বিনোদন

বাগদানের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী জেবিন

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
মডেল-অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর শিরতাজ জাহান জেবিন। ছবি: সংগৃহীত
মডেল-অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর শিরতাজ জাহান জেবিন। ছবি: সংগৃহীত

ছোটপর্দার জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর শিরতাজ জাহান জেবিন শুরুতে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও পরবর্তী সময়ে বিনোদন জগতে পা রাখেন। অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। ধারাবাহিক নাটক ‘দেনা পাওনা’-এ ‘নাবিলা সিক্স’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের পরিচিতি পান। 

 

সম্প্রতি অভিনেত্রীর বাগদান হয়েছে— এমন খবর সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ হলেও বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেন তিনি। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তার কোনো বাগদান হয়নি।

 

জেবিন বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন। বাবার চিকিৎসার জন্যই তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানান। এই সময়ে তার পুরো মনোযোগ বাবার চিকিৎসা ও পরিবারের প্রতি। কিন্তু এর মধ্যেই বাগদানের খবর শুনে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অভিনেত্রী। এমন সংবেদনশীল সময়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তথ্য যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশে বিব্রত হয়েছেন তিনি। 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমের নাম উল্লেখপূর্বক ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন জেবিন। সেই পোস্টে অভিনেত্রী লিখেছেন— ‘আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, সম্প্রতি আমার কোনো বাগদান হয়নি। সংবাদটি সম্পূর্ণ ভুল এবং আমার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা তথ্য যাচাই না করেই প্রকাশ করা হয়েছে।’

 

জেবিন বলেন, ‘একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে এমন দায়িত্বশীলতাই প্রত্যাশিত।’

 

তিনি বলেন, ভুল সংবাদ শুধু একজন ব্যক্তির ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলে না, এর প্রভাব পড়ে তার পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনেও। তাই সংবাদ প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করা হোক। সংবাদ হোক তথ্যনির্ভর, অনুমাননির্ভর নয়। 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বিনোদন

আরও দেখুন
মডেল-অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর শিরতাজ জাহান জেবিন। ছবি: সংগৃহীত
বাগদানের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী জেবিন

ছোটপর্দার জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর শিরতাজ জাহান জেবিন শুরুতে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও পরবর্তী সময়ে বিনোদন জগতে পা রাখেন। অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। ধারাবাহিক নাটক ‘দেনা পাওনা’-এ ‘নাবিলা সিক্স’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের পরিচিতি পান।    সম্প্রতি অভিনেত্রীর বাগদান হয়েছে— এমন খবর সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ হলেও বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেন তিনি। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তার কোনো বাগদান হয়নি।   জেবিন বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন। বাবার চিকিৎসার জন্যই তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানান। এই সময়ে তার পুরো মনোযোগ বাবার চিকিৎসা ও পরিবারের প্রতি। কিন্তু এর মধ্যেই বাগদানের খবর শুনে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অভিনেত্রী। এমন সংবেদনশীল সময়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তথ্য যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশে বিব্রত হয়েছেন তিনি।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমের নাম উল্লেখপূর্বক ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন জেবিন। সেই পোস্টে অভিনেত্রী লিখেছেন— ‘আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, সম্প্রতি আমার কোনো বাগদান হয়নি। সংবাদটি সম্পূর্ণ ভুল এবং আমার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা তথ্য যাচাই না করেই প্রকাশ করা হয়েছে।’   জেবিন বলেন, ‘একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে এমন দায়িত্বশীলতাই প্রত্যাশিত।’   তিনি বলেন, ভুল সংবাদ শুধু একজন ব্যক্তির ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলে না, এর প্রভাব পড়ে তার পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনেও। তাই সংবাদ প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করা হোক। সংবাদ হোক তথ্যনির্ভর, অনুমাননির্ভর নয়। 

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
টালিউড অভিনেত্রী ইধিকা পাল ও জিৎ। ছবি: সংগৃহীত

দেবের পর এবার জিতের সঙ্গে জুটি বাঁধছেন ইধিকা

ছবি: সংগৃহীত

রাতে ভালো ঘুমের জন্য মানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ফাইল ছবি

হৃদয় জড়ানো অনুভূতি নিয়ে তমা মির্জার বার্তা

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যরাতে মেকআপহীন ছবি পোস্ট সাদিয়ার

