আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ আফ্রিকায় বারের গুলিবর্ষণে শিশুসহ ১২ জন নিহত

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০৬, ২০২৫

দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী প্রিটোরিয়ার কাছে একটি বারে বন্দুকধারীদের গুলিতে তিন বছরের এক শিশুসহ কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় ভোরে এ ঘটনা ঘটে। দেশটির পুলিশ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

 

দক্ষিণ আফ্রিকান পুলিশ সার্ভিসের মুখপাত্র আথলেন্ডা ম্যাথে জানান, প্রিটোরিয়া থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার পশ্চিমে সলসভিল টাউনশিপের একটি বারে চালানো এ হামলায় মোট ২৫ জনকে গুলি করা হয়। আহত ১৪ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে তিন বছর বয়সী শিশু, ১২ বছর বয়সী এক ছেলে ও ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী।

তিনি জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে একটি হোস্টেলের ভেতরে অবস্থিত অনিবন্ধিত বারে তিনজন বন্দুকধারী ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়। এ সময় সেখানে কয়েকজন পুরুষ পানাহার করছিলেন।

ঘটনার পর বন্দুকধারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। তবে এখনো হামলার কারণ বা উদ্দেশ্য জানা যায়নি।

দক্ষিণ আফ্রিকা বহুদিন ধরেই সংগঠিত অপরাধ, দুর্নীতি এবং গ্যাং সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সরকারি হিসেবে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ৬৩ জন খুন হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
হাদি হত্যার আসামি ও হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে যা বলল ভারত

ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্রুত প্রত্যার্পণ ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি হাসিনা ও হাদির হত্যাকারীদের ফেরত দেওয়ার প্রসঙ্গটি তোলেন।   আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি জানান, হাদির হত্যাকারীদের বিষয়টি তদন্তনাধীন। আর হাসিনাকে প্রত্যার্পণের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।   জয়সওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের হাইকমিশনার গতকাল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন এবং তারা দুজন দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বলেন। আপনারা (সাংবাদিকরা) আরও যে দুটি ইস্যু শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ এবং হাদির (হত্যার) কথা উল্লেখ করলেন— হাদির বিষয়ে আমি বলব এটি একটি আইনি বিষয় এবং এ নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। আর প্রত্যার্পণের বিষয়ে, যেমনটা আমি আগে বলেছি, সুনির্দিষ্ট এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট যে, আমাদের পক্ষ থেকে যে প্রক্রিয়া আছে সেটির ওপর ভিত্তি করে আমরা বিষয়টি দেখছি।”   গত ১২ ডিসেম্বর হাদিকে হত্যা করে দুই সন্ত্রাসী। এরপর তারা ভারতে পালিয়ে যায়। এরপর এ বছরের শুরুতে কলকাতা পুলিশ হাদির দুই হত্যাকারী ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।   এরপর থেকেই এ দুই হত্যকারীকে ফেরত চেয়ে আসছে বাংলাদেশ।   অপরদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের হত্যা করায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ড কার্যকর করতে হাসিনাকে তুলে দিতে বার্তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ।   সূত্র: এএনআই

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে চার মানবাধিকার সংস্থার মামলা

ছবি : সংগৃহীত

দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করলেন নরেন্দ্র মোদি

প্রতীকী ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে প্রথমবার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল যে দেশ

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের আইসিসি-বিরোধী নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে মানবাধিকার সংস্থাগুলো

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই শুরু করেছে দেশটির চারটি শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করা হয়েছে।   মামলাকারী সংস্থাগুলো হলো হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ওপেন সোসাইটি ইনস্টিটিউট, আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটি এবং সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটস।   সংস্থাগুলোর দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা নিষেধাজ্ঞার ফলে তারা বিশ্বজুড়ে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারসংক্রান্ত বিষয়ে আইসিসির সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না।   বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং এটি মার্কিন সংবিধানে স্বীকৃত বাকস্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সঙ্গেও এর সাংঘর্ষিক দিক রয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।   প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল—দুই দেশই আইসিসির সদস্য নয়। তবে মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও মামলার পথ খোলার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির প্রসিকিউটর ও কয়েকজন বিচারকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।   এর আগে ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠন এবং তিনজন আইসিসি বিচারকও একই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেছেন।   ট্রাম্পের আইসিসি-বিরোধী অবস্থানের সূচনা তার প্রথম মেয়াদে। ২০২০ সালে তিনি অনুরূপ একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে সেটি স্থগিত হয় এবং ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসন তা বাতিল করে দেয়।   তবে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন দ্য হেগভিত্তিক এই আদালতকে দুর্বল করতে কূটনৈতিক প্রচারণা জোরদার করেছে এবং বিভিন্ন দেশকে আইসিসি থেকে সরে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য, আইসিসির কার্যক্রম মার্কিন সার্বভৌমত্ব ও সরকারি কর্মীদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।   তবে সমালোচকেরা বলছেন, এই অবস্থানের পেছনে মূলত ইসরাইলি কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়া থেকে সুরক্ষা দেওয়ার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ট্রাম্প নিজেও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সুরক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাব এল-মান্দেবে ভারতীয় ট্যাংকার সুরক্ষায় দুই যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন

ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন শিশুদের কম টিকা দেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় দেশটির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান পাঁচ মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ওয়াশিংটনের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করার পর ট্রাম্পও পাল্টা এই দাবি তুললেন।   সোমবার ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দেন, ইরানের সঙ্গে পরবর্তী যে কোনো আলোচনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি তুলতে হবে। তিনি বলেন, ইরান এর আগে আলোচনায় ক্ষতিপূরণের দাবি তোলেনি।   ইরানের হামলায় নিহত বা গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে ইরানের বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও গাজায় ইরানের কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যে ‘ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি’ হয়েছে, সেগুলোর জন্যও ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তিনি।   অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ‘অবৈধ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড’ বন্ধ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। একই সঙ্গে যুদ্ধের কয়েক মাসে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থও ছাড়তে হবে।   এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নির্দিষ্ট নৌপথ বা করিডোর চালুর বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ওপর নির্ভর করবে।   সূত্র: শাফাক নিউজ এজেন্সি

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১১

ছবি: সংগৃহীত

পাঁচতারকা হোটেলে দুই মেয়েকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২০, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

0 Comments