‘চিকেনস নেক’ হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোরে ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণে ২ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।
মহাসড়কটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘জাতীয় মহাসড়ক ২৭’ এর একটি অংশের সমান্তরালে নির্মাণ করা হবে বলে শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে, নতুন এই মহাসড়ক নির্মাণের ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের সঙ্গে দেশটির বাকি অংশের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
‘চিকেনস নেক’ ভৌগলিকভাবে নেপাল ও বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষে এগিয়েছে। চীন ও ভুটানের সীমান্তও এই করিডোরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত।
বৃহস্পতিবার ফেইসবুক পোস্টে সেখানে সড়ক নির্মাণে অর্থ বরাদ্দের কথা জানান ভারতের কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গড়করি।
তিনি বলেন, মহাসড়কটি পানিটাঙ্কি ও খড়িবাড়ি হয়ে বাগডোগরা থেকে বিহারের গালগালিয়া পর্যন্ত যাবে। এর দৈর্ঘ্য হবে ৩১ দশমিক ০২ কিলোমিটার; নাম হবে ‘জাতীয় মহাসড়ক-৩২৭’ বা ‘এনএইচ-৩২৭’। ‘এনএইচ-২৭’ এর সঙ্গে ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্ব বজায় রেখে এটি নির্মাণ করা হবে।
গালগালিয়ার অবস্থান বিহারের কিশানগঞ্জ জেলায়। অন্যদিকে পানিটাঙ্কি অবস্থিত দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়িতে, যা নেপালে যাতায়াতের বহুল ব্যবহৃত একটি পথ।
‘চিকেনস নেকের’ দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ কিলোমিটার। এর সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার। ভারতের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত নিরাপত্তার জন্য এই করিডোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গড়করি লিখেছেন, “প্রকল্পটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করবে এবং নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের দিকে যাতায়াতের সুযোগও বাড়াবে।”
এ প্রকল্পের আওতায় তিনটি বড় সেতু, একটি ওভারব্রিজ, হাতি চলাচলের জন্য পাঁচটি আন্ডারপাস এবং নতুন মহাসড়কের দুই পাশে সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হবে।
টেলিগ্রাফ লিখেছে, গত দুই বছরে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর চিকেন নেকের প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও অবকাঠামো শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার।
এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি বারাণসী থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত একটি উচ্চগতির রেল করিডোর এবং শিলিগুড়ির কাছে ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে নয়া দিল্লি। এছাড়া মালদা থেকে এনজেপি পর্যন্ত আরেকটি রেলপথ স্থাপনেরও অনুমোদনও দিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইরানের ওপর আরও আর্থিক চাপ সৃষ্টির সর্বশেষ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার তুরস্কের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। তুরস্কের ওই ব্যাংকের নাম ‘গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসি অ্যানোনিম সিরকেটি’। এ পদক্ষেপ নেওয়ার এক সপ্তাহ আগে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা করেন। এর আগে গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী একটি মিশরীয় ব্যাংককে লক্ষ্যবস্তু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার বার্তাসংস্থা এপি জানায়, ইরানকে তার অবশিষ্ট বৈশ্বিক বাণিজ্য অংশীদারদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে গত সপ্তাহে ঘোষিত ওই অভিযানটি ইতোমধ্যেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। যেখানে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’র প্রতিশ্রুতি দ্রুতই ইরানের বাণিজ্য অংশীদারদের প্রতি সতর্কবার্তা ও আলোচনার পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুগের পর যুগ ধরে ইরানের ওপর আর্থিক অবরোধ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এগুলো সফলতার মুখ দেখেনি। এবার যুদ্ধে নেমে কখনো হামলা, কখনো অবরোধ— এমন দদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সর্বশেষ তারা ইরানের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ১৮ জনকে হত্যা ও শতাধিক জনকে আহত করে। হতাহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। শুক্রবার আল জাজিরা জানায়, ওই হামলার তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করেছে। ফলে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের কারণে পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা নতুন করে দেখা দিয়েছে। অনমনীয় ইরানি সরকারের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানে হিমশিম খাওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এ দ্বিমুখী কৌশলের ফলাফল কী হবে, তা এখনো অস্পষ্ট।
ভারতের পাহাড়ি রাজ্য সিকিমে নতুন করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্যাটেলাইট ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে হিমবাহ থেকে সৃষ্ট হ্রদগুলো পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, রাজ্যটির ৪০টি হিমবাহ হ্রদ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি হ্রদকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হিমালয়ের উচ্চাঞ্চলে তীব্র ঠান্ডার কারণে বরফ জমে বিশাল হিমবাহ ও হ্রদ তৈরি হয়। তবে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বরফ দ্রুত গলতে থাকায় এসব হ্রদে পানির পরিমাণ ও চাপ বাড়ছে। পাহাড়ধস, ভূমিকম্প কিংবা অতিরিক্ত পানির চাপে কোনো হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে আকস্মিকভাবে বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। এতে পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সিকিমের অতীত অভিজ্ঞতাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি হিমবাহ হ্রদ ফেটে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ৬০ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং একটি বড় বাঁধ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। সম্প্রতি নেপাল সীমান্তেও একই ধরনের বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে, যা হিমালয় অঞ্চলে নতুন করে সতর্কতা তৈরি করেছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সিকিম সরকার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত ‘শাকো ছা’ হ্রদ থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়ার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লোনাক ও গুরুডংমার হ্রদের পানির স্তর নিয়ন্ত্রণে রাখতেও বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হ্রদগুলোর বিপুল পরিমাণ পানি কীভাবে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। সম্ভাব্য পদ্ধতিগুলোর মধ্যে বড় পাইপের মাধ্যমে পানি পাম্প করে বের করে দেওয়া, সাইফন পদ্ধতি এবং সুরঙ্গ তৈরি করে পানির গতিপথ পরিবর্তনের বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় নতুন ধরনের সেন্সর ও সাইরেন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে হ্রদের পরিস্থিতিতে আকস্মিক পরিবর্তন দেখা দিলে আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে নিচু এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সূত্র : দ্য হিন্দু।
চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো ও যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ড্রোন শিল্পকে উৎসাহিত করতে বিদেশি তৈরি ড্রোন ও যন্ত্রাংশে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়মে ২৫ কেজির বেশি ওজনের কিংবা থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা ড্রোনে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসবে। এসব ড্রোনের মধ্যে অনেকগুলোই চীনে তৈরি হয়। দাবানল পর্যবেক্ষণ, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তুলনামূলক ছোট ও কম প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোনে শুল্ক ২৫ শতাংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্রদেশের জন্য কিছুটা ছাড় রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও তাইওয়ান থেকে আসা ড্রোন ও যন্ত্রাংশে ১৫ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ড্রোন প্রযুক্তিতে চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। দেশটির সরকার একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে ড্রোন উৎপাদন বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে। বিশ্বের ড্রোন বাজারে চীনের শেনজেনভিত্তিক কোম্পানি ডিজেআইয়ের বড় ধরনের আধিপত্য রয়েছে। কোম্পানিটি বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক ড্রোনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি তৈরি করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নতুন শুল্কের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন ব্যবহারকারীরা। তাদের আশঙ্কা, দেশে প্রয়োজনীয় বিকল্প তৈরি না হওয়ায় শুল্ক বাড়লে পুলিশ, দমকল বাহিনী, নির্মাণ ও অন্যান্য ব্যবসায় ড্রোনের খরচ বেড়ে যাবে। চীনও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ অবাধ প্রতিযোগিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং বিশ্বজুড়ে ড্রোনের সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন বিদেশি তৈরি কিছু ড্রোনের নতুন মডেল বিক্রিতে আরও বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে মার্কিন ড্রোন ব্যবহারকারী ব্যবসা ও জননিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস