সারাদেশ

ভাঙ্গায় ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর ৭ লাখ টাকা ছিনতাই

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মহাসড়ক থেকে এক ব্যবসায়ীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে ৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে তাকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

 

 

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজরাহাটি মহল্লার চারা বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

 

ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান (৩২) ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ এলাকার সেকেন্দার শেখের ছেলে। তিনি কম্পিউটার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

 

 

 

মেহেদী হাসানের দাবি, রবিবার দুপুরে তিনি ভাঙ্গা বাজারের পূবালী ব্যাংক থেকে ৭ লাখ টাকা উত্তোলন করেন।

 

 

পরে অটোরিকশায় করে ওই টাকা নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক দিয়ে হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে চারা বটতলা এলাকায় পৌঁছালে একটি মাইক্রোবাস তাঁর গতিরোধ করে। মাইক্রোবাসে থাকা কয়েকজন নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে গাড়িতে তুলে নেয়।

 

 

তিনি বলেন, গাড়িতে তোলার পর তাঁর মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে মারধর করা হয়।

 

 


একপর্যায়ে তাঁর কাছে থাকা ৭ লাখ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পরে মুখে মাস্ক পরিয়ে তাঁকে অচেতন করা হয়। এরপর আর কিছু মনে নেই তাঁর। পরে তাঁকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের আজিমনগর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়।

 

স্থানীয়রা হাত বাঁধা ও অচেতন অবস্থায় মেহেদী হাসানকে উদ্ধার করেন।

 

 

 


পরে তাঁর মাথায় পানি ঢালার পর জ্ঞান ফিরলে তাঁকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

 

পূবালী ব্যাংক ভাঙ্গা শাখার ব্যবস্থাপক দেবাশীষ বোস বলেন, ‘মেহেদী হাসান দুপুর ১টার দিকে আমাদের ব্যাংক থেকে ৭ লাখ টাকা তুলেছেন। শুনেছি, ব্যাংক থেকে যাওয়ার পথে মহাসড়কে তাকে গাড়িতে তুলে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।’

 

 

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা মো. সোহাগ মিয়া বলেন, ‘মেহেদী হাসান নামে এক ব্যক্তি রবিবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। তাঁর চিকিৎসা চলছিল। রাত ৯টার দিকে পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে গেছে।’

 

 

 

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বলেন, ‘মেহেদী হাসানকে থানায় আনা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শুনেছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ফের রিমান্ডে

সন্দেহজনক গতিবিধি এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে নাশকতায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে (৪৪) আবারও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।     রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।       রবিউলকে আগের ৪ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার এই ভারতীয় নাগরিককে ফের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার টিমের এসআই মেজবাহ উদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত ৪ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।       রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে রবিউলের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের জন্য তাঁকে আবারও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।     এর আগে, ২২ সেপ্টেম্বর ডিবির করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রবিউলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কের ৬০ নম্বর বাসার নিচতলা থেকে তাকে আটক করা হয়েছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন।        শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে বলেন, রবিউল বৈধভাবেই বাংলাদেশে এসেছেন। তাকে গ্রেপ্তার করে ইতিমধ্যে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আবারও রিমান্ড চাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। চার দিনের রিমান্ডে তদন্তের কোনো অগ্রগতিও হয়নি।       ২৩ সেপ্টেম্বর আদালতকে ডিবি জানিয়েছিল, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল পাসপোর্ট দেখিয়ে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে পরিচয় দেন। পরে তার কাছে থাকা ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডি যাচাই করে দেখা যায়, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডিতে থাকা জন্মতারিখের সঙ্গে পাসপোর্টের জন্মতারিখের মিল নেই।       রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, রবিউল এর আগে অনেকবার বাংলাদেশ ভ্রমণ করলেও আসা-যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেননি। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, তিনি একেক সময় একেক রকম তথ্য দিয়েছেন। পুলিশের ধারণা, তিনি বাংলাদেশে কোনো ধ্বংসাত্মক অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা শহরসহ সারা দেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।     রিমান্ড আবেদনের নথি থেকে জানা যায়, রবিউলের বাবার নাম শহীদুল ইসলাম, মায়ের নাম সালেহা খাতুন। তার স্থায়ী ঠিকানা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গোঁড়ি ভোজ এলাকায়।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
বিশ্ব নদী দিবস এবং মার্ক এ্যাঞ্জেলো রিভার অ্যাওয়ার্ড উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

