অন্যান্য

চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০৭, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া–সাতকানিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। দলের মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের পরিবর্তনের দাবিতে শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে মিঠাদিঘী এলাকায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।

 

প্রতিবাদকারীরা ‘অবৈধ নমিনেশন মানি না’, ‘টাকার বিনিময়ে নমিনেশন মানি না’—এ ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের বিক্ষোভের ফলে রাত ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ঠাকুরদিঘী থেকে কেরানিহাট পর্যন্ত মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে জনপ্রিয় প্রার্থী মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তারা দাবি জানান, দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব যেন দ্রুত মনোনয়ন পরিবর্তন করে মুজিবুর রহমানকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) একই দাবিতে সাতকানিয়ার কেরানিহাট এলাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে অংশ নেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
জামায়াত আমিরসহ শীর্ষ নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার হামলা

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলসহ দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বিবৃতিতে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ক্যাম্পেইন টিম নিশ্চিত করেছে যে, সম্প্রতি আমির ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টসহ দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে সমন্বিতভাবে সাইবার হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা সাময়িকভাবে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে দ্রুত পদক্ষেপ ও বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে সাইবার টিম অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ফলে অন্যান্য অ্যাকাউন্ট ও প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্বল্প সময়ের মধ্যে হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট প্রকাশিত হয়, যেখানে জামায়াত আমিরের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। স্পষ্টভাবে জানানো হচ্ছে, উক্ত পোস্ট বা কনটেন্ট জামায়াত আমিরের কোনো বক্তব্য, মতামত বা অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। এই মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যমকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ভুয়া খবর, জাল উদ্ধৃতি ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, পরিচয় জালিয়াতি এবং বিকৃত কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার আইনগতভাবে দণ্ডনীয় এবং নৈতিকভাবে নিন্দনীয়, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সবশেষে সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়, শুধু অফিসিয়াল ও বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে নেওয়ার জন্য। যাচাই ছাড়া কোনো কনটেন্ট শেয়ার না করা এবং সন্দেহজনক বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দেখলে তা রিপোর্ট করার আহ্বান জানানো হয়। ক্যাম্পেইন টিম ডিজিটাল নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করা হয়। এর আগে, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে নিজের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার কথা জানান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে অ্যাকাউন্টটি উদ্ধার করা হয়। তিনি এক পোস্টে জানান, হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে তার বিরুদ্ধে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া ও মনগড়া। তিনি বলেন, আমি স্পষ্ট করে জানাতে চাই যে, আমার অ্যাকাউন্টটি সম্প্রতি হ্যাক করা হয়েছিল এবং সেখানে আমার নামে ভুয়া কিছু লেখা প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য সংবলিত একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে জানানো হয়, ওই মন্তব্যটি হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

লবণ মেশানো হালকা গরম পানির স্বাস্থ্য উপকারিতা কী কী?

ছবি : সংগৃহীত

২৭তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের তথ্য চেয়েছে মাউশি

ছবি : সংগৃহীত

বিসিআইয়ের উদ্যোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল আর্থিক সাক্ষরতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় সম্বলিত ঢাবি’র বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান এসব প্রকল্পের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের জন্য ২১ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ৩য় শ্রেণি কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, ১৫ তলা আইটি হাব ভবন নির্মাণ, ৯টি হল (ছাত্র-৪, ছাত্রী-৫), ছয়টি একাডেমিক ভবন, কেন্দ্রীয় মসজিদ, ডাকসু ভবন, মেডিকেল সেন্টার, প্রশাসনিক ভবন, খেলার মাঠ উন্নয়নসহ জিমনেসিয়াম নির্মাণ, জলাধার সংস্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধণ, রোড নেটওয়ার্ক এবং পাবলিক টয়লেট নির্মাণ। অনুষ্ঠানে উপাচার্য ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ৪১টি উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম ও অর্জন সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী’র সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ, সব অনুষদের ডিন, সব হলের প্রভোস্ট এবং ডাকসু ও হল সংসদ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ জাবেদ আলম মৃধা বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরেন। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

যে ৭ বিপদ আসার আগে আমল করতে বলেছেন মহানবী (সা.)

রাজার ছেলে রাজা, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী—এ সংস্কৃতি পাল্টাতে চাই

রাজার ছেলে রাজা, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী—এ সংস্কৃতি পাল্টাতে চাই

ছবি : সংগৃহীত

যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী দেশে দেশে ছড়াতে পারে

ছবি : সংগৃহীত
বেনজির-হারুনের কথা ভুলে যাইয়েন না : হাসনাত আব্দুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনারা বেনজির-হারুনের কথা ভুলে যাইয়েন না, আপনারা ওসি প্রদীপের ঘটনার কথা ভুলে যাইয়েন না। মানুষের যে অনাস্থা আপনাদের বিরুদ্ধে তৈরি হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ হচ্ছে আসন্ন নির্বাচন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেন। আপনারা কোনো দলের নন, আপনারা বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের।   শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা মহানগরীর টাউন হল মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।   হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আপনাদের বিএনপি হওয়ার দরকার নেই, জামায়াত হওয়ার দরকার নেই, গুলশানে লাইন দেওয়ার দরকার নেই, ধানমন্ডিতে যাওয়ার দরকার নেই, এমনকি মগবাজারেও যাওয়ার দরকার নেই। আপনাদের একমাত্র বৈধতা হচ্ছে জনতা। প্রিয় পুলিশ ভাই, প্রিয় মিলিটারি ভাই, প্রিয় সেনাবাহিনী—আপনাদের কাঁধে আজ এক মহান দায়িত্ব এসে পড়েছে। কতটা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারেন, সেটার মধ্যেই আপনাদের ওপর আস্থা ফিরে আসবে।   তিনি বলেন, আপনারা কোনো দলের গোলামী করবেন না। জাতি আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। যেভাবে ৫ আগস্ট আপনারা জনতার কাতারে নেমে এসেছিলেন, ঠিক সেভাবেই ১২ ফেব্রুয়ারি জনতার পক্ষ হয়ে জাতিকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেবেন।   বিএনপির উদ্দেশ্যে বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তারেক রহমানের বক্তব্য আমরা শুনছি, কিন্তু হ্যাঁ ভোট ও না ভোট নিয়ে তাকে স্পষ্ট কথা বলতে দেখি না। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বিএনপি-জামায়াতের বহু নেতাকর্মী গুম ও খুন হয়েছেন। আজ যখন সংস্কারের সুবর্ণ সুযোগ এসেছে, তখন কেউ কেউ হাসিনার ব্যবস্থাই রেখে দিতে চায়। যারা এই ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে চায়, তাদের তরুণ প্রজন্মের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।   তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ স্পষ্টভাবে দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষ গোলামীকে বরণ করতে প্রস্তুত, অন্য পক্ষ আজাদির পক্ষে। এক পক্ষ ভারতীয় আধিপত্যের কাছে মাথা নত করেছে, আরেক পক্ষ তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। আমাদের পথ লম্বা, লড়াই দীর্ঘ। সুপ্ত ও গুপ্ত ভাষা ব্যবহার করে আবার হত্যাযজ্ঞের ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।   কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সভাপতি কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েমসহ কুমিল্লার ১১টি আসনের জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

আল্লাহভীতি মুমিনের অনন্য বৈশিষ্ট্য

ছবি : সংগৃহীত

সাভারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৮জন গ্রেপ্তার

জুবাইদা ইসলাম ইতি। সংগৃহীত ছবি

রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

0 Comments