অর্থনীতি

দখল-বেদখলে স্থায়ী বিবাদে ইসলামী ব্যাংক

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৮, ২০২৬

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ায় এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

 

বিশেষ করে আওয়ামী লীগ আমলে ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এবং ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের 'মব জাস্টিস'-এর মুখে পড়ে তার পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

 

তাছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সময় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে কয়েক বছর আগে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে খুরশীদ আলমের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী। এই কাতারে জুলকার নায়েন সায়ের ও আকবর হোসেনের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও ইনফ্লুয়েন্সারও শামিল হয়েছেন।

 

এমনকি পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের সঙ্গে তোলা খুরশীদ আলমের পুরোনো ছবিও সামনে এনেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।

 

ফলে ৫ আগস্টের পর থেকে নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে এই নিয়োগ নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন দেখা দেয়।

 

এরই অংশ হিসেবে সোমবার (২৫ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম মানববন্ধন করে খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়।

 

এ সময় তারা এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

 

মানববন্ধন থেকে খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকে ঢুকতে দেওয়া হবে না—এমন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। ঢাকার বাইরে খুলনাসহ আরও কয়েকটি জেলায় এ ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়। একই রকম হুঁশিয়ারি ফেসবুকেও দেখা গেছে।

 

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপ। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ইসলামী ব্যাংক পুনর্গঠন করা হয়। এস আলমের প্রায় ৮৩ শতাংশ শেয়ার ব্লক করে রাখা হয়। ব্যাংকটিকে এস আলমমুক্ত করতে গেলে ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট রাজধানীর দিলকুশায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বাইরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সময় ২০১৭ সালের আগে ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এর পরে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। গুলিতে বেশ কয়েকজন আহত হন।

 

এরপর ২২ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকে মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে চেয়ারম্যান করা হয়। তিনি আ. লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন। তার ভাই আ. লীগ সরকারের একজন সচিব ছিলেন। ব্যাংকটিতে যোগদানের এক বছর না যেতেই তিনি পদত্যাগ করেন। এর পরপরই অন্য একটি ব্যাংকের দায়িত্বে থাকাকালে সংঘটিত ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালে নিয়োগ পাওয়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনিরুল মাওলা আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রায় এক বছর পদ দখল করে থাকেন। অনেক নাটকীয়তার পর ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি পদত্যাগ করেন। জুন মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

২০২৫ সালের জুলাইয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সাবেক প্রভাষক এম. জুবায়দুর রহমান। তবে তিনিও ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বগুলো সঠিকভাবে সমাধান করতে পারেননি। বরং এমডি ওমর ফারুক খাঁনের বিরুদ্ধে পাল্টা একটি প্রতিপক্ষ দাঁড় করানোর জন্য একচেটিয়াভাবে একজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) নিয়োগ দেন। এএমডিকে ক্ষমতাশালী করতে বিভিন্ন কৌশল হাতে নেন। এতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ে। গত এপ্রিলে এমডিকে জোরপূর্বক ছুটিতে পাঠান চেয়ারম্যান। এর আগে থেকেই ব্যাংকটির এএমডি কামাল উদ্দীন জসিমের কার্যক্রমে মনে হতে থাকে তিনিই এমডি।

 

এই সময়ে ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ কর্মী ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এস আলম গ্রুপের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ৫ হাজার ৩৮৫ কর্মকর্তার যোগ্যতা ও দক্ষতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কর্মীকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয় এবং নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগে কয়েকশ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এই চাকরিচ্যুতরা বেশিরভাগই একটি অঞ্চলের লোক এবং তাদের অনেকেরই ব্যাংকে চাকরি করার মতো শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না। তবে চাকরি হারিয়ে তারাও মাঠে নামে। বিভিন্ন সময়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করে।

 

সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের এই দখল-বেদখলের বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'ব্যাংক দখল হয়েছে ইন্টেরিম সরকারের সময়, ব্যাংক দখল হয়েছে আওয়ামী লীগের সময়। তবে স্টাইলটা একটু ভিন্ন ছিল। কেউ সরকারি গোয়েন্দা ব্যবহার করে হোটেলে ডেকে নিয়ে ব্যাংক দখল করেছে, কেউ নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর বলে ব্যাংক দখল করেছে।'

 

ঢাকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি থিংক অ্যান্ড ইকোনোমিক রিসার্চ সেন্টারের (পিটিইআরসি) চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক বাংলানিউজকে বলেন, 'একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এভাবে চলতে পারে না। একসময়ে এশিয়ার মধ্যে শীর্ষে থাকা এই ব্যাংকটিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে গ্রাহকের আস্থা অনেকটা নষ্ট হয়েছে। এরপরও ব্যাংকটির রেমিট্যান্স আহরণের কারণে এখনও অর্থনীতিতে, বিশেষ করে রিজার্ভ সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই ব্যাংক একটি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া ছিল একটি অভিশপ্ত অধ্যায়। অর্থনীতির স্বার্থে, রাষ্ট্রের স্বার্থে ব্যাংকটি পুনরুদ্ধারে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।'

 

অভিযোগ রয়েছে, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁনকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। বিক্ষোভের মধ্যেই জুবায়দুরেরও পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে। রাতে খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে যেসব আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে, সেসবের তদন্ত অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ওই তদন্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভিযোগের সত্যতা পায়নি। ফলে জেনারেল ম্যানেজার (বর্তমানে পরিচালক পদ) থেকে ধাপে ধাপে নির্বাহী পরিচালক এবং ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ পান খুরশীদ আলম।

 

অতীতের কর্মদক্ষতা ও সততার মূল্যায়ন করেই খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য দুই চেয়ারম্যানের তুলনায় এবার বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

 

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর একটি বেসরকারি চ্যানেলকে দেওয়া খুরশীদ আলমের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারটি ফেসবুকে অনেক বেশি ভিউ হতে দেখা যায়। সেখানে তাকে বলতে দেখা যায়, 'ইনশাআল্লাহ, ইসলামী ব্যাংক আবারও দেশের ১ নম্বর ব্যাংক হবে।'

 

এই বক্তব্যকে সামনে রেখে 'সম্মিলিত ব্যাংক পরিবার' নামের একটি পেজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে অনেকেই ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তাদের মধ্যে একজন লিখেছেন, 'ব্যাংকিং খাতের এক অনন্য বিজ্ঞ ও দূরদর্শী ব্যক্তিত্বকে নেতৃত্বে পেয়ে দেশবাসী অত্যন্ত আনন্দিত।'

 

মঙ্গলবার আবদুস সালাম কাজী নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী খুরশীদ আলমের সঙ্গে তার একটি ছবি পোস্ট করেন। তাতে দেখা যায়, গণসংহতি আন্দোলনের (জিএসএ) নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার দিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন খুরশীদ আলম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইশতেহার প্রকাশ করে জিএসএ। পোস্টে খুরশীদ আলম ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ পাওয়ায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান তিনি।

 

জানা গেছে, খুরশীদ আলমকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় তৎকালীন সরকার।

 

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৭ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়ে খুরশীদ আলমসহ চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন।

 

চাকরি জীবনেও খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তার কিছু সহকর্মী। বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসের জেনারেল ম্যানেজার (বর্তমানে পরিচালক পদ) থাকাকালে তার গৃহীত ছাদবাগান কর্মসূচিকে ঘিরে ওই অভিযোগ তোলা হয়। এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়নি।

 

অথচ এসব অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষোদ্গার দেখা যায়। বিবিসির সাংবাদিক আকবর হোসেন তার এক ভ্লগে বলেন, 'আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সখ্য ছিল এমন একজন লোককে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় একটা প্রশ্ন উঠেছে যে, তিনি (খুরশীদ আলম) ইসলামী ব্যাংকে এসে এস আলমের স্বার্থ রক্ষা করবেন কি না। একজন ক্লিন ইমেজের লোককে এখানে নিয়োগ দিলে এমন প্রশ্ন উঠত না।'

 

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাংলানিউজকে বলেন, 'জুলাই আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের পর 'মব জাস্টিস' করে খুরশীদ আলমকে পদত্যাগ করানো হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।'

 

বাংলানিউজকে দেওয়া তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের এই কাজটিকে 'চ্যালেঞ্জিং' বলে মন্তব্য করেন খুরশীদ আলম। একই সঙ্গে তিনি ব্যাংকটিকে সফলভাবে পরিচালনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং তার ভিন্ন কোনো অভিসন্ধি নেই বলেও দাবি করেন।

 

মো. খুরশীদ আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদ থেকে স্নাতকোত্তর ও এমবিএ করেন। ১৯৮৮ সালে সহকারী পরিচালক পদে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দেন। ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ, কৃষিঋণ বিভাগ, পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট, ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট, ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন, এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ, সচিব বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। খুরশীদ আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
দখল-বেদখলে স্থায়ী বিবাদে ইসলামী ব্যাংক