নদী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর

সংগৃহীত ছবি

ভাঙ্গায় ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর ৭ লাখ টাকা ছিনতাই

ছবি: সংগৃহীত

রূপগঞ্জে পনেরো দিন ধরে নিখোঁজ শিশু আনাস আহমেদ

ছবি: সংগৃহীত
সমুদ্রের বুকে ঝিনুক আকৃতির টার্মিনাল, অক্টোবরেই আন্তর্জাতিক ঘোষণা

সমুদ্রের বুকে বাড়ানো রানওয়ে। তার পাশে ঢেউয়ের আদলে তৈরি ছাদ, দূর থেকে দেখলে যেন বিশাল এক ঝিনুক। কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল এখন যাত্রী ব্যবস্থাপনার জন্য প্রস্তুত। আগামী সপ্তাহে নতুন টার্মিনাল দিয়ে অভ্যন্তরীণ যাত্রী চলাচল শুরু হবে। আর অক্টোবরের শেষ দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক ঘোষণা করা হবে।   এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তারা বলছেন, এবার আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে আগের চেয়ে বেশি পরিকল্পিতভাবে। সম্প্রতি বেবিচক চেয়ারম্যান মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নতুন টার্মিনাল ও বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন। বেবিচকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে।   বেবিচকের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট (এটিএম) সদস্য এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পুরোনো টার্মিনালে যাত্রী ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে আগামী সপ্তাহে নতুন টার্মিনাল চালু করা হবে। প্রথমে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রী ব্যবস্থাপনা সেখানে শুরু হবে। এরপর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে অক্টোবরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য এয়ারলাইনগুলোকে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে। তারা প্রস্তুতির কথা জানালে বেবিচক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এর আগে ২০২৫ সালে ১২ অক্টোবর বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিএ–১ শাখা থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও ২৩ অক্টোবর তা স্থগিত করা হয়। বেবিচক সূত্র জানায়, গত বুধবার (২৩ অক্টোবর) চেয়ারম্যান মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নতুন টার্মিনাল এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করেন। নতুন টার্মিনালের সব অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়েছে। অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইনগুলোও নতুন টার্মিনালে যাত্রী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সরিয়ে নিতে প্রস্তুত। শুরুতে উড়োজাহাজ থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত যাত্রী আনা-নেওয়ার জন্য গলফ কার্ট ব্যবহার করা হবে। বেবিচক চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, নতুন টার্মিনালে অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম শুরুর পর পরবর্তী মাসে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু হবে। কক্সবাজারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত হিসেবে পরিচিত এই পর্যটন এলাকায় বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা এখনও খুব কম। পুরোনো বিমানবন্দরের রানওয়ে ছোট হওয়ায় এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সব ধরনের উড়োজাহাজ সেখানে চলাচল করতে পারতো না। ফলে বিদেশি পর্যটকদের ঢাকায় এসে এরপর কক্সবাজার যেতে হতো। এই পরিস্থিতি বদলাতে ২০১২ সালে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে রানওয়ে ও টার্মিনাল সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়। রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের একটি অংশের পরামর্শক ছিল কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান। জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে রানওয়ে সম্প্রসারণে নতুন জায়গা খুঁজতে হয়। শেষ পর্যন্ত সমুদ্রের দিকে রানওয়ে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২১ সালে শুরু হয় এ কাজ। প্রকল্পের আওতায় ১০৫ একর জমি উন্নয়ন করা হয়েছে। সমুদ্রের ঢেউ থেকে রানওয়েকে রক্ষায় প্রায় দুই কিলোমিটার সি-ডিফেন্স বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। এতে ৩০০ কেজি ওজনের পাথর এবং চার টন ওজনের সিসি ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে। সমুদ্রের ভেতরেই এসব ব্লক তৈরি করে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ঢেউয়ের আঘাত থেকে রানওয়েকে সুরক্ষা দিতে কংক্রিটের এই বাঁধ তৈরি করা হয়। সমুদ্রের ওপর প্রায় ২ হাজার ২০০ ফুট অ্যাপ্রোচ লাইট বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাট-২ এজিএল ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশে এ ধরনের স্থাপনা এটিই প্রথম। কক্সবাজার বিমানবন্দরের পুরোনো রানওয়ের দৈর্ঘ্য ছিল ৬ হাজার ফুট। পরে আরও ৩ হাজার ফুট বাড়িয়ে তা ৯ হাজার ফুট করা হয়েছে। এ সম্প্রসারণের ফলে রাতে উড়োজাহাজ ওঠানামার সুযোগ তৈরি হয়েছে। রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজেও নানা চ্যালেঞ্জ ছিল। করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলার সংকট এবং উত্তাল সমুদ্রের কারণে কাজ এগিয়ে নিতে সমস্যা হয়েছে। নরম মাটি ও কাদা সরাতে চীনা প্রতিষ্ঠান সাবমেরিন ড্রেজার ব্যবহার করেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আগামী ১০০ বছরে কতটা বাড়তে পারে, তা বিবেচনায় নিয়ে নেদারল্যান্ডসের একটি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করেছিল। সেই হিসাবের চেয়ে বেশি উচ্চতায় সি-ডিফেন্স তৈরি করা হয়েছে। এতে কংক্রিটের ব্লক ও পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে তৈরি ব্লকের পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে পাথর আনা হয়েছে।   