আন্তর্জাতিক

চীন-মার্কিন বৈঠক নিয়ে কী ভাবছেন বিশ্লেষকরা?

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৫, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: সংগৃহীত

চীনের প্রসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে চীন–মার্কিন সম্পর্কের নতুন অবস্থান হিসেবে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘গঠনমূলক কৌশলগত ও স্থিতিশীল সম্পর্ক’ গড়ে তোলার বিষয়ে সম্মত হন বিশ্বের শীর্ষ এই দুই নেতা, যা আগামী তিন বছর এবং এর পরেও চীন–মার্কিন সম্পর্কের কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

 

সেইসঙ্গে আশা করা হচ্ছে, উভয় দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এটিকে স্বাগত জানাবে। 

পূর্ব এশীয় বিশেষজ্ঞ এবং ফেয়ারলি ডিকিনসন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং অধ্যাপক জেসি গেটস বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আবারও চীন–মার্কিন সম্পর্ককে একটি বড় জাহাজের সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং বলেছেন, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ‘‘গঠনমূলক কৌশলগত ও স্থিতিশীল সম্পর্ক’’ গড়ে তোলা দুই দেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অপরিহার্য পদক্ষেপ। উভয় দেশ যদি একে অপরের দিকে এগিয়ে আসে, তবে তা অবশ্যই দুই দেশ ও সমগ্র বিশ্বের জন্য কল্যাণকর হবে। ‘

অস্ট্রেলিয়ান সিটিজেনস পার্টির জাতীয় চেয়ারম্যান রবার্ট বারউইক বলেন, ‘বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বক্তব্য ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রভাবশালী। তিনি দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন এবং সহযোগিতাকে প্রধান ভিত্তি, সংযত প্রতিযোগিতা, নিয়ন্ত্রণযোগ্য মতপার্থক্য এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের ওপর ভিত্তি করে চীন–মার্কিন সম্পর্কের একটি নতুন অবস্থান তুলে ধরেছেন। এ ধরনের বার্তাই বিশ্ববাসী শুনতে চেয়েছিল।’

অনেক আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বই মনে করেন, চীন–মার্কিন সম্পর্ক বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা জোরদার করা বিশ্বব্যাপী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক হবে।

 

তথ্যসূত্র: সিএমজি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি বন্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা

২০২৬ সালের মার্চে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব তেল সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা তৈরি হয়েছে। ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের প্রকাশিত এক তালিকা অনুযায়ী, এই সংকটে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে যায়। মঙ্গলবার ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।   গত পাঁচ দশকের বড় যুদ্ধ ও তেল সংকটের কারণে তৈরি সরবরাহ ঘাটতির তুলনায় হরমুজ সংকটের মাত্রা অনেক বেশি। ১৯৭৮-৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের সময় প্রতিদিন প্রায় ৫৬ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ কমেছিল, যা তালিকায় দ্বিতীয় বৃহত্তম সংকট।   তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আরব তেল অবরোধ এবং চতুর্থ অবস্থানে ১৯৯০ সালে কুয়েতে ইরাকের হামলা। দুটি ঘটনাতেই বিশ্ব তেল সরবরাহ প্রতিদিন প্রায় ৪৩ লাখ ব্যারেল কমে যায়।   ১৯৮০-৮১ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় সরবরাহ কমেছিল প্রায় ৪১ লাখ ব্যারেল। এরপর ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন প্রায় ২৩ লাখ ব্যারেল এবং ২০১১ সালের লিবিয়া গৃহযুদ্ধের সময় প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে যায়।   বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। তাই এই নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী বাধা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।   শাফাক নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের বিধিনিষেধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর নৌপথটি সাময়িকভাবে খুললেও নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার পর আবার বন্ধ হয়ে যায়।   তেহরান অবশ্য দাবি করছে, হরমুজ প্রণালি এখনো ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।   সূত্র: শাফাক নিউজ

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের প্রস্তাবে ‘সাড়া দিয়েছেন’ কিম

ছবি: সংগৃহীত

নাইজেরিয়ার হামলায় নিহত অন্তত ২৫, নিহতদের বেশিরভাগ নারী-শিশু

ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সালের ২ আগস্ট ‘শতাব্দীর সূর্যগ্রহণ’ দেখা যাবে

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের নিয়ম আরও কঠোর করার আহ্বান ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের নিয়ম আরও কঠোর করার পক্ষে আবারও অবস্থান নিয়েছেন। এ সময় তিনি ভারতের ভোটার পরিচয়পত্র ব্যবস্থা ও ডাকযোগে ভোটের তুলনামূলক কম ব্যবহারের উদাহরণ দিয়েছেন। মঙ্গলবার দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ খবর প্রকাশ করেছে।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সম্প্রতি তাকে প্রশ্ন করেছেন, বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।   ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছেন। তাদের এক শতাংশেরও কম ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। আর প্রত্যেক ভোটারের বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।   ভারতের এই ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাসের দাবি জানান। প্রস্তাবিত এই আইনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে। পাশাপাশি দেশজুড়ে ভোটারদের জন্য ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।   আইনটিতে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।   ট্রাম্পের দাবি, এসব নিয়ম চালু হলে নির্বাচনে জালিয়াতি ঠেকানো সহজ হবে। তবে আইনটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও এ বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে।   চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন সিনেট পাঁচ সপ্তাহের ছুটিতে যাওয়ার আগে আইনটি পাসের বিষয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।   সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হামাস অস্ত্র সমর্পণ না করলে গাজার পুনর্গঠন নয় : কুশনার

ছবি: সংগৃহীত

সৌদির পাঠ্যবইয়ে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে মহানবী (সা.) ও ইহুদিদের সম্পর্ক

হরমুজ প্রণালি

যুক্তরাষ্ট্র শর্ত না মানলে হরমুজ খুলবে না: গালিবাফ

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে সমঝোতার মেয়াদ বাড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারক বা এমওইউর মেয়াদ আর বাড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১৬ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা জানিয়েছেন। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।   ট্রাম্পের দাবি, ইরান এখনো সংঘাত শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিতে রাজি নয়। এ কারণে সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই।   এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আবারও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, প্রণালিটি ‘খোলা’ রয়েছে এবং প্রতি সপ্তাহে এই জলপথ দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে।   হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার ইচ্ছার কথাও আবার জানিয়েছেন তিনি।   ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ওমানকে নিয়েও হুমকি দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডে ওমান বাধা দিলে দেশটিতে হামলা চালানোর হুমকি দেন তিনি।   এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে। সামুদ্রিক পরিবহনবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জাহাজটি আটক করা হয়েছে বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, জাহাজটি থামানোর পর বর্তমানে কেশম দ্বীপের কাছে অবস্থান করছে। তবে জাহাজটির নাম বা লঙ্ঘনের বিস্তারিত জানানো হয়নি।   এদিকে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট মাত্র পাঁচটি কার্গো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর আগের দিন কোনো কার্গো জাহাজ চলাচল রেকর্ড হয়নি।   তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৬০ দিনের সময়সীমার বিষয়টি মানছে না। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই।   তিনি বলেন, তেহরান কোনো সময়সীমার চাপে সিদ্ধান্ত নেবে না। ইরান তার জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ভোটার আইডি ব্যবস্থার মতো যুক্তরাষ্ট্রে একই নিয়ম চান ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

যৌন নিপীড়ন মামলায় ট্রাম্পের আবেদন ফের নাকচ করল সুপ্রিম কোর্ট

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির শঙ্কায় বাড়ল তেলের দাম

0 Comments