পুরোনো কিছু ছবি অন্তর্জালে টুকে রাখতেই হঠাৎ করে মধ্যরাতে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান।   মঙ্গলবার দিনগত রাত ২টা ৬ মিনিটে ছবি পোস্ট করেন তিনি।    সেই পোস্টে মেকআপহীন সাদামাটা চেহারার তিনটি ছবি পোস্ট করেছেন এ অভিনেত্রী। দুটি সেলফি। তার হাতে ফুলের তোড়া। বুঝতে অসুবিধা নেই, ফুল উপহার পেয়েছেন তিনি। অন্য ছবিতে দেখা গেছে, ফুলের সঙ্গে বসে আছে তার প্রিয় বিড়াল।   সাত মাস আগে ফুলের তোড়াটি উপহার পেয়েছিলেন সাদিয়া আয়মান। তখনই তুলেছিলেন এ সেলফি। কিন্তু কোনো কারণে তা আর পোস্ট দেওয়া হয়নি। সে জন্য মাঝরাতে উন্মুক্ত করলেন ফেসবুকে।   সামাজিক মাধ্যমে মধ্যরাতে ফুলের সঙ্গে ছবি দেওয়া প্রসঙ্গে অভিনেত্রী সাদিয়া বলেন, ‘আমি কাউকে একদমই রাত ২টায় পোস্ট করার কথা বলছি না। কিন্তু আমার এই মেকআপহীন চেহারার সেলফিগুলো পোস্ট না করে থাকতে পারলাম না। কারণ এগুলো গত সাত মাস ধরে পড়ে আছে।’   সামাজিক মাধ্যমে মেকআপহীন সাদিয়া আয়মানকে দেখে নেটিজেনসহ তার ভক্ত-অনুসারীরাও ভীষণ খুশি। এক নেটিজেন লিখেছেন— ‘ভুবন ভুলানো হাসি’;  আরেক নেটিজেন লিখেছেন— ‘সাত মাস দেরি হলেও কিছু ছবি অপেক্ষা করার মতোই হয়। একদম ন্যাচরাল লুকেও দারুণ লাগছে’।    উল্লেখ্য, নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর ‘বিষণ্ন মেঘ’ নাটকে’ সাদিয়া আয়মানকে সর্বশেষ দেখা গেছে। নির্মাতার ক্যারিয়ারের ২৫ বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে নির্মিত এই বিশেষ নাটকে সাদিয়া আয়মানের  সঙ্গে আছেন ইরফান সাজ্জাদ। আরও রয়েছেন জাকিয়া বারী মম, ডলি জহুর, মিলি বাশার প্রমুখ। ১৯ সেপ্টেম্বর এটি এসেছে লেজার ভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে। এরই মধ্যে ভিউ ছাড়িয়েছে ৩২ লাখ।     অন্য আরেক নেটিজেন লিখেছেন— ‘রাতের আকাশের তারা’। অবশ্য বরাবরের মতোই কোনো এক মন্তব্যের প্রতক্রিয়া দেননি অভিনেতা।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
ফাইল ছবি

দুবাইয়ে বর্ষবরণে মঞ্চ মাতাবেন কেটি পেরি

২ হাজার ৪৯০ কোটির ধাক্কা সামলেও ধনীদের তালিকায় শীর্ষে শাহরুখ

রিফাত চৌধুরী

গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অভিনেতা রিফাত চৌধুরী

সংগৃহীত ছবি
সামাজিক মাধ্যম ছাড়ায় আর্থিক ক্ষতি, তবু মানসিক প্রশান্তিতে অভিনেত্রী

