চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিলেন এক যুবক। তবে মুহূর্তের সাহসী পদক্ষেপে তাকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন স্টেশনমাস্টার। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কর্নাটকের পাণ্ডবপুরা রেলস্টেশনে।
ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রেন ধরতে দেরি হয়ে যাওয়ায় যুবকটি প্ল্যাটফর্মে পৌঁছান ঠিক তখনই, যখন ট্রেনটি ছাড়তে শুরু করেছে। ট্রেন থামানোর কোনো সুযোগ না থাকায় তিনি দৌড়ে চলন্ত ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওঠার সময় তার পা পিছলে যায় এবং তিনি পড়ে যান। যদিও দরজার হাতল ধরে থাকায় তিনি টানাহেঁচড়া করে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন, ততক্ষণে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
ঠিক সেই সময় বিষয়টি নজরে আসে স্টেশনমাস্টার অভিজিৎ সিংহের। কোনো দ্বিধা না করে তিনি দৌড়ে এগিয়ে যান এবং এক টানে ওই যাত্রীকে প্ল্যাটফর্মে তুলে আনেন। অল্পের জন্য রক্ষা পান যুবকটি—এড়ানো যায় এক বড় দুর্ঘটনা।
দক্ষিণ-পশ্চিম রেলওয়ের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হলে তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। নেটিজেনরা স্টেশনমাস্টারের সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে চলন্ত ট্রেনে ওঠার মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের জন্য যুবকটির সমালোচনাও করেছেন অনেকে।
একজন মন্তব্য করেছেন, “সাহসী স্টেশনমাস্টারকে অবশ্যই পুরস্কৃত করা উচিত। পাশাপাশি ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।” আরেকজন লিখেছেন, “এটাই সত্যিকারের বীরত্ব—এক মুহূর্তে একজন মানুষের প্রাণ বাঁচালেন
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিশ্বের বৃহত্তম নগরীগুলোর একটি মেক্সিকো সিটি দ্রুতগতিতে ভূমিধসের কবলে পড়ছে, আর এ পরিবর্তন এখন মহাকাশ থেকেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার উন্নত রাডার প্রযুক্তিতে ধারণ করা সাম্প্রতিক চিত্রে দেখা গেছে, শহরের কিছু এলাকা প্রতি মাসে অর্ধ ইঞ্চিরও বেশি নিচে নেমে যাচ্ছে। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা এটিকে বিশ্বের দ্রুততম ডুবে যাওয়া রাজধানীগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করছেন। সিএনএন বলছে, প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের এই মহানগরটি গড়ে উঠেছে একটি প্রাচীন হ্রদের ওপর। শহরের নিচে থাকা ভূগর্ভস্থ জলাধার থেকেই পানীয় জলের ৬০ শতাংশ সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু বছরের পর বছর অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে এই অ্যাকুইফার দুর্বল হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মাটির স্থিতিশীলতায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ পানি কমে যাওয়ায় ওপরের মাটি ধীরে ধীরে বসে যাচ্ছে। একই সঙ্গে লাগামহীন নগরায়ণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের বাড়তি চাপ কাদামাটিসমৃদ্ধ মাটিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, শহরটিতে ভূমিধসের সমস্যা নতুন নয়। ১৯২০-এর দশকেই এর প্রথম নথিভুক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর থেকে ভাঙাচোরা রাস্তা, হেলে পড়া ভবন এবং ক্ষতিগ্রস্ত রেলব্যবস্থার মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বাসিন্দারা। সম্প্রতি ইসরোর এবং নাসার যৌথ উদ্যোগে তৈরি 'নিসার' স্যাটেলাইটের তথ্য পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও পরিষ্কার করেছে। উন্নত রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই স্যাটেলাইট মাটির সূক্ষ্ম পরিবর্তনও শনাক্ত করতে সক্ষম। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শহরের কিছু অংশ প্রতি মাসে প্রায় ০.৮ ইঞ্চি পর্যন্ত নিচে নামছে, যা বছরে প্রায় সাড়ে ৯ ইঞ্চির সমান। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে বেনিতো হুয়ারেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এছাড়া শহরের পরিচিত প্রতীক অ্যাঞ্জেল অব ইনডিপেনডেন্স স্মৃতিস্তম্ভও এই ভূমিধসের প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি। ভূমি বসে যাওয়ার কারণে এর ভিত্তিতে অতিরিক্ত সিঁড়ি যোগ করতে হয়েছে। নিসার প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের মতে, মেক্সিকো সিটি দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিধসপ্রবণ একটি এলাকা হিসেবে পরিচিত। তবে নতুন স্যাটেলাইট তথ্য ভবিষ্যতে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভূমিধস ছাড়াও এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে হিমবাহের গতি, কৃষিজমির পরিবর্তন এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো নানা প্রাকৃতিক ঘটনাও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। সূত্র: সিএনএন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমর্থিত সিরি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে ২৫ কোটি ডলার (প্রায় ২,৭৫০ কোটি টাকা) জরিমানা দিতে রাজি হয়েছে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান অ্যাপেল। যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ দিতে রাজি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বুধবার (৬ মে) দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের শেষ দিকে আইফোন বিক্রি বাড়াতে অ্যাপেল এমন কিছু এআই সুবিধার কথা প্রচার করে, যা তখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সেসব বিশেষ সুবিধা এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি, এমনকি আরও কয়েক বছরেও আসার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞাপন তদারকি সংস্থা বেটার বিজনেস ব্যুরো ন্যাশনাল এডভার্টাইজিং ডিভিশন (বিবিএনএএডি) জানিয়েছে, নতুন এআই-চালিত সিরি ব্যবহারের বিষয়ে অ্যাপেল ভুল ইঙ্গিত দিয়েছিল। আদালতে জমা দেওয়া এই অভিযোগে অ্যাপেল কোনো ধরনের দোষ স্বীকার করেনি। তবে এতে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ডিভাইস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইফোন ১৬, আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স। এগুলো ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রত্যেক গ্রাহক ডিভাইস প্রতি ২৫ থেকে ৯৫ ডলার ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। এক বিবৃতিতে অ্যাপেল জানায়, তারা এ বিষয়টি মিটিয়ে নিয়েছে। যাতে ক্রেতাদের জন্য পণ্য ও সেবা প্রদান বাধাগ্রস্ত না হয়। ভোক্তাদের পক্ষে মামলা করা আইনজীবী রায়ান ক্লার্কসন বলেন, এই সমঝোতা চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। তার ভাষায়, এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি। এখন কোম্পানি ও নিয়ন্ত্রকদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এটি সাধারণ মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে এআই-সমর্থিত সিরির প্রচারে বড় বিজ্ঞাপন প্রচারণা চালায় অ্যাপেল। পরে এসব সুবিধা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করে বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। আগামী ১৭ জুন নোয়েল ওয়াইজ-এর আদালতে শুনানির মাধ্যমে এই সমঝোতা অনুমোদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
ভিভিআইপি প্রটোকলের ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তার গাড়িবহর পার হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স। ইনসেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর। যানবাহনের ভিড়ে রাজধানীর সড়কে সময় যেখানে প্রায়শ থমকে দাঁড়ায়, সেই চিরচেনা সড়কে দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভিভিআইপি প্রটোকলের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অ্যাম্বুলেন্সকে তার বহর পার হওয়ার জায়গা করে দিলেন। ঘটনাটি বুধবার (৬ মে) সকালে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারওয়ানবাজার প্রান্তে। প্রধানমন্ত্রী যখন বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন, পথিমধ্যে ঘটলো এই ঘটনা। সকাল ৯টার কিছু সময় আগে, বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর তখন বনানী এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে কারওয়ানবাজার এফডিসি মোড়ের দিকে এগোচ্ছিল। আকস্মিক প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে পড়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স। তার গাড়ি বহরের পেছনে সাইরেন বাজাতে বাজাতে অ্যাম্বুলেন্সটি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি বুঝে অতি জরুরি সেবার এই গাড়িকে সাইড দিতে বহরে থাকা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে কর্মকর্তারাও অ্যাম্বুলেন্সকে পথ করে দেন। বাংলাদেশে ভিভিআইপি বহরের কারণে সড়কে অন্য যানবাহনকে অপেক্ষা করতে দেখে আসছে জনগণ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান সেই প্রটোকল ও রীতি ভাঙলেন। সবার ওপরে জনগণ- এই মর্মে তিনি দেশ পরিচালনা করছেন। একজন সরকার প্রধান অসুস্থ মানুষের জরুরি প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রায়শ প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের মানবিক দৃষ্টান্ত দেখাচ্ছেন। আজকের দৃশ্য দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরো বিষয়টি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও মানবিক। সাধারণত মানুষ এই ধরনের চিত্র দেখতে অভ্যস্ত নয়। এটিকে সাধারণ মানুষের প্রতি একজন সরকারের প্রধানের দায়িত্ববোধ এবং সহমর্মিতার একটি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখছেন সবাই।