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ায় এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।   বিশেষ করে আওয়ামী লীগ আমলে ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এবং ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের 'মব জাস্টিস'-এর মুখে পড়ে তার পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।   তাছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সময় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে কয়েক বছর আগে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে খুরশীদ আলমের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী। এই কাতারে জুলকার নায়েন সায়ের ও আকবর হোসেনের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও ইনফ্লুয়েন্সারও শামিল হয়েছেন।   এমনকি পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের সঙ্গে তোলা খুরশীদ আলমের পুরোনো ছবিও সামনে এনেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।   ফলে ৫ আগস্টের পর থেকে নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে এই নিয়োগ নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন দেখা দেয়।   এরই অংশ হিসেবে সোমবার (২৫ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম মানববন্ধন করে খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়।   এ সময় তারা এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।   মানববন্ধন থেকে খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকে ঢুকতে দেওয়া হবে না—এমন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। ঢাকার বাইরে খুলনাসহ আরও কয়েকটি জেলায় এ ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়। একই রকম হুঁশিয়ারি ফেসবুকেও দেখা গেছে।   প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপ। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ইসলামী ব্যাংক পুনর্গঠন করা হয়। এস আলমের প্রায় ৮৩ শতাংশ শেয়ার ব্লক করে রাখা হয়। ব্যাংকটিকে এস আলমমুক্ত করতে গেলে ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট রাজধানীর দিলকুশায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বাইরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সময় ২০১৭ সালের আগে ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এর পরে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। গুলিতে বেশ কয়েকজন আহত হন।   এরপর ২২ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকে মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে চেয়ারম্যান করা হয়। তিনি আ. লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন। তার ভাই আ. লীগ সরকারের একজন সচিব ছিলেন। ব্যাংকটিতে যোগদানের এক বছর না যেতেই তিনি পদত্যাগ করেন। এর পরপরই অন্য একটি ব্যাংকের দায়িত্বে থাকাকালে সংঘটিত ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।   এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালে নিয়োগ পাওয়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনিরুল মাওলা আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রায় এক বছর পদ দখল করে থাকেন। অনেক নাটকীয়তার পর ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি পদত্যাগ করেন। জুন মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   ২০২৫ সালের জুলাইয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের সাবেক প্রভাষক এম. জুবায়দুর রহমান। তবে তিনিও ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বগুলো সঠিকভাবে সমাধান করতে পারেননি। বরং এমডি ওমর ফারুক খাঁনের বিরুদ্ধে পাল্টা একটি প্রতিপক্ষ দাঁড় করানোর জন্য একচেটিয়াভাবে একজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) নিয়োগ দেন। এএমডিকে ক্ষমতাশালী করতে বিভিন্ন কৌশল হাতে নেন। এতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ে। গত এপ্রিলে এমডিকে জোরপূর্বক ছুটিতে পাঠান চেয়ারম্যান। এর আগে থেকেই ব্যাংকটির এএমডি কামাল উদ্দীন জসিমের কার্যক্রমে মনে হতে থাকে তিনিই এমডি।   এই সময়ে ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ কর্মী ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এস আলম গ্রুপের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ৫ হাজার ৩৮৫ কর্মকর্তার যোগ্যতা ও দক্ষতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কর্মীকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয় এবং নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগে কয়েকশ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এই চাকরিচ্যুতরা বেশিরভাগই একটি অঞ্চলের লোক এবং তাদের অনেকেরই ব্যাংকে চাকরি করার মতো শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না। তবে চাকরি হারিয়ে তারাও মাঠে নামে। বিভিন্ন সময়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করে।   সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের এই দখল-বেদখলের বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'ব্যাংক দখল হয়েছে ইন্টেরিম সরকারের সময়, ব্যাংক দখল হয়েছে আওয়ামী লীগের সময়। তবে স্টাইলটা একটু ভিন্ন ছিল। কেউ সরকারি গোয়েন্দা ব্যবহার করে হোটেলে ডেকে নিয়ে ব্যাংক দখল করেছে, কেউ নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর বলে ব্যাংক দখল করেছে।'   ঢাকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি থিংক অ্যান্ড ইকোনোমিক রিসার্চ সেন্টারের (পিটিইআরসি) চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক বাংলানিউজকে বলেন, 'একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এভাবে চলতে পারে না। একসময়ে এশিয়ার মধ্যে শীর্ষে থাকা এই ব্যাংকটিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে গ্রাহকের আস্থা অনেকটা নষ্ট হয়েছে। এরপরও ব্যাংকটির রেমিট্যান্স আহরণের কারণে এখনও অর্থনীতিতে, বিশেষ করে রিজার্ভ সমুন্নত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই ব্যাংক একটি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া ছিল একটি অভিশপ্ত অধ্যায়। অর্থনীতির স্বার্থে, রাষ্ট্রের স্বার্থে ব্যাংকটি পুনরুদ্ধারে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।'   অভিযোগ রয়েছে, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁনকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। বিক্ষোভের মধ্যেই জুবায়দুরেরও পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে। রাতে খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে যেসব আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে, সেসবের তদন্ত অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ওই তদন্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভিযোগের সত্যতা পায়নি। ফলে জেনারেল ম্যানেজার (বর্তমানে পরিচালক পদ) থেকে ধাপে ধাপে নির্বাহী পরিচালক এবং ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ পান খুরশীদ আলম।   অতীতের কর্মদক্ষতা ও সততার মূল্যায়ন করেই খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য দুই চেয়ারম্যানের তুলনায় এবার বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।   ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর একটি বেসরকারি চ্যানেলকে দেওয়া খুরশীদ আলমের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারটি ফেসবুকে অনেক বেশি ভিউ হতে দেখা যায়। সেখানে তাকে বলতে দেখা যায়, 'ইনশাআল্লাহ, ইসলামী ব্যাংক আবারও দেশের ১ নম্বর ব্যাংক হবে।'   এই বক্তব্যকে সামনে রেখে 'সম্মিলিত ব্যাংক পরিবার' নামের একটি পেজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে অনেকেই ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তাদের মধ্যে একজন লিখেছেন, 'ব্যাংকিং খাতের এক অনন্য বিজ্ঞ ও দূরদর্শী ব্যক্তিত্বকে নেতৃত্বে পেয়ে দেশবাসী অত্যন্ত আনন্দিত।'   মঙ্গলবার আবদুস সালাম কাজী নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী খুরশীদ আলমের সঙ্গে তার একটি ছবি পোস্ট করেন। তাতে দেখা যায়, গণসংহতি আন্দোলনের (জিএসএ) নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার দিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন খুরশীদ আলম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইশতেহার প্রকাশ করে জিএসএ। পোস্টে খুরশীদ আলম ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ পাওয়ায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান তিনি।   জানা গেছে, খুরশীদ আলমকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় তৎকালীন সরকার।   আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৭ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়ে খুরশীদ আলমসহ চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন।   চাকরি জীবনেও খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তার কিছু সহকর্মী। বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসের জেনারেল ম্যানেজার (বর্তমানে পরিচালক পদ) থাকাকালে তার গৃহীত ছাদবাগান কর্মসূচিকে ঘিরে ওই অভিযোগ তোলা হয়। এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়নি।   অথচ এসব অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষোদ্গার দেখা যায়। বিবিসির সাংবাদিক আকবর হোসেন তার এক ভ্লগে বলেন, 'আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সখ্য ছিল এমন একজন লোককে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় একটা প্রশ্ন উঠেছে যে, তিনি (খুরশীদ আলম) ইসলামী ব্যাংকে এসে এস আলমের স্বার্থ রক্ষা করবেন কি না। একজন ক্লিন ইমেজের লোককে এখানে নিয়োগ দিলে এমন প্রশ্ন উঠত না।'   জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাংলানিউজকে বলেন, 'জুলাই আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের পর 'মব জাস্টিস' করে খুরশীদ আলমকে পদত্যাগ করানো হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।'   বাংলানিউজকে দেওয়া তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের এই কাজটিকে 'চ্যালেঞ্জিং' বলে মন্তব্য করেন খুরশীদ আলম। একই সঙ্গে তিনি ব্যাংকটিকে সফলভাবে পরিচালনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং তার ভিন্ন কোনো অভিসন্ধি নেই বলেও দাবি করেন।   মো. খুরশীদ আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদ থেকে স্নাতকোত্তর ও এমবিএ করেন। ১৯৮৮ সালে সহকারী পরিচালক পদে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দেন। ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ, কৃষিঋণ বিভাগ, পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট, ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট, ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন, এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ, সচিব বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। খুরশীদ আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৮, ২০২৬