ক্যারিয়ারে সুসময় পার করছেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও প্রযোজক ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। সাফল্যের এই উজ্জ্বল সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম ছেড়ে দেওয়ার এক বছর পূর্তিতে নিজের জীবনের এক বড় পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে না থাকার কারণে ক্যারিয়ারে একাধিক আর্থিক সুযোগ হারালেও, এর বিনিময়ে যে মানসিক শান্তি তিনি খুঁজে পেয়েছেন, তা কোটি টাকার চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান বলে মন্তব্য করেছেন এই অভিনেত্রী।    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিনোদনভিত্তিক মাধ্যম ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইনস্টাগ্রামের বিষাক্ত পরিবেশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার এবং নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন ঐশ্বরিয়া।    সামাজিক মাধ্যম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, শুরুতে তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য দূরে সরে যাওয়ার কথা ভাবেননি। কেবল কাজের প্রয়োজনে সাময়িকভাবে অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করার পরিকল্পনা ছিল তার। তবে প্ল্যাটফর্মজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিকৃত কনটেন্ট এবং তারকাদের নিয়ে তৈরি ‘অশ্লীল এডিট কালচার’ বা নোংরা এডিটিং সংস্কৃতি তাকে চূড়ান্তভাবে ক্লান্ত ও বিরক্ত করে তোলে। যদিও তিনি ভালো করেই জানেন যে এ ধরনের বিকৃত ছবি ও ভিডিও এখনো নেটদুনিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, কিন্তু পুরো সময় সামাজিক মাধ্যমে না থাকা এবং প্রতিনিয়ত ভার্চুয়াল দর্শকের জন্য নিজেকে উপস্থাপন করার চাপ থেকে মুক্ত হতে পেরে তিনি একজন মানুষ হিসেবে এখন অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য ও সুখে আছেন।   সোশ্যাল মিডিয়ায় না থাকার কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হলেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন ঐশ্বরিয়া। তিনি জানান, তার ম্যানেজার ও এজেন্টরা প্রতিনিয়ত তাকে সামাজিক মাধ্যমে ফিরে আসার অনুরোধ জানান এবং অ্যাকাউন্টে সক্রিয় না থাকার ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনের সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে বলে সতর্ক করেন। কিন্তু তার স্পষ্ট জবাব, ভার্চুয়াল দুনিয়া থেকে দূরে থেকে তিনি যে পরিমাণ মানসিক সুস্থতা ও ভারসাম্য অর্জন করেছেন, তার মূল্য ওই হারিয়ে যাওয়া অর্থের চেয়ে বহুগুণ বেশি। তিনি চান তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোই তার হয়ে কথা বলুক। যেসব ব্র্যান্ডের সঙ্গে তিনি চুক্তি করেন, তারাও জানে যে তার এই সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমে কোনো ব্র্যান্ডের প্রচারণা চালানো তার পক্ষে সম্ভব নয়। যদি তারা এতে রাজি থাকে, তবেই তিনি তাদের কাজ হাতে নেন এবং এখন পর্যন্ত এই প্রক্রিয়াটি তার ক্ষেত্রে চমৎকারভাবে কাজ করছে। উপরন্তু সামাজিক মাধ্যমে না থাকার ফলে তার উপস্থিতিতে একধরনের স্বতন্ত্র বিশেষত্ব তৈরি হয়েছে।   ইনস্টাগ্রাম ছাড়ার পর বাস্তব জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী জানান, আগে তিনি অনুরাগী ও সাধারণ মানুষের হাজার হাজার মেসেজ এবং মন্তব্য পড়তে গিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তেন। তার মনে হতো পুরো বিশ্ব যেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। অন্য একটি সাক্ষাৎকারে যখন তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছিলেন, পরবর্তীতে ইউটিউবে সেই ভিডিওর নিচে পড়া মন্তব্যগুলোই যেন তার ধারণাকে সত্যি প্রমাণ করেছিল। দর্শকরা তার বক্তব্য শোনার বা বোঝার চেষ্টা না করেই নেতিবাচক মন্তব্য করতে শুরু করেন। কিন্তু বর্তমানে বাস্তব জীবনে মানুষের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সময় তার আর এমন কোনো ভীতি কাজ করে না। সামাজিক মাধ্যম মানুষকে যে ভয়াবহ ট্রোলিং এবং বিষাক্ত অনুভূতির মুখোমুখি দাঁড় করায়, সেখান থেকে তিনি এখন সম্পূর্ণ মুক্ত।   ভার্চুয়াল জগৎ থেকে সরে আসার কারণে যে কিছু কাজের সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে, তা মেনে নিয়েই ক্যারিয়ার নিয়ে নিজের পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন ঐশ্বরিয়া। তিনি জানান, চলচ্চিত্রশিল্পে যখন তিনি পা রেখেছিলেন, তখন প্রথম কয়েক বছর সিনেমা ছাড়া তার জীবনে আর কিছুই ছিল না। কিন্তু আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সিনেমা তার জীবনের একটি অংশ মাত্র, পুরো জীবন নয়। এখন তিনি কেবল সেই ধরনের ছবিতেই কাজ করতে চান যা তিনি সত্যি উপভোগ করেন। বছরে যদি একটিমাত্র মানসম্পন্ন ও পছন্দসই ছবিতে কাজ করতে হয়, তাতেই তিনি সম্পূর্ণ তৃপ্ত।   ভারতের তিরুবনন্তপুরমের একটি চিকিৎসক পরিবার থেকে আসা ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী পেশায় একজন নিবন্ধিত চিকিৎসক ছিলেন। তবে চিকিৎসাসেবার প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার ছেড়ে ২০১৭ সালে মালয়ালম চলচ্চিত্র ‘নান্দুকালুদে নাটিল ওরিদাভেলা’-এর মাধ্যমে রুপালি জগতে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। একই বছর মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মায়ানাদী’ ছবিতে অভিনয় করে তিনি সর্বসাধারণের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও প্রশংসা কুড়ান। এরপর ফাহাদ ফাসিলের বিপরীতে ‘ভারাথান’ ছবিতে তার অভিনয় ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরবর্তীতে তামিল চলচ্চিত্রশিল্পেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন ঐশ্বরিয়া, যেখানে প্রখ্যাত পরিচালক মণি রত্নমের ব্লকবাস্টার হিট ‘পোন্নিয়িন সেলভান’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি পান। এটিই এখন পর্যন্ত তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল ও সর্বোচ্চ আয়কারী ছবি।    দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে ‘কানেক্কানে’, ‘আম্মু’, ‘কুমারী’, ‘গাট্টা কুস্তি’, ‘হ্যালো মাম্মি’ এবং সুরির সঙ্গে ‘মামান’-এর মতো বেশ কিছু আলোচিত ও প্রশংসিত চলচ্চিত্রে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঐশ্বরিয়া।   সূত্র: এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

মাতৃত্বের পর বদলে গেছে শরীর, অকপট ক্যাটরিনা

সংগৃহীত ছবি

ভারতের ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করলেন রাষ্ট্রপতি মুর্মু

সংগৃহীত ছবি

অপ্রতিমের নির্মম মৃত্যুতে তারকাদের আহাজারি

0 Comments