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা নেওয়ার মতো অনেক কিছু আছে।’

 

নতুন এই ঋণসেবা চালুর সাড়ে চার বছরে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা।
সিটি ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ৩৫ লাখ গ্রাহক গত সাড়ে চার বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। মোট ৩ কোটি ১৯ লাখ ঋণ হিসাবে এসব ঋণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক গ্রাহক গড়ে এই স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়েছেন ৯ বারের বেশি। বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি বিকাশ গ্রাহকের জন্য এই ঋণ সুবিধা উন্মুক্ত রয়েছে।

 

সিটি ব্যাংক জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় এক লাখ গ্রাহক বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে সিটি ব্যাংকের এই ক্ষুদ্রঋণ নিচ্ছেন। প্রতিটি ঋণের গড় পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার টাকা, আর মাসিক ঋণ বিতরণ পৌঁছেছে ৯০০ কোটি টাকায়। বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকেরা সিটি ব্যাংক থেকে তিন ধরনের ঋণ নিয়ে থাকেন। সেগুলো হচ্ছে নগদ ঋণ, পণ্য কিনতে ‘বাই নাও পে লেটার’ এবং মোবাইল রিচার্জে পে লেটার। তার মধ্যে নগদ ঋণই ৯৯ শতাংশ।

 

সিটি ব্যাংক জানিয়েছে, ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ নেওয়া গ্রাহকের মধ্যে ৬৩ শতাংশ শহরাঞ্চলের। বাকি ৩৩ শতাংশ গ্রামে বসবাস করেন। আবার ঋণগ্রহীতাদের ৭৮ শতাংশ পুরুষ ও ২২ শতাংশ নারী।

 

ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ খেলাপি হওয়ার হারও খুবই নগণ্য। মোট বিতরণ করা ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে খেলাপি ও অবলোপন করা ঋণের পরিমাণ মাত্র ৫৩ কোটি টাকা বা দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ বিতরণ করা ঋণের ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ নিয়মিতভাবে ব্যাংকে ফেরত এসেছে।

 

জানতে চাইলে বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদ বলেন, অত‍্যাধুনিক প্রযুক্তি, বিকল্প তথ্যের ভিত্তিতে ঋণ মূল্যায়ন এবং দূরদর্শী ব্যাংকিং ও সুশাসনের সমন্বয়ে বিকাশ, সিটি ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে একটি কার্যকর ডিজিটাল ঋণ বিতরণ মডেল তৈরি করেছে। ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণের এই মাইলফলক লাখো গ্রাহকের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে ডিজিটাল ঋণ পরিষেবা পৌঁছানোর এক সফলতার প্রমাণ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
বিকাশ অ্যাপে ন্যানো ঋণ: সাড়ে চার বছরে ৩৫ লাখ গ্রাহক

সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল ন্যানো লোন বা ক্ষুদ্রঋণ দ্রুতই সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে। যেকোনো প্রয়োজনে নিজের স্মার্টফোনে বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে মাত্র কয়েক মিনিটেই কোনো ধরনের জামানত ছাড়া এই ঋণ নেওয়া যাচ্ছে। বিকাশ থেকে গত সাড়ে চার বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার ডিজিটাল ক্ষুদ্র ঋণ নিয়েছেন ৩৫ লাখ মানুষ।   সিটি ব্যাংক-বিকাশের উদ্যোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণের যাত্রা শুরু হয়। এই সেবা চালুর প্রথম বছরে ১০১ কোটি টাকার ঋণ নেন গ্রাহকেরা। দ্বিতীয় বছরে এসে ঋণ বিতরণ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯৪ কোটি টাকায়। ২০২৪ সালে ৮৫৫ কোটি টাকার ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ নিয়েছেন গ্রাহকেরা। গত বছর সেই ঋণ প্রায় সাড়ে ৪ গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকায়। আর চলতি বছরের ৯ জুলাই পর্যন্ত ৪ হাজার ৫৯১ কোটি টাকার ডিজিটাল ঋণ নিয়েছেন গ্রাহকেরা। সব মিলিয়ে গত সাড়ে চার বছরে সিটি ব্যাংক ও বিকাশের বিতরণ করা ন্যানো ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক ছাড়িয়েছে।   এ বিষয়ে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ যখন বড় উদ্বেগের বিষয়, তখন দেখা যাচ্ছে ছোট অঙ্কের ডিজিটাল ঋণে পোর্টফোলিওর মান ঈর্ষণীয় পর্যায়ের। এই ঘটনা থেকে পুরো ব্যাংক খাতের শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা নেওয়ার মতো অনেক কিছু আছে।’   নতুন এই ঋণসেবা চালুর সাড়ে চার বছরে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। সিটি ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ৩৫ লাখ গ্রাহক গত সাড়ে চার বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। মোট ৩ কোটি ১৯ লাখ ঋণ হিসাবে এসব ঋণ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক গ্রাহক গড়ে এই স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়েছেন ৯ বারের বেশি। বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি বিকাশ গ্রাহকের জন্য এই ঋণ সুবিধা উন্মুক্ত রয়েছে।   সিটি ব্যাংক জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় এক লাখ গ্রাহক বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে সিটি ব্যাংকের এই ক্ষুদ্রঋণ নিচ্ছেন। প্রতিটি ঋণের গড় পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার টাকা, আর মাসিক ঋণ বিতরণ পৌঁছেছে ৯০০ কোটি টাকায়। বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকেরা সিটি ব্যাংক থেকে তিন ধরনের ঋণ নিয়ে থাকেন। সেগুলো হচ্ছে নগদ ঋণ, পণ্য কিনতে ‘বাই নাও পে লেটার’ এবং মোবাইল রিচার্জে পে লেটার। তার মধ্যে নগদ ঋণই ৯৯ শতাংশ।   সিটি ব্যাংক জানিয়েছে, ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ নেওয়া গ্রাহকের মধ্যে ৬৩ শতাংশ শহরাঞ্চলের। বাকি ৩৩ শতাংশ গ্রামে বসবাস করেন। আবার ঋণগ্রহীতাদের ৭৮ শতাংশ পুরুষ ও ২২ শতাংশ নারী।   ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ খেলাপি হওয়ার হারও খুবই নগণ্য। মোট বিতরণ করা ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে খেলাপি ও অবলোপন করা ঋণের পরিমাণ মাত্র ৫৩ কোটি টাকা বা দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ বিতরণ করা ঋণের ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ নিয়মিতভাবে ব্যাংকে ফেরত এসেছে।   জানতে চাইলে বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদ বলেন, অত‍্যাধুনিক প্রযুক্তি, বিকল্প তথ্যের ভিত্তিতে ঋণ মূল্যায়ন এবং দূরদর্শী ব্যাংকিং ও সুশাসনের সমন্বয়ে বিকাশ, সিটি ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে একটি কার্যকর ডিজিটাল ঋণ বিতরণ মডেল তৈরি করেছে। ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণের এই মাইলফলক লাখো গ্রাহকের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে ডিজিটাল ঋণ পরিষেবা পৌঁছানোর এক সফলতার প্রমাণ।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে আসছে ইন্ট্রাডে ট্রেডিং, স্টক এক্সচেঞ্জকে অনুমোদন দিল বিএসইসি

