চার বছর কোমায় থাকার পর মারা গেছেন থাইল্যান্ডের রাজকন্যা বজ্রকিতিয়াভা নারেন্দিরা দিব্যবতী। শুক্রবার থাই রাজপ্রাসাদ এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর।
রাজকুমারী দিব্যবতী ছিলেন থাইল্যান্ডের বর্তমান রাজা মহা বাজিরালংকর্ণের জ্যেষ্ঠ সন্তান। ১৯৭৮ সালের ৭ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া এই রাজকন্যা দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশ সফরকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে রাজধানী ব্যাংককের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে জানা যায়, হৃদযন্ত্রের জটিলতার পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুতর শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন তিনি।
রাজপ্রাসাদের তথ্য অনুযায়ী, পেটের সংক্রমণ, কোলাইটিস, নিম্ন রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন এবং রক্ত জমাট বাঁধার মতো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটে। অবশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে আইন পেশায় যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে থাইল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
কূটনৈতিক জীবনেও তিনি সফল ছিলেন। অস্ট্রিয়া, স্লোভেনিয়া ও স্লোভাকিয়ায় থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নারী বন্দিদের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষায় গড়ে তোলেন একটি বিশেষ দাতব্য তহবিল, যা অন্তঃসত্ত্বা নারী কয়েদিদের সহায়তা প্রদান করত।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে জাতিসংঘের অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কমিশন তাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইনের শাসনের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরে ২০২১ সালে তাকে থাইল্যান্ডের রাজকীয় নিরাপত্তা কমান্ডের চিফ অব স্টাফ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
থাইল্যান্ডের রাজপরিবারের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে পরিচিত এই রাজকন্যার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার প্রশাসনিক দক্ষতা, মানবিক উদ্যোগ এবং কূটনৈতিক অবদানের জন্য তিনি দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, তিনি ইরানের প্রধান তেল অবকাঠামো কেন্দ্র 'খার্ক দ্বীপ' দখল করতে চান। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী দ্রুত দ্বীপটি দখল করে নিতে পারে। কিন্তু এমন পদক্ষেপ মার্কিন সেনাদের মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এবং যুদ্ধ শেষ হওয়ার বদলে আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। খার্ক দ্বীপ কোথায় এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ? ইরানের উপকূল থেকে ১৬ মাইল (২৬ কিমি) দূরে পারস্য উপসাগরের উত্তর প্রান্তে খার্ক দ্বীপের অবস্থান, যা হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৩০০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এই দ্বীপের চারপাশের পানি যথেষ্ট গভীর হওয়ায় এখানে এমন বড় বড় তেলবাহী ট্যাংকার নোঙর করতে পারে, যা ইরানের অগভীর উপকূলীয় এলাকায় ভিড়তে পারে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হত। এটি যুক্তরাষ্ট্র দখল করলে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং তেহরানের অর্থনীতির ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়বে। উল্লেখ্য, বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ‘ওপেক’-এর মধ্যে ইরান তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। বর্তমান পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের অবস্থান গত মার্চ ও এপ্রিলে মার্কিন বাহিনী খার্ক দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছিল। ট্রাম্পের দাবি, সেখানকার সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু 'সম্পূর্ণ ধ্বংস' করা হয়েছে। সে সময় রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন সেখানে স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এরপর দ্বীপে নতুন কোনো হামলা না হলেও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখতে এই দ্বীপের কাছাকাছি থাকা তেল ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "আমার পছন্দ সবসময়ই ছিল খার্ক দ্বীপ দখল করা, আমার পছন্দ সেটাই। তবে আমেরিকার সেই মানসিক প্রস্তুতি বা সাহস আছে কি না আমি জানি না।" বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের তেল রপ্তানি ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় এখন খার্ক দ্বীপ দখল করলেই যে দেশটির অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক বড় কোনও ধস নামবে, তা নয়। ড্রোন হামলা ও মার্কিন সেনাদের ঝুঁকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন বাহিনী হয়ত অপেক্ষাকৃত দ্রুত খার্ক দ্বীপ দখল করতে পারবে, কিন্তু তা যুদ্ধের দ্রুত কিংবা চূড়ান্ত সমাপ্তি ডেকে আনবে না। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক 'ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস'-এর গবেষক রায়ান ব্রোবস্ট এবং ক্যামেরন ম্যাকমিলান বলেন, খার্ক দ্বীপ দখল ও নিয়ন্ত্রণে নিলে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়া এবং দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। দ্বীপ দখলের পদক্ষেপ কোনও চূড়ান্ত বিজয় এনে দেবে- তেমন সম্ভাবনা কম। তারা সতর্ক করে বলেছেন যে, সেখানে মার্কিন সেনারা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে থাকবে। বিশেষ করে ইউক্রেইন যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ক্যামেরা যুক্ত 'ফার্স্ট-পার্সন ভিউ (এফপিভি)' ড্রোন হামলার শিকার হতে পারে তারা। তাছাড়া, ইরান যদি কোনও হামলা চালিয়ে সফল হয়, তাহলে তেহরান সরকার মার্কিন সেনাদের ওপর সেই হামলার ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করতে পারে এবং সেনাদের গ্রাফিক মৃত্যুর ছবি প্রচারণার কাজে ব্যবহার করতে পারে। রসদ ও বাড়তি সেনার প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সাবেক কমান্ডার জোসেফ ভোটেল গত মার্চ মাসে বলেছিলেন, খার্ক দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মাত্র ৮০০ থেকে ১,০০০ সেনার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু তাদের জন্য বিশাল লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আর এই ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখাটাও আরেক বড় চ্যালেঞ্জ। ভোটেল মনে করেন, খার্কে মার্কিন সেনারা অত্যন্ত অরক্ষিত অবস্থায় থাকবে এবং এই দ্বীপ দখল করে কোনও বিশেষ কৌশলগত সুবিধাও পাওয়া যাবে না। তার মতে, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে 'অদ্ভুত' একটি বিষয়, যদিও প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তা করার ক্ষমতা রাখে।
শিল্প, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের পেট্রোল পাম্প থেকে সরাসরি পেট্রোল ও ডিজেল কেনার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারত সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানকে এখন থেকে নির্ধারিত পাইকারি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হবে। শুক্রবার (১২ জুন) এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগামী ৯০ দিনের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় ডিজেলের অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতে খুচরা পাম্পে ডিজেলের দাম তুলনামূলক কম হলেও বাল্ক ক্রয়ের ক্ষেত্রে দাম অনেক বেশি। এই মূল্য ব্যবধানের কারণে শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীরা খুচরা পাম্প থেকে জ্বালানি সংগ্রহ বাড়িয়ে দেয়, ফলে বাজারে চাপ তৈরি হয়। সরকারি তথ্যমতে, খুচরা পাম্পে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ৯৫.২০ রুপি হলেও বাল্ক বিক্রয়ে তা ১৩৪.৫০ রুপি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেবল যানবাহনের ট্যাংক এবং সরকার অনুমোদিত পাত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা যাবে। একজন গ্রাহক দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ লিটার জ্বালানি নিতে পারবেন। এ ছাড়া মজুতদারি, কালোবাজারি, অবৈধ জ্বালানি সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শিল্প খাতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে এবং খুচরা বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত সরকার। সূত্র: এনডিটিভি
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটেছে। সেই সঙ্গে তেহরান আর কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না বলে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিনেট প্রার্থী ব্যারি মুরের সমর্থনে আয়োজিত এক টেলি-র্যালিতে এসব দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার (১২ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা হয়তো শুনেছেন, আমরা আজ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়েছি। তারা পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে, আর এ বিষয়টিতে আমরা অনড় ছিলাম।’ পরে একই অনুষ্ঠানে তিনি আবারও বলেন, ‘আজ আমরা ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছি।’ ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা একটি চমৎকার চুক্তি করেছি। কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। খুব শিগগিরই মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করবে। বলা যায়, বিষয়টি প্রায় সম্পন্ন। আমরা যা চেয়েছিলাম, সবই পেয়েছি।’ তবে ট্রাম্পের এসব দাবির বিষয়ে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।