একক গ্রুপের হাতে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৯০০ হাজার কোটি টাকা : অর্থনীতিবিদ

ছবি : সংগৃহীত

ঈদের ছুটিতে বাণিজ্য সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩টি টাস্কফোর্স, কাস্টমসে ১০টি টিম

ফাইল ছবি

ভঙ্গুর অর্থনীতির চাপে বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিন

ছবি: সংগৃহীত
এটিএমে টাকা নেই, ঈদের আগে দুর্ভোগে গ্রাহকরা

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে নিরবচ্ছিন্ন ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট নির্দেশনা দিলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এটিএম বুথে নগদ টাকার সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও বুথ বন্ধ, কোথাও আবার টাকা উত্তোলনে সীমা নির্ধারণ করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।   রবিবার ও গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম বুথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। আবার কিছু ব্যাংক নগদ টাকা উত্তোলনে সীমা আরোপ করেছে। ফলে ঈদ সামনে রেখে প্রয়োজনীয় নগদ টাকা তুলতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন গ্রাহকরা।   গোলাপবাগের এক বাসিন্দা জানান, তিনি ব্যাংক এশিয়ার কার্ড ব্যবহার করে স্থানীয় বেশ কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে ব্যর্থ হন। পরে আরও কয়েকটি বুথ ঘুরেও টাকা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যাংক এশিয়ার একটি বুথ থেকে টাকা তুলতে সক্ষম হন। মিরপুরের বাসিন্দা জুলকার নাইনও একই ধরনের ভোগান্তির শিকার হন। তিনি জানান, কয়েকটি এটিএম বুথ ঘুরেও টাকা তুলতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ব্যাংক শাখা থেকে নগদ টাকা তুলতে বাধ্য হন।   গ্রাহকদের অভিযোগ, এক ব্যাংকের বুথে অন্য ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা তুলতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে চাহিদা অনুযায়ী নগদ অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। রবিবার আমরা ৩০০ কোটি টাকা চেয়েছিলাম, কিন্তু পেয়েছি মাত্র ১২০ কোটি টাকা।   অন্যদিকে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন জানান, তাদের সব এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ টাকা রয়েছে এবং সব ব্যাংকের গ্রাহকই টাকা তুলতে পারছেন।   গত ২১ মে বাংলাদেশ ব্যাংক এক নির্দেশনায় ঈদুল আজহার ছুটিতে সব বাণিজ্যিক ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের ডিজিটাল লেনদেন এবং এটিএম সেবা সার্বক্ষণিক সচল রাখার নির্দেশ দেয়।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নগদ টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই। যেসব ব্যাংক ঠিকমতো এটিএম সেবা দিতে পারছে না বা নগদ টাকার জোগান নিশ্চিত করতে পারছে না, তাদের বুথ বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এআই চিপের ব্যাপক চাহিদায় প্রথম প্রান্তিকে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সিঙ্গাপুরের

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলন জুনে

ছবি: সংগৃহীত

নতুন করে ৩ বছর মেয়াদি সংস্কার কর্মসূচিতে সম্মত বাংলাদেশ ও আইএমএফ

ছবি : সংগৃহীত
৯৪.৭০% পোশাক কারখানায় ঈদ বোনাস পরিশোধ: বিজিএমইএ

ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২ হাজার ১৩৩টি চালু কারখানার মধ্যে ২ হাজার ২১টি পোশাক কারখানা ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার (২৫ মে) এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে বিজিএমইএ। এতে বলা হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রামে চালু রয়েছে মোট ২ হাজার ১৩৩টি কারখানা। যার মধ্যে ঢাকায় ১ হাজার ৭৯৪টি ও চট্টগ্রামে ৩৪০টি।   এপ্রিলের বেতন পরিশোধ করেছে ২ হাজার ১১৭টি কারখানা, যা শতকরা ৯৯ দশমিক ২০ শতাংশ। এরমধ্যে রয়েছে ঢাকার ১ হাজার ৭৮৩টি ও চট্টগ্রামের ৩৩৪টি কারখানা। ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে মোট ২ হাজার ২১টি কারখানা, যা শতকরা ৯৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। এরমধ্যে রয়েছে ঢাকার ১ হাজার ৭০৯ টি ও চট্টগ্রামের ৩১২টি কারখানা।   এছাড়া মে মাসের অগ্রিম বেতন পরিশোধ করেছে মোট ৭৬৭টি কারখানা, যা শতকরা ৩৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এদিকে, ২৪ মে ঢাকা ছেড়েছে ১০৮টি পোশাক কারখানার কর্মীরা। ২৫ ও ২৬ মে ঢাকা ছাড়বে যথাক্রমে ৬৬৪টি ও ৭৭১টি পোশাক কারখানার কর্মী। আর আগামী ২৭ মে ২৫১টি পোশাক কারখানার কর্মীরা ঢাকা ছাড়বে।

মারিয়া রহমান মে ২৫, ২০২৬
তারেক রহমানের সঙ্গে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার।

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ছবি: সংগৃহীত

হিলি স্থলবন্দর ঈদুল আযহায় ৭ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ

সংগৃহীত ছবি

কম দামে পোশাক বিক্রি সত্ত্বেও সংকটে পোশাক শিল্প

0 Comments