বাতিল হচ্ছে ৬ মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ

ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি

ছবি: সংগৃহীত
বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ

বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করেছে সরকার।   গেল ৫ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে জানায়, ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আগের আর্থিক বছরের মতই রপ্তানিমুখী দেশি বস্ত্র ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে।   দু্ই সপ্তাহের মাথায় সেই নির্দেশনা পরিবর্তন করে রোববার নতুন সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, তাতে বলা হয়েছে, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে দেশি সুতা বা কাপড় ব্যবহারে শুল্ক বন্ড ও ‘ডিউটি ড্র-ব্যাকের’ পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তার হার দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হল।   এর মানে হচ্ছে—যেসব তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ব্যবহার করবেন, তারাই বাড়তি এই নগদ সহায়তা পাবেন।   বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে নগদ সহায়তার হার বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।   নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, গত ৫ জুলাই জারি করা সার্কুলারে রপ্তানিমুখী দেশি বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ‘ডিউটি ড্র-ব্যাক’ এর পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারিত রয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে এই খাতে বিদ্যমান নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ হতে বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হল।   এক্ষেত্রে রপ্তানিকারককে (বিজিএমইএ বা বিকেএমইএ বা অন্যান্য অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য) প্রণোদনা গ্রহণের পূর্বে দেশীয় উৎস থেকে কাঁচামাল (সুতা/কাপড়) সংগ্রহের প্রমাণক দাখিল করতে হবে।”   বর্ধিত এই সুবিধা গত ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জাহাজিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে সার্কুলারে তুলে ধরা হয়েছে।   অর্থ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি নির্দেশনা পাঠায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গত ২৩ ডিসেম্বরের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।   নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রপ্তানিকারকদের প্রণোদনা নেওয়ার আগে দেশি উৎস থেকে সুতা বা কাপড় সংগ্রহের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। সুবিধাটি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।   অর্থ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার বিকল্প নগদ সহায়তার হার দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি নির্দেশনা পাঠায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গত ২৩ ডিসেম্বরের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়।   বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমইএ এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সে দিন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।   এ সময় তারা দেশি সুতা ব্যবহার উৎসাহিত করতে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য নগদ সহায়তা দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করাসহ ছয় দফা দাবি জানান।   অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই ব্যবসায়ে টিকে থাকতে নগদ সহায়তা বৃদ্ধির দাবি করেছিলেন বস্ত্রকল মালিকেরা। আলাপ-আলোচনার পর নীতিগতভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছালেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি সেই সরকার। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের কাছে বিটিএমএ এর নেতারা দেনদরবার শুরু করেন।   সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবুজ সংকেত দেন। তারপরই মূলত বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়।   সেই নির্দেশনার পরিপেক্ষিতে রোববার নতুন সার্কুলার জারি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   আড়াই বছর আগে স্থানীয় সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৪ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হতো। তবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তা কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়।   ছয় মাস পর সেই সহায়তা আরও কমিয়ে দেড় শতাংশ করা হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আইএমএফের সঙ্গে আগের ঋণচুক্তি ছিল ‘সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী’: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

২৩ মাসের রেকর্ড ভাঙল ডিএসইর লেনদেন

ছবি: সংগৃহীত

২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আর্থিক খাতে দুর্নীতির তদন্ত চলমান, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অনিয়মও খতিয়ে দেখা হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অতীতে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনাগুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।   রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।   গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণ অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে প্রভাব, ঘুষ এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ করা হয়, যার ফলে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৬১ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।   জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু একটি ব্যাংক নয়, পুরো আর্থিক খাতের অনিয়ম তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম একদিনে দূর করা সম্ভব নয়, তবে আর্থিক খাতকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।   প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ফারহানা কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ তহবিল ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এ তহবিলের আওতায় উদ্যোক্তারা ৭ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। পাশাপাশি কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম এবং চলতি অর্থবছরে কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৩৯ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   পরবর্তীতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিপুল খেলাপি ঋণ নিয়ে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থ পাচার ও ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না। ইতোমধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং সম্পদ জব্দের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।   রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কোনো ব্যাংককে রাজনৈতিক প্রভাবের আওতায় পরিচালিত হতে দেবে না। ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।   এদিকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো ও কর্মসংস্থান বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, উপজেলায় ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। এসব উদ্যোগ গ্রামীণ যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

ছবি: সংগৃহীত

সঞ্চয়পত্রে কর রিফান্ডের সুযোগ, বদলেছে উৎসে করের নিয়ম

ছবি: সংগৃহীত

শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুবিধায় ব্যবসায়ীদের সাড়া কম, বাধা জটিল নিয়ম

0 Comments