রানওয়ে ১ হাজার ৭০০ ফুট সম্প্রসারণের পর আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট এলাকায় স্তরে স্তরে পাথর বসিয়ে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। রানওয়ের শেষ প্রান্তে অ্যাপ্রোচ লাইটের জন্য সেতুও তৈরি করা হয়েছে। এসব আলো উড়োজাহাজকে রানওয়ে ব্যবহারে পথ দেখাবে। রানওয়ে দিয়ে উড়োজাহাজ ওঠানামার সময় দুই পাশেই থাকবে বঙ্গোপসাগর। নতুন টার্মিনালের ছাদ তৈরি করা হয়েছে ঝিনুকের আকৃতিতে। ওপরের স্টিলের কাঠামোতে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো নকশা রাখা হয়েছে। সমুদ্রঘেঁষা বিমানবন্দরের সঙ্গে মিল রেখেই এই নকশা করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত সম্প্রতি আশা প্রকাশ করেছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ বিদেশি এয়ারলাইনগুলো কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে। বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু হলে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় হাইব্রিড পদ্ধতি চালু করা হবে। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন—দুই কার্যক্রমই নতুন টার্মিনালে হবে। অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের আগমন হবে পুরোনো টার্মিনালে। আর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রীরা নতুন টার্মিনালে চেক-ইন করে পরে পুরোনো টার্মিনালে গিয়ে উড়োজাহাজে উঠবেন। বর্তমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে প্রতিদিন ২৮ থেকে ৩০টি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ওঠানামা করে। বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওসার মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগামী সপ্তাহে নতুন টার্মিনাল চালু হবে। অক্টোবরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক ঘোষণা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঘোষণা দেবেন। আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বেবিচকের মাধ্যমে দুটি উন্নয়ন প্রকল্প ও একটি কারিগরি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য কক্সবাজারের পর্যটন বাজারের সঙ্গে সরাসরি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ তৈরি করা। নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালের আয়তন প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার। এর অনুমোদিত ব্যয় প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। টার্মিনালের আন্তর্জাতিক বহির্গমন লাউঞ্জে একসঙ্গে ৪৫০ জন যাত্রী বসতে পারবেন। রয়েছে ডিউটি ফ্রি শপ, বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এস্কেলেটর, কনভেয়ার বেল্ট, চেক-ইন কাউন্টার, বহির্গমন ও আগমন ইমিগ্রেশন কাউন্টার এবং আগমন লাউঞ্জ। আন্তর্জাতিক বহির্গমনে চারটি এবং আগমনে ছয়টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার থাকবে। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের লাগেজের জন্য দুটি বেল্ট রয়েছে। পাশাপাশি পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম, ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে সিস্টেম, সাইনেজ, সিসিটিভি ও ভারী হ্যান্ডব্যাগ স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নতুন অবকাঠামোর ফলে বছরে যাত্রী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ লাখে উন্নীত হবে। এ ছাড়া ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের অ্যাপ্রন তৈরি করা হয়েছে। সেখানে দুটি ওয়াইডবডি এবং তিনটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ রাখা যাবে। দুটি ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণ করে চালু করা হয়েছে। ৩৫টি ভিআইপি ও ৯০টি সাধারণ গাড়ির পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তৈরি করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ সড়কসহ অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামো। আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় মান যাচাই শেষে বিমানবন্দরটি আইকাও সনদও পেয়েছে। সম্প্রসারিত রানওয়ে পূর্ণ বোঝাই অবস্থায় বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর ও বোয়িং ৭৪৭-৪০০-এর মতো ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ৩ হাজার ৭০৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা। চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৭৯৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। চীনের যৌথ প্রতিষ্ঠান সিওয়াইডব্লিউইবি-সিসিইসিসি জেভি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ চালু হলে বিদেশি পর্যটক বাড়বে এবং হোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটনভিত্তিক ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মিরসরাইয়ে ক্যামিক্যাল কারখানায় ভয়াবহ আগুন

ছবি: সংগৃহীত

সাভারে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

বিদেশে পাচারের উদ্দেশে আটকে রাখা ১৭ জনকে উদ্ধার

টেকনাফে মানবপাচার চক্রের কবল থেকে ১৭ জন উদ্ধার

নিহত কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (বাঁয়ে) ও তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়া (ডানে)।
অপ্রতিমের বাবা-মাকে হুমকি ও গালাগালের অভিযোগে থানায় জিডি

নিহত কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (বাঁয়ে) ও তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়া (ডানে)।     কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই অজ্ঞাত নম্বর থেকে একের পর এক ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, বিভিন্ন হুমকি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অপ্রতিমের বাবা-মা।     এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার বিকালে অপ্রতিমের বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। সাধারণ ডায়রির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ।         এদিকে এসব ঘটনায় নিরাপত্তা শঙ্কায় শুক্রবার থেকে মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম।     অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, প্রথমে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে অপ্রতিম ও আমাদের জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে।       একই সঙ্গে আমাদের দুজনের মোবাইল নম্বরে অজ্ঞাত কয়েকটি নম্বর থেকে ফোন করে কে বা কারা গালাগাল, হুমকি ও অশোভন আচরণ করছে। এতে আমরা দুইজনই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনায় শুক্রবার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছি।       অপ্রতিমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে একটি নম্বর থেকে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে কল দেওয়া হয়।     কল রিসিভ করার পর অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান তিনি। পরিচয় দেওয়ার পর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন ওই ব্যক্তি। পরবর্তীতে কল কেটে দেওয়ার পর অন্য আরো কয়েকটি নম্বর থেকে একাধিকবার কল দিতে থাকেন ওই ব্যক্তি। পরে নম্বরগুলো ব্লক করে দেওয়া হয়।     কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বলেন, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন।     বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) কুমিল্লা কোটবাড়ী এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। সে গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকালে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য মায়ের একটি আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ট্রেন থামানোর দাবিতে ট্রেনই থামিয়ে দিলেন এলাকাবাসী

ছবি: সংগৃহীত

অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন

ছবি: সংগৃহীত

মেঘনায় ট্রলারডুবি: এখনো নিখোঁজ বাবা ও ৩ সন্তান

0 Comments