গত তিন বছরেরও কম সময়ে রেকর্ড ৬০ লাখ আফগান শরণার্থী নিজেদের দেশে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ইতিহাসে এত পরিমাণে প্রত্যাবাসন বা মানুষের ফিরে যাওয়ার এমন কোনো বড় ঘটনা এর আগে দেখা যায়নি।
একই সঙ্গে সব ধরনের প্রত্যাবাসন যেন সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছে সংস্থাটি। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
ফিরে যাওয়া এসব শরণার্থীর সুনির্দিষ্ট বিস্তারিত তথ্য ইউএনএইচসিআর প্রকাশ না করলেও, এদের বড় একটি অংশ প্রতিবেশী পাকিস্তান ও ইরান থেকে নিজ দেশে ফিরেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত জুনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান যে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইসলামাবাদ সরকারের পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৪ লাখেরও বেশি আফগান নাগরিক তাদের দেশে ফিরে গেছেন।
এ ছাড়া ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২১ লাখ আফগান ইরান থেকে ফিরে এসেছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসন এবং পরবর্তীতে বছরের পর বছর চলা সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণে লাখ লাখ আফগান শরণার্থী পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে পাকিস্তানে ৭ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি নিবন্ধিত আফগান শরণার্থী বসবাস করছেন, অন্যদিকে অবৈধ শরণার্থীর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি বলে ধারণা করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইসরায়েলের আসন্ন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর চেয়ে সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী রাজনীতিক গাদি আইজেনকটকে বেশি যোগ্য মনে করছেন দেশটির নাগরিকেরা। একই সঙ্গে নির্বাচনে আইজেনকটের দল ইয়াশার পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে জরিপ। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত চ্যানেল টুয়েলভের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকটের প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর চেয়ে ১২ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেশি উপযুক্ত মনে করেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা। এর আগে প্রকাশিত জরিপে দুই নেতার মধ্যে ব্যবধান ছিল ১০ শতাংশ পয়েন্ট। নতুন জরিপে সেই ব্যবধান বেড়ে ১২ শতাংশ পয়েন্টে পৌঁছেছে। নির্বাচনের আর মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি থাকতে প্রকাশিত এই জরিপে পার্লামেন্টের আসন বণ্টন নিয়েও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে আইজেনকটের দল ইয়াশার সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে এতে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জরিপের হিসাব অনুযায়ী, ইয়াশার পেতে পারে ২৪টি আসন। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির আসনসংখ্যা হতে পারে ২১। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দল টুগেদার পেতে পারে ১৪টি আসন। এ ছাড়া ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস এবং আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট—উভয় দলই পেতে পারে ৯টি করে আসন। অন্যদিকে আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু পার্টি, কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের দল শাস এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের জিউইশ পাওয়ার পার্টি আটটি করে আসন পেতে পারে বলে জরিপে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জরিপে আরও বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর বিরোধী ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ৫৫টি আসন পেতে পারে। আগের জরিপের তুলনায় এই সংখ্যা দুই আসন বেশি। বিপরীতে নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোটের আসনসংখ্যা হতে পারে ৫১টি। এছাড়া আরব দল দুটি মিলিয়ে আরও ১৪টি আসন পেতে পারে। সে হিসাবে নেতানিয়াহুর জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর মোট আসন দাঁড়াতে পারে ৬৯টিতে। তবে এসব দলকে নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো সরকার গঠনের জোট তৈরি হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যোগ্যতা নিয়ে জরিপের আরেকটি প্রশ্নেও নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। উত্তরদাতাদের ৩৯ শতাংশ বেনেটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেশি উপযুক্ত মনে করেন। নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৪ শতাংশ। আর ২২ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, তাদের কেউই প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য উপযুক্ত নন। নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন নেতানিয়াহুর ভোটে কী প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও জরিপে জানতে চাওয়া হয়। এতে অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ ইসরায়েলি জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন তাদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না। অন্যদিকে, ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ট্রাম্পের সমর্থনের কারণে লিকুদ পার্টিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা তাদের কমেছে। বিপরীতে ১২ শতাংশ জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর দলের প্রতি তাদের সমর্থন আরও বাড়িয়েছে। এর আগে গত রোববার নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানান ট্রাম্প। এ সময় তিনি নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের জামিন শুনানি ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মুক্তি দিতে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ সামনে আসার পর শুনানি স্থগিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা। সিজেপির অভিযোগ, হুমকির বিষয়টিকে সামনে এনে দুই নেতার জামিন প্রক্রিয়া অযথা বিলম্বিত করা হচ্ছে। তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকির অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি নন-কগনিজেবল রিপোর্ট (এনসিআর) নথিভুক্ত করা হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় পতাকা হাতে লোহার ফটক অতিক্রম করে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রবেশের অভিযোগে আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের পাঁচ দিনের কারা হেফাজতে পাঠানো হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) তাঁদের জামিন আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে শুনানি শুরু না হওয়ায় আইনজীবী ও দলীয় নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ম্যাজিস্ট্রেটের হুমকি পাওয়ার দাবি সিজেপির লিগ্যাল সেলের প্রধান রত্না সিংয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, দুপুর ১২টায় শুনানির সময় নির্ধারিত থাকলেও বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সরকারি কৌঁসুলি বিকেল পাঁচটার দিকে এজলাসে উপস্থিত হন। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট জানান, গ্রেপ্তার দুই নেতাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিজের নিরাপত্তা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি সেদিনের শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। ফলে জামিন আবেদনের শুনানি সোমবার (১৯ অক্টোবর) পর্যন্ত পিছিয়ে যায়। এই মামলায় বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে রয়েছেন দিল্লি পুলিশের সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। জামিন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার অভিযোগ সিজেপির রত্না সিং দাবি করেন, ম্যাজিস্ট্রেট হুমকি পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু সেই অভিযোগের কারণে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামিন আবেদনের শুনানি বন্ধ রাখা যুক্তিসংগত নয়। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় পতাকা বহন করাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। অথচ প্রক্রিয়াগত নানা জটিলতার কারণে দুই নেতার কারাবাস দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টেও তিনি শুনানিতে বিলম্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। রত্না জানান, রোববার সকাল ১১টা থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বিকেল ৪টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে উপস্থিত হননি বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া চারজন জামিনদারের দাখিল করা নথি প্রত্যাখ্যানের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রত্না। তাঁর অভিযোগ, ব্যাংকের সিলযুক্ত ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্টও যথাযথ ব্যাখ্যা ছাড়া গ্রহণ করা হয়নি। উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি এদিকে পৃথক ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন। সিজেপির তথ্য অনুযায়ী, নিজ বাড়ি থেকে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। জামিন পাওয়ার পর আশুতোষ ও সৌরভের আটকাদেশ এবং শুনানিতে বিলম্বের সমালোচনা করেন অভিজিৎ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেন, দুই নেতার মুক্তি ঠেকাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। তাঁদের আটকে রাখার আইনগত ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জামিন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব অব্যাহত থাকলে উচ্চতর আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এ লক্ষ্যে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। হুমকির ঘটনায় পুলিশের প্রতিবেদন রোববার রাতে সংবাদ সংস্থা পিটিআই দিল্লি পুলিশের বরাতে জানায়, বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি নন-কগনিজেবল রিপোর্ট দায়ের করা হয়েছে। তবে দুই সিজেপি নেতার জামিন শুনানি ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হচ্ছে বলে দলটির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা এবং জামিন প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
রাশিয়ার রপ্তানি সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক শিথিলের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সময় প্রয়োজন। স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ অক্টোবর) রুবিও বলেন, রাশিয়ার ওপর যেসব নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক ট্রাম্প শিথিল করেছেন, সেগুলোর অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের জন্য তিনি ৬০ দিন সময় নেবেন। ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের মালিকানাধীন মার-এ-লাগো ক্লাবে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা অনেকেই এখনো জানেন না আমার সিদ্ধান্ত কী। তবে আমরা বিষয়টি ঠিক করে ফেলব এবং আপনারাও তা জানতে পারবেন।’ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে রাশিয়ার ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করলেন ট্রাম্প। এর মধ্যেই উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে ট্রাম্প চাপের মুখে রয়েছেন, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। শুক্রবার ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে ‘গ্রাহাম অ্যাক্টের’ আওতায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক শিথিল করেন। অথচ ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে মস্কোর ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে আইনপ্রণেতাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত মাসেই তিনি এই আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন। রুশ পণ্যের ওপর শুল্ক এবং রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকরের কথা ছিল। শুক্রবারের আদেশে এই শিথিলতা কতদিন স্থায়ী হবে তা উল্লেখ করা না হলেও রুবিও জানিয়েছেন, ট্রাম্প ৬০ দিনের পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উজবেকিস্তান সফরের উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার আগে রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের এই সময়টি নিতে চেয়েছেন, যাতে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ করলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং এমনকি মার্কিন অর্থনীতির ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা বিশ্লেষণ করা যায়।’ ডিজেল সরবরাহ রুবিও রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি চুক্তির পক্ষেও সাফাই গেয়েছেন। এই চুক্তির লক্ষ্য হলো বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ বৃদ্ধি করা, যাতে জ্বালানির উচ্চমূল্য কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আনা যায়। কারণ ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে তেলের দাম বেড়ে গেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় রাশিয়া প্রাথমিকভাবে ৩ লাখ টনেরও বেশি ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বর মাস ও তার পরবর্তী সময়ে আরও চালান আসবে। রুবিও বলেন, ‘এই ডিজেল কোনো না কোনোভাবে বিক্রি হবেই। মূল পার্থক্য হলো, এর কতটা অংশ যুক্তরাষ্ট্র পাবে।’ রুবিও আরও বলেন, ডিজেল সংক্রান্ত এই চুক্তি এবং নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের সংঘাত সামলানোর জটিলতাকে তুলে ধরে—যে সংঘাতগুলো বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে। সূত্র: রয